
বিএসএফ’র গুলিতে গতকাল সাতক্ষীরা সীমান্তে এক বাংলাদেশী রাখাল এবং লালমনিরহাটের টেংরাবান্দা সীমান্তে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গত রোববার ও সোমবার শার্শা ও বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফ’র গুলি ও পিটুনিতে গুরুতর আহত দুই বাংলাদেশী গরু ব্যবসায়ী গতকাল মারা গেছেন।
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গাজীপুর সীমান্তে গতকাল ভোরে বিএসএফ’র গুলিতে শরিফুল ইসলাম (৩০) নামের এক বাংলাদেশী রাখাল নিহত হয়েছেন। তিনি সাতক্ষীরা গাংনিয়া গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে।
বিডিআর জানায়, শরিফুল ভারত থেকে গরু নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশকালে সাতক্ষীরার গাজীপুর সীমান্তের মেইন পিলার ৫-এর সাব পিলার ৮-এর কাছে পৌঁছলে ভারতের কালুতোলা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ করে। স্খানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আফঙ্কাজনক অবস্খায় ভর্তি করলে দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্খায় তার মৃত্যু হয়।
বেনাপোল সংবাদদাতা জানান, বেনাপোলের পুটখালি সীমান্তে বিএসএফ’র হাতে মারত্মক আহত গরু ব্যবসায়ী মজনুর রহমান (২২) মঙ্গলবার সকালে যশোর জেনারেল হাসপাতালে মারা গেছেন। মজনুর বেনাপোলের শিকড়ী গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে। বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজমল হুদা জানান, রোববার রাতে ভারত থেকে গরু আনার সময় বেনাপোলের পুটখালি সীমান্তের বিপরীতে আংরাইল বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা মজনুরকে ধরে বন্দুক দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে মৃত ভেবে ইছামতি নদীতে ফেলে দেয়। পরে গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্খায় মজনু গতকাল সকালে মারা যান। এ ঘটনায় পুটখালি সীমান্তে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
লালমনিরহাট সংবাদদাতা জানান, বুড়িমারি স্খলবন্দরের কাছে গত রাত সাড়ে ৯টায় বিএসএফ’র গুলিতে মোক্তাল হোসেন (২২) নামে এক বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। নিহত যুবক একজন গরু ব্যবসায়ী। তার পিতার নাম পাতাল চৌকিদার। তার বাড়ি আওলিয়া হাটে।
স্খানীয় সূত্র জানায়, বুড়িমারির টেংরাবান্দা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা মোক্তালকে লক্ষ্য করে ৪ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এতে ঘটনাস্খলেই সে মারা যায়। বিডিআর সদস্যরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

