somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা দেশে ২০০০ লাইসেন্স বিহীন fm রেডিও বাজাইতাম চাই, কি কন ?

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রেডিও হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রতিক, প্রায় শত বছরের পুড়ানো সহজতম গণপ্রচার মাধ্যম।এর সম্পর্কে আমরা একেবারেই অসচেতন হলেও দক্ষিন এশিয়া ও আফ্রিকা ব্যতিত বাকি বিশ্বের প্রায় সবদেশে গত পঞ্চাশ বছরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, গণসচেতনতা, স্থানীয় বিনোদনের পরিসর, সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিরব বিপ্লব এনে দিয়েছে।বেতার নিয়ে বাংলাদেশ ভারত সহ অল্প কিছু দেশের রাজনীতি দেশগুলোর জনগণকে বিশ্ব থেকেই পিছিয়ে রাখেনি বরং বেতার তরংঙ্গের উপর জনগনের অধিকারকে অস্বিকার করে আসছে।বেতার তরংঙ্গ ব্যবহারের যে আইনগুলো উন্নত দেশের সরকার সত্তুরের দশক থেকে আশির দশকে করে ফেলেছে সেগুলো ২০১১ সালেও করেনি।

আলোচনায় যাওয়ার আগে চলুন রেডিওর আবিষ্কার ও বিবর্তনের ইতিহাসটা একটু দেখে নেই।১৮০০ শতকের শেষ ও ১৯০০ শতকের গোড়ার দশকগুলো ছিল রেডিও আবিষ্কারের দশক।রেডিও তরঙ্গ আবিষ্কার একদিকে যেমন টেলিযোগাযোগ ও আন্তমহাদেশিও টেলিগ্রাফ, টেলিফোনি সিস্টেমে এক বিপ্লব এনে দিয়েছিল, যেমন আন্তমহাদেশিয় টেলিযোগাযোগে সাবমেরিন ক্যবলের বিকল্প অপশন দিয়েছিল তেমনি পাবলিক রেডিও ব্রডকাস্টিং পৃথিবীতে মিডিয়ায় ও প্রচারনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।এর আগে হয়তো বড় মাইক দিয়ে লাইভ ভয়েস, অনুষ্ঠান, নিউজ সর্বোচ্চ আসেপাশে কয়েক শত মিটারে কয়েকশ মানুষকে শোনানো যেত।অথচ রেডিও আবিষ্কারের ফলে এএম, মিডিয়াম ওয়েভ, সর্ট ওয়েভ ইত্যাদী ফ্রিকোয়েন্সিতে দেশজুরে তথা পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত বেতার সম্প্রচার করা যায় যা সামান্য একটি বেতার গ্রাহক যন্ত্র দিয়ে শোনা যায়।পৃথিবীতে প্রথম বানিজ্যিক রেডিও স্টেশনের লাইসেন্স দিয়েছিল নেদারল্যান্ড ১৯১৯ সালে।বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকার মত রেডিও স্টেশন গুলোর সাথে আমরা সবাই পরিচিত।উল্লেখ্য এ ধরনের রেডিও ব্রডকাস্টিং খুবই ব্যায় বহুল ও প্রচুর বিদ্যৎ খরচ হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র বাহিনীর সোলজারদের নিজেদের মধ্যে অল্প দূরত্বে যোগাযোগের উদ্দেশ্য সামনে রেখে এফএম ট্রান্সমিটার আবিষ্কৃত হয়।সেই তরঙ্গই যুদ্ধপরবর্তী পৃথিবিতে সামাজিক যোগাযোগ তথা মিডিয়ার জগতে নিরব বিপ্লবের বীজ বপন করেছিল।এই এফএম ৭০ এর দশকে ইউরোপ, আমেরিকার ও স্কেন্ডেনেভিয়ান গণতান্ত্রিক দেশগুলোর রাজধানী থেকে প্রত্যান্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠির হাতের কাছের স্থানীয় সামাজিক মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার ব্যপক থেকে ব্যপকওতর হয়ে উঠে।সড়কের ট্রাফিক নিউজ থেকে শুরু করে স্থানীয় ভাবে সম্প্রচারিত অন্যতম বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে নিরবে কাজ করতে থাকে কমিউনিটি রেডিও, কেপটিভ রেডিও, এ্যামেচার রেডিও, এফএম রেডিও ইত্যাদী নামে ও নীতিমালায়।যেমন এই মুহুর্তে আমাদের পাশের দেশ থাইল্যান্ড এরকম লোকাল এফএম রেডিও ৫০০০ টির উপরে বাজছে।অর্থাৎ থাইল্যান্ডের যেকোন লোকেশনে দাড়ালে আপনি আপনার হাতের মোবাইল সেটে ৫ থেকে ১০টি এফএম চ্যানেল শুনতে পাবেন যা আশেপাশের কোথাও বাজানো হচ্ছে।আর উল্লেখ্য থাইল্যান্ডে এই এফএম স্টেশনগুলো গত ১৫ বছরে বিনা অনুমতিতে গড়ে উঠেছে এবং ২০০৯ সালে সরকার ঘোষনা দিয়ে ৪৭০০টি লাইসেন্স দিয়ে দেয়।

এফএম রেডিও স্টেশন কি ? হালে আমরা যে রেডিও ফুর্তি, এফএম ১০০, ৮৮.৪ ইত্যাদী রেডিও শুনি সেগুলোই এফএম রেডিও স্টেশন।ঢাকার বাতাসে এরকম ১১টি স্টেশন আছে, সুনামগঞ্জের বাতাসে একটিও নেই।আমাদের মাথার উপর যে আকাশ তাতে ৭০.০ থেকে ১৩০.০ পর্যন্ত মোট ৬০ টি এফএম চ্যানেল পৃথিবীর যেকোন লোকেশনেই চালানো যাবে সে নিউইর্য়ক হউক আর খইরচার চরই হোক। এর মধ্যে ৮০.০ থেকে ১১০.০ পর্যন্ত ফ্রিকোয়েন্সিতে নেয়েস ফ্রি এমপিথ্রি মানের সাউন্ড ব্রডকাস্ট করা যায়।মাত্র ৫ কিলোওয়াটের একটি এফএম রেডিও ট্রান্সমিটার দিয়ে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার ব্যসার্ধের এলাকায় সম্প্রচার করা যায়।কাজটি করতে খরচও খুবই অল্প।৫ কিলোওয়াটের একটি সার্কিট ১০ হাজার টাকায় বানিয়ে ফেলতে পারবে আমাদের টেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীরাও।এর বিদ্যুৎ খরচও অল্প এমনকি ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি দিয়েও চালানো যাবে।মাঝে মাঝে আমরা খবরের কাগজে দেখি জংঙ্গীরা গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পরেছে রেডিও যন্ত্রপাতি সহ। সেগুলো আসলে এই এফএম রেডিও ট্রান্সমিটার।যোগাযোগের জন্য খুব সস্তার জিনিষ।প্রযুক্তিটাও সাধারন মানুষের কাছে চলে গেছে।আফগানীস্তানে তালেবান নেতা মোল্লা ওমরকে তালেবানরা এফএম ওমর বলে ডাকতো কারন সে সাইকেলে করে এফএম ট্রান্সমিট করে বেড়াতো।আর বানিজ্যিক ভাবে বাংলাদেশে কেউ মাত্র দশ থেকে পনের লক্ষ টাকাও ইনভেস্ট করে কোন জেলা শহরে এমন একটি এফএম রেডিও স্টেশন স্থাপন করে আশেপাশের ৫ থেকে ১০ লাখ শ্রোতার মার্কেটে ব্রডকাস্ট করে ফেলতে পারবে।বাংলাদেশ ২০০৮ সালে ওয়ার্ল্ডব্যাংকের চাপে কমিউনিটি রেডিও নীতিমালা নামে একটি আইন করেছিল। এ সরকার ১৪টি লাইসেন্সও দিয়েছে।অবশ্য আইন ও সরকারের ইচ্ছা দুর্বল থাকায় আজও একটিও অপারেশনে যেতে পারেনি।

বেতার একটি গুরুত্বপর্ণ সহজলভ্য গণযোগাযোগ মাধ্যম।খুব সহজেই এই মাধ্যমের সাহায্যে স্থানীয় পর্যায়ে দেশের প্রান্তিক জনসাধারনকে তাদের হাতের কাছে জরুরী খবর, উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সংবাদ এবং বিনোদন পৌছে দেয়া সম্ভব।বেতার সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশের কল্যাণমুলক কর্মকান্ডের পক্ষে জনমত তৈরী, শিক্ষার প্রসার ঘটানো, কৃষি, শিল্প, সংস্কতি, ইতিহাস ঐতিহ্য সম্পর্কিত তথ্য জনসাধারণের কাছে পৌছে দেয়া অতি সহজসাধ্য ও স্বল্পতম সম্পদ ব্যবহার করে করা যাবে।তাই দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সরক্ষা, প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা ও বিনোদনের পরিসর বৃদ্ধি সাংস্কৃতিক বিকাশ ও মূল্যবোধ গড়ে তোলা

যেখানে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষের হাতে মোবাইল আছে।যেই সেটে এফএম এ্যাপলিকেশনে অন্তত দশ চ্যানেলের এফএম রেডিও সেট অব্যবহৃত পরে আছে।সেই দেশে আজও একটি গণবান্ধব আইন না থাকার কারনে দেশে এফএম স্টেশন গড়ে উঠতে পারছে না।একটি টেকসই এফএম স্ট্যাশনের আদর্শ শ্রোতা সংখ্যা কত হওয়া উচিত ? দুই লক্ষ ! তাহলে বাংলাদেশে এই মুহুর্তে অন্তত ১৫০০ লোকাল এফএম রেডিও চালু হওয়ার সুজোগ সৃষ্টি হওয়া উচিত।ধুরুন আপনি দেশের যে কোন এক লোকেশনে আছেন, সেহউক কোন শহর বা প্রত্যান্ত গ্রাম, সেখানে যদি একটা/একাধিক এফএম লোকাল রেডিও থাকতো, ধরলাম এফএম ১০৫.৬ যা আপনার চারপাশের ঘটনা সেখানকার মানুষে ও সমাজের নানা কর্মকান্ড লাইভ শোনাচ্ছে যা আপনার মোবাইলে বা বিশটাকা দামের একটা রেডিওতে আপনি শুনতে পাচ্ছেন।খুব সুন্দর হতো তাইনা ?

আর আজ ইন্টারনেটের যুগে কোন কোন স্টেশন হয়তো এখানে ছোট্ট একটা কমিউনিটিকে সস্তার এফএম এ বিনাপয়সায় সংযুক্ত করে সুদূর আমেরিকা, হন্ডুরাস সিসিলিতে কয়েক লক্ষ রিলেটেড নেট ইউজারকে ইন্টারনেট রেডিওতে ধরে ফেলছে।সেখানে ইকোনোমিক এ্যাটিভিটিও হচ্ছে।আবার আমাদের মত গরীব দেশে যেখানে ৭০ ভাগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কর্মকান্ডে আগামী ২০ বছরেও ব্যক্তিগত/পারিবারিক কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ইন্টারনেট ইত্যাদীর দরকার ও সামর্থ কোনটাই নেই তারা এই লোকাল রেডিও মাধ্যমে একটা ল্যাপটপ/পিসি'কেই পুরো গ্রাম/ইউনিয়ন/উপজেলা রেডিও ব্রাউজ করতে পারবে বিনা পয়সায় এবং তাদের কথ্য ভাষায়, মহাতথ্য ভান্ডারের সাথে সংযুক্ত হতে পারবে।অথচ আইনটির ১০ (চ) ধারায় বলা হচ্ছে সরকারের পর্বানুমতি ব্যতিত কোন বেসরকারি বেতারকেন্দ্র ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন ধরনের সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

আমার মনে হয় ভারতের ভয়ে আমরা, ভারতের উপরই নির্ভর করে আমাদের তথা অএঅঞ্চলের গণতন্ত্রায়ন ও জনগনের স্বাধীনতা।ভারত তার জনগনকে যে স্বাধীনতা দেয়নি তা আশেপাশের কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারে না।যেমন ২০০২ সালে ভারত কমিউনিটি রেডিও পলিসি গ্রহন করে ঘোষনা দিয়েছিল সারাদেশ ৪৫০০ কমিউনিটি এফএম রেডিও লাইসেন্স দেবে।কিন্তু আজও দেয়নি।এসম্পর্কে ভারতের কমিউনিটি রেডিও নিয়ে কাজ করা এক প্রখ্যাত সাংবাদিক ২০০৯ সালের আগষ্ট মাসে তার দেশের এফএম রেডিওর অবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলছিলেন, বিষয়টা সহজে বোঝার জন্য বলবো, "আমাদের পাশেই থাইল্যান্ড নামে একটি দেশ আছে যার আয়তন ভারতের ছয় ভাগের এক ভাগ।জনসংখ্যা তামিল নাডুর চেয়ে একটু কম।আজ দেশটিতে ৪৭০০ এর উপরে লোকাল এফএম রেডিও স্টেশন আছে।আরও উল্লেখ্য করতে হবে এগুলি সরকারের নিকট থেকে কোন প্রকার লাইসেন্স না নিয়েই ৯০ এর দশকের মাঝামাঝি থেকে গড়ে উঠেছে এবং সরকার ২০০৯ সালের অক্টবরে একটি ঘোষনা দিয়ে এই সকল ৯৫% স্টেশন লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসে।অথচ আমরা ভারতে কি করছি ? সরকার ২০০২ সালে সারাদেশে ৪০০০ লোকাল এফএম রেডিও স্টেশন লাইসেন্স দেয়ার অঙ্গীকার করেছিল।আজ ২০০৯ সালে আমি আশ্চর্য হবো যদি দেখি সারাদেশে এরকম ৭টার বেশি স্টেশন অপারেশনাল থেকে থাকে।

অথচ এই মুহুর্তে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে অন্তত ৫০০টি এফএম রেডিও স্টেশন দরকার। থাইল্যান্ড আমাদের মতই একটি উন্নয়নশীল দেশ, দেশটির রাজনৈতিক অবস্থাও আমাদের চেয়ে খুব একটা আহমরি কিছুনা।দেশটির আয়তন পাঁচ লক্ষ চৌদ্দ হাজার বর্গকিলোমিটার যা বাংলাদেশের দ্বিগুনেরচেয়ে কম।জনসংখ্য সাড়ে ছয় কোটি যা বাংলাদেশের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ।কিন্তু দেশটিতে আজ ৫০০০ এর বেশি এফএম স্টেশন চলছে সেই তুলনায় বাংলাদেশে ৮০০০ স্টেশন চলার কথা কারন মিডিয়ার সংখ্যা নির্ভর করে জনসংখ্যার উপর।থাইল্যান্ডে ২০০৯ সালের অক্টবরে নিউজটি ছিল নিম্নরুপ-

খবরঃ ১৯ আগষ্ট, ২০০৯ *4,500 Thai radio stations register to go legal*
More than 4,500 community radio stations in Thailand have registered under a National Telecommunications Commission (NTC) scheme to become legal broadcasters, the Bangkok Postreports.
About 95 percent of the country's community radio stations have signed up for the 300-day trial licence. Registration closes on 24 August, Col Natee Sukolrat, Chairman of the NTC's community radio working group, said yesterday. Stations which did not register by next Monday's deadline but continued to operate would be considered illegal, he said.
While the commission could not shut down stations that failed to register, it could take action against them for illegal broadcasting, he said. The NTC could file complaints with the police against stations which operate without a licence and charge them for the unlicensed use of transmitters and radio frequencies.
Community stations which have registered under the scheme can broadcast for 300 days but their programme content must not incite political unrest and violence, offend the monarchy or disrupt social morals.
Breaking any of the conditions could lead to the withdrawal of broadcasting rights, Mr Sukolrat said. He said the NTC had classified three types of community stations according to their content: public service, community programming and business.

বাংলাদেশকে পরিবর্তন মিডিয়া ছাড়া অসম্ভব আর স্থানীয় মিডিয়া ছাড়া মিডিয়া অসম্পূর্ন, ভ্রান্ত ও বিকৃত।এবং এফএম রেডিওই হতে পারে স্থানীয় জনগণের কন্ঠের মুক্তির অন্যতম সোপান।কাল থেকে এদেশে গ্রামে গ্রামে শতশত অবৈধ্য, অনুমতি বিহীন এফএম রেডিও স্টেশন গড়ে উঠুক যেমন হয়েছিল থাইল্যান্ডে আরও ১৫ বছর আগে থেকে।

তাইতো বলছি স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্র তবে এবার শত শত ছোট ছোট।আইনের গুলি মারি।স্বাধীনবাংলা বেতারকেন্দ্রের লাইসেন্স কে দিয়েছিল ? জনগণ ! তারাই ঠিক করবে কোনটা শুনবে কোনটা শুনবে না।আপনি আপনার ফ্রিকোয়েন্সিটা বুক দেন। fm 100 এর সাউন্ড বেস্ট।শেষ হইয়া গেলে পাবেন না।

এফএম রেডিও নিয়ে বন্ধুর কথোপকথনঃ

প্রথম বন্ধু - আমি মাত্র বিশ হাজার টাকা দামের একটি ১০০ ওয়াটের এফএম রেডিও ট্রান্সমিটারের সন্ধান পেয়েছি।এটা দিয়ে যেকোন স্থানে ১৭ কিলোমিটার ব্যসার্ধে ৭০-৮০ হাজার জনগণকে এফএম ৮৫.৪ এ সারাদিন ফ্রি গান শোনানো যাবে, খবরের শিরোনামও দেওয়া যাবে, লাইভ টকশোও করা যাবে, কৃষি অফিসারও বক্তব্য দিতে পারবে।২০০ ওয়াট হলে উপজেলা কভার, দাম ২৭ হাজার টাকা।আর একটা ইন্টারনেট রেডিও এ্যাপলিকেশন লাগাই লইলে আপনার গ্রাম ওয়ার্ল্ডওয়াইড লাইভ -আরব থেকে দিনমুজুর হাসু মিয়া পুরা গ্রামের লগে টকশো করবো।ইন্দোনেশিয়ায় এমন এফএম ৭,০০০টি বাজে, থাইল্যান্ডে ৯ হাজার।কোন লাইসেন্স বা অনুমতিও লাগে না। কেউ ঐ দিকে গেলে ল্যাগেজে করে আনাইয়া নেন।আপনার আকাশে মাত্র বিশ পচিশটা এফএম চ্যানেল দখল হওয়ার আগে দখল করুন।

প্রথম বন্ধু - ভাই, আমাদের নিজেদের প্রযুক্তিতে উদ্ভাবিত এফ এম রেডিও ট্রান্সমিটার এর ব্যাপারতা একটু ভাবেন। আমরা এতাকে স্বল্পমূল্যে বাজারজাত করতে চাই। এর সাথে ভি এল সি মিডিয়া প্লেয়র ও একটা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো ওয়েব সাইটের মাধ্যমে অনলাইন ও এফ এম একই সঙ্গে ব্রডকাস্ট সম্ভব। গত দুই বছর ধরে এর পিছনে সময় আর কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস আর আশ্বাস ই পাচ্ছি। এবারের জনবিজ্ঞান ফাওন্ডেশান ঊদ্ভাবনী মেলায় ও আশ্বাস ই পেলাম।

দ্বিতীয় বন্ধু - ট্রান্সমিটারটা সম্পর্কে আরও ডিটেইল বলুন।পারলে রিসোর্স লিংক দেন। আমারা বাংলাদেশে আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫০০০ এফএম রেডিও স্টেশন চালানোর নীতিমালা নিয়ে ভাবছি।যা মাত্র ৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করো ১৫ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে বিশ্বের সাথেও প্রাথমিক সংযোগ করবে।

প্রথম বন্ধু - আশা করছি এই মুহুর্তে ভালো আছেন। আমি আমাদের একটা গ্রুপ নিয়ে আইটি সেক্টরে ব্যাবসা করি একধরনের সেলফ এমপ্লয়মেন্ট বলতে পারেন। সেই সাথে কিছু উন্নয়ন চিন্তা করি চেস্টা করি দেশের সার্থকে জলাঞ্জলি না দিয়ে যদি ব্যাবসা করে দুপয়সা ইনকাম করা যায় মন্দ কি ? , সে লক্ষ্যে একটা গ্রামের অল্প শিক্ষিত ট্যালেন্ট কে কাজে লাগিয়ে একটা এফ এম রেডিও ট্রান্সমিটার বানাই যা প্রথম দিকে ২ কিলোমিটার চললেও কিছু স্পেয়ার ২ /৩ হাজার টাকার বেশিনা ইন্ডিয়া থেকে এনে এটার একটু একটু উন্নয়ন করি নিজ উদ্যোগে এখন এর ব্রডকাস্টিং এরিয়া ১৫ কিমি। এ নিয়ে অনেকের সাথে কথাও বলি, যাদের বেশির ভাগই আমাকে ভয় দেখায় , র‍্যাব পুলিশ আর্মির। পিছু হটি আবার আগাই। গত বছরের আগের বছর কমিওনিটি রেডিও যে সময় লাইসেন্স পেল বা পায়নি তখন সায়েন্সল্যাব জনবিজ্ঞান ফাউন্ডেশন একটা উদ্ভাবন মেলায় আমরা এটার প্রদর্শনী করি। আর তখন থেকেই এই আশ্বাস আর আশ্বাস। কেও বলে দেখছি এটা কি ভাবে আনা যায় কেও ভয় দেখায়। এদের মধ্যে কেও কেও যাদেরকে কমিওনিটি রেডিওর কনসালটেন্ট হিসেবে যানি তারা বিদেশী ট্রান্সমিটার কোম্পানীর দালালী খুলে বসছেন। তারা আমাদের পুলিশের ভয় ও দেখিয়েছেন। সর্বশেষ এবার উদ্ভাবন মেলায় আমরা আবার ও এর প্রদর্শনী করি। এন আই খান তার এন্ড থেকে এটার কি করা যায় তা দেখবেন বলে আমাদেরকে আশ্বাস প্রদান করেন। ট্রান্সমিটার এর ফ্রিকোয়েন্সি, ওয়াট সব পলিসির আওতাধীন। বিটিআরসি যে রিকয়ারমেন্ট দিয়েছে তার সাথে সঙ্গতি রেখেই আমরা এর ডেভলাপ করেছি। এমনকি জনাব কামরুল হাসান মঞ্জু (এমএমসি ) তিনিও বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরিমাপও করেছেন। এর বেশি টেকনিক্যাল বিষয় আমার দ্বারা বলা সম্ভব নয়।পরিশেষে আপনি এ নিয়ে বেশ আগে থেকে কথা বলছেন তাই বলছি আপনি চাইলে এর একটা ডেমোনেস্ট্রেশন আপনার তত্বাবধানে ও হতে পারে। এন্টেনা ট্রান্সফরমার সব মিলিয়ে ২/ তিন কেজি উজন তো চাইলে একদিন তল্পি তল্পা সহকারে হাজির হতে পারি আপনার বর্তমান কর্মএলাকায়। ধন্যবাদ।

দ্বিতীয় বন্ধু - ধন্যবাদ, আপনারা একটি গ্রেট কাজ করেছেন।কয়েকটা টুকটাক জেনে নেই।ট্রান্সমিটার, এ্যান্টেনায় টোটাল খরচ কত ? ট্রান্সমিটারটি কত ওয়াটের ? একটি গড় মানের ২০ হাজার টাকার ১০০ ওয়াট ট্রান্সমিটার দিয়ে ১৭ কিলোমিটার রেডিয়াসে এফএম ট্রান্সমিট করা যায়।
এখন আর ভয়ের কিছু নেই।সেই দিন অনেক অতীত।এই ২০০৯ সালেই থাইল্যান্ডে ব্যাংঙের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা লাইসেন্স বিহীন কয়েক হাজার এফএম ট্রান্সমিটার তিন মাসের নোটিশ দিয়ে লাইসেন্স দেয়া হয়।ইন্দোনেশিয়ায় চলছে হাজার হাজার, ভিয়েতনামে।শুধু ভারতেই নাই।বাংলাদেশে থাইল্যান্ড ফর্মূলা বাস্তবায়ন করতে হবে।
জনগণকে এফএমের বিষয়টি যত বেশি জানানো যাবে এনএসআই, ডিজিএফআই, থানা, পুলিশ তত অর্থহীন হয়ে যাবে।ভয় দূরে থাক পুলিশ নিজে সকাল, বিকাল গ্রামেগঞ্জে এফএমে আইনশৃংখলার ঘোষনা পড়বে।

তাছাড়া এফএম ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া অসম্ভব বা দরিদ্র শোষনের আরেক অধ্যায়।কারন আমাদের গ্রামেগঞ্জে বসবাসকারী সাত আট কোটি প্রান্তিক জনগণের তথ্যপ্রযুক্তির হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত করার একমাত্র মাধ্যম এফএম।কারন এই জনগোষ্ঠিকে আমরা যদি সত্যিই তথ্য দিতে চাই তাহলে তা ফ্রী দিতে হবে।তা গ্রহনে সর্বচ্চ শুধু ব্যাটারী খরচ করে হাতের মোবাইল বা ৫০ টাকার একটা রেডিওর বেশি সামর্থ নেই।তাদের দৈনন্দিন জীবনে কম্পিউটার ল্যাপটপের প্রয়োজন আগামী ২০ বছরেও নেই, ভাবাটাই অন্যায়।আর এফএম ছাড়া ফ্রী তথ্য দেয়া অসম্ভব।আর বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এরকম একটি এফএম স্টেশনে অবশ্যই ল্যাপটপ ইন্টারনেট থাকবে যা দিয়ে একদিকে যেমন দেখা যাবে একটি ল্যাপটপ দিয়েই একটি উপজেলা বা ইউনিয়ের লক্ষাধীক মানুষ রেডিও ব্রাউজ করছে আবার সামান্য একটি ইন্টারনেট রেডিও এ্যাপলিকেশন ব্যবহার করে সুনামগঞ্জের একটা ইউনিয়ন এফএম রেডিও লন্ডন আমেরিকা সহ সারাবিশ্বে চলে গেছে।সিকিউরিটিরও সুবিধা হতো।

আমি শিঘ্রই ব্যবস্থা করছি।আমার উপজেলায় কয়েক দিনের এফএম রেডিও ডেমন্সট্রেশনের একটা প্রজেক্ট আয়োজন করছি।বাজারের মোড়ে মোড়ে মাইকে রেডিও লাগিয়ে বাজাবো।এরপর জনগণকেই জিজ্ঞেস করবো বলেন এটা ভালো না খারাপ ?

প্রথম বন্ধু - ভাই, এন্টেনায় খরচ কিছুই না আমরা শুধুমাত্র একটা এলুমিনিয়ামের চ্যানেল কে ২৫ ফিট বাশের খুটির (!) সাথে বেধে এটা দিয়ে ১৫ কিলো কাভার করছি। একে প্রাতিষ্টানিক রুপ দেয়ার জন্যে হয়তবা একটা স্টিলের পাইপ ব্যাবহার করা লাগবে। আর ওটাতে সার্কিট বলতে খুব সাধারন মানের একটা সার্কিট (মুলত ডায়োট) লাগানো এই । বজলু ভাইয়ের ( বিএনএনআরসি) যে স্টেশন বানাতে ১৫ লক্ষাধিক টাকার মেশিনারিজ লাগে সেখানে আমরা এর পাচ ভাগের এক ভাগ দিয়ে স্টুডিও সহ সেটআপ করতে পারব। তাই নয় কি ? উনি একটা প্যাকেজ নিয়ে বসে আছেন ২৪ লাখ টাকার। এই টাকাটা কেন লাগবে আমি আমরা কিছুতেই বুঝি না। ধন্যবাদ ভাই। আপনি শুরুটা করেন আমরা আপনার পাশে আছি।

Digital Bangladesh Warriors
১২টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×