আমার প্রিয় পোস্ট

জাদুনগরের কড়চা

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে একদিন (১) - প্রতীক্ষার রাত্রি

০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৭

শেয়ারঃ
0 0 0



ফিরছিলাম আমরা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। আমেরিকার মানচিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া একেবারেই পশ্চিম দিকে, প্রশান্ত মহাসাগরের পারে। গুগলে আমার ৩ মাসের কাজ শেষ হয়েছে সবে , ২৫০০ মাইলের পথ পাড়ি দিয়ে ফেরত চলেছি ইলিনয়ের ভুট্টা ক্ষেতে।

জারিয়া আর আমি দুজনেই বেশ অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়। এতোটা পথ পাড়ি দিতে গাড়িতে যাওয়ার কথা সহজে কেউ ভাবে না, কিন্তু আমরা স্বচক্ষে আমেরিকার পথ প্রান্তর দেখার এই সুযোগ হারাতে চাইনি। তাই ক্যালিফোর্নিয়াতে এসেছিলাম গাড়িতেই, সাড়ে ৪ দিন ধরে পথ চলে, ওয়াইওমিং এর ৬০০০ ফুট উঁচু পর্বত পেরিয়ে। সে ৩ মাস আগের কথা। প্রশান্ত মহাসাগরের অনেক ঢেউ বয়েগেছে, সিলিকন ভ্যালিতে আমাদের ৩ মাসের স্বপ্নের সময়টাও কেটে গেছে তাড়াতাড়ি। এবার ফেরার পালা, ঠিক করলাম আমরা এবার অন্য পথে ফেরত যাবো, আগের বারে গিয়েছিলাম উত্তর দিকের রাস্তা ধরে, এবারে তাই ঠিক করলাম মধ্য-দক্ষিণের রাস্তা দিয়ে যাবো।


(মাউন্টেইন ভিউ থেকে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আমাদের যাত্রাপথ)

-------------------


ক্যালিফোর্নিয়ার পাহাড়ি পথ, সমতল ভূমি, আর উষর মরুভূমি পেরিয়ে পৌছালাম অ্যারিজোনাতে। মরুভূমিটা দেখার মতো – আরব মরুভূমির মতো বালুময় না ... ঝোপঝাড় আর ক্যাকটাসে ভর্তি, কিন্তু লু হাওয়ার প্রবল প্রকোপে সেরকমই ভয়াবহ লাগে। অ্যারিজোনার অঙ্গরাজ্যটা পাথুরে, সবুজ আর লাল পাহাড় রাস্তার দুপাশে ভরা। অল্প পথ পেরুতেই এসে গেলাম আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের এলাকায়।

কলোম্বাস ভারতে যেতে গিয়ে আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন, তাই এখানকার মানুষদের “ইন্ডিয়ান” বলে অভিহিত করে বসেছিলেন। সেই থেকেই এই নামটা প্রচলিত, তবে ইদানিং নেটিভ আমেরিকান, অর্থাৎ মার্কিন আদিবাসী বলা হয়। দুই তিনশো বছর ধরে ইউরোপীয় আগন্তুকেরা আমেরিকাতে বসতি স্থাপন করতে গিয়ে এদের তাড়িয়ে বেড়িয়েছে, যুদ্ধ হয়ে, নতুন রোগ-ভোগে মার্কিন আদিবাসীদের সংখ্যা কমেছে অনেক। বিংশ শতকের শুরুতে মার্কিন সরকার অবশেষে এদের সাথে চুক্তি করে, নির্দিষ্ট কিছু এলাকা এদের দেয়া হয়, সেই এলাকাগুলোতে মার্কিন সরকারের বা স্থানীয় অঙ্গরাজ্যগুলোর শাসন চলে না, বরং আদিবাসীদের স্বায়ত্বশাসন চলে। এই এলাকাগুলোকে ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশন বলা হয়। অ্যারিজোনা থেকে পূর্বে নিউ মেক্সিকো অবধি এরকম বিশাল একটা এলাকা আদিবাসীদের রাজ্য, মাঝে মাঝে ছোট খাটো সব শহর দেখা যায় শ্বেতাঙ্গদের, ব্যস এই।

আর আদিবাসীদের রাজত্বে, এহেন তেপান্তরের মাঠ, কিংবা তেপান্তরের পাহাড়ি রাস্তার মাঝেই অবস্থান গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের।

-------------------


ওয়েস্টার্ন গল্প পড়ার পোকা ছিলাম স্কুলে থাকতে। সেবা প্রকাশনীর ওয়েস্টার্ন গল্পে যখন এরফান জেসাপ, বা ওসমান ব্রাদার্স, বা শেরিডান মোকাবেলা করছে আউটলদের, লাল পাহাড়ে পর্বতে, মরুভূমির ক্যাকটাস পেরিয়ে র‌্যাঞ্চে, তখন কল্পনার চোখে যেন দেখতে পেতাম। সেই ওয়েস্টার্ন গল্পের জগতের চেহারাটা বাস্তবে দেখা হবে, ভাবিনি কখনো।

-------------------



গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন হলো একটা গিরিখাত। কলোরাডো নামের পাহাড়ি নদীটি বয়ে চলছিলো অ্যারিজোনার পাহাড়ি পথ ধরে। পাহাড়ি নদীর স্রোত হয় প্রচন্ড, সেই ভয়াবহ স্রোতে ক্ষয় হতে থাকে পাহাড়ের পাথর। এক দিন, দুই দিন, এমন করে করে ৬০ লাখ বছর কেটে যায়। খরস্রোতা নদীর ঘর্ষণে ততোদিনে তৈরী হয়েছে ১ মাইল গভীর এই গিরিখাত। এই ক্যানিয়ন যেখানে, সেই পুরো এলাকাটা বিশাল একটা মালভূমি (সমূদ্র সমতল থেকে অনেক উচুতে অবস্থিত সমতল এলাকা)। প্রায় ৬০০০ ফুট খাড়া নেমে যাওয়া গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বিস্তার পূর্ব পশ্চিমে মোট ২৭৭ মাইল, আর চওড়ায় এটি ৪ থেকে ৮ মাইলের মতো। আকাশ থেকে স্যাটেলাইট চিত্র দেখতে খুব আশ্চর্য লাগে, মনে হয় বিশাল সমতলভূমির মধ্যে কেউ বোধহয় লাঙল দিয়ে দাগ কেটে দিয়েছে।



(স্যাটেলাইট থেকে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের একাংশ, যেখানে আমরা গিয়েছিলাম)

জারিয়া আর আমার অভ্যাস হলো হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা ... গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে থামবো এটা আগে পরিকল্পনাতে ছিলোনা। মরুভূমির মধ্য দিয়ে যেতে যেতে হঠাত মাথায় ভুত চাপলো, এক দিন পুরো কাটাবো গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে। সেটার আশে পাশে আবার জনবসতি নেই ... গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করার জন্য ঘরবাড়ি পুরো বিশাল এলাকাতেই বানানো মানা। ম্যাপে খুঁজে পেতে প্রায় ৫০ মাইল দূরে উইলিয়ামস নামের একটা ছোট্ট শহর খুঁজে পেলাম, বাংলাদেশের উপজেলা সদরের মতো ছোট্ট সেই শহরেই রাতের মতো থামলাম। পরদিন সকালেই চলে যাবো গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ন্যাশনাল পার্কে।

কেটে চললো রাত, অধীর প্রতীক্ষায়।

(চলবে)

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): ভ্রমণআমেরিকা ;
প্রকাশ করা হয়েছে: স্মৃতিচারণ  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:০৬ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:১৯
আসিফ আহমেদ বলেছেন: প্রথম ছবিদুটো একটু ঘোলা ঘোলা কেন? রোদের কারনে নাকি?

পড়ছি।
০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৬

লেখক বলেছেন: ঠিক করে দিয়েছি।

২. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২০
রাজামশাই বলেছেন:
আমার ঘোড়া দৌড়াইতে মনে চাইতাছে।
৩. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২১
রাজামশাই বলেছেন:
কয়দিন ধইরা এই সমস্যা দেখতাছি অন্যলিংকের ছবি দিলেই এই অবস্থা হয়।

মনে হয় ছবির সাইজের লাইগ্যা ।
৪. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২২
আসিফ আহমেদ বলেছেন: এই ছবিটা গুগলে পেলাম, চমৎকার দেখতে উপর থেকে।

[img|http://media.somewhereinblog.net/images/thumbs/asifbgeblog_1225524116_1-grand_canyon.jpg
৫. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৩
আসিফ আহমেদ বলেছেন:

দুঃখিত আগের বার ছবি আসেনি।
৬. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৪
মুহিব বলেছেন: আমরাও অধীর প্রতীক্ষায় থাকলাম।
৭. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৪
বৃত্তবন্দী বলেছেন: কাহিনীতে প্লাস...
ঝাপসা ফটুকে মাইনাস...
০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৬

লেখক বলেছেন: এখন ঠিক করেছি, কাজেই মাইনাসে মাইনাসে প্লাস দেন :)

৮. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৫
ঘাসফুল বলেছেন: দারুন... ছোট্ট ক্যান মাইনাস (+)
৯. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৭
বৃত্তবন্দী বলেছেন: উক্কে মাইনাস ফিরত লইলাম... :)
১০. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩১
সাইফুর বলেছেন: চলুক....
আমরাও ভারচুয়ালি ঘুরে আসলাম...
রাগিব ভাই...আরো কিছু ছবি দিন...দেখতে ভালো লাগছে...
০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫

লেখক বলেছেন: ম্যাপ ও স্যাটেলাইট ছবি দিলাম, পরের পর্বে অন্য কিছু ছবি দিবো।

১১. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৩৮
তাসনুভা. বলেছেন: চমৎকার বর্ণনা হয়েছে... গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ন্যাশনাল পার্ক সম্পর্কে জানার অপেক্ষায় রইলাম...বহুদিন পর আবার সিরিজ লিখছেন...

শুভেচ্ছা...
১২. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪০
শিট সুজি বলেছেন: গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ছবি এর আগে বিভিন্ন মুভিতে দেখেছিলাম । অসাধারন সুন্দর একটা জায়গা। ভাল লেগেছে ।

পরের পর্বের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

/*রাগিব ভাই, নিক কিভাবে চেন্জ করা যায়?*/
০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪১

লেখক বলেছেন: আরিলকে বা লাভলুদাকে মেসেজ / ইমেইল দিলে তারা ঠিক করে দিতে পারেন।

১৩. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪৭
রাজামশাই বলেছেন:

ছবি আগের বার ঝাপসা এখন ক্লিয়ার

কেমনে করা হইলো জাতি জানতে চায়।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:৩৫

লেখক বলেছেন: আগের বারে থাম্বনেইলের লিংক দিয়েছিলাম ভুল করে, এখন আসল ছবির। এই হলো পার্থক্য।

১৫. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪৯
ঘাসফুল বলেছেন: বিটিভিতে দেখতাম, এখন আর কোন মুভিই দেখায় না।
আফচুস :(

How the West Was Won
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন: পারলে সাম্প্রতিক কালের স্পিলবার্গের তৈরী করা Into the West ( Click This Link) ) মিনিসিরিজটা দেখুন। স্টার মুভিজ এ দেখায় , অন্তত গত ডিসেম্বরে দেখিয়েছে।

১৬. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:৪৯
...অসমাপ্ত বলেছেন: অনেকদিন পর লিখলেন। ...চলুক ...আপনার চোখে গ্রান্ড ক্যানিয়ন দেখি।
১৭. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৬
ফ্রুলিংক্স বলেছেন: ২৫০০ মাইল!!! লঙ ড্রাইভ করতে মন চায় :(
চলুক..
০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৯

লেখক বলেছেন: ২০০৭ সালে আমি ২৫০০ * ২ = ৫০০০ মাইল পশ্চিমদিকে, আর পূর্ব দিকে ৮৫০* ২ = ১৭০০ মাইল ড্রাইভ করেছিলাম। প্যাসিফিক আর অ্যাটলান্টিক, দুই মহাসাগরই দেখা হয়েছে এর সুবাদে।

১৮. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৮
অপ্রিয় সত্য বলেছেন: বাংলাদেশের চট্র-৩ (চট্র-১৬, কেইচ রানিং) অঞ্চল "সন্দীপ" এর একটা জায়গা "কালাপানীয়া," এই জায়গার নামানুসারেই ইউ,এস,এ'র ক্যালিফোর্নিয়ার নাম রাখা হইছে.........!!!"কালাপানীয়া এংরাজীতে ক্যালিফোর্নিয়া"....................................... মুল তথ্যডা কিন্তু আমিই দিলাম । যাউগগ্যা ,রাগিব হাসান ভাইরে ধন্যবাদ দিয়া "বামন "বানামুনা পেলাস দিলাম ও অনেক অনেক দোয়া রইল........................................।
১৯. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২২
মীতু বলেছেন: বাকীটুকু অপেক্ষায় রইলাম ।
২০. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:২৮
ফ্রুলিংক্স বলেছেন: ডর খাইছি। আমাদের সারা বছরেও তো এতো ড্রাইভ করা হয় না।

অবশ্য আমেরিকার ভাবই আলাদা। বড় দেশ, বড় গাড়ি, তেলের টাঙ্কিও বড়, আপনারা তেল ব্যবহার করেন গ্যালন-গ্যালন আমরা লিটার হিসেবে। আপনাদের প্রায় গাড়িই ক্রুজ কন্ট্রোল। আর এখনাকার অবস্হা ...:(
০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৬

লেখক বলেছেন: আমারো সারা বছরে এতো চালানো হয় না।

আর ভাই ... আমার কি আর "বড় গাড়ি" আছে ... পুরানো ৯১ মডেলের নিসান সেন্ট্রা একটা ফোর্থ-হ্যান্ড গাড়ি কিনেছিলাম কোনোমতে। বহু বাঙালি "বিশেষজ্ঞ" মতামত পেশ করেছিলো, এই গাড়ি হাইওয়েতে চলবে না। ৫০০০ ফুটি পাহাড় ডিঙানো তো দূরের কথা। তাদের মুখে ছাই দিয়ে গাড়িটা পুরা আমেরিকা মহাদেশ পার হতে পেরেছে। ক্রুজ কন্ট্রোল-টোল নাই। আর গত বছর তেল অনেক সস্তা ছিলো।

২১. ০১ লা নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৩:২০
ভাঙা চাঁদ বলেছেন: যাইতে মন চাইতাছে...
২৪. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:৩০
ভাইটামিন বদি বলেছেন: আপনার লং ড্রাইভ শুইন্যা বারাইতে মন চাইতাছে।।।

মালদ্বীপ যাইতে চাই....কারো কোন মুশাওয়ারা থাকলে দ্যান।।।
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:০১

লেখক বলেছেন: মালদ্বীপে যেতে হলে তো নৌকা চালাতে হবে ...

২৫. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:৪৮
চাঙ্কু বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম । ধন্যবাদ রাগিব ভাই
এই গিরিখাত ছবিতে দেখেই তো ডর লাগতাছে ।
পোলাপাইন কিনারে গিয়ে দেখে কেমতে ? বড়ই সাহসী পোলাপাইন দেখি !!!!
০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:২১

লেখক বলেছেন: অনেকেই দেখি একেবারে কিনারাতে গিয়েই ছবি টবি তুলছে। আমি ভাত খাওয়া পাবলিক ... ঐ রকম সাহস নাই :(

২৬. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:২৮
রাত বলেছেন: যদিও আমরা ভার্চুয়াল ভ্রমনে আছি, মাঝে মাঝে ভয় লাগছে আপনি যদি আমাদের একেবারে কোনায় নিয়ে চলে যান ;)
২৭. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪০
মানবী বলেছেন: আমেরিকার ডিপফ্রিজ মিনেসোটা, উত্তরের ইয়েলোস্টোন পার্ক থেকে দক্ষিনের ফ্লোরিডা বীচ, পশ্চিমের ম্যালিবু বীচ, নেভাদার মরুভূমি থেকে পূর্বের আটলান্টিক, নায়াগ্রাফলস্ সহ দর্শনীয় বিভিন্ন স্থানে যাবার সৌউভাগ্য আল্লাহ্ দিয়েছেন। কোন এক বিচিত্র কারনে "গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন" কেন যেন মোটেও টানেনা, শুধু মাত্র এই না টানার কারন উদঘাটন করতেই শিঘ্রী সেখানে যাওয়া উচিৎ ভাবছি :-)

রাগিব, আপনার আগের পোস্টটি দেখার পর আমার মা'কে জিজ্ঞেস করে জেনেছি "গিরিখাত" ও "গিরিখাদ" দুটোই সঠিক :-* আমি বরাবর 'গিরিখাদ" শব্দটির ব্যবহার দেখেছি বলে কিছুটা কনফিঊশন ছিলো :-)

পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: আচ্ছা, তাহলে দুটোই সঠিক। বাঁচা গেলো ... আমি উইকিপিডিয়াতে লেখার সময়েও গিরিখাত লিখেছিলাম, তাহলে সেটা ঠিকই আছে।

--

আমি সড়ক পথে উত্তর দিকে মিনিয়াপলিস পর্যন্ত গেছি। দক্ষিণে একেবারেই যাওয়া হয়নি। কাজেই পরবর্তীতে দক্ষিণে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। নেভাদার মরুভূমি ভালো লাগেনি ... বালিয়াড়ি দেখার আশার গুড়ে বালি পড়েছে। এমন কি মোহাভে ডেজার্টের ওখানেও দেখেছি, প্রচন্ড গরম, কিন্তু বালির বদলে ক্যাকটাসময় মরুভূমি। উত্তর-পশ্চিমাংশে ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরে যাওয়া হয়নি, সেখানেও যাওয়ার ইচ্ছা। দেখা যাক ...

২৮. ০২ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ১০:৪৫
নাফিস ইফতেখার বলেছেন: অসাধারণ অভিজ্ঞতা! :)
২৯. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ সকাল ৯:৩৫
বাবুয়া বলেছেন: কাল পড়ার সুযোগ পাইনি বলে এখোন পড়ে মনে হচ্ছে-কেনো কাল এমন সুন্দর একটা লেখা পড়ে বাড়ী ফেরা হলোনা!

তোমার অভিজ্ঞতার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছি!
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১২:৪০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ বাবুয়া ভাই। :)

৩০. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২১
মন মণষা বলেছেন: আফসোস...আফসোস...আফসোস...আফসোস...


পড়ছি....চলুক...
৩১. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ১:২৮
আসিফ আহমেদ বলেছেন: পরের পর্ব কই, আপনারে ক্যানিয়নের কিনারে দেখতে চাই :)
০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ দুপুর ২:১৯

লেখক বলেছেন: কালকের মধ্যে লেখার আশা রাখি। ক্যানিয়নের বেশি কিনারায় যাই নাই, তবে দেওয়ালে বসে ছবি তুলেছি ...

৩২. ০৩ রা নভেম্বর, ২০০৮ বিকাল ৫:১১
মাস্টারমশাই বলেছেন: দারূণ লাগছে ।আমার বেড়ানো যেমন ভালো লাগে তেমনি ভালো লাগে ট্রাভেলগ-আরো পড়ার অপেক্ষায়।
৩৩. ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:১৪
নিয়াজ মোর্শেদ চৌধুরী বলেছেন: সাড়ে চার দিনের জার্নি। ভাবতেই অদ্ভুত ভালো লাগে। ইদানিং খুব ইচ্ছা জেগেছে এ্যারিজোনা যাবার! যাদি সেটা সফল হয়, এই লোকেশন মাস্ট ঘুরবো।

পরবর্তি পর্বের অপেক্ষায়।
৩৪. ১০ ই নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৫২
নুশেরা বলেছেন: পরের পর্ব তাড়াতাড়ি আসুক।
৩৬. ০২ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১০:১৯
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন: রাগীব ভাই, এরিজোনা শুনলেই ওয়েস্টার্ন সব কাহিনী মনে পড়ে যায়... স্কুলে ক্লাসে বইসা 'আবার এরফান' পড়ার সময় '..য়া' মতিন স্যারের বেদম বেতের বাড়ি খাইছিলাম একবার :(

আমি যে ১০০ টা জায়গা দেখতে চাই লিস্টি বানাইছি, তার মধ্যে অন্যতম 'গ্রান্ড ক্যানিয়ন'... জানি না কখনো দেখা হবে কিনা, আশায় আছি...
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: অ্যারিজোনা আসলেই দেখতে সুন্দর। (থাকার জন্য হয়তো ভালো না, যে গরম!!)। রাস্তার দুপাশে একটু পর পর লাল রঙের টিলা। আর যশোহা বৃক্ষ তো আছেই (হুমায়ূনের একটা বই আছে, যশোহা বৃক্ষের দেশে, পড়ে দেখতে পারেন)। সেবার গাড়িতে অ্যা্রিজোনা পেরুবার সময়ে এই যশোহা বৃক্ষ দেখা হলো।

৩৭. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:২৭
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন: যশোহা বৃক্ষের দেশে পড়া ছিলো। আপনি বলায় আবার মনে পড়লো। ঐ বৃক্ষের কি ছবি দেয়া যাবে এখানে? দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানো আর কি?

রাগিব ভাই আমি কলেজিয়েট'৯৭,চট্টগ্রাম কলেজ'৯৯। 'আপনি' করে বললেন দেখে খুব অস্বস্তি লাগছে।
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: আমার ক্যামেরাতে কী তুলেছি, খুঁজে দেখতে হবে। আপাতত এখানে যা পেলাম দিচ্ছি।



--
৯৭/৯৯!! তাহলে তো অনেককেই চিনো ... পল্লব (আবুল কালাম আজাদ) আমার রুমমেট ছিলো, আর ঐ ব্যাচের আরো অনেককে চিনি :)

৩৮. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ ভোর ৫:১৩
আট আনা বলেছেন: পল্লব মানে এখন UGA আছে সে ?

আমিও গেছিলাম souht rim। অক্টোবর এর শেষ দিকে। অসাধারন অভিজ্ঞতা। ব্রাইট এঞ্জেল লজ দিয়ে হাইকিং নিশ্চয় মিস করেননি?
১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সকাল ৭:১৫

লেখক বলেছেন: আমি হাইকিং এ যাইনি। এমনিতেই আড়াই হাজার মাইল ড্রাইভের মাঝখানে ওখানে গিয়েছিলাম, গাড়ির ট্রাংক থেকে শুরু করে পিছনের দুই সিটে, মেঝেতে ভর্তি জিনিষপত্র ছিলো (কম্পিউটার থেকে শুরু করে বিছানা পত্র পর্যন্ত!!)। এই সবের মাঝেও একটা দিন কাটাতে পেরেছি এই অনেক ... হাইকিং করার শক্তি ছিলো না।

ঐ পল্লবই।

৩৯. ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৮
|জনারন্যে নিসংঙগ পথিক| বলেছেন: পল্লব আর আমি একই সেকশানের ভাইয়া (এ);
অবশ্যি ওর আরেকটা নাম দিয়েছিলেন জহুরুল হক স্যার, সেটা নাইবা বলি।

পল্লব তো একটেল ছেড়ে UGA তে গেলো, শেষ রি-ইউনিয়ন এ মিস করেছি অনেককে।
১৪ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:২৫

লেখক বলেছেন: আহ, জহুরুল হক স্যারের কথা মনে পড়লো, উনার কাছে আমিও পড়েছিলাম সেই ১৯৯২-৯৩ সালে। :)

৪০. ১০ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:০৪
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা ......
পড়তে শুরু করলাম । ওয়েস্টার্ন মুভিগুলোতে কেবল জায়গাগুলো দেখেছি , সামনাসামনি দেখার কথা ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো । হয়ত সময় অনেক বদলে গেছে , কিন্তু ফিলিংসটা হয়ত ফিরে আসে

ভাল লাগছে

 

মোট সময় লেগেছে ২.৪৩৪১ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমি রাগিব হাসান। ভুট্টা ক্ষেতের মাঝে বসে আমি গণক মশাইকে পাহারা দিতাম। আর পাহারা দেয়ার তরিকা নিয়ে গবেষণা করতাম।...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ