somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অ্যানেকডট 4 ।। সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের নিরাপদ জীবন

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[রং=#808080] সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদের নিরাপদ জীবন [/রং]

তুর্কির সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ (Abdul Hamid II, 1842-1918) তার শাসনকালে (1876-1909) রেড সুলতান নামে বিখ্যাত হইছিলেন। বিপুল রক্তপাত ঘটাইয়া লাল-এর এই গৌরব তিনি অর্জন করেন। পূর্বসূরির অপসারণ তারে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করছিল।

আবদুল হামিদের নিরাপত্তা বিষয়ক সু্যররিয়াল অবসেশন জগতে নতুন ইতিহাস তৈরি করে। তারে ঘিরা থাকা কয়েক হাজার আরব বডিগার্ডের সশস্ত্র প্রহরা তিনি অপ্রতুল জ্ঞান করতেন। Yilditz-এর পাহাড়ি এলাকায় খ্রিস্টানগো সমাধিক্ষেত্র উজাড় কইরা তিনি দুর্গম প্রাসাদ নিমর্াণ করছিলেন। প্রাসাদ বানাইতে আসছিল 12 জন আর্কিটেক্ট। এগো প্রত্যেকের প্রতি আদেশ আছিল অন্য 11 জন কি করতেছে না করতেছে তা জানন যাইব না। না জাইনাই আপনাপন অংশ কমপ্লিট করেন স্থপতিরা। প্রাসাদের দেয়ালে দেয়ালে আয়না বসাইয়া দিছিলেন সুলতান, যাতে যে কোনো কোণ থিকা যে কারো মুভমেন্টে নজর রাখন যায়।

বিলিডংয়ের বেশিরভাগ রুম আন্ডারগ্রাউন্ড প্যাসেজের মারফতে অন্য রুমের লগে যুক্ত আছিল। কেবল সুলতানই জানতেন কোন ঘরের লগে কোন ঘরের যোগ। তার পারমানেন্টলি লোডেড রিভলবার আছিল হাজারে খানেক। প্রাসাদের গোপন জায়গায় লুকানো থাকতো এগুলি। গুপ্তঘাতক ঠেকানোর জন্য ঘরে ঘরে পাইতা রাখছিলেন গুপ্ত ফাঁদ আর মেকানিক্যালি কন্ট্রোলড বন্দুক।

সম্ভাব্য আততায়ীগো গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রাসাদরে কেন্দ্র কইরা আবদুল হামিদ একটা ছদ্ম শহর বসান। এতে আছিল 20টা ভুয়া কফিশপ, যেগুলি চালাইতো সুলতানের গুপ্তচরেরা। Yilditz শহরে সুলতানের প্রায় বিশ হাজার গুপ্তচর নিজেরা নিজেগো আর সুলতানের বডিগার্ডগো উপরে নজরদারি করতে থাকতো। সুলতান এগো কাউরেই বিশ্বাস করতেন না। তিনি নির্ভর করতেন রাস্তায় রাসস্তায় ঝুলাইয়া দেওয়া খাঁচাবন্দি শ' খানেক টিয়াপাখিরে, যারা আগন্তুক দেখলেই চেচাইয়া কানে তালা লাগাইয়া দিত।

আবদুল হামিদ বিষপ্রয়োগের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করছিলেন। তিনি গোপন কূপ থিকা আনা মোহরমারা কন্টেইনারের পানি পান করতেন। তার ডেইরি ফার্মে চবি্বশ ঘণ্টা নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছিল। সুলতানের কিচেন আছিল ব্যাংক ভল্টের মতো সুরক্ষিত। তার জন্য রান্না করা খাবারের প্রতি পদ তিন অংশে ভাগ করা হইতো। প্রথমে প্রথম ভাগ খাইত সুলতানের স্বাস্থ্য ও জীবন তদারককারী কর্মকতর্া। দ্বিতীয় ভাগ বিলাই-কুত্তারে খাওয়ানো হইতো। খাদ্যগ্রহণান্তে সব রকম প্রাণী বাঁইচা থাকলে পরে তৃতীয় অংশের খাবার সিল কইরা পাঠানো হইতো মহামতি সুলতানরে। খাবারের ব্যাপারে অত্যন্ত খুঁতখুঁতে আবদুল হামিদ প্রায় কিছুই খাইতেন না। বেশির ভাগ সময়ই তিনি খাইতেন ভিটামিন পিল। সুলতানের পোশাকে কেউ বিষ মাখাইয়া রাখতে পারে এই আশঙ্কায় পরনের আগে খোজাগো পরাইয়া কাপড় গরম করাইয়া নিতেন তিনি।

সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ মুক্তা-খচিত রিভলভার লইয়া ঘুরতেন। তার সামনে কেউ নড়াচড়া করতে বা পকেটে হাত ঢুকাইতে সাহস করতো না। একবার এক মালি তারে কুর্নিশ করার জন্য মাথা নোয়াইছিল, লগে লগে গুলি কইরা মালির নত মাথা সোজা কইরা দিছিলেন সুলতান।

আরেকবার তার নিজের মেয়ে তারে পিছন থিকা আহলাদের ধাক্কা দিলে তিনি চমকাইয়া গিয়া এত দ্রুত রিভলভার বাইর কইরা গুললি মাইরা দেন যে মারা যাওনের পরেই কেবল বুঝতে পারছিলেন কারে তিনি গুলি করছেন।

ক্ষমতা হারানোর 9 বছর পরে সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ তার নিরাপদ মৃতু্য বরণ করতে পারছিলেন।

তথ্যসূত্র : [ইটালিক] Oddballs and Eccentrics[/ইটালিক] by Karl Shaw ।
লেখাটা শুদ্ধ নাগরিক 'ডায়ালেক্টে' যায়যায়দিন পত্রিকার 7/9/6 সংখ্যায় ছাপা হইছিল।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১০:৩৭
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×