কাজটা কিন্তু এক্কেবারে সহজÑ মাত্র দুই আঙুলের ব্যাপার। হলে কী হবে, এই কাজটাই এক সুতা এদিক-ওদিক হয়েছে তো জান খতম। মানে মৃত্যু। বেদে পাড়ায় ঢুকে প্রথমেই এই দৃশ্যের মুখোমুখি হলাম। দৃশ্যটা কী? Ñগোখরো সাপের দাঁত ভাঙা।
সাপটাকে বাক্স থেকে বের করে হাতের লোহার রড দিয়ে মাথায় চেপে ধরা হল। তারপর সেখানটাতেই দুই আঙুলে মাথা ভাল করে চেপে ধরা, রড সরিয়ে ফেলা হল। অন্য হাতে তখন লেজ তো ধরা আছেই। সেই লেজ এবার এক পা দিয়ে চেপে ধরে সাপের মুখ ফাঁক করা মাথাটা একটা কাঠের বাক্সের ওপর রেখে শুরু হল নির্বিষ করার কাজ। ওপরের চোয়োলে দুটো দাঁত। চোখা একটা ছোট কাঠের টুকরা দিয়ে মাথাটাকে কোণাকোণি ধরে কয়েক সেকেন্ড চাপ দিতেই বাম দিকের বিষদাঁত ভেঙে গেল। একইভাবে ডান দিকেরটাও ভাঙা হল। ব্যস, হয়ে গেল। শিশুদের দাঁতের মতো ছ্ট্টো দাঁত। তবে তা দাঁতের মতো শক্ত না, এটাকে শক্ত মাংসপি- বলাই ভাল। সাপটাকে নির্বিষ করার কাজ কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। বিষগ্রন্থি ফেলতে হবে। বিষগ্রন্থি ওপরের চোয়ালে বিষদাঁতের সাথেই থাকে। একটি ভাঙা ব্লেড দিয়ে সেখানকার চামড়াটা কাটা হল। এরপর কেঁচোর দেহের মতো আধ ইঞ্চি দৈর্ঘের একটি গ্রন্থি বের করা হয়। দুই পাশ থেকে দুটো। অবশেষে ভয়ংকর বিষাক্ত গোখরা নির্বিষ হল। সাপটি যখন বাক্সের ভিতর রাখা হয় দেখলাম পায়ের চাপে এর লেজের চামড়া উঠে গেছে। আসলে পুরো কাজটি যে পদ্ধতিতে সমাধা হল তা নৃশংসই বলতে হবে। সাপটি তখন প্রায় আধমরা। যদিও সাপুড়ে জানালেন, ব্যাপার না। দুই-তিন মাসের মধ্যেই আবার দাঁত গজাবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ ভোর ৬:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




