আমার প্রিয় পোস্ট

মায়ানগরের কড়চা

রুমমেট সমাচার

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:০৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

বুয়েটে পড়ার পুরো সময়টাই হলে থেকেছি। আর যুক্তরাষ্ট্রে আসার প্রথম এক বছর ক্যাম্পাসের মধ্যে তিন জনে একটা তিন বেডরুমের বাসা শেয়ার করে থাকতাম। তাই অনেক রুমমেটের সাথে থাকারই অভিজ্ঞতা হয়েছে।

বুয়েটে আমার এক রুমমেট ছিলেন শিল্পপতি। ঠাট্টা না, উনার নিজের গার্মেন্টস ব্যবসা ছিলো, পরে এলপি গ্যাস প্লান্ট খুলছিলেন। পড়াশোনাতেও প্রচন্ড ভালো। মাঝে মধ্যে ব্যবসার কাজে বিদেশে যেতেন। আরেকজন ছিলেন চরম রমণীমোহন। উনার খোঁজে হলের গেস্ট রুমে অনেক মেয়ের আনাগোনা হতো।

একবার আমাদের রুমে বিশাল চুরি হলো। তবে মজার ব্যাপার হলো, ঐ সময় রুমে তিন জনই ছিলাম। আমাদের একটা কমন বৈশিষ্ট্য ছিলো, কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমানো। দরজা ভেজানো ছিলো, আর রুমে তি্নজন ঘুমাচ্ছি। পরীক্ষার মৌসুম, বই পত্র সব টেবিলে। সকালে উঠে দেখি আমার মানিব্যাগ, ক্যালকুলেটর, আর ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ের পাঠ্যবইটা নাই। দুই দিন পরেই পরীক্ষা!! আর আমার রুমমেটের? শিল্পপতি রুমমেটের চশমা নিয়ে গেছে চোর ফ্রেমের লোভে। বেচারাকে একদিন চশমা বিহীন কাটাতে হয়েছিলো। আর আমি বই বিহীন অবস্থায় পরীক্ষার আগের দিন খাবি খাচ্ছিলাম, তার পর নীলক্ষেতে গিয়ে দুই দিনের জন্য বইটা ভাড়া নিতে হলো।

একদিন পাশের রুমের ছেলেপেলে ডেকে নিয়ে গেলো, তাদের রুমমেটকে দেখানোর জন্য। পোলাপাইন ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে প্রস্তুত। রুমের বাইরেই শব্দ পেলাম, ট্যাংক চলার মতো করে শব্দ হচ্ছে। ঐ বেচারা এমনই নাক ডাকছে যে পুরা চার তলা বিল্ডিং কাঁপছে। মহা উৎসাহে বাকিরা তার ভিডিও করছে।

বুয়েটের রুমমেটদের সাথে আমার সময়টা খুব ভালই কেটেছে। বিদেশে এসে অবশ্য অন্য অভিজ্ঞতা। পরে বুঝতে পারলাম, বুয়েটে আমার রুমমেটদের সাথে টাকা পয়সার ভাগাভাগির ব্যাপার ছিলোনা। যখন সেটা যোগ হয়, তখন রুমমেটদের সম্পর্কও অন্যরকম হয়ে যায়।

 

প্রকাশ করা হয়েছে:   বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ২:০০

 

১. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:০৮
মাহবুব সুমন বলেছেন: আমি রুম শেয়ার না করলেও বাসা শেয়ার করেছি। বাঙালী ছেলেদের সাথে 3 বার, 3 বারি অভিগ্যতা জঘন্য। এর পর থেকে একাই থাকি।
২. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১০
রাগিব বলেছেন: এজন্যই নতুন যারা আসে, তাদেরকে আমি দরকার হলে বেশি টাকা দিয়ে হলেও একা থাকতে বলি।
৪. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৫
রাগিব বলেছেন: @হেমায়েতপুরী ভাই

রশীদ হল, ৪০৮
৫. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৫
মাহবুব সুমন বলেছেন: প্রথম ছিলাম ছোটবেলার এক বন্ধুর বাসায়, এসে দেখি বিয়ের পর সে পুরো পরিবর্তিত। বাসা ছাড়লাম
ি
দ্্বীতিয় বার আরেক দেশী। মহা অলস ও চাপাবাজ। দেশে যাবার আগে আমার উপর দিয়ে সব।
3য় বার আরেক দেশী। একি অবস্থা।
তবে ডর্মেবা অস্ট্রেলিয়ান দের সাথে শেয়ার হাউসে থাকাতে তেমন বড় সমস্যা হয়নি।
তবে আমি এখন একাই থাকি। ঠেকায় না পড়লে আর শেয়ার করতে রাজী না আর।
৬. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৫
অতিথি বলেছেন: দারুন লিখেছেন.... খুব ভালো লাগল আপনার অতীতের গুন গুনানি....
৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:১৭
রাগিব বলেছেন: টগর, বুয়েটে আমাদের রশীদ হল একটা চিড়িয়াখানা ছিলো। ঐ নিয়ে পরে আরো লিখবো। এতো বিচিত্র একটা জায়গা হতে পারে, তা বিশ্বাস হবে না।
৮. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:২৩
অতিথি বলেছেন: amar buet life nia lekhar icca ace zidio kono kale buete porinai...bohiragoto cilam....
৯. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৩৩
অতিথি বলেছেন: টাকা নিয়ে রুমমেটদের সাথে আমার গ্যাঞ্জাম হয় নাই কখনো। আমি লাকিই বলা এ ব্যাপারে।
১০. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৩৯
অতিথি বলেছেন: 96? তানভির শেঠীর রুমমেট? রাগিবের আর কোনো নাম ছিলো নাকি? আমি অবশ্য রশীদের ফাজিল টাইপের পোলাপানগুলারে বেশি চিনতাম। ভালো ছেলেরা একটু নিরামিশটাইপ। সারাদিন চোথাবাজিতে বিজি।
১১. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৪৩
রাগিব বলেছেন: চোর ভাই, আমার নাম একটাই ছিলো। যদি রুমে এসে থাকেন, তাহলে ঢোকার মুখেই ডানদিকে আমার বেডটা ছিলো।
১২. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৪৬
অতিথি বলেছেন: তানভীরের রুমমেট খুব ভদ্্রটাইপ ছিলো, ভালো রেজালট। তবে একসাথে বসে রশীদের ক্যান্টিনে মনে হয় নাস্তাও করেছি।

আমি নাম মন রাখতে পারি না সহজে। রাগীবের ছবি দেখলে না চিনার কোনো কারণ নাই।
১৩. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫০
রাগিব বলেছেন: !@@!317831 !@@!317832 চেনা যায় কি না? ভদ্রটাইপের ঐটা যে মুখোশ, তা বলাই বাহুল্য :)
১৪. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫১
অতিথি বলেছেন: তাইলে এই হইলো ঘটনা।
১৫. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫৫
বকলম বলেছেন: বিদেশ আসার পর মামার প্রথম সর্তকবাণী "বাঙালী থেকে দূরে থাকবা"।

শুনে কষ্ট পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন চেষ্টা করি দূরে থাকার। আমি তিতা করলা খাই না, তিক্ততা আমার বড়ই অপছন্দ।
১৬. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:০৬
অতিথি বলেছেন: চিনলাম।
মুখোশ তো দরকার। তবে সময়মতো মুখোশ খুইলা ফেলতে পারাটা আসল। একবার মোস্তফা ভাই (কুষ্টিয়ার) ম্যানেজার ছিলো ডাইনিংয়ের। সারামাস ভুয়া খাওয়াইয়া তারপরে ফিস্টে দিছে হাফ রোস্ট!! শেঠি এমনিতে কোনো ঝামেলায় নাই। কিন্তু ওইবার গিয়া মোস্তফা ভাইয়ের বেডপত্র আইনা হলগেটের সামনে আগুন ধরায়া দিছে। আমরা থ!
১৭. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ দুপুর ১২:০৮
রাগিব বলেছেন: চোর ভাই, ঐ কথা আর বলবেন না!! আমার দুই রুমমেটই বিছানা পত্র পুড়ানোতে নেতৃত্ব দিয়েছিলো। ম্যানেজারের বিছানা এমনই নোংরা আর স্যাতস্যাতে, তাতে অনেক কষ্টে আগুন ধরাতে পেরেছিলো। পরে তদন্ত কমিটি হয়ে টয়ে এক কঠিন অবস্থা।
১৮. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:১২
মুহিব বলেছেন: আপনার আনন্দময় অতীতে আমার আনন্দময় বিচরন হল। ধন্যবাদ
১৯. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪৩
মুহিব বলেছেন: বলেছেন: !@@!317831 !@@!317832 চেনা যায় কি না? ভদ্রটাইপের ঐটা যে মুখোশ, তা বলাই বাহুল্য
১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১১:৫১ অতিথি বলেছেন: তাইলে এই হইলো ঘটনা।


ঘটনাটা কি
১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪৪

লেখক বলেছেন: ব্লগের দ্বিতীয় ভার্শনের টেকনিকাল বাগে লিঙ্কটার লেখা খেয়ে ফেলেছে। :(

২০. ২০ শে এপ্রিল, ২০০৮ রাত ২:৪৯
ফারহান দাউদ বলেছেন: অন্য হলের হলেও রশিদে আস্তানা গেড়েছিলাম নিয়মিত। রাত ২টার সময়ও এই হল জমজমাট,আমার মত হল্লাবাজকে টানতে এইটাই তো যথেষ্ট:)
২২. ০২ রা জুন, ২০০৮ রাত ১:২৬
মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেছেন: আমি প্রবাস জীবনের শুরু থেকেই একা থাকি। ছোট্ট একটা রুম। সঙ্গে সবকিছু এটাচড। ভাড়া অনেক। তারপরও একা থাকার স্বাধীনতা নষ্ট করতে চাই না ...

 

মোট সময় লেগেছে ০.১০৮১ সেকেন্ড

 

© somewhere in net ltd | terms of use | privacy policy
আমি রাগিব হাসান। ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে বসে আমি গণক মশাইকে পাহারা দিতাম। আর পাহারা দেয়ার তরিকা নিয়ে গবেষণা করতাম।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ