somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি টোমাজ ট্রান্সট্রোমারের সাক্ষাৎকার থেকে -আর্টস

১৪ ই অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




”নেভিল: আমার কিন্তু আপনার কবিতা পড়ে কখনই মনে হয়নি আপনি ভবঘুরে। আমার বরং মনে হয় আপনার শেকড় সুইডেনে, সুইডেনের আবহাওয়ার মধ্যে আপনি প্রোথিত। আপনি কি একমত?

ট্রান্সট্রোমার: আপনি যে বললেন আবহাওয়া…আমার নিজেরও মনে হয় আমার শেকড় রয়ে গেছে সেই বিশাল দৃশ্যপটে, বড় বড় মাঠে, আমার অভিজ্ঞতায় আমার দর্শনে সুইডেনের দৃশ্যপট। সুইডেনের যে কোন মানুষ–বিশেষ করে যারা কবিতা চর্চা করেন, তাঁদের সকলের জন্য সুইডেনের আবহাওয়ার গুরুত্ব অসীম। অদ্ভুত সুন্দর আলো! আমরা নর্থ থেকে বেশ দুরে কিন্তু গালফ প্রবাহের জন্য আমাদের আবহাওয়াটা মৃদুমন্দ বলা যায়। কিন্তু সুমেরুর আলো। আর এই আলো কেবল সুইডেনেই দেখা যায়। আমাদের গ্রীষ্মের আলো এক্কেবারে ঝলমলে আবার আমাদের শীত ভীষণ অন্ধকার।

নেভিল: হ্যাঁ দীর্ঘ আর অন্ধকার। আপনার কিছু অদ্ভুত সুন্দর গ্রীষ্মের কবিতা আছে। গ্রীষ্মের স্বস্তি নিয়ে আপনার কাব্যের ভাবনাগুলো এতো প্রখর! আপনি আগে উল্লেখ করেছিলেন, কম বয়সে সুইডেনের প্রকৃতি, জল-জঙ্গলের সাথে আপনার সম্পর্ক ভীষণ শক্তিশালী ছিল। আপনার কবিতার একটা জিনিসে আমি বেশ ধাক্কা খেয়েছিলাম। কবিতাগুলো যতোই অন্তরাত্মা নিয়ে লেখা হোক, আত্মকে নিয়ে লেখা হোক, তার মধ্যে ঠিকই বাহ্যিকতার অপরূপ বর্ণণা পাওয়া যায়। কবিতা জীবনের অন্দরমহল নিয়ে লিখিত হলেও সেগুলি আসলে খুব কমই অভ্যন্তরের বর্ণনায় সাজানো থাকে। বরং আপনার কবিতায় বাইরের প্রকৃতির সবিশেষ বর্ণনা আমি দেখতে পাই। ‘‘Vermeer’’ তেমন একটি কবিতা যেখানে আপনি আসলে নিজের অন্দরমহলে, কিন্ত বাহ্যত পাই সরাইখানা এবং স্টুডিওর বিবরণ। কিন্তু আপনার এলিজির বিষয়ে ভাবি আমি, যেখানে আপনি হয়তো কোন একটা কক্ষে হাঁটছেন, আপনার দৃষ্টি হঠাৎ-ই কক্ষের বাইরে চলে যায়, জানালায় কিংবা বারান্দায়—এই ব্যাপারটা অসাধারণ! আপনি কি এই বিষয়ে কিছু বলবেন? যেটা আমার কাছে খুব চমকপ্রদ মনে হয়েছিল যে আপনার অন্দরের প্রতি আগ্রহ রয়েছে কিন্তু আপনার ভাবনার, দেখবার রাস্তাটা সব সময়ই বাইরের।

ট্রান্সট্রোমার: হুম…সম্ভবত এটাই আসলে আমার অনুপ্রেরণার জায়গা–একই সময়ে দুটো জায়গায় থাকতে পারা…কিংবা এমন একটা বোধ হতে থাকা যে আপনি যেখানে আছেন সেটা যতোই রুদ্ধ দেখাক, আসলে কিন্তু পুরোটাই খোলা। হ্যাঁ এটাকে অস্পষ্ট, দ্ব্যর্থক মনে হতেই পারে। কিন্তু এটাই আসলে আমার সমস্ত অনুপ্রেরণার জায়গা যেখান থেকে কাব্য আমার মধ্যে ধরা দেয়।”

[সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারের লিংক: http://arts.bdnews24.com/?p=4076

অনুবাদ: ফাতেমা সুলতানা শুভ্রা | ১৩ অক্টোবর ২০১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×