গুগল কথন - ৪ : ব্রিন আর পেইজের কথা
০৩ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১০:৫৬
সের্গেই ব্রিন আর ল্যারি পেইজ গুগলের প্রতিষ্ঠাতা দুই টগবগে তরুণ। তাঁদের পরিচয় হয় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি করার সময়, আর ঐ সময়েই দুজনে মিলে পেইজর্যাংক নামের একটি অ্যালগরিদম লিখেন। পেইজর্যাংকের মূল লক্ষ্য ছিলো ইন্টারনেটের ওয়েবপেইজগুলোর সম্পর্ক বের করা, কোনো পেইজের গুরুত্ব বের করে ঐ অনুযায়ী একটা ক্রম বের করা। ব্যাস, এই পেইজর্যাংক অ্যালগরিদমটিই সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে গুগলের সূচনা করে দেয়। আগের সার্চ ইঞ্জিনগুলো কোন কোন ওয়েবপেইজে অনুসন্ধিত শব্দগুলো আছে, তা বের করতে পারতো, কিন্তু ওয়েবপেইজগুলোর র্যাংকিং ভালো ভাবে করতে পারতোনা বলে সার্চের ফলাফল ভালো আসতোনা।
সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে গুগলের মান অনেক ভালো, এটা বোঝার পরে ব্রিন আর পেইজ গুগলকে একটা স্টার্ট-আপ কোম্পানি হিসাবে শুরু করেন ১৯৯৮ সালে। সিলিকন ভ্যালির অন্য অনেক নামজাদা কোম্পানির মতোই গুগলের যাত্রা শুরু হয় একটা গ্যারেজে, কিছু কম্পিউটার সার্ভার নিয়ে। গুটি কয়েক প্রোগ্রামার নিয়ে শুরু করা সেই গুগল আজ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারে মূল্যায়িত এক মহীরূহে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু, ব্রিন আর পেইজকে দেখে তা বোঝার উপায় নেই। এখনও দুজনে মাটির মানুষ, ভাবভঙ্গীতে সেই পিএইচডি করতে থাকা গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ছাত্রের মতো। গুগলে ইন্টার্নশীপ পাওয়ার সময় ভেবেছিলাম, পুরা গুগলের সবার বস ব্রিন, পেইজ, এবং গুগলের সিইও এরিক স্মিড্টকে আদৌ চোখে দেখতে পাবো কি না। বাংলাদেশে অন্য কারো কথা বাদ থাক, বুয়েটের শিক্ষকতা করার সময়েও বুয়েটের ভিসির সাথে দেখা করতে এক দিন ঘন্টা পাঁচেক বসে থাকতে হয়েছিলো। কোম্পানিগুলোর কথা তো বাদই দিলাম ... কোনো কোম্পানিতে সদ্য যোগ দেয়া কেউ কি আশা করতে পারে, কোম্পানির মালিকের সাথে সরাসরি কথা বলা বা বেফাঁস প্রশ্ন করা যাবে?
প্রথম দিনেই ধারণাটা পালটে গেলো, ব্রিন আর পেইজকে দেখে। প্রতি শুক্রবার গুগলে এক বিশাল পার্টি হয়। টিজিআইএফ, অর্থাৎ থ্যাংক গড ইটস ফ্রাইডে হলো এই পার্টির নাম। আসলে সোমবার থেকে কাজ শুরু হয়ে শুক্রবার আসতে আসতে মানুষের মেজাজ খিঁচড়ে যায়, কাজের চাপে মাথা গরম হয়ে থাকে। শুক্রবার আসলে আসন্ন দুই দিনের উইকেন্ড বা সপ্তাহান্তের ছুটির আনন্দে শুকরিয়া করে ... তাই থেকেই এই মিটিংটার নাম হয়েছে। যাহোক, এই মিটিং এর মোদ্দা কথা হলো, গুগলের বিশাল ক্যাফেটাতে হাজার কয়েক গুগল ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য কর্মী জড়ো হবে, বিশাল একটা খাওয়া দাওয়া চলবে, আর মঞ্চে দাঁড়িয়ে ব্রিন আর পেইজ গল্প গুজব করবে।
ওখানে হাজির তো অবাক। দেশে থাকতে দেখতাম, কোনো কোম্পানির বড়সাহেব, এমন কি সরকারী কোনো অফিসের জিএম সাহেবের বিশাল ভাব, আর আশে পাশে চামচার দল, অনেক সময় সিকিউরিটির লোকজনের হুমকি ধামকি। সে তুলনায় দুনিয়ার বিলিয়নিয়ারদের তালিকায় ২৬ তম স্থানে থাকা ব্রিন ও পেইজকে (প্রত্যেকের সম্পত্তির পরিমাণ ১৬ বিলিয়ন ডলার করে) দেখে বোঝারই উপায় নেই, ওরাই এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং অধিকাংশ শেয়ারের মালিক। মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রতি শুক্রবার ওরা প্রথমে এই সপ্তাহে কি কি প্রডাক্ট গুগল ছাড়ছে, তার কথা বলে খানিক ক্ষণ। অনেক প্রডাক্ট, যেমন স্ট্রিট ভিউ, মার্কেটে আসার আগেই ভিতরের সবাইকে জানানো হয়। এর ফাঁকে ফাঁকে ব্রিন ও পেইজের ভাড়ামি চলতে থাকে, অনেকটা "ইত্যাদি" অনুষ্ঠানের মতো করে দুইজন নানা রকমের রসিকতা করতে থাকে। ব্রিনের জন্ম ও শৈশব কেটেছে সোভিয়েত ইউনিয়নের কড়া সমাজতন্ত্রী শাসনে, সেটা নিয়ে ওকে পেইজ প্রায়ই ঠাট্টা করে। ব্রিনও কপট গাম্ভীর্য দেখিয়ে হাঁসাতে পারে ভালোই।
এর পরেই শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই পর্বে গুগলের কর্মীরা সরাসরি, বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রশ্ন করতে পারে ব্রিন, পেইজ, এবং এরিককে। আর এই পুরো ব্যাপারটাই খুব [ইংলিশ]transparent[/ইংলিশ], যে কোনো ধরণের প্রশ্ন যে কেউ নির্ভয়ে বলতে পারে। এমন কি গুগলের কোনো একটা পদক্ষেপ খুব বাজে এবং নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক, এরকম প্রশ্ন করতেও কোনো বাঁধা নেই। আমি যে কয়দিন এই অনুষ্ঠানে গিয়েছি, দেখেছি গুগলের কর্মীরা প্রত্যেক দিনই এরকম প্রশ্ন করছেন। যেমন, গুগল ভিডিও বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত কেনো নেয়া হলো, কেনো ইবে কে গুগল খেপিয়ে দিলো, এরকম। অনেক প্রশ্ন এমন, যেন ব্রিন ও পেইজকে রীতিমত জবাবদিহি করতে বলার মতো। ভাবতে পারেন, বাংলাদেশের কোনো কোম্পানির মালিকদের এরকম প্রশ্ন করা হচ্ছে, আর প্রশ্ন করছে একেবারে নতুন কর্মীরা? গুগলের চমৎকার পরিবেশে আসলে এটাই খুব স্বাভাবিক।
ব্রিন আর পেইজকে প্রশ্ন করার সুযোগ আমিও হাতছাড়া করিনি। অনলাইনে যে প্রশ্ন করার ব্যবস্থা আছে, তাতে শুক্রবার সকাল বেলা প্রশ্ন দিলে বিকাল নাগাদ ভোটাভুটিতে যে প্রশ্ন টিকে যায়, সেটাই করা হয়। বেশ কয়েক সপ্তাহ চেষ্টা করে আমার প্রশ্নটা একদিন প্রথম ১০টি প্রশ্নের মধ্যে আসলো। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, বাংলাদেশের দিকে গুগলের নজর কবে পড়বে, আর গুগল যেসব ভাষাকে প্রাধান্য দেয়, তাদের মধ্যে ২৫ কোটি লোকের মুখের ভাষা বাংলা কবে আসবে।
প্রশ্নের জবাব সের্গেই ব্রিন খুব আগ্রহের সাথেই দিলো। বললো, গুরুত্ব দেয়ার ব্যাপারটা অনেকটা অর্থনীতি ভিত্তিক। বাংলাদেশে কয়েক কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী আছে, তাই অচিরেই ঐ দিকে গুগল চিন্তা করবে, মোবাইলের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জন্য কাজ করবে। আরেকটা ব্যাপার হলো, বাংলা ভাষায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কেমন, সেটা দেখতে হবে ... বাংলাদেশ থেকে যত মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের কতজন বাংলায় গুগল সার্চ করেন, ইংরেজি গুগলের বদলে, তাও বিবেচ্য। এসব কিছু বিবেচনা করে অচিরেই গুগল বাংলার উপরে কাজ শুরু করবে।
ব্রিন অবশ্য সিরিয়াস কমই থাকে, আগেই বলেছি। ব্যাগি প্যান্ট আর টি শার্ট পরা ব্রিনকে দেখলে মনে হয়, ইউনিভার্সিটির ল্যাব থেকে বেরিয়ে এসেছে এই মাত্র। পেইজকেও তাই। আর গুগলের প্রতিষ্ঠাতা হলেও চামচা বাহিনী নিয়ে ঘুরবে, বা তাঁদের ঘিরে বডিগার্ডের দল থাকবে, তা না। একদিন মজার ব্যাপার হলো, আমি সেদিন গিয়েছি বিল্ডিং ৪৩ এর নো-নেইম ক্যাফেতে। খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, হঠাৎ মনে হলো, সামনের লোকটাকে চেনা চেনা লাগছে। কোথায় দেখেছি ভাবতে ভাবতেই টের পেলাম, এটা সের্গেই ব্রিন। মনে হলো, ভলিবল কোর্টে অন্য কর্মীদের সাথে খেলে এসে এখন খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, অন্য সব সাধারণ গুগল কর্মীদের সাথে।
সিলিকন ভ্যালির সবাই বেশ ইনফর্মাল, তবে গুগলের মতো এতোটা না। ব্রিন আর পেইজের মতো মাটির কাছে থাকা মানুষদের দেখলে বোঝা যায়, কেনো গুগলের অন্য কর্মীরা এতো উৎসাহের সাথে কাজ করে থাকে। আর এজন্যেই কাজ করার জায়গা হিসাবে ফর্বস ম্যাগাজিনের জরীপে সব কোম্পানিকে পেছনে ফেলে গুগল এখন ১ নাম্বারে।
(ছবিতে বামে সের্গেই ব্রিন, ডানে ল্যারি পেইজ। ছবিটি ২০০৬ সালের গুগল জিও ডেভেলপার ডে তে ডেভিড ম্যাক্লুরের তোলা, এবং ক্রিয়েটিভ কমন্স লাইসেন্সে প্রদত্ত্ব)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): গুগল, গুগল ;
প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দিনকাল, স্মৃতিচারণ বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:০৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অনিশ্চিত বলেছেন:
রাগিব ভাই, সেদিন আমি উইকিপিডিয়ায় আবদুল্লাহ আল মুতী সার্চ দিয়ে কোনো নিবন্ধ না পাওয়াতে নতুন করে নামটি নিবন্ধন করি। কিন্তু আজ দেখলাম এই নিবন্ধটি আগে থেকেই আছে। তাই আমি নতুন নিবন্ধটি মুছতে চাই। কীভাবে তা সম্ভব? মূল নিবন্ধটি আছে আবদুল্লাহ আল মুতি শরফুদ্দিন নামে, আমারটা আছে আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন নামে।ভালো কথা, উইকিপিডিয়াতে আমি নতুন, তাই হয়তো আপনাকে মাঝে মাঝে সিলি সিলি প্রশ্ন করতে পারি। কিছু মনে করবেন না।
জেসন বলেছেন:
চমতকার লিখা ধন্যবাদ রাকিব ভাই।
রাগিব বলেছেন:
@যাযাবর - না রে ভাই, গুছিয়ে লিখা আমার দ্বারা সম্ভব না। গুগলে যা দেখেছি, তার অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ বলেই এরকম লাগছে @অনিশ্চিত - মোছার দরকার নেই, রিডাইরেক্ট করে দিলেই হবে, সেটা আমি করে দিবো। ধন্যবাদ।
মুসা বলেছেন:
রাকিব ভাই, আপনার লেখা খুব ভালো লাগলো।
ভাসমান বলেছেন:
৫ না দিয়ে আর যাই কোথায়। ভাল , খুব সুন্দর হয়েছে লেখাটা। গণক মিস্তিরি দেখছি সাহিত্য মিস্তিরি হিসাবেও খারাপ না। হাঃ হাঃ হাঃ । এধরনের আরো লেখা আশা করছি। ধন্যবাদ।
কালপুরুষ বলেছেন:
রাগিব,চোখ ও মন, মনন ও মেধা সবগুলোর সমন্বয়ে আপনার যা অর্জন সেগুলোর সুন্দর, সার্থক ও নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ এই লেখা।
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন:
এই দুই জনই, সেই দুই জন !!
ভাসমান বলেছেন:
বা পাশের জন হচ্ছে ব্রিন(black Tshirt) এবং ডান পাশের জন পেইজে(blue) , তাই না ?
রাগিব বলেছেন:
@জেসন, মুসা, কালপুরুশ, শাহেদুর রহমান, ভাসমান, ধন্যবাদ আপনাদেরকেও।
@ঝড়ো হাওয়া
হ্যাঁ, এরাই সেই দুই জন। বয়সে মাত্র ৩৩/৩৪, গুগল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এরা ২৫ বছর বয়সে।
অপরাজেয় বলেছেন:
আহা আমাদের আইটি কোম্পানীর মালিকগুলো কবে এমন হবে ? ? ? ? ? ?রাগিব ভাই, দারুন লিখছেন। ৫
সোহানের রোজনামচা বলেছেন:
খুব ভাল লাগল আপনার লেখা পড়ে আর গুগলের সবকিছু জেনে।
রেনেসা বলেছেন:
... কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।মাগার কথা ছাড়া একদম থাকতে পারি না। কাজের কথা কইলে তা ... দূর বহুদূর।
প্রশান্ত বলেছেন:
খুব সুন্দর লেখা। ধন্যবাদ
অন্যরকম বলেছেন:
কোথাও পড়েছিলাম, "সত্যিকারের জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে".............................
সত্যিকারের জ্ঞান মানুষদের নিয়ে পোস্ট দেয়ার জন্য একজন জ্ঞানী মানুষকে ধন্যবাদ।
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
৫, অসাধারন। পরে কি আরো পর্ব আছে?
নিশাত শাহরিয়ার বলেছেন:
এইসব লেখায় ৫ না দিলে রাতে ভাল ঘুম হবে না!
রাগিব বলেছেন:
@অপরাজেয়, সোহানের রোজনামচা, রেনেসা, কখগঘ, প্রশান্ত, অন্যরকম, জোনাকি, তুষারমানব, মোস্তফা মনির সৌরভ - আপনাদের মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
@মোস্তফা মনির সৌরভ - আছে, এখনও তো গুগলের খাওয়া দাওয়ার কথা বলা হয়নি। রোজার দিন বলে ঐটা লিখছিনা
আদনান™ বলেছেন:
ঘুম থেকে উঠেই একটা ভাল লেখা পড়লাম। ৫রাগিব ভাই, গুগলের সব প্রডাক্টই অনেক efficient। আপনি একটু উনাদের জিজ্ঞেস করেন তো যে কবে গুগল একটা অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করবে? গুগলে অফিসিয়ালি কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়?
মোসতফা মনির সৌরভ বলেছেন:
@রাগিব ভাই, ঐটার জন্যই তো বসে আছি!!!পরবর্তী পর্বগুলোর অপেক্ষায়।
রাগিব বলেছেন:
@আদনান,গুগলের গোপন প্রজেক্টের কথা বলা মানা
গুগলে আমাদের ওয়ার্ক্ স্টেশনগুলোতে ব্যবহার করা হতো গুবান্টু, যা উবান্টুরই একটু পরিবর্তিত সংস্করণ (গুগল+উবান্টু = গুবান্টু)।
শেহাব বলেছেন:
রাগিব ভাই, খাওয়া দাওয়ার কথা লিখেন। ইফতারের আগে পড়ব না। সত্যি!
তারিফএজাজ বলেছেন:
অনিশ্চিত ভাই, অনিশ্চয়তার কোন দরকার নেই। আপনি উইকিপিডিয়ার যে কোন কথা বাংলা ও ইংরেজি উভয় সংস্করণে user talk:Tarif Ezaz পাতায় চাইতে পারেন। সবাই বসে আছি সাহায্যের প্রত্যাশায়। ব্রিন আর পেইজের কথা পড়ে আসলে রাগিব ভাইয়াকেই মনে পড়ছে। তার সাথে কাজ করলেও আপনার এমনই অভিগ্ঞতা(বানান ভুল) হবে। ওদের পিটুনি দিয়ে বের করে রাগিব ভাইয়াকেই গুগলের চেয়ারম্যান করলে কেমন হয়
রাগিব বলেছেন:
শেহাব, পোস্ট দিবো, কথা দিচ্ছি।তারিফ - ব্রিন আর পেইজের ভিডিও পেলে দেখে নিও। প্রচন্ড মজার মজার কথা বলে ওরা ... শুক্রবারের অনুষ্ঠানে ওরা দুজনে মিলে পুরো রুম ভর্তি হাজার কয়েক মানুষকে হাসিয়েই ছাড়ে।
কাশেম বিন আবু বকর বলেছেন:
সালাম রাগিব ভাই। পরম করুণাময় আপনার অর্জন আরো বাড়িয়ে দিক। ৫
শান্ত বলেছেন:
ধন্যবাদ চমতকার লেখার জন্য। অনেক কিছু জানলাম। সেই সাথে মুবারকবাদ প্রিয় মাতৃভাষার কথা মনে রাখার জন্য।
আসল ট্র্যাপ বলেছেন:
২৩ জন পাবলিক কমেন্ট করছে কিন্তু রেটিং হইলো ১৭। এইটা কি ঠিক?
রাগিব বলেছেন:
শান্ত ও কাশেম, ধন্যবাদ।আসল ট্র্যাপ, রেটিং এর দরকার নাই, গুগলের এই মজার গল্প প্রাণভরে বাংলায় করতে পারছি, এটাই আমার পাওয়া। আসলে অনেকেরই এরকম ইন্টারেস্টিং ইন্ডাস্ট্রির অভিজ্ঞতা আছে, সেই গল্পগুলো জানতে আমারও ভালো লাগে। ... মার্কিন জাতীয় সুপারকম্পিউটার সেন্টারে চাকুরির কথা পরে বলবো কোনো এক সময়ে। ধন্যবাদ।
শাহেদুর রহমান বলেছেন:
@আসল ট্র্যাপআসলে রাগিব ভাইয়ের গুগলের পোষ্ট পড়ার সময় অন্য কোন কিছু মনে থাকে না !
তানভীর বলেছেন:
মজারু...টিজিআইএফ- নামটা মনে হয় চোথা মারা রেস্টুরেন্টের নাম থেকে...'বেশ কয়েক সপ্তাহ চেষ্টা করে আমার প্রশ্নটা একদিন প্রথম ১০টি প্রশ্নের মধ্যে আসল'...মিটিং-এ সরাসরি তাহলে কারা প্রশ্ন করতে পারে?
আমি কে বলেছেন:
৫
রাশেদ বলেছেন:
ভালো লাগল।
মৈথুনানন্দ বলেছেন:
সুন্দর সিরিজ। পরের পর্বের প্রত্যাশায় থাকলাম। আচ্ছা...অনেক দিন ধরে মনের মধ্যে একটা প্রশ্ন জমা হয়ে আছে...সেইটে একটু খোলসা করে নেই। কেমন? বেশ কিছু য়্যামেরিক্যান্দের কাছেই একটা কথা শুনেছি। ওখানে কম্পিউটর সায়ন্সের গ্র্যাজুয়েটদের গড়ায়ু চার্বছর। লজিকটা খুব সোজা। ৪ বছর পরে ম্যানেজমেন্ট একটা নব্য শিক্ষার্থী পাবে যে ফ্রেশ নলেজ নিয়ে কম টাকায় ঐ কাজ করে দেবে। সত্যিই কি তাই রাগিবদা - এই কায়দাতেই কি হাতে পিঙ্ক স্লিপ ধরিয়ে দেওয়া হয়?
বিহংগ বলেছেন:
রাগীব ভাই , এই হলো আমেরিকানদের মহত্ব।অফিসে কে বস আর কে কেরানী বুঝার সাধ্য নাই। ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টরের সাথে একদিন ক্যাম্পাসে বের হয়েছি। সবাই উনার সাথে বন্ধুর মতো হাই হ্যালো করছে,এত বড় মানুষ বলে কারো অতিরিক্ত কোনো সমীহ নেই।আমরাই শুধু অহংকারের পাখায় ভর করে রইলাম।
রাগিব বলেছেন:
@তানভীর ভাই, নাহ টিজিআইএফ এটা রেস্টুরেন্টটা থেকে না (টিজিআই ফ্রাইডে) , বরং এদেশে একটা চালু কথা, অনেক আগে থেকেই শুনেছি।ঐ মিটিংটা একটা এলাহী কারবার। প্রতি সপ্তাহে যে ৬০ জন নতুন ইঞ্জিনিয়ার গুগলে যোগ দেয়, তারা তো থাকেই, আর পুরা মাউন্টেইন ভিউ ক্যাম্পাসে গুগলের যত কর্মী, তাদের অধিকাংশই আসে। ক্যাফের বিশাল অডিটোরিয়াম টাইপের জায়গায় আমার মনে হয় হাজার দুয়েকের বেশী লোক হয়। ফলে সাড়ে চারটার প্রোগ্রামে চারটা থেকে গিয়ে বসে না থাকলে বসার জায়গা পাওয়া যায় না, আমি প্রায় সব দিনেই অনেক পেছনে দাঁড়িয়েছি। উপরের দুইটা ফ্লোরের বারান্দাও ভর্তি থাকে। আর যারা বসার জায়গা পায় প্রথম দিকের সারিগুলোতে, তারাই মাইকের সামনে গিয়ে প্রশ্ন সরাসরি করতে পারে। আমাকে সেটা করতে হলে কয়েকশো লোককে ডিঙাতো হতো। অন্য উপায়টা হলো প্রশ্নের ওয়েববোর্ডে পেশ করা, ওখানে সবাই প্লাস বা মাইনাস ভোট দেয়, যোগবিয়োগে যেসব প্রশ্ন প্রথম দশে থাকে, ওগুলো প্রজেক্টর দিয়ে সিনেমার পর্দার মতো বড় স্ক্রিনে দেখানো হতে থাকে। ব্রিন আর পেইজ ঐখান থেকেই বেছে নিয়ে জবাব দেয়।
চতুরভূজ বলেছেন:
৫অনেক ধন্যবাদ। অনেক কিছু জানতে পারছি যেসব আমাদের অজানাই রয়ে যেত আপনার মত কেউ এগিয়ে না এলে। ধন্যবাদ রাগীব ভাই। আপনার মত সন্তান বাংলার গর্ব।
একে ৪৭ বলেছেন:
সম্প্রতি জিমেইল যে হ্যাক হইছে(সিকিউরিটি হোলের জন্য) রাগিব ভাই এই তার উপরে কিছু বলেন।
একে ৪৭ বলেছেন:
ও অসাধারন সুন্দর লিখা ......৫ এমনি বের হয়ে গেল। ধন্যবাদ
রাগিব বলেছেন:
@ফারহান দাউদ, আমি কে, রাশেদ - ধন্যবাদ@মৈথুনানন্দ - এইটা অবশ্য মনে হয় এখন আর সত্যি না। প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে একটা প্রোগ্রামারকে ট্রেনিং দিয়ে তৈরী করতে অনেক খরচাই হয় কোম্পানির। গুগলে নতুন যারা ঢুকে, তাদের ২ সপ্তাহ ট্রেনিং দেয়া হয় শুরুতে। কাজ দেখাতে না পারলে বিদায় করবে নিঃসন্দেহে, কিন্তু অন্তত গুগলে পুরানো কর্মী বলে বিদায় করে না। বছর খানেকে কেউ কাজ দেখাতে না পারলে তো ছাটাই করবে অবশ্যই। আর চার বছরে কেউ যদি এন্ট্রি লেভেলের উপরে উঠতে না পারে, তাহলে সে অবশ্যই অযোগ্য। গুগলে কয়েক বছর থাকলে যোগ্য মানুষ প্রমোশন পেয়ে ঐ পর্যায়ের উপরে উঠে যায়, আর তাদেরকে ছাটাই করে ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট নেয়ার প্রশ্ন আসে না।
রাগিব বলেছেন:
@চতুরভূজ ও একে-৪৭, ধন্যবাদ।@একে-৪৭ - সম্প্রতি আমি গুগল ছেড়েছি ইন্টার্নশীপ শেষে, তাই আপনার প্রশ্নের ব্যাপারে কিছু জানি না বলে দুঃখিত।
জিয়ারত বলেছেন:
আসসালামু আলাই কুম রাগিব ভাই,আমি সবসময় আপনার লিখার জন্য অপেক্ষা করি।
ধন্যবাদ আরও একটি চমৎকার লিখা উপহার দেবার জন্য।
সামিহা এষা বলেছেন:
রাগিব ভাইয়া খুবই দারুণ লাগল আপনার লিখাটি পরে.....।ধন্যবাদ গুগলের এত সুন্দর experience সবার সাথে শেয়ার করার জন্য...।
ভেজাল বলেছেন:
বেশ সুন্দর করে লিখেছেন রাগিব ভাই। আমিও ৫ দিলাম। আরেকটা ব্লগ সাইট হয়েছে দেখলাম আজ। রেজিস্ট্রেশন করে দেখলাম বাংলা মিউজিক প্লেয়ার নামে মজার একটা মিডিয়া প্লেয়ার আছে। দেখে আসতে পারেন। http://www.pechali.com
তারিফএজাজ বলেছেন:
ঠিক আছে, রাগিব ভাইয়া, দেখি ইউটিউব ভাইজানদের কথাবার্তা পাওয়া যায় কি না। পেলে এখানে জানাব।
তানভীর আহমেদ সজীব বলেছেন:
৩ দিন পরে হলেও আপনার লেখা নিয়মিতই পড়ছি এবং অভিভূত হচ্ছি। সত্যিই ওরা অসাধারন বলেই এত উন্নতি করতে পেরেছে। আমাদের দেশে কি আদৌ কখনো এই কালচার চালু হবে। নিয়মিত লিখতে থাকুন। শুভকামনা রইল। ৫
শামীম আহমেদ বলেছেন:
রাগিব,খুব সুন্দর লেখা। খুব ভাল লাগল। টঝঅ তে আমার লড়ন বীঢ়বৎরবহপব অনেক টা একি রকম। কাজের পরিবেশ খুব ভৎরবহফষু। ঈঊঙ কে আগে থেকে পরিচয় করিয়ে না দিলে বোঝা খুব কঠিন হয়ে যায়, কোন জন ঈঊঙ. মনে হয় যেন, ঈঊঙ হতে গেলে কে কত ভাল ভাবে বসঢ়ষড়ুবব দের সাথে মিশতে পারে এবং রহংঢ়রৎব করতে পারে, সেটা একটা বড় গুন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
রাগিব কে আবারো ধন্যবাদ।
শামীম আহমেদ বলেছেন:
একি, কোন ইংরেজি শব্দ দেখি দেখা যায় না। যেটা লিখেছি, সেইটা এডিট করে (ইংরেজি শব্দ বাদ দিয়ে) আবারো পোস্ট করার উপায় কি?
রাগিব বলেছেন:
ধন্যবাদ, শামীম। ইংরেজি শব্দ দেখাতে হলে ঐটার মার্কাপ দিয়ে ঘিরে দিতে হবে। মনে পড়ছেনা, [ইংলিশ]বহমষরংয[/ইংলিশ] লিখলে কাজ হয় কি না।
রাগিব বলেছেন:
ধন্যবাদ সজীবকেও।
পজিটিভ বলেছেন:
৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫৫
পজিটিভ বলেছেন:
I can't write but want to say only one thing that it's really a great pleasure to read these kinds of experience. thank you brother Ragib.
শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন:
৫ এ কুলাচ্ছে না। ব্লগে তো এ ধরণের লেখাই বেশি চাই
আগুন পাখি বলেছেন:
রাগিব ভাই খুব ভাল লিখেছেন। আপনি একটা জিনিয়াস।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
আমাদের বস গুলান যে কবে অমন হইবো !
প্রিয় পোস্টে অ্যাড না করা ছাড়া উপায় নেই
মনিটর বলেছেন:
স্যালুট, রাগিব ভাই।
রাগিব বলেছেন:
ধন্যবাদ @ পজিটিভ, মাসুম, শিপন, আগুন পাখি, মেহরাব।@মুকুল, ৫ নাম্বার তো বেরিয়েছেই। আগামী পর্বে সমাপ্য।
সাইফুর বলেছেন:
টপরেটেড হওয়ায় রাগিব ভাইকে অভিনন্দন
সাইফুর বলেছেন:
টপরেটেড হওয়ায় রাগিব ভাইকে অভিনন্দন
মিরাজ বলেছেন:
চমত্কার লিখেছেন রাগিব ভাই। গোছানো লেখা। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি পাশ্চাত্যে যত জ্ঞানী আর সফল মানুষ তত বেশী বিনয়ী।মাঝে মাঝে আমাদের পরিচিত জগতের সাথে মেলাতে গেলে হোচট খেতে হয়।
আপনার পরবর্তী লেখার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।
তৌহিদুর রাহিম বলেছেন:
আপনার লেখা চমত্কার। শুভকামনা জানাই....৫
মনের কথা বলেছেন:
I am interested about wikipedi....if possible please contact me..... my E-mail: . I am from Northside of this part of Bengal...
রাগিব বলেছেন:
@মনের কথা - জবাব দিয়েছি ইমেইলে।
ষড়ভূজ বলেছেন:
মজারতো
বেঁচে আছি বলেছেন:
কিছু মনে করবেন না রাগিব- একটা কথা বলি। অনেক বাংলাদেশি বিদেশ থেকে জ্ঞানার্জন করেছেন বা করছেন। কিন্তু কয়জন বিনয়ী হতে পেরেছেন বা সত্যিকারের জ্ঞানী হতে পেরেছেন।শুধু সনদপত্র অর্জন আর নিজ ভাগ্য উন্নয়ন ছাড়া। আমাদের কাছে লেখাপড়াটা শুধু ভাল আয়েশী জীবন যাপন করার রাস্তা ছাড়া আর কিছুই না।স্বশিক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এত তথাকথিত শিক্ষিত দিয়ে বাংলাদেশের কিছুই হবেনা।দু:খিত যদি আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকেন।
মাছুম পলাশ বলেছেন:
"বাংলাদেশের দিকে গুগলের নজর কবে পড়বে, আর গুগল যেসব ভাষাকে প্রাধান্য দেয়, তাদের মধ্যে ২৫ কোটি লোকের মুখের ভাষা বাংলা কবে আসবে।"বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নটি করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভাল লাগল। +++++
ধূসরধ্রুব বলেছেন:
আমি প্রশ্ন করেছিলাম, বাংলাদেশের দিকে গুগলের নজর কবে পড়বে, আর গুগল যেসব ভাষাকে প্রাধান্য দেয়, তাদের মধ্যে ২৫ কোটি লোকের মুখের ভাষা বাংলা কবে আসবে। রাগিব ভাই আপনাকে ধন্যবাদ যে ওই মুহুর্তেও দেশের কথাই ভেবেছিলেন
সাকিন উল আলম ইভান বলেছেন:
দারুন লেখা ভাইয়া ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...





















৫