গল্প ১৯৯৩ ।। পুরোনো বন্ধুদের থেকে সাবধান
পুরোনো বন্ধুদের থেকে সাবধান
১.
তো, পুরোনো আমার যে-বন্ধু সে আমাকে সকালে যোগাযোগ করে। আমি বলি, কী ব্যাপার, এতদিন কোথায় ছিলেন?
তিনি রুষ্ট হন : হারামজাদা, আপনে কইরা কইতেছো যে!
আমি ‘সরি’ বলি। সে বলে, ‘তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসতেছি, বাসায থাকবা নাকি?’
আমি বলি আমি খুব ব্যস্ত। কিন্তু সে বলে রাতে কোনো কাজ আছে নাকি? আমি বলি, ‘কখেন?’ সে বলে, ‘রাতে।’ আমি ভয় পাই। বলি, ‘রাতে সময় হবে না, বরং দিনের বেলায়ই; এবং আমি নিজেই আসছি, তোমার ঠিকানাটা বলো।’
সে ঠিকানা বলে। আমি তার বাসায় যাই।
তার বাসা যথারীতি। বিবাহিত। কাজের মেয়ে আছে। অসুন্দর; এবং--বাগানে ডালিয়া ফুল। বাগান মানে বারান্দা। বারান্দায় অনেক টব। টবের ফাঁকে কসরৎ করে বসানো চেয়ার। সেখানে আমরা বসি। বসার পর তাকে ভালো লেগে যায়। কিন্তু ইহজনমে তাকে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তবে কণ্ঠ কর্কশ বিধায় আগে হয়তো শুনে থাকবো।
সে বলে, ‘বড়ো সুখ লাগে বুঝলা রাইসু, তুমি প্রাপ্তিতে বড়ো সুখ হয়।’
আমি বলি, ‘তোমার কণ্ঠ বোধহয় আগে শুনে থাকবো।’
সে বলে, ‘শুয়ারের বাচ্চা!’ আমি হাসি। সে-ও হাসে। তার দাঁত সুন্দর। আমি বলি, তোমার দাঁত বোধহয় আগে কখনো দেখে থাকবো।
‘কিন্তু আগে কোনোদিনই দাঁতই ছিল না আমার!’--সে উঠে আমার ঠোঁট কামড়ে ধরে। আমার শিহরণ হয়। তার ছেলে আসে বারান্দায়। পাঁচ-ছয় বছরের শয়তান। কালো মোটা ফ্রেমের ইন্টেলেকচুয়াল চশমা। দাঁতের বিন্যাস মায়ের মতো নয়। পরস্পরবিচ্ছিন্ন। ফলে ভালো লাগে। তার মা, আমার পুরোনো দিনের বন্ধু, পরিচয় করিয়ে দেয় তার ছেলের সঙ্গে। বলে, ‘তোমার বাবা হন ইনি। হ্যান্ডশেক করো খোকা।’ খোকাবাবু হ্যান্ডশেক করে। বলে, ‘আগে কখনো দেখে থাকবো আপনাকে।’
‘আমিও।’
‘কী করছো এখন?’ তার মা জিগ্যেশ করে।
‘ছেলেটা কার আসলে?’ আমি জানতে চাই।
সে হাসে, ‘যাও বাবা ঘরে যাও।’ তার ছেলে ঘরে যায়। সে বলে, ‘তোমারই ছেলে। তা তুমি এখন কী করছো?’
আমি বলি, ‘গল্প-টল্প লিখি।’
‘আর কিছু না?’
‘না, আর কিছু না।’
‘চলো, আমার সঙ্গে ঘুরবে আজ।’ সে রিকশা নেয় এবং বলে, ‘গল্প কীভাবে লেখো, তোমার লজ্জা হয় না?’
আমি বলি, ‘গল্প লেখায় আবার লজ্জা কীসের?’
সে কিছুক্ষণ ভাবে। তারপর বলে, ‘ঠিকই বলেছো, গল্প লেখায় আবার কীসের লজ্জা?’
: কিছু কিছু গল্প অবশ্য আছে, লিখতে সত্যি লজ্জা করে।
সে আগ্রহী হয় এবং আমি তাকে কিছু বলি না।
সে পুনরায় আগ্রহী হয় এবং আমি তাকে বলি। সে বলে, কী বললা বুঝলাম না। আমি তার কানের কাছে মুখ নিই এবং কিছু বলি না। সে খুব উল্লসিত হয়। বলে, ‘তাই নাকি! আমার খুব ভালো লাগছে। পুরোনো দিনের কথা মনে পড়ছে। ইশ্!’
আমিও ‘ইশ্’ বলি।
সে বলে, ‘কী, ভেঙচাচ্ছো নাকি?’
আমি বলি, ‘না ভেঙচাচ্ছি না। তোমার ছেলের বয়স কতো?’
‘সাত।’
‘সাত কেন?’
‘কীভাবে বলবো! আমি কীভাবে বলবো বলো! আমার কি বলার কিছু আছে।’ সে কাঁদতে লাগে। ফলে আমি হাসতে শুরু করি। আমি তাকে বলি, ‘তোমার মধ্যে উত্তেজনা হইছে লাইলি!’
সে বলে, ‘আমি লাইলি না, আমি যুলেখা।’
আমি বলি, ‘ঐ একই কথা। যাহা লাইলি তাহা--’
‘তাহা কী? বল্ কুত্তার বাচ্চা, তাহা কী?’
সে বক্র হয়। মোচড় দিয়ে তার যৌবন প্রকাশ করে। এবং তার অবস্থান থেকে খানিক উত্থিত হয়। ফলে তার ব্যক্তিত্ব। সে বলে, ‘চুতমারানি, এটাকে প্রেমের গল্প বানাবার ধান্দায় আছো, না?’
তার গালাগালকে আমার নারীবাদ ভ্রম হয়। আমি বলি, ‘না, এটা ঠিক প্রেমের গল্প না; এটা ক্রুয়ালটির গল্প। আমি শুধু ক্রুয়ালটির গল্পই লিখতে চাই।’
‘ক’টা লিখেছো?’
‘সাতটা।’
‘আমাকে দেখাবে?’
আমি তাকে হাসি : ‘কিন্তু আমাকে দেখা করতে চেয়েছেন কেন?’
‘সব বলছি। রহো।’
2.
(বাকি অংশ কম্পোজ করলে পরে এইখানে পেস্ট করুম। সংবেদ পত্রিকার প্রচ্ছদ। - লেখক)
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।