আমার প্রিয় পোস্ট

মায়ানগরের কড়চা

বঙ্গবাজার দীর্ঘজীবী হোক !

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৩৩

শেয়ার করুন:                   Facebook

কাপড় চোপড় কেনার ক্ষেত্রে বঙ্গবাজার হলো আমার দৌড়। মানে প্যান্ট কেনা আর কি। চট্টগ্রামে ছিলো জহুর হকার্স মার্কেট, আর ঢাকায় যখন পড়তে আসলাম বুয়েটে, তখন থেকেই জিন্স কিনতে হলে রিকশায় চেপে সেই বঙ্গবাজারে যাওয়া।

ওখানে কেনাকাটা করার বেশ কিছু কৌশল আছে। যদি খুব মাঞ্জা মেরে যান, দোকানদার আপনাকে মালদার পার্টি মনে করে ঐরকমই দাম চাইবে। বঙ্গ-তে কেনাকাটা করতে হলে তাই আমি সবসময় যেতাম স্যান্ডেল পায়ে, টিশার্ট আর জিন্স পরে।

দামাদামি হলো বঙ্গতে আমার সবচেয়ে পছন্দের ব্যাপার। জিন্সের দাম চাইতো শুরুতে ৮০০ টাকা। আমি বলতাম ১০০ টাকার নীচে, বা ভালো লাগলে খুব বেশি হলে ১০০টাকা। দোকানদার হয়তো আঁতকে উঠে কিপটামি সংক্রান্ত একটা বাঁকা কথা বলতো। ওসব কথা গায়ে মাখলে আর বঙ্গতে কেনাকাটা করা লাগতো না। তাই দিব্বি বিশাল হাসি বজায় রেখে দোকানদারের সাথে আড্ডা জমাতাম। কারণ, দোকানদার যদি আপনার পিছনে ২০ মিনিট বা আধা ঘন্টা সময় ব্যয় করে, তাহলে এক সময় ঠিক দামেই জিনিষটা দিয়ে দিবে। নইলে তো তার সময়টা গচ্চা গেলো। এরকম আড্ডা মারতে মারতে ৮০০ টাকা দাম হাঁকা ঐ জিন্স কিনতাম ১৮০ বা খুব বেশি হলে ২২০ টাকায়।

ঐযে বলেছিলাম, কাপড় চোপড় দেখে ওরা দাম হাঁকে। বিয়ের পরে একদিন আমার স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলাম। ঐ একই দোকানদার একই জিন্সের দাম শুরু করলো ১৫০০ টাকা হতে। অবশ্য দামাদামির স্টাইল দেখে বুঝে নিলো অল্প পরেই যে পুরানো পাবলিক। ২২০ টাকাতেই শেষে দিলো।

বিদেশে যখন পড়তে যাচ্ছি, তখন শীতের বড় জ্যাকেট কিনতে বঙ্গবাজারে গিয়েছিলাম। পিছনের দিকের একটা জায়গায় এগুলো বিক্রি করে। প্রচুর শীতের কাপড় নিয়ে গিয়েছিলাম ঐবার, যার মধ্যে দুইটা বড় জ্যাকেট ছিলো, একটা হাঁটু পর্যন্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ওখানকার বাংলাদেশীরা ভয় দেখালো। ৫-৬ বছর দেশে যাননি, এমন একজন প্রশ্ন করলেন, ইলিনয়ের শীত তো খুব বেশি, কাপড় কিনবো কবে। আমি জানালাম আমার বঙ্গের জ্যাকেটের কথা। উপস্থিত অনেকে হাসাহাসি করলেন, বললেন বঙ্গের ঐ জ্যাকেটে বাংলাদেশের শীত মানতে পারে, আমেরিকার শীত মানবে না। কাজেই আমি যেন মানে মানে সময় থাকতে এখান থেকে জ্যাকেট কিনে নেই। তখন অবশ্য গরম কাল ছিলো, তাই অন্যরা কী জ্যাকেট পরছে তা দেখিনি। ভাবলাম, বঙ্গ কী শেষ পর্যন্ত ডোবাবে নাকী আমাকে!!

যখন শীতকাল এলো, তখন শেষ হাসিটা আমিই হাসলাম। চারিদিকে সবাই যেই জ্যাকেট পরছে, সবই বঙ্গের জ্যাকেটের কপি। কিন্তু তফাৎটা হলো, এসব জ্যাকেট এরা কিনেছে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ডলার দিয়ে। সেই জায়গায় আমার বঙ্গের একই মানের জ্যাকেটটা কিনেছিলাম ৪০০ টাকায়। একদিন জেসিপেনি নামের শপিং মলের বিশাল দোকানটায় গিয়ে দেখি আমার ঐ জ্যাকেটটাই ঝুলছে। ট্যাগ চেক করে দেখি মেইড ইন বাংলাদেশ!!

আজ এই কথা মনে হলো আবারো, বঙ্গের সেই জ্যাকেট পরে যখন বাইরে বরফ পরিষ্কার করতে বেরিয়েছিলাম। দিব্বি আরামে -১৫ সে তাপমাত্রাতেও গরম ছিলাম।

তাই বারে বারে বলি,

বঙ্গবাজার দীর্ঘজীবী হোক।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরিআমার দিনকাল  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ রাত ৩:৩৭

 

  • ১০ টি মন্তব্য
  • ৩৭০ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ০ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪২
comment by: বকলম বলেছেন: বদ্দা (?) keep it up
২. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৪৮
comment by: সুফী বলেছেন: জয়স্তু:

আমি অবশ্য নিউ মার্কেটগামী...ঐখানে দাম বেশী একটু...বাট...বংগবাজার হিট।

.::সূফী::.
৩. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৫৩
comment by: অতিথি বলেছেন: আমি সমর্থন করছি। বঙবাজারের দোতালায় কিছু দোকান আছে সেখানে ওভারকোট, ইনার থেকে সবই পাওয়া যায়। একটু খুজে দেখে নিতে হয়, আমার 1 বছরের কন্যার জন্যেও পেয়েছিলাম, তাও মায়ের সাথে ম্যাচিং জ্যাকেট। মাফলার, দস্তানা সবই। আর নতুন সংযোজন নিটওয়্যার আউটেমস।

দারুন সব জিনিষ পাওয়া যায় ওখানে।
৪. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ৯:৫৭
comment by: অতিথি বলেছেন: তয় জহুর হকার্স এ কিছু জিনিস পাওয়া যায় যেইটা বঙ্গতে পাওয়া যায় না।এই দিক দিয়া হকার্স বস।
৫. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:১৩
comment by: রাগিব বলেছেন: ঢাকার ওয়েস্টেক্স বা অন্য সব ঝলমলে দোকানে কিন্তু বঙ্গের জিনিসই দেড় হতে দুই গুন দামে বিক্রি করে।

ওহো, এখনি মনে পড়লো বঙ্গের "ট্রায়াল রুম" এর কথা। বলা বাহুল্য, আলাদা তো রুম নাই। তবে প্যান্ট পরে দেখতে চাইলে দোকানদার লুঙ্গি সাপ্লাই দিতে রাজি। অনেককেই দেখেছি, লুঙ্গি নিয়ে প্যান্ট ট্রায়াল দিয়ে দেখছেন।
৬. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সকাল ১০:৩৭
comment by: অতিথি বলেছেন: অদ্ভুত জায়গা!!!
৭. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৫:২২
comment by: অতিথি বলেছেন: বঙ্গে একদিন লুঙ্গি পরে ট্রায়াল দিচ্ছিলাম, হঠাৎ লুঙ্গি ফসকে আমার লাল আন্ডিটা বের হয়ে মান-ইজ্জত ধুলায় লুটিয়ে দিয়েছিল।
৮. ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:২৮
comment by: আলী বলেছেন: ট্রায়ালে যাইনা দোকান চেনা আছে একবারে আট দশটা জিনস আনি বাসায় ট্রায়াল না হলে চেনজ
৯. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:০৬
comment by: রাগিব বলেছেন: আমিও ট্রায়ালে যাই না, তবে বঙ্গে যাওয়ার আগে কোমরটা মেপে নেই।

চট্টগ্রামের জহুর হকার্সে কাস্টম-ফিটিং জিন্স দর্জি দিয়ে তৈরী করানো যেতো।
১০. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:০৫
comment by: মাহবুব সুমন বলেছেন: রাগিব,
বংগেরর প্যান্টে সমস্যা আছে, কোমরঠিক তো লম্বায় বড়/ছোট। আমার সব ঠিকতো রানে চীপা। আজব সমস্যা সব দেখা দেয়। তবে চেনা থাকলে সমস্যা হয় না।
আর মুলামুলী ! সেটা আর বলতে ! তবে এ ব্যপারে আমি বড়ই আনাড়ি।
বাসার কাছে বংগ থাকাতে কিছু পাবলিকরে চিনতাম ভালো করে, সেজন্য তেমন সমস্যা পোহাতে হোতো না।
তবে আমি বংগে যেতাম না, কাপরে আমার এলাজর্ী আছে।

 

 


আমি রাগিব হাসান। ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে বসে আমি গণক মশাইকে পাহারা দিতাম। আর পাহারা দেয়ার তরিকা নিয়ে গবেষণা করতাম।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ