গুগল কথন - ১ : প্রযুক্তির প্রাণকেন্দ্রে বসবাস
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ১০:২০
গুগলে তিন মাস টানা কাজ করে যখন ফিরছি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে, তখন মনে হলো, এই তিনটা মাস এক অসাধারণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দ্রুত কেটে গেছে। আসলেই, গুগল এক আজব দুনিয়া।
১৯৯৮ সালে গুগলের প্রতিষ্ঠা, স্ট্যানফোর্ডের দুই ছাত্র - সের্গেই ব্রিন আর ল্যারি পেইজের হাতে। এরা দুজনে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইট গুলোকে কিভাবে র্যাংকিং, বা ক্রম নিরূপণ করা যায়, সেই গবেষণা করছিলেন। তা করতে গিয়ে তাঁরা বের করেন পেইজর্যাংক নামের একটি অ্যালগরিদম। আর সেই পেইজর্যাংকের চমৎকারিত্বেই গুগলের অনুসন্ধানের মান হয়ে উঠে এতোটা ভালো।
সের্গেই আর ল্যারিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। দুই-তিন জনে শুরু হওয়া এই গুগল আজ হাজার দশেক প্রোগ্রামারের এক বিশাল প্রতিষ্ঠান। আর গুগলে সার্চ করাটা এতই নিত্যনৈমিত্ত্বিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, অনেক অভিধানে "গুগল" নামের ক্রিয়াপদটিও যুক্ত হয়েছে, যার অর্থ ইন্টারনেটে কারো সম্পর্কে তথ্য বের করা।
ক্যালিফোর্নিয়ার মধ্য-উত্তর ভাগে, সানফ্রান্সিস্কো আর সান হোসে শহরের মাঝে, সেই সুবিখ্যাত সিলিকন ভ্যালির কেন্দ্রস্থলের মাউন্টেইন ভিউ শহরে গুগলের সদরদপ্তর। জায়গাটা চমৎকার, আবহাওয়াটা বাংলাদেশের হেমন্তকালের মতো থাকে সারা বছর জুড়েই। দিনের বেলাতে তাপমাত্রা ২০-২৫ সেলসিয়াস, আর রাতে ১৫-১৬ ডিগ্রির মতো। আর ভারি সুন্দর রৌদ্রকরোজ্জ্বল আকাশ। সানফ্রান্সিস্কোতে অবশ্য ঠান্ডা পড়ে এই গরম কালেও, প্রশান্ত মহাসাগরের শীতল স্রোতের কল্যাণে। কিন্তু উপকূল হতে ৪০ মাইল ভেতরের সিলিকন ভ্যালিতে আসতে আসতে ঠান্ডার প্রকোপ কমে আসে।
আমি আর আমার স্ত্রী জারিয়া বাসা খুঁজে নিয়েছিলাম গুগলের প্রধান দপ্তরের মাইল দুয়েকের মধ্যেই। আমাদের ঐ বাসা হতে মাইল দেড়েক আসলেই হাইওয়ে ১০১ পড়ে, আর তার ওপারেই গুগল। হাইওয়ে ১০১ চলে গেছে সানফ্রান্সিস্কো হতে লস অ্যাঞ্জেলেস অবধি। তবে ভীড়টা হয় সানফ্রান্সিস্কো হতে সান হোসের মধ্যকার অংশে, অর্থাৎ সিলিকন ভ্যালির এলাকাটাতে। এখানেই লাগালাগি করে শহর গুলো গড়ে উঠেছে। সান হোসের পশ্চিমে পর্যায়ক্রমে সান্তা ক্লারা, সানিভেইল, মাউন্টেইন ভিউ, পালো আল্টো (স্ট্যানফোর্ডের ক্যাম্পাস), আর তার পরে আরো কিছু শহর পেরিয়ে সবার পরে হলো সানফ্রান্সিস্কো। এই এলাকার তাবৎ মানুষ তাই হাইওয়ে ১০১ দিয়েই চলাচল করে থাকে। প্রতি পাশে ৪টি করে মোট ৮লেইনের এই হাইওয়ে সারাক্ষণ জমজমাট। বলা হয়ে থাকে, হাইওয়ে ১০১এর ট্রাফিক জ্যাম দেখেই বোঝা যায়, সিলিকন ভ্যালির অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন। আমি অবশ্য প্রচন্ড ভীড় দেখেছি, তাই বলতে পারি, এখন এখানকার কোম্পানিগুলোর রমরমা অবস্থা।
তা অবশ্য গুগল, ইয়াহূ!, সান, আর মাইক্রোসফটের বিশাল অফিস গুলো দেখলেই বোঝা যায়। এদের মধ্যে গুগল সবচেয়ে নবীন। তার পরেও প্রায় ২ মাইল এলাকা জুড়ে এদের মোট ১৬টা অফিস ভবন রয়েছে। এর পরেও জায়গা হচ্ছেনা দেখে আশে পাশে আরো অনেক ভবন ভাড়া নেবার পাঁয়তারা চলছে।
তথ্য প্রযুক্তির এই প্রাণকেন্দ্রে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা সহজ না। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে পুরো আমেরিকার সব নামজাদা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা এখানে ইন্টার্নশীপ, বা তিন মাসের শিক্ষানবিশী কাজের জন্য আবেদন করে থাকে। (গুগল অবশ্য এই তিন মাস ওদের স্থায়ী প্রকৌশলীদের হারেই বেতন দেয়
)। গত কয়েক বছর গ্রীষ্মকালে কাজ করেছি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারকম্পিউটার সেন্টার এনসিএসএ-তে। তাই এবছরের শুরুতেই ঠিক করি, এবার আর এখানে না, বরং গবেষণা ও প্রোগ্রামিং এর হাতে কলমে কাজ হয়, এমন কোথাও ইন্টার্নশীপ করবো। অফার অবশ্য পেয়েছিলাম বেশ কয়েক জায়গা থেকে। কিন্তু মাইক্রোসফট, এইচপি, কিংবা ইয়াহুর থেকেও গুগলে কাজ করার ইচ্ছাটা অনেক বেশি ছিলো। কারণ, গুগলের সম্পর্কে এতো গল্প চালু, ওদের কাজের পরিবেশের এতো সুনাম, আর এতো প্রচন্ড ইন্টারেস্টিং সব প্রজেক্ট ওদের এখানে চলছে, তাই ভেবেচিন্তে গুগলের ইন্টার্নশীপটাই বেছে নিই।
গুগলে এসে এই তিন মাসে যা দেখেছি, তাতে বুঝেছি, সিদ্ধান্তটা ঠিকই নিয়েছিলাম। প্রথম দিনটি থেকেই শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত চমৎকৃত হয়েছি প্রতিদিনই, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের অসাধারণ প্রয়োগের বিভিন্ন নিদর্শন দেখে দেখে।
(ছবি - গুগলে আমার অফিস ভবনের সামনে আমি, গুগলের মূল ভবন বিল্ডিং ৪০-র পাশে আমি ও জারিয়া, এবং গুগলের মূল চারটি ভবনের মাঝের বাগানে জারিয়া। ডাইনোসরের সাথের ছবি আগামী পর্বে আসছে)
[চলবে]
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গুগল, গুগল ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরি, আমার দিনকাল বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সকাল ৮:২০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
স্বপ্নশিকারী বলেছেন:
বস, অপেক্ষায় আছি
শাহরীয়ার বলেছেন:
রাগিব ভাই আপনি আমাদের গর্ব আর সামনে এগিয়ে যাবার প্রেরনা।
আপনি আমাদের প্রেরণা। আপনার মতো অনেক বাঙ্গালী গুগলে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করুক। তাদের মেধার পূর্ণ বিকাশে এ অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই সহায়ক হবে। গুগলে বা অন্যকোথাও ইনটার্ণশীপ করতে কিভাবে কোথায় যোগাযোগ করতে হয় সেই বিবরণটা দিলে অনেকে উপকৃত হবে।
কালপুরুষ বলেছেন:
অভিনন্দন। আপনার জন্য গর্ব অনুভব করছি। অনেক তথ্য জানা গেল। লেখায় যে চমত্কার বর্ণনা দিয়েছেন তা থেকে পরিবেশের একটা কল্পচিত্র মনের মধ্যে গাঁথা হয়ে গেল।
সাইফুর বলেছেন:
ভালো লাগলো...চালিয়ে যান...
রাগিব বলেছেন:
ধন্যবাদ।রুবন - গুগল, আইবিএম বা মাইক্রোসফট সাধারণত ইন্টার্ন নিয়ে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো হতে। বড় ও নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার ফেয়ারে ইন্টারভিউ নেয়, তা ছাড়াও প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলো জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের দিকে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন নেয়। প্রাথমিক বাছাইয়ের পরে টেলিফোনে কয়েক ঘন্টা ইন্টারভিউ নেয়া হয়।
বাংলাদেশে থেকে এই সুযোগ পাওয়াটা কঠিন, তবে গুগল বা অন্য কোম্পানির ভারতীয় শাখায় আবেদন করে দেখতে পারেন।
রাগিব বলেছেন:
@কালপুরুষ -আসলে এতো কিছু দেখেছি, ২০-৩০টা পোস্ট দিয়েও শেষ করা যাবে না। ডাইনোসরটার কথা লিখবো আগামী পোস্টে, আর স্পেসশীপ ওয়ানের কথাও লিখবো, কিন্তু তার চেয়েও চমৎকার গুগলের কাজের পরিবেশ আর প্রযুক্তির কথা। দেখি, কদ্দুর লিখতে পারি ...
শাহেদুর রহমান বলেছেন:
অভিনন্দন...
ত্রিভুজ বলেছেন:
অভিনন্দন রাগিব ভাই। গুগলের কোনরকম নিষেধাজ্ঞা না থাকলে গুগল সম্পর্কে আরো কিছু পোষ্ট দিন। মানে যেগুলো ওয়েবে পাওয়া যায় না পোষ্টের অপেক্ষায় রইলাম..... হতাশ করবেন?
কালপুরুষ বলেছেন:
রাগিব,অনেকে অনেক কিছু দেখলে কিংবা জানলেও তা প্রকাশ করতে পারে না শুধুমাত্র লেখালেখির অভ্যাস না থাকার কারনে। আপনি সেদিক থেকে ব্যতিক্রম। স্বভাবতই আপনার কাছে আমাদের আশাটা একটু বেশীই বলতে পারেন।
বিল্টু'র (শরীফ মুস্তাফিজ) সাথে কী যোগাযোগ আছে? ও'তো আছে ক্যালিফোর্নিয়া'র সান ফ্রান্সিসকো'তে।
রাগিব বলেছেন:
@ত্রিভুজহ্যাঁ, যেটুকু বলতে পারবো, অবশ্যই বলবো। আর গুগল ভবনের বাইরের ছবি যা তুলেছি, দেয়ার চেষ্টা করবো। বিল্ডিং এর ভেতরের ছবি অবশ্য তোলা মানা ছিলো।
@কালপুরুষ - না, সানফ্রান্সিস্কো এলাকার লোকজনের সাথে বেশি দেখা হয়নি। বাংলাদেশী প্রকৌশলীরা সিলিকন ভ্যালিতেই বেশি থাকেন, উনাদের অনেকের সাথে দেখা হয়েছে।
ত্রিভুজ বলেছেন:
থ্যাংকু থ্যাংকু :-)
বন্ধ্ু বলেছেন:
রাগিব ভাই, আপনি আসলে আমাদের গর্ব। কিন্তু আমাদের মিডিয়া কেন আপনাদের মত লোকদের লাইম লাইটে আনে না, তা বুঝতে পারি না। আপনাদের সমন্ধে জানলে অনেক ভাল লাগে। রাগিব ভাই, গুগুল নিয়ে আরও জানালে খুব খুশি হব। আর গুগুল কোন লাংগুয়েজে কাজ করে বেশি তাও জানাবেন।
আপনি আমাদের প্রোগামাদের জন্য গর্ব।
সামিহা এষা বলেছেন:
ভাইয়া আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা আপনার ইনটার্ন শেষ করার জন্য গুগলের সাথে....এবং আপনার এই দারুণ experience আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য...।
রাগিব বলেছেন:
@বন্ধ্ু গুগলে ব্যবহৃত হয় প্রধানত তিনটি ভাষা - সি++, জাভা, এবং পাইথন। এছাড়াও রুবি অন রেইলস, এবং কিছু পরিমাণে সি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ধ্রূপদী বলেছেন:
অভিনন্দন রাগিব ভাই। গুগলের জব সাইট http://www.google.com/intl/en/jobs/index.html এর বাইরেও হিউম্যান রিসোর্সে সিভি পাঠাতে পারেন। ওদের নিজনেস সম্ভবত খুব দ্রুত বাড়ছে। ইন্টারভিউ সাধারণত কয়েকটা পর্যায়ে হয়। আপনার সিভি দেখে পছন্দ হলে হিউম্যান রিসোর্স কথা বলতে পারে। এরপর তারা যোগ্যতা এবং আগ্রহ অনুযায়ী সিভিগুলো ফরওয়ার্ড করে। বিস্তারিত জানতে রাগিব ভাইকে ধরা হোক।
বায়েজীদ বলেছেন:
লেখার জন্য অনেক ধন্যবাদ রাগিব ভাই। গুগল নিয়ে একটা প্রশ্ন ছিল। বাংলা নিয়ে ওরা কোন কাজ করে কিনা, যেমন ইংরেজী-বাংলা মেশিন ট্রান্সলেশন। এরকম কোন প্রজেক্ট থাকলে কিন্তু আমাদের দেশের কিছু ছেলে ওখানে কাজ করতে পারে।
রাগিব বলেছেন:
ধ্রূপদী, ঠিক আছে, তবে এইভাবে ইন্টারভিউ পেতে হলে মাস বা বছর অপেক্ষা করতে হবে। গুগলের ইন্টারভিউ পাওয়ার সবচেয়ে দ্রুত উপায় হলো এখানে কাজ করেন, এমন কারো সুপারিশ। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে সেই ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ এর ডাক পড়ে, আর গুগলে যত লোক নিয়োগ হয়, তার অর্ধেক গুগলের অভ্যন্তরীণ সুপারিশ হতে আসে।সপ্তাহে এরা ৬০ জন ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করছে এখন!!
রাগিব বলেছেন:
বায়েজীদ, এখনও ইংরেজি-বাংলা মেশিন অনুবাদের উপরে এরা কাজ করছে না। বাংলাদেশের মার্কেটে এরা আস্তে ধীরে আসবে, কেননা এখানে কম্পিউটার/ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখনও অনেক কম।তবে গুগলের অনেক গুলো মোবাইল প্রোডাক্ট আছে, তাই আস্তে আস্তে দুই তিন কোটি মোবাইল কাস্টোমারের জন্য হলেও গুগল বাংলাদেশের দিকে মনোযোগ দিবে। সের্গেই ব্রিন নিজে এটা আমাকে বলেছে।
সুমি বলেছেন:
রাগিব ভাই ---তোমায় পেয়ে বাংলা আমার ধন্য হল---
ফুলে ফুলে ফুলোময় হউক রাগিব ভাইয়া তোমার চলার পথ---
(রাগ করোনা ভাইয়া আমি তোমার অনেক ছোট তার পরেও তুমি করে বললাম----)
মনের কথা বলেছেন:
ভাল লাগলো...
আমি মাহমুদ বলেছেন:
স্যলুট নিন সফল মানুষ। এগিয়ে যান।**************
আমার একটা প্রশ্ন আছে। google.com.bd
-এর বাংলা অনুবাদের তদারকি কে করেন তা কি জানানো যাবে? এ ব্যাপারে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। আপনাকে করলে কি উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে ? ( প্লিজ, প্রশ্ন করি ! ! ! বন্ধু-ব্লগারের জন্য হ্যাঁ বলুন !)
রাগিব বলেছেন:
@মাহমুদএই ব্যাপারে গুগলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানানো হয়েছে। অনুবাদ মূলত স্বেচ্ছাসেবকেরা গত কয়েক বছর ধরে করেছে, তার পর গুগলের কোয়ালিটি কন্ট্রোলের কেউ ঐ অনুবাদ অনুমোদন করার পরে ঐসব লেখা গুগলের বাংলা সাইটে এসেছে।
অলস বলেছেন:
চমৎকার! আপনি শুধু ভালো প্রোগ্রামারই নন, ভালো লেখকও। ৫!
জুবাঈর_সাঈদ বলেছেন:
সুন্দর পোস্ট, চালিয়ে যান...৫++
পান্থ বিপুল বলেছেন:
how is the salary?
মাসুদ যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন:
রাগিব ভাই, আপনি বাংলাদেশের গর্ব। গুগলে বাংলাদেশি কতজন কাজ করে তারা কিভাবে গিয়েছেন জানালে উপক্রিত হতাম। ভাই আপনি কোন বিশ্ববিদয়ালয়ে পড়াশুনা করেছেন?
মাসুদ যা বলেছেন ঠিকই বলেছেন:
রাগিব ভাই, আপনি বাংলাদেশের গর্ব। গুগলে বাংলাদেশি কতজন কাজ করে তারা কিভাবে গিয়েছেন জানালে উপক্রিত হতাম। ভাই আপনি কোন বিশ্ববিদয়ালয়ে পড়াশুনা করেছেন?
সফদর আলী বলেছেন:
রাগিব ভাই, গুগলের কর্মপদ্ধতি অথবা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছু বলেন যেটা আমাদের দেশের কোন প্রতিষ্ঠান অনুকরনীয় হতে পারে। কারণ গুগল অথবা সিলিকন ভ্যালির অন্যান্য সফল কোম্পানিগুলো শুধুমাত্র মেধাবীদের হায়ারই করছে না, তাদের এমন পরিবেশ দিচ্ছে যাতে তারা তাদের মেধার সর্বত্তোম ব্যবহার করতে পারে।
রেজওয়ান বলেছেন:
অভিনন্দন। আগ্রহ রইল বাকীগুলো পড়ার জন্যে।বাংলা নিয়ে গুগলের ইনিশিয়েটিভগুলো সম্পর্কে জানতে চাই।
রাশেদ বলেছেন:
অভিনন্দন।
রাগিব বলেছেন:
@মাসুদএখন পর্যন্ত এক জন ইঞ্জিনিয়ারই কেবল আছে, তবে আর এক জনের যোগদানের কথা। এরা সবাই বহু ধাপের ইন্টারভিউ দিয়ে গেছে। আর আমি !@@!1530051 পড়েছি/পড়িয়েছি এবং !@@!1530055 পড়ছি।
রাগিব বলেছেন:
@সফদর আলীঠিক বলেছেন, এদের ম্যানেজমেন্ট চমৎকার, তাই তো ইঞ্জিনিয়ারেরা মনের সুখে কাজ করে (মার্কিন কর্মচারী জরীপে গুগল কাজের পরিবেশের দিক থেকে ১ম স্থানে রয়েছে)।
রাগিব বলেছেন:
@রেজওয়ানধন্যবাদ।
বাংলা নিয়ে এখন পর্যন্ত গুগলের খুব বেশি চেষ্টা নেই, কারণ ১) ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে এখনও খুব বেশি না, ২) আর যারা ব্যবহার করে, তাদের অধিকাংশই অন্য ভাষায় (যেমন ইংরেজি) ইন্টারনেট ব্যবহার করে ও কন্টেন্ট সার্চ করে থাকে। তবে আস্তে আস্তে বাংলার দিকেও গুগল নজর দিচ্ছে। এই ব্যাপারে অচিরেই লিখবো।
গুগলের ক্যান্টিনে যা ইচ্ছা ফ্রি খাওয়া যায় এটা শুনে খুব লোভ হচ্ছিল
ইয়াহুর অনেক পরে এসেও গুগল আজ নেট সার্চের প্রতীক হয়ে গেছে ... আপনার মতে ইয়াহুর সাথে পেরে ওঠার পেছনে গুগলের কোন সিগনিফিকেন্সটা সবচেয়ে বেশী কাজ করেছে?
শুধুই পেইজর্যাংক এ্যালগরিদম?
ইয়াহু আর মাইক্রোসফট মনে হয় রিসেন্টলি একটা জয়েন্ট প্রজেক্টে যাচ্ছে যেটা গুগলের প্রতিদ্বন্দী হিসেবে আবির্ভূত হবে বলে অনেক মনে করেন ... গুগলবাসীদের প্রতিক্রিয়া কেমন?
(অবশ্যই এন.ডি.এ ভঙ্গ নাহয় এমন ভাবে বললেই চলবে)
রাগিব বলেছেন:
@জ্বিনের বাদশাগুগলের ক্যান্টিন সম্পর্কে যা শুনেছেন, তার চেয়েও অনেক এলাহী কান্ডকারখানা। ক্যান্টিন/ক্যাফে একটা না, অসংখ্য (লিখব, প্রমিজ!)।
গুগলের সার্চ কোয়ালিটি ইয়াহুর চাইতে অনেক ভালো, প্রথম দিক থেকেই। আর দুই সাইটের ফিলসফি কিন্তু দুইরকম, ইয়াহু শুরু হয়েছিলো ওয়েব পোর্টাল হিসাবে, ওদের সাইটে যাবেন, ওরা অনেক লিংক যোগাড় করে রাখবে, তা ধরে ঐসব সাইটে যাবেন - এরকম। ইয়াহুর ওয়েবসাইট তাই বেশ জটিল, সে তুলনায় গুগলের সার্চ সাইট একেবারেই সহজ সরল। সার্চের একটা বক্স, আর সার্চের বাটন। আসলে প্রথম হতে আজ পর্যন্তই গুগলের মুখ্য বিষয় হলো সার্চ, তাই মূল সাইটে হাবিজাবি ছবি, লিংক এর বদলে সহজ সরল ডিজাইন বহাল আছে, এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
এনডিএ তো সাইন করতে হয়েছেই
আমারও মনে হয়েছে "সহজ সরল ডিজাইন "টা একটা বিশাল ফ্যাক্টর ... প্রথম গুগল সাইট ব্যবহার করে সার্চ করলাম ২০০০ এ ... সেই প্রথমবার ইউজ করেই কেন জানি মনের মধ্যে কমনসেন্সের মতো ঢুকে গেল সার্চ করতে হলে এই সাইট!!

... মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে 'সাবলিমিনাল ইফেক্ট' টাইপের কিছু নাকি !
গুগলের খাওয়া-দাওয়া সম্পর্কিত পোস্টের অপেক্ষায়

সবুর বলেছেন:
Apologies in advance for typing in english. I'm really sorry but trust me I'm horrible at typing in Bengali, please excuse my disability. I got link to your wonderful blog from Satej bhai. I feel both happy and sad to know that you were here in Google just a while ago. Happy because you were here, at least someone from the country was here. Sad because I didn't know, it would have been great to meet a great countryman miles away from home. I've been working as a Software Engineer at Google (in Engineering) for the last 6 months. I'm working with the Infrastructure team here in Mountain View. Working here, just as you've described so beautifully, has indeed been an unbelievable experience so far. Please drop me a line at if you or anyone you know visits Google headquarters in future. I would really appreciate that. A short intro about myself - I'm Zaheed Sabur, graduated from AIUB in February this year and then joined Google's Bangalore office. After spending a few months there, I've come to Google headquarters in Mountain View. I topped in the subcontinent at Google (International) Codejam'05 and was a finalist at Google (India) Codejam for South Asia'06.
মদন বলেছেন:
সবুর ভাই,ফাটায়া দেন। বিশ্বকে জানিয়ে দেন আমাদের দেশে শুধু বন্যাই হয় না। স্মরনীয় প্রতিভারাও জন্ম হয়।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
সবুর ভাই, আপনি এখানে!!!!!!!!!!!! বস আমি এআইইউবি'র। আপনার সাথে কনভোকেশন নিয়েছি।
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
চমৎকার !
তারিফএজাজ বলেছেন:
http://www.ragibhasan.com এ গেলে রাগিব ভাই সম্পর্কে আরো জানতে পারবেন। কিন্তু তা জানবেন না, তা হল তার অসাধারণ নেতৃত্বগুণ এবং মানুষকে অনুপ্রাণিত করার প্রতিভা। গত একবছর ধরে রাগিব ভাইয়ের সাথে উইকিপিডিয়াতে কাজ করেছি, এই সময়ে সেরা পাওয়া তার সাহচর্য্য। আমাদের দেশের তথাকথিত আঁতেলরা যদি এই মানুষটাকে দেখতেন, ভাল হত। সত্যি বলছি, রাগিব ভাইয়ের সাথে মেইল আদান-প্রদান বা বার্তা-প্রদানের সময় শঙ্কায় থাকি, এতবড় মানুষ, কিছু মনে করবে নাতো? কিসের কি? তার অসাধারণ বিপরীত-বার্তা যেন একেবারে হৃদয়ে গিয়ে ঠেকেছে। তিনি যে আমার কথাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তাতে অভিভূত হয়েছি, নিজেকেও মাঝে মাঝে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তার মন্তব্য শুনে! তার এই না জানা অসাধারণ ব্যক্তিত্বের তুচ্ছ বিবরণ, আশাকরি এখানে অপ্রাসঙ্গিক নয়। সবাইকে শুভেচ্ছা। এখন পরের পর্ব ৱটা পড়ি।
শাহজাহান সিরাজ বলেছেন:
রাগীব ভাই, অসাধারণ। এই মাত্র আমি গুগল কথনের প্রথম পর্বটা পড়লাম, বাকী পর্বগুলোও পড়ব। বাংলা উইকিপিডিয়াতে কাজ করতে গিয়ে আর প্রথম আলোতে মুনির ভাইয়ের লেখা থেকে আপনার নাম জেনেছিলাম। এতভাল লেখেন তা জানতাম না। চালিয়ে যান ভাই, আপনারা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলা উইকিপিডিয়ার জন্য বাংলা আপনার কাছে ঋণী হয়ে থাকবে।
সবুজ আরেফিন বলেছেন:
ধন্যবাদ রাগিব ভাই।
ইন্ঞ্জিনিয়ার বলেছেন:
ছবিটা তোলার সময় আপনার বয়স এ্খনকার চেয়ে বেশি ছিল মনে হয়!!!
লেখক বলেছেন: বয়স কম থাকলেও ওজন বেশি ছিলো নি:সন্দেহে
। আপনি অন্য পর্বগুলোতে গুগলের খাবার-দাবারের বর্ণনা দেখলেই বুঝবেন
নীড় ~ বলেছেন:
চমৎকার
তানভির আহমদ বাপ্পী বলেছেন:
রাগিব ভাইকে অভিনন্দন!
কাঊসার রুশো বলেছেন:
অসাধারন। আপনার জন্য শুভকামনা। ভালো থাকবেন।আর আমাদের দেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল করবেন
লেখক বলেছেন: এটা কিন্তু সাড়ে ৩ বছর আগের (২০০৭) পোস্ট, সেটা খেয়াল করেছেন তো?
আমার ইন্টার্নশীপের সময়ে ২০০৭ সালে মাত্র ১জন বাংলাদেশী কাজ করতো। এখন গুগলে ইন্টার্নশিপ করা আর তেমন দূর্লভ ব্যাপার না। তাছাড়া গুগলে কাজও করছেন অনেক বাংলাদেশী।
মেকগাইভার বলেছেন:
ভাবির ফেসের সাথে তো দেখি গুগলের অনেক মিল। আপনার কপালটাই আসলে গুগল।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...






















স্যালুট!!