somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রধানমন্ত্রী কি জানেন তার কারণে শাহবাগ মোড়ের চারদিকে কতক্ষণ আটকাইয়া ছিল গাড়িগুলা আর গাড়ির ভিতরে গরমে সিদ্ধ হইতে থাকা প্রায়-মানুষগুলা?

০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ৮:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার ধারণা জানতেও পারেন নাই তিনি। আমিও জানতে পারতাম না। কিন্তু জাইনা ফেললাম যেই উপায়ে সেইটা বলি।

কাইলকা একটা আমন্ত্রণ পত্র পাইলাম ১১তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবের পক্ষ থিকা। তো দেখলাম, জাদুঘরে এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি প্রধানমন্ত্রীকে কখনো সামনাসামনি অবলোকন করি নাই। তো তাঁরে দেখতেই গেলাম।

যাওয়ার সময় 'হাতব্যাগ, ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন' নিলাম না। নিতে মানা। সাড়ে তিনটায় ভিতরে গিয়া দেখলাম গরীব চেহারার আমন্ত্রিত অতিথিরা বইসা আছেন। গুরুত্বপূর্ণরা তখনো আসেন নাই। আর ডাকসাইটে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কর্মকর্তারা মিডিয়া থিকা আসা ক্যামেরা ম্যানদের ও আগত দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ করতেছেন। দেইখা স্বস্তি পাইলাম। যাক, মধ্যবিত্ত প্রাণখানি নিরাপদেই থাকবে জাদুঘরে!

অনুষ্ঠান যথারীতি হইল। মানে পাশে বসা পিএম কাভার করা মিডিয়া কর্মীর কাছে জানতে পাইলাম সকালেও নাকি কোথায় একই রকম হইছে। বক্তব্যেও মিল ছিল। উনি এইটাও বললেন দেইখেন 'ডিজিটাল' বলবে! আর বললেন, এখন নাকি প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলাতে ছায়ানটের ছায়াসঙ্গীত থাকে। তা থাকতেই পারে। হাসিনা তো আর খালেদা জিয়া না যে ছায়ানট সরকারী কাজে লেজুরবৃত্তি করবে না। তো সব মিলল ঠিক মতো।

আরো কিছু চাহিদা ও প্রেরণার ব্যাপার ঘটলো। তো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিসমাপণান্তে ইয়াসমীন কবিরের 'শেষকৃত্য' বা 'দি লাস্ট রাইটস' শর্ট ফিল্ম দেখানো হইল। পুরাতন জাহাজ ভাঙ্গাঁ (ভাঙার এমন বানানই আছে ওইখানে) বিষয়ে মানবিক অর্থাৎ অরাজনৈতিক দুঃখের ছবি। আমার ভালো লাগল না।

তো ছবি শেষ হইলে ভাবলাম, ভাগি। ভাগার প্রাক্কালে ঘোষণা হইল প্রধানমন্ত্রী এখন বেরুবেন। এই সময়ে যাতে অভ্যাগতরা যার যার সিটে বইসা থাকেন। তো বসলাম। কিন্তু দেখি প্রধানমন্ত্রী আর যান না... তো দেখি একটু পরে তারেক মাসুদ আর ক্যাথরিন মাসুদের ছবি 'নরসুন্দর' দেখাইবে। প্রধানমন্ত্রী দেখলাম উঠলেন না, নতুন কোনো ঘোষণাও হইল না। আমি দ্বিধায় জড়িত পদে, কম্পিত বক্ষে দরজার দিকে আগাইলাম। এবং যেহেতু প্রধানমন্ত্রী এখনই উঠছেন না সুতরাং আমারে নিরাপত্তারা বেরুইতে দিলেন। অনেক নিরাপত্তা রক্ষীর দেখা মিলল।

মজা দেখলাম গেটের বাইরে আইসা। অনেক লোক। ভিড়। শ্লোগানও দিতেছে দলীয়রা। কিন্তু এর বাইরে চারিদিকে সুনশান। সকল যানযাহন ইঞ্জিন বন্ধ কইরা মৃতদেহ হইয়া আছে, শাহবাগের চারদিকে... দূরে আরো দূরে সব নিস্তব্ধ। । ওদের আশা প্রধানমন্ত্রী চলমান হইলে... চলিয়া গেলে ওরাও যাইতে পারবে। হাঃ হাঃ। পাঠক আপনেরাও কম পক্ষে ১৫ মিনিট হাইসা নিতে পারেন।

কারণ প্রধানমন্ত্রী তখনও 'নরসুন্দর' দেখতেছেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বোধহয় বাইরের ট্রাফিক সার্জেন্টদের কোনো নির্দেশ দিতে পারেন নাই যে কতক্ষণ লাগতে পারে! কারণ তারা নিশ্চয়ই 'নরসুন্দর' দেখেন নাই। (তবে দেখলেই যে মনে থাকবে এমনও না। আমি পাবলিক লাইব্রেরিতে আগে দেখছিলাম। এখন ইন্টারনেট ঘাইটা দেখলাম ১৫ মিনিটের ছবি। ভুইলা গেছিলাম।) জাদুঘর থিকা বাইর হইয়া শাহবাগ আজিজ মার্কেটে একটা চক্কর দিয়া হাইটা কাঁটাবনের দিকে আসবার কালেও দেখলাম মার্কেটের সামনে যেই গাড়ি সেই জায়গায়। ঢাকা শহরে যে কত গাড়ি! থাইমা থাকে।

কিন্তু যাত্রী সাধারণ কি জানত 'নরসুন্দর' কত মিনিটের ছবি! বাংলা মোটর থিকা শাহবাগে আসা, কাটাবন থিকা শাহবাগে আসা, বিশ্ববিদ্যালয় থিকা শাহবাগে আসা, পল্টন থিকা শাহবাগে আসা ও কোথাও যাইতে না থাকা ঐ অ-দর্শকগুলা কেমনে জানব, অরা কি আর্ট-কালচার করছে জীবনে! একটা শর্ট ফিল্ম দেখার সময়ও যাদের নাই সেই অভিশপ্ত নগরবাসীদের জন্য ১৫ মিনিট জামে আটকাইয়া থাকাটা খারাপ কী? (অবশ্য আমি বাইর হওনের আগে আরো কত মিনিট তারা আটকাইয়া ছিল তা আমি জানি না।) আর ঐ ১৫ মিনিটের জন্য ঐ চৌরাস্তাটাও তো একটা শর্টফিল্মই, নাকি। অন্তত শর্টফিল্ম শেষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ফাঁকা রাস্তা দিয়া সাইরেন বাজাইয়া কি না বাজাইয়া যখন দৌড়াইতে দৌড়াইতে আগায় যাইতেছিল তিনি নিশ্চয়ই জানতেও পারেন নাই কত লোকের কত কর্মঘণ্টা তিনি বা তার নিরাপত্তাঅলারা নষ্ট করলেন বা গাড়িতে সিদ্ধ হইতে থাকা আলুরা এসিতে বইসা থাকা মন্ত্রী, উপমন্ত্রী আর প্রধানমন্ত্রী আর নিরাপত্তাতন্ত্রীদের কী কী অভিশাপ সরবে ও নিরবে দিতেছিল!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০১০ রাত ৯:২১
১০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×