স্বেচ্ছাচার না করা গেলে তারে স্বাধীনতা বলে না। স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারের অধিকার।

কবিতা ।। বড়লোকদের সঙ্গে আমি মিশতে চাই (2002)

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ রাত ২:৪৭

শেয়ারঃ
0 32 0

যদি রুচিশীল তবু বড়লোক--এরকমই ভালো লাগে
ফরসা হলে বেশি। লুঙ্গি পরে না। কথা বলে স্পষ্ট ভাষায়
আমি তাদের সঙ্গে গিয়ে মিশতে চাই।
সকালে দৌড়ায়। আমি তাদের সঙ্গে গিয়ে দৌড় দেব
ধানমণ্ডি লেকের পাশে বাড়ি--
করতে পারব না কোনোদিন যারা ধানমণ্ডি লেকের পাশে বাড়ি
করেছেন, তাদের বারান্দায় গিয়ে বসে থাকব--
ছাদ থেকে লেক দেখব। লেকও আমাকে দেখবে--
সবাই বসতে দিতে রাজি তো হবে না
বিশেষত যাদের ড্রয়িংরুম বেশি বড়, লম্বা বেশি, সোফা বেশি
যাদের ড্রয়িংরুমে বসবার যোগ্যতা আমার নাই, হয় নাই, হবে নাই
তাদের বেডরুম কেমন তাতো কোনোদিন জানাই হবে না।
তবু বড়লোকদের বেডরুম না দেখেই মৃতু্য হলে সেটা খুব
অত্যন্ত খারাপ হবে। এমন মৃতু্য আমি চাই না তো।
পারি যদি একটি পছন্দসই বড়লোক বেডরুম সঙ্গে লয়ে
মারা যেতে চাই।
যদি মারা না গেলাম তবে বসে থাকতে চাই সেই বেডরুমে
তারা যদি বলে তবে সারাদিনই। কিন্তু যেদিনই ওদের বাড়ি যাবো
মানে যাই যাই, ওরা বলে বিদেশ থিকা এমেরিকা থিকা ওদের দুই মেয়ে
দুইশ বছর পর আসতেছে, তাই এখন যাওয়া যাবে না--
পরে যাওয়া যাবে ওদের বাসায়।
বড়লোকদের সঙ্গে যৌন সঙ্গম ছাড়াই তবে এ জীবন যাবে!

তবে এইটা ঠিক যে, বড়লোকদের সঙ্গে পরিচয় হওয়াও কঠিন আছে।
ইংরেজি শিখতে হবে; নিজেকেও হইতে হবে অন্তত অর্ধেক, বড়লোক।
তবু আমি, তবু আমি মিশতে চাই বড় বড় লোকদের সাথে।
ওদের সঙ্গে যাব লং ড্রাইভে, জোরে দরজা গাড়ির
বন্ধ করলে ওরা হাসবে
তাতে আমি দরজা খুলে আস্তে করে লাগাব আবার দরজা যেন মোম
যেন আমি গাড়ি থেকে নামব আবার
যেন এই গাড়িই আমার বাড়ি, ভাড়া নিছি বড়লোক আব্বাজান থেকে।

ওদের ড্রয়িংরুমে বসে থাকব, হেসে থাকব, কার্পেটের উপ্রে
জুতা নিয়া বইসা থাকব, যতক্ষণ না খেতে ডাকে।
ডাকলে গিয়া খাব। যে ভাবে ওরাও খায়। ওরা কি চাবায়?
নিচের তলায়, চাকরেরা খাবার সাজায়।
ওদের বাসায় কত কার্পেট, বনমালি, লম্বা বাসা, লম্বা ঘাস, সামনে বাগান।
চাকর অনেকগুলিা, যেন ফুল ফুটে আছে, ভোর থেকে রান্নাবাড়া করে।
খায় না কিছুই।
বড়লোকদের সঙ্গে থাকে, নিয়মিত বড়লোক দ্যাখে তাই
কিছুই খাইতে হয় না। বেহেশতেই আছে।

বড়লোকদের বাচ্চাগুলি মোটা মোটা। ভাজা মুরগী খায়।
সাঁতরায়। বিনয়ের অবতার। বিকালবেলায়--
আমার তো ভালো লাগে এইসব। যত বেশি তত।

তবে বড়লোকদেরও শুনছি আব্বা আম্মা মারা যায়
ওরা তাতে অল্প অল্প কাঁদে।
বেশি দুঃখ পায় তাই কান্দে অল্প হাসে বেশি মদ খায়
আব্বা মারা গেলে।
ওদের সঙ্গে আমি মদ খাব। কান্তে হলে কানব।
বন্ধুর দুঃখে যদি না কান্দি তাইলে...ওরা আমাকে বাড্ডা পর্যন্তআগায় দিছে
টয়টা গাড়িতে।
ওরা হাসে, 'তোমরা বুঝি গুলশানে থাকো!'
আমি বলি, 'তাই।' ওরা বলে গুডবাই--
আমি ওদেরকে ভালোবাসি--আই লাভ ইউ।
বড়লোকদের কুত্তা আর মেয়েগুলি মাখন খায়
তাই ওরা খুব সুন্দর
আমি ওদেরকে বিয়ে করতে চাই।

রচনা: 10/2/2002
প্রথম আলো, ঈদসংখ্যা 2002

 

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:৫৫
অতিথি বলেছেন: মনে হইতেছে এখন আমারও, আমি বারান্দায় বসি, লেক আমারে দেখুক! কবিতা ভাল লেগেছে। তবে ভাল শব্দটা অন্ততপক্ষে দশবার উচ্চারণ করতে হবে।
২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৮:৫৭
অতিথি বলেছেন: কৌশিক, সন্ধ্যায় কাম না থাকলে শাহবাগে আইসেন। রাসেলরেও আইতে কইছি। ভাস্কররে আর পিয়ালরেও।
৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:০০
অতিথি বলেছেন: রাইসু আমি মনে হয় আইবার পারুম...তয় অন্য কারো দায়িত্ব নিবার পারুম না। সন্ধ্যা কয়টায় আইবেন?
৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:০০
অতিথি বলেছেন: বস, জানাজা নামাজ পড়াটা ভুইলা গেছি। আইজকা যদি কিছু হয় আপনাদের, আমারে কিছু কইতে পারবেন না কিন্তু।
৫. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:০৩
অতিথি বলেছেন: না না রাসেল সামনাসামনি সিভিল আ ছে তো। সন্ধ্যা 7 টা ভালো টাইম। তিমুর আর অণৃন্যও আইসেন। আপনেরা দুইজন এক লোক বইলা আমার মনে হয়। মানে হইত...
৬. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২০
ত্রিভুজ রামছাগল বলেছেন: অতিরিক্ত পানাহার করিয়া ফুলিয়া ফাঁপিয়া উঠুন। কোরবানীর ঈদের মৌসুমে বড়লোকেরাই আপনাকে খুঁজিয়া লইবেক।
৭. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২৬
তিমুর বলেছেন: রাইসু ভাই, দাওয়াত দিসেন, খুশি হইসি বেজায় । তয় মাফ করেন, আইজ না । একটা ১৫৪ স্লাইডের একটা প্রেজেন্টেশন রেডি করতেসি । আইজ বাদে কাইল এইটা চালান দিতে হইবো । আইজ এক্কেরেই পারুম না ।

কোনদিন বিনা দাওয়াতে সেন্ট্রাল রোদে চইলা আমি, কয়লা কাগজ নিয়া । রাস্তা থেইক্যা উইঠা আসলে আপনি তো আবার নসু ভাইয়ের মতন কুত্তা দাবড়াইবেন না বস ?

আর রাইসু ভাই, আমি অণৃন্য না, একটু তাকাইলেই বুঝবেন, হ্যার পোস্টে পলিটিক্স বেশি, আমারটায় জিরো, আমি পার্টিজান না বস । আমি এই সার্কাসের নির্বিকার দর্শক মাত্র ।

দুইজনের মধ্যে একটা মিল আছে সেইটা হইলো আমরা দুইজনেই ওয়েস্টার্ন বই, ছবির ভক্ত । (এখন পড়তাসি লামুরের 'মাউন্টেন ভ্যালি' ওয়ার ) । এবং মাঝে সাজে দুইজন, দুইজনের পোস্টে একটু পিঠ চাপড়াই ।
৮. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:২৯
তিমুর বলেছেন: শাহবাগে আপনাগো ঠেকের ঠিকানাটা এট্টু দিলে ভাল হয়....আগে ভাগে রেকি কইরা নিমু যে কোন অ্যামবুশ পাতা নাই ।
৯. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৩৫
অতিথি বলেছেন: পাঠক সমাবেশ-এর সামনে বা পাশের বাপপী ভাইয়ের চায়ের দোকানে জিগাইলেই হইব।
১০. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৩৫
অতিথি বলেছেন: মানে আজিজ মার্কেটে।
১১. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ৯:৪১
তিমুর বলেছেন: চিনসি....বড়লোকের ধ্যান ছাড়েন ভাই । নসু ভাইদের কাছ থেকে যতদূরে থাকা যায় বেটার ।
১২. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪৭
অতিথি বলেছেন: আমিও যামু শাহবাগ
১৩. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪৯
অতিথি বলেছেন: সুমন - আজকে তো আমার ডরই লাগতেছে। চিন্তা করতেছি পিডাপিডি শুরু হইলে কোন পক্ষ নিমু, কিছু না কইলে দুইজনই তো ধইরা পিডাইবো!
১৪. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১১:০৩
অতিথি বলেছেন: মুগ্ধ হইলাম ।

দুনিয়ার লুজারেরা এক হও...
সবাই মিইল্যা বড়লোক হই ..
১৫. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৩২
হযবরল বলেছেন: বেজায় ভাল লাগলো , ভেতরের চিন্তাটা। দরজা বন্ধ করবার মত জোরে প্রশংসা করলে আবার বড়কবি'রা যদি হেসে ফেলে সেই ডরে করতে পারলাম না আমি বেজায় মধ্যবিত্ত।
১৬. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪০
পথিক!!!!!!! বলেছেন: কবিতা যখন এভাবে দৃশ্য কল্পে চোখের সামনে নিয়ে আসে মুগ্ধতা...সেখানেই কবির স্বার্থকতা....
ব্যক্তি( আপনি) হিসাবে নয়..কবি(আপনি) হিসেবে প্রশংসা করলাম
১৭. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪৩
অতিথি বলেছেন: ব্যক্তি হিসাবে তাইলে তিমুর প্রশংসা করুক! সে তো ভালো প্রশংসা করে।
১৮. ০৩ রা জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:৪৮
তিমুর বলেছেন: আমি প্রশংসিত ফিল করতেসি....!
১৯. ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ১১:৫৪
মুজিব মেহদী বলেছেন: বেশ, মজা পেলাম।

আপনার একটা অনুবাদ আছে না ‌'নারীমাংস রন্ধনপ্রণালী' নামে? মনে হয় জাপানি কবি তাকাগি ক্যায়জুর। ওইটা পড়তে ইচ্ছে করছে। পোস্টাইয়া দেন না।
২০. ১০ ই অক্টোবর, ২০০৭ বিকাল ৪:৫৩
ব্রাত্য রাইসু বলেছেন: ভুইলাই গেছিলাম। দেখি অনুবাদগুলা উঠামু। আছে কিনা দেখতে হইব।
২২. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৩:০৭
বিপন্ন বিস্ময় বলেছেন: এটা কি কবিতা নাকি স্যাটায়ার?

তবে আপনার কাছে যেটাই হোক স্থুল স্যাটায়ার ছাড়া অন্যকিছু আমার মনে হলোনা।

ভালো লাগলো না আপনার কথিত এই কবিতা।তবে হাসাতে সক্ষ্মম আপনি হয়েছেন বটে।

ধন্যবাদ।
২৪. ১৯ শে এপ্রিল, ২০০৮ দুপুর ২:৪৮
সামী মিয়াদাদ বলেছেন: প্রিয়কে পাঠিয়ে দিলাম
২৫. ১৩ ই মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১২
রেটিং বলেছেন: দারুন লাগল।

আমিও বড়লোকগ ঘুমানোর জায়গা দেখবার চাই,
ওগো টয়লেটে হাগবার চাই,
ওগো সোফাই বইসা বুঝবার চাই কতটা নরম হইলে সোফা হয়,
পেছনের সিটে বসতে না পারলেও ড্রাইভার হইয়া ওগো গাড়ি চালাইবার চাই !!!
২৬. ১৮ ই আগস্ট, ২০০৮ সকাল ১১:৪১
মুক্তি মণ্ডল বলেছেন: ভাল লাগল রাইসু ভাই। খুব পছন্দ হইছে কবিতাখান...
২৭. ১৬ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৫:২২
শান্তনু চৌধুরী বলেছেন: আমারোতো বড়লোক মেয়ে বিয়ে করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ওরা কি আর আমাদের পাত্তা দেবে। জোস লিখছেন।
২৯. ২০ শে মার্চ, ২০১০ সকাল ১০:২৪
ধূসর সপ্ন বলেছেন: কি বলব কি মন্তব্য করব, মনে হইতেছে আমার কথা গুলোই আপনি আমার অগোচরে ধার কইরা লিখে দিয়েছেন ---------------------



ভাল , ভাল, খুব ভাল দাদা

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৬৩৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস