somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

[সর্বশেষ দেখিত চলচ্চিত্র] The Stoneman Murders (২০০৯) - সিরিয়াল কিলারের বাস্তবকাহিনীর উপর নির্মিত একটি হিন্দি ছবির রিভিউ ডাউনলোড লিঙ্কসহ

১৮ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পোস্ট উৎসর্গঃ নাই*



/* কখনো হিন্দি ছবির রিভিউ লিখব, ভাবিনি। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় ছবিটা দেখে এবং পেছনের বাস্তব কাহিনীটা পড়ে সবার সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছা হল। হিন্দি ছবি নিয়ে খুব অ্যালার্জি থাকলে ছবি বাদ দিয়ে পোস্টটাকে শুধু এক রহস্যময় সিরিয়াল কিলারের কাহিনী হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ রইল */

হলিউডের কিছু প্রিয় বিষয় আছে যেগুলি নিয়ে তারা বছরের পর বছর ছবি বানাতে থাকে। সিরিয়াল কিলার সেই প্রিয়গুলির মধ্যেও অতি প্রিয়। সেখানে বেশ কিছু ক্লাসিক সিরিয়াল কিলার ছবিও হয়েছে যেমন সাইকো, চ্যাঞ্জেলিং, সেভেন, যোডিয়াক ইত্যাদি। হিন্দি ছবিতে সিরিয়াল কিলার ব্যাপারটা এখনও নতুন। The Stoneman Murders এর আগে এ ধরনের কোন হিন্দি ছবি দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। এ ছবিতে যে বিষয়টা আমাকে আকৃষ্ট করেছিল সেটা হল এই ছবিতে ভারত পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম যেখানে অপরাধী ধরা পড়া তো দূরের কথা, কখনো কোন ন্যুনতম সুত্রও পাওয়া যায়নি। পরিচালকের মতে ছবিটি ৪০ ভাগ বাস্তব আর ৬০ ভাগ ফিকশন।

কর্পোরেশনের ঝাড়ুদার ভোরবেলা রাস্তা ঝাড়ু দেয়ার সময় কিশোর বয়সী এক গাঁজাখোর ভিখারির লাশ পায়। তদন্ত করতে গিয়ে ইন্সপেক্টর সঞ্জয় শেলার (কেকে মেনন) এক ছিঁচকে সন্ত্রাসীকে ধরে নিয়ে আসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। কোন তথ্য দেয়ার আগেই সঞ্জয়ের প্রচন্ড টর্চারে সন্ত্রাসীটি মারা যায়। ডিপার্টমেন্ট সঞ্জয়কে সাসপেন্ড করে। প্রথম থেকেই সঞ্জয়ের সন্দেহ হয় এটা সাধারন কোন খুন না এবং এ ধরনের খুন আরও বেশ কয়েকটা ঘটবে। কিন্তু ডিপার্টমেন্ট তার কথার গুরুত্ব দেয়নি।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একই ভাবে আরও চারটা খুন হয়। প্রতিটা খুনের ভিকটিম রাস্তার ধারে রাত কাটানো ভিখারি এবং খুনগুলি একই পদ্ধতিতে গভীর রাতে ভারি পাথর দিয়ে মাথায় আঘাত করে করা হয়েছে। নিজেকে প্রমানের জন্য সাসপেন্ডেড সঞ্জয় বড় কর্তা সত্যমের (বিক্রম গোখালে) কাছ থেকে আনঅফিসিয়াল তদন্তের অনুমতি চায়। সত্যম অনুমতি দিলেও ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য করবে না বলে জানায়। তদন্তকাজের জন্য সঞ্জয়ের ঘিঞ্জি বস্তির ভেতর একটা ছোট রুম ভাড়া নেয় এবং পুলিশ বিভাগে তার বিশ্বস্ত কন্সটেবল কাম্বলেকে (বীরেন্দ্র সাক্সেনা) আনঅফিসিয়াল সহকারি হিসেবে নিযুক্ত করে।

তদন্তের শুরুতেই সঞ্জয় লক্ষ করে খুনগুলি পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের একটা ছোট এলাকার মধ্যে শুধু মঙ্গল এবং শনিবার রাত ১০টা থেকে ৪টা মধ্যে হয়। একাই একটা পিস্তল পকেটে নিয়ে সঞ্জয় সারারাত এই এলাকার রাস্তায় রাস্তায় টহল দিতে থাকে সুত্রের আশায়। এর মধ্যেই আরো দুটো খুন হয় যাদেরকে সঞ্জয় খুনের কিছুসময় আগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ধীরে ধীরে সঞ্জয় বুঝতে পারে যে খুনী তার তদন্তের ব্যাপারে জানে এবং সে সঞ্জয়কে সবসময়ই অনুসরন করছে।

খুনী-গোয়েন্দার এই পরষ্পর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যেই অষ্টম খুন হয়। এবারই প্রথমবারের মত খুন করা হয় পাথর দিয়ে নয়, বরং বুকে চাকু বসিয়ে। সঞ্জয় সেখানে পৌঁছে দেখে ভিকটিম তখনও জীবিত। যে মুহুর্তে সে চাকুটা শরীর থেকে বের করেছে, সেখানে পুলিশ চলে আসে এবং চাকুসহ তাকে ভিকটিমের কাছে পেয়ে তাকেই খুনী ভেবে বসে। আসল খুনী আবারও পালিয়ে যায়।

এরপর একটা বড় টুইস্ট আছে, তাই বাকিটা আর বলছি না। তবে Expect the unexpected।

ছবিটা সাধারন হিন্দি ছবি থেকে যথেষ্টই আলাদা। এমনকি এর দৈর্ঘ্যও অনেক কম, মাত্র ১ ঘন্টা ৩৫ মিনিট। কোন রোমান্টিক কাহিনী, গান, অতিনাটকিয়তা বা সাবপ্লট নেই। তবে বারের ভিতর একটা খোলামেলা গান আছে, এই অংশটা বিরক্ত লেগেছে কারন এর সাথে মূল কাহিনীকে ভালভাবে জোড়া লাগানো যায়নি বলে আরোপিত মনে হয়েছে। এছাড়া বাস্তব কাহিনীর সাথে মিলানোর জন্য বানানো শেষ পাঁচ মিনিটের ঘটনাক্রম খাপছাড়া মনে হয়েছে। এই সামান্য ত্রুটি বাদ দিলে ছবির পরিচালনা চমৎকার। চিত্রনাট্য ছিল টানটান। আবহ সঙ্গীত এবং সিনেমাটোগ্রাফী ঠিক যতটুকু হলে দশে দশ হত, ঠিক ততটুকু। পুরো ছবিটাই সঞ্জয় চরিত্রের কেকে মেননের কাঁধের উপর দাঁড় করানো এবং কেকে সেটিকে যথার্থভাবেই বহন করেছেন। পার্শ্ব চরিত্রে রুখসার, আরবাজ খান, বিক্রম গোখালে, বীরেন্দ্র সাক্সেনা ভাল কাজ করেছেন, যদিও কারোরই খুব বেশি সুযোগ ছিল না। সিরিয়াল কিলারের ছবি হলেও এতে রক্তপাত, ভয়াবহতা খুব একটা নেই। তাই একদম বাচ্চা ছাড়া মোটামুটি সবাই এটি দেখতে পারবে।

এটা তো গেল ছবির কাহিনী। এবার আসি বাস্তবে কি ঘটেছিল।

বাস্তব কাহিনী শুরু ১৯৮৫ সালে বম্বে শহরে। হঠাৎ গৃহহীন ভিখারিদের লাশ পাওয়া যেতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে। খুনগুলি ৩০ কেজি ওজনের ভারি পাথর দিয়ে করা। ভিকটিমদের বেশিরভাগের কোন আত্মীয়স্বজন নেই বলে তাদের পরিচয়ও উদ্ধার করা যায়নি আর লো প্রোফাইল কেস হবার কারনে পুলিশ প্রথমদিকে খুব একটা গা করেনি। একে একে ১২টা একই ধরনের খুন হয়। একজন ভিকটিম অবশ্য প্রানে বেঁচে যান, কিন্তু অন্ধকারের খুনীর চেহারা দেখার সুযোগ না পাওয়ায় তদন্তে কোন অগ্রগতি হয়নি। হঠাৎ যেভাবে শুরু হয়েছিল, সেভাবেই হঠাৎ করে ৮৮ সালের দিকে বম্বেতে বন্ধও হয়ে যায়। কোন চাক্ষুস সাক্ষী এবং প্রমানের অভাবে তদন্ত বেশি দূর এগোতে পারেনি, কোন সম্ভাব্য খুনীও চিহ্নিত করা যায়নি।

৮৯ সালের দিকে এটি আবার শুরু হয় কোলকাতায়, একই ধরনের ভিকটিম এবং একই পদ্ধতিতে খুন। এবার ৬ মাসের মধ্যে মোট ১৩টি খুন হয় কিন্তু কোন খুনের সাক্ষী বা প্রমান পাওয়া যায়নি। বম্বে এবং কোলকাতার খুনী এক অথবা ভিন্ন কিনা সেটাও প্রমানিত হয়নি। অনেক পরে ২০০৮ সালের দিকে গোয়াহাটি এবং আসামেও অনুরুপ ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।

৮৫ এর বম্বে থেকে শুরু করে ২০০৮ এর আসাম পর্যন্ত কোন খুনের মামলাই আজ পর্যন্ত সমাধান করা যায়নি।

* * * * * * *

এখানে অনেকগুলি ডাউনলোড এবং অনলাইনে দেখার লিঙ্ক আছে। আমি কোন লিঙ্কের নিশ্চয়তা দিতে পারি না। কেউ ডাউনলোড করলে নিজ দায়িত্বে করবেন। আমার কাছে ১.৫ গিগাবাইটের একটা ফাইলে ছবিটা আছে। কেউ আমার কপিটা চাইলে জানাতে পারেন আপনার প্রিয় হোস্টিং সাইটের নাম সহ, আমি সেখানে আপলোড করে দিব।

এছাড়া ব্লগার শাহাদত রুয়েট একটি লিঙ্ক দিয়েছেন যেখানে ৬০০ মেগাবাইটের ডিভিডি রিপ কপি চারটা মিডিয়াফায়ার লিঙ্কে আছে।

------------------------------------------------------------------------------

*ফেসবুকে শুভানুধ্যায়ীদের কাছে শুনলাম লোকে নাকি বলাবলি করছে যে আমি বেশি মন্তব্য পাওয়ার জন্য এবং বিখ্যাত হওয়ার জন্য হাই প্রোফাইল ব্লগারদের উৎসর্গ করে পোস্ট লিখি! ব্লগে আমি সত্যিই বিখ্যাত হতে চাইলে রাজনীতি বা আস্তিক-নাস্তিক নিয়ে পোস্ট দিতাম অথবা একে-তাকে খোঁচাখুঁচি করতাম। যাই হোক, এইসব গুজবের ঝামেলা আনতে চাই না, তাই পোস্ট উৎসর্গ বাদ দেয়া হল। এই পোস্টটা আমি মনে মনে ব্লগে আমার প্রিয় একজন চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক-সমালোচককে উৎসর্গ করলাম যার নাম উহ্য থাকল। আমি তার লেখা খুব পছন্দ করি, ব্যক্তিগতভাবেও স্নেহ করি।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:২৭
৫৭টি মন্তব্য ৫৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×