২০১০ ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ। আর্জেন্টিনা- জার্মানি। নক আউট রাউন্ডে দুই দল মুখোমুখি। আর্জেন্টিনা যতবারই আক্রমনে যাচ্ছে, কাউন্টারে নিজেদের জালে একটা করে গোল ঢুকছে। রক্ষন না সামলে আক্রমনে যাবার এই ফল। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পরল আর্জেন্টিনা।
এবার আসি মূল প্রসঙ্গে। ফেসবুকে ঢুকলেই পোস্ট দেখছি- ‘বাংলাদেশি ব্ল্যাকহ্যাট’ ইন্ডিয়ান এত সংখ্যক সাইট হ্যাক করেছে। তত সংখ্যক সাইট হ্যাক করেছে। তাদের সাথে বলে কোন কোন দেশের হ্যাকাররাও যোগ দিয়েছে। শুধু তাই নয় তারা দেখি উদাত্ত আহবান ও জানাচ্ছে তাদের সাথে যেন আমরা যোগ দেই। আরো নতুন নতুন ইন্ডিয়ান সাইট হ্যাক করি!
আক্রমনে যাচ্ছেন ভাল কথা, আপনার রক্ষন কতটা শক্তিশালী সেই ধারনা আছে কি? নিজের ঘর সামলাচ্ছেন কি? আমাদের দেশীয় সাইটগুলো এমনকি সরকারি সাইটগুলোর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা এমনিতেই দুর্বল।পাল্টা আঘাতে টিকে থাকতে পারবে কি? নাকি সাইবার ওয়ার্ল্ড থেকেই আমরা ছিটকে পরব?!!
একটা সহজ কথা বলি।আমাদের দেশের বেশিরভাগ মার্চেন্ট ব্যাঙ্কের কোর ব্যাঙ্কিং সফটওয়্যার হয় ইন্ডিয়ান কোম্পানি বা তাদের সহযোগী কোম্পানির দ্বারা সরবরাহকৃত, নতুবা তাদের সাপোর্ট এ চলছে। এখন আমরা সাইবার যুদ্ধের কথা বলছি। ইন্ডিয়ানদের তো হ্যাক করবার দরকার নেই!! সার্ভার অফ করে দিলে বা সাপোর্ট বন্ধ করে দিলেই তো আমরা চোখে অন্ধকার দেখব। পুরো ফিনান্সিয়াল সিস্টেম ই ভেঙ্গে পড়বে।
শুধু কি তাই, অফিস অটোমেশন, টেলকো সফটওয়্যার, অ্যাকাউন্টং সফটওয়্যার অনেক কিছুর-ই সাপোর্ট ইন্ডিয়া। এমনকি অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানিকে উৎসাহ দেয়া হয় না। নিজের রক্ষন অন্যের জিম্মায় রেখে আক্রমনে উঠাটাই অর্থহীন!
আগে আমাদেরকে ঠিক করতে হবে আমরা কি চাই। আমাদের ছেলেরা যেখানে বিদেশি কোম্পানির হয়ে কাজ করছে, আউটসোর্সিং এও আমরা যখন সেরাদের মধ্যে একজন। তখন কেননা আমরা সফটওয়্যা্র প্রোডাক্ট এ স্বনির্ভর হই! আমাদের প্রোডাক্ট আমরাই বানাবো। সরকারের তরফ থেকেও চাই সহযোগিতা, প্রণোদনা এবং উৎসাহ!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



