জগন্নাথ হল, ২৬শে মার্চ, ১৯৭১
০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:০১
একাত্তর সালের ২৬শে মার্চে বুয়েট (তৎকালীন ইপুয়েট) এর প্রফেসর নুরুল উলা বিদেশ থেকে সদ্য আনা ভিডিও ক্যামেরাতে যে ভিডিও চিত্রটি ধারণ করেছিলেন, তার কিছু অংশ NBC News এর এই সংবাদচিত্রে স্থান পেয়েছে।
দৃশ্যপট - জগন্নাথ হল। বুয়েটের শিক্ষকদের আবাসস্থলের ঠিক পিছনে।
যে দৃশ্যাবলী দেখা গেলো এই খন্ডাংশে -- পাকিস্তান সেনাবাহিনী জগন্নাথ হলের ছাত্রদের দিয়ে অন্য ছাত্রদের মৃতদেহ সরাচ্ছে। তার পর ঐ ছাত্রদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে মেরে ফেলা হয়। একজন ছাত্র প্রথম দফায় মরেনি দেখে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মৃতদেহের উপরে রাইফেল ঠেকিয়ে গুলি চালানো হয়।
ভবিষ্যত প্রজন্ম - ভুলে যেওনা ৭১, ভুলে যেওনা পাকিস্তান বাহিনীর এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
ভুলে যেওনা শহীদদের।
* ইউটিউব সরাসরি দেখতে সমস্যা হলে FLV ফাইলের লিংক এখানে পাবেন ।
(ব্লগের যা দশা, তাতে এই পোস্ট গায়েব হয়ে যাবে ধারণা করছি। ১৭৫৭ যেনো নতুন করে ফিরে এসেছে ... ভার্চুয়াল ভাবে হলেও!)
(লিংকের জন্য কৃতজ্ঞতা - জালাল ভাই)
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ৭১ ;
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ২:১৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
মাহমুদউল্লাহ বলেছেন:
ধন্যবাদ রাগীব ভিডিওটার জন্য। একটু খারাপ লাগল রিপোর্টটার শুরুতে war between indians and pakistanis বলায়। liberation war of Bangladesh বললে হয়তো ভাল হত। তারপরেও NBC ভিডিও রিপোর্টটা প্রকাশ করেছিল বলে তাদের অবশ্যই ধন্যবাদ প্রাপ্য।
লেখক বলেছেন: এটা এনবিসির কথা ... তখন পর্যন্ত (১৯৭২) তো আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি।
পান্জেরী বলেছেন:
ভিডিওর জন্য ধন্যবাদ।
পান্জেরী বলেছেন:
Pakistan and its accused army must suffer for everything they did in 1971. At present days, we see some of its suffering. Allah has saved us from them.
মেন্টাল বলেছেন:
অনেকবার দেখেছি, ব্লগে আবার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ
শুভ বলেছেন:
অসাধারণ একটা কাজ করেছেন পোস্টটি দিয়ে- থাম্বস আপ!অধ্যাপক নুরুল উল্লাহ সাক্ষাৎকারে এর বিস্তারিত উল্লেখ আছে বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ, অষ্টম খন্ডে...। তাঁর এই ভিডিও অনেক টাকার বিনিময়েও তিনি বিক্রি করেননি।
আপনার এই পোস্টের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারটা থাকলে ভাল হত। এখানে মন্তব্যর ঘরে দিলে কি সমস্যা হবে?
সন্নাসী বলেছেন:
রাগিব ভাইকে ধন্যবাদ।
শুভ বলেছেন:
(বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ,অষ্টম খন্ড)"জগন্নাথ হলের মাঠে ২৬ শে মার্চের সকালে যে মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখেছি আমার জানালা থেকে টেলিস্কোপ লাগিয়ে মুভি ক্যামেরায় তা ধরে রেখেছি"
যিনি টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরে রেখেছেন ২৫শে মার্চের হত্যাকান্ডের হৃদয়বিদারক দৃশ্য সেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎকৌশলের অধ্যাপক ডঃ নুরুল উল্লার সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকার।
প্রশ্নঃ আপনি কি ২৫শে মার্চের হত্যাকান্ডের ছবি নিজ হাতে তুলেছিলেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, আমি জগন্নাথ হলের মাঠে ২৬শে মার্চের সকাল বেলা যে মর্মস্পর্শী দৃশ্য ঘটেছিল তার ছবি আমার বাসার জানালা থেকে টেলিস্কোপ লাগিয়ে মুভি ক্যামেরায় তুলেছিলাম।
...যাহোক দ্বিতীয় বারের লাইনে দেখলাম একজন বুড়ো দাড়িওয়ালা লোক রয়েছে। সে বসে পড়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চাইছে। আমার মনে হচ্ছিল সে তার দাড়ি দেখিয়ে বোঝাতে চেয়েছিল যে সে মুসলমান। কিন্তু বর্বর পাক বাহিনী তার কোন কথাই শুনতে চায়নি। তাকে গুলি করে মারা হল।
মাঠের অপর দিকে অর্থাৎ পূর্বপার্শ্বে পাক বাহিনী একটা তাঁবু বানিয়ে ছাউনি করেছিল। সেখানে দেখছিলাম, ওরা চেয়ারে বসে বেশ কয়েকজন চা খাচ্ছে আর হাসি তামাসা ও আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ছে।
প্রশ্নঃ লোকগুলোকে হলের ভিতর থেকে কি ভাবে আনা হচ্ছিল?
উত্তরঃ যাদেরকে আমার চোখের সামনে মারা হয়েছে ও যাদের মারার ছবি আমার ক্যামেরায় রয়েছে তাদের দিয়ে প্রথমে হলের ভিতর থেকে মৃতদেহ বের করে আনা হচ্ছিল।
মৃতদেহগুলি এনে সব এক জায়গায় জমা করা হচ্ছিল। এবং ওদেরকে দিয়ে লেবারের কাজ করাবার পরে ওদেরকেই লাইনে দাঁড় করিয়ে এক সারিতে গুলি করে হত্যা হয়েছে। মনে হচ্ছিল একটা করে পড়ে যাচ্ছে।
প্রশ্নঃ জমা করা মৃতদেহের সংখ্যা দেখে আপনার ধারণায় কতগুলো হবে বলে মনে হয়েছিল?
উত্তরঃ আমার মনে হয় প্রায় ৭০/৮০ জনের মৃতদেহ এক জায়গায় জমা করা হয়েছিল।
প্রশ্নঃ আপনার কি মনে হয় যে ওগুলো সবই ছাত্রদের মৃতদেহ?
উত্তরঃ আমার মনে হয় ছাত্র ছাড়াও হলের মালি, দারোয়ান, বাবুর্চি এদেরকেও একই সাথে গুলি করা হয়েছে। তবে অনেক ভালো কাপড়-চোপড় পরা বয়সী লোকদেরকেও ওখানে লাইনে দাঁড় করিয়ে মারা হচ্ছিল। এদের দেখে আমার মনে হয় তারা ছাত্রদের গেষ্ট হিসাবে হলে থাকছিল।
প্রশ্নঃ আপনি কি দেখেছেন যে কাউকে গুলি না করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে?
উত্তরঃ না, তবে লাইনে দাঁড় করাবার পরে যে খান সেনাটিকে গুলি করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছিল সে যখন পিছনে তার অফিসারের দিকে মুহুর্তের জন্য তাকিয়েছিল এই ফাঁকে দু’জন লোক সামনে স্তুপ করা মৃতদেহগুলির মধ্যে শুয়ে পড়ল। আর বাকিগুলোকে গুলি করে মারা হল।
গুলি করে যখন খান সেনারা সবাই কয়েক ঘন্টার জন্যে এই এলাকা ছেড়ে চলে গেল সেই ফাঁকে ঐ দু’জন উঠে প্রাণ ভয়ে পালাতে লাগল। পরবর্তীকালে তাদের একজন আমার বাসায় এসে আশ্রয় নিয়েছিল। সে একজন ছাত্রের অতিথি হিসাবে হলে থাকছিল। ঢাকায় এসেছিল চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে।
...এ খবর শুনে অনেক বিদেশী সাংবাদিক আমার কাছে বহু টাকার বিনিময়ে এই দলিলের অরিজিনাল কপি অর্থাৎ আসল টেপ কিনতে চাইলেন।
প্রশ্নঃ আপনি কি রাজি হলেন?
উত্তরঃ আমার রাজি হবার প্রশ্নই উঠেনা। অরিজিনাল কপি আমি হারালে সেটা আমার দেশের জন্য বিরাট ক্ষতি হবে।
*ব্রাদার রাগিব,
অনুমতির অপেক্ষা না করেই দিয়ে দিলাম। পেজ লোড হতে সমস্যা হলে ডিলিট করে দিয়েন।
রাশেদ বলেছেন:
ধন্যবাদ। ব্লগে আগে দেখেছিলাম। প্রফেসর নুরুল উলা র সাক্ষাতকাত রিটেন ভার্শন হাসিব ভাইয়ের ব্লগে পাবেন। এইখানে পাবেন না উনি সব মুছে দিয়েছেন, ঐ পাড়ায় পাবেন।
রাগিব বলেছেন:
ডঃ নুরুল উলার সাক্ষাতকার ও এই ভিডিও নিয়ে স্মৃতিচারণের বিস্তারিত পাবেন এখানে:http://sachalayatan.com/mmr_jalal/9806
নিবেদীতা বলেছেন:
ভিডিওর জন্য ধন্যবাদ।
পুতুল বলেছেন:
শুভ, প্রাশংগিক মনে করে নিজ তাগিদে সাক্ষাৎকারটি যুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ। আমি এ দলিলটি এর আগে কোথাও দেকিনি। রাগিবকে বিষেশ ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: সাক্ষাতকারের পূর্ণ সংস্করণ দেখুন এইখানে
http://sachalayatan.com/mmr_jalal/9806
মেন্টাল বলেছেন:
কিছুদিন পর কামরুজ্জামানের সন্তানেরা আবার বলতে পারে এই ভিডিও এ্যানিমেটেড, কোন সত্য নেই এতে
পুতুল বলেছেন:
ধন্যবাদ রাগিব লিংটির জন্য।
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:
অশেষ ধন্যবাদ রাগিব ভাই !"১৭৫৭ যেনো নতুন করে ফিরে এসেছে ... ভার্চুয়াল ভাবে হলেও!"
সত্যিই...!
রাগিব বলেছেন:
সবাইকে ধন্যবাদ। পূর্ণ ভিডিওচিত্রটির লিংক কোথাও কেউ পেলে অবশ্যই জানাবেন। যতটুকু জানি, এই ভিডিওতে দেখানো অংশটির চেয়েও আসল ভিডিওটা অনেক দীর্ঘ।
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।
মুনতাসির আলম বলেছেন:
উইকিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিবন্ধ লিখতে গিয়ে, এই ভিডিওর কথা কয়েকটি বইয়ে পড়েছিলাম। দেখবার ইচ্ছা ছিল। শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ রাগিব ভাই।
অরুনাভ বলেছেন:
শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ........
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
রগিব ভাই, আমি কি পোষ্ট টা মুছে দেব। নাকি লোক জন জানুক জিতু একজন ধান্ধাবাজ।
লেখক বলেছেন: আরে না, পোস্টটা রাখেন। নইলে মানুষ জানবে কীভাবে যে এটা জিতু ওসমানীর বাটপারি!!
লেখক বলেছেন: সাক্ষাতকার গ্রহনকারীর নাম আমি এই মুহুর্তে বলতে পারছিনা, তবে যথাস্থানে প্রশ্ন করে জেনে নিবো।
তবে অনেক বইপত্রে উনার সরাসরি সাক্ষাতকারের কথা এসেছে, যেমন
The Year of the Vulture
By Amita Malik
Published 1972
Orient Longman, page 81
(লেখিকা সরাসরি ডঃ উলার সাক্ষাতকার নিয়েছেন ও ভিডিওর বর্ণনা দিয়েছেন)
মানবী বলেছেন:
নামা = নাম
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন:
পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
মানবী বলেছেন:
ধন্যবাদ রাগিব। নাম জানার পর আমাদের সাথে শেয়ার করলে কৃতজ্ঞ হবো।প্রচারবিমুখ ডঃ নুরুল উলা জীবনে খুব কম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাঁর শেষ সাক্ষাৎকারটি বিশিষ্ট লেখক ডঃ মোহাম্মদ হান্নান গ্রহন করেন ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে... ডঃ নুরুল উলা'র মৃত্যুর ৮/১০ দিন পুর্বে।
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
রাগিব ভাই একই নিউজ আজ আবার দৈনিক ইত্তেফাকে ছেপেছে। লিংকদেখুন:
Click This Link
এর একটা ব্যবস্তা হওয়া কি দরকার না????
চিটি (হামিদা রহমান) বলেছেন:
রাগিব ভাই, আপনি অনেক করেছেন। আপনাকে অনেক অনেক ধ্যবাদ। যদি দেশবাসির কাছে এ সত্য প্রকাশ পায়, তবে আপনার পরিশ্রম স্বাথর্ক।আমি আসলে পেপারে নিউজটা দেখে খুব খুশি হয়ে ব্লগে দিয়েছিলাম, আপনি আসল তথ্য বের করলেন। দেশ নিয়ে আমদের কে বোকা বানানোর থান্ধা।
জিতু উসামনি "ভয়েজ অব আমেরিকার" একজন । (মনে হয় ভাস্যকর)
বতর্মানে লস এন্জেলেস এ থাকে।
ধ্রুব বলেছেন:
ধন্যবাদ ভিডিওটার জন্য।
মুহিব বলেছেন:
অসংখ্য ধন্যবাদ।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...



















