somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

কোনদিন আচমকা একদিন

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন আগে এক মেঘলা দুপুরে আমি বাংলা একাডেমী'র রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।লাইব্রেরীতে দু'টা বই জমা দিতে হবে।টিএসসি'তে ছাএদের কি একটা অনুষ্ঠান হচ্ছিল আর ঠিক তখন রোকেয়া হলের সামনে দিয়ে একটা মিছিল আসছিল।হঠাৎ মিছিলের উপর পুলিশ লাঠি চার্জ শুরু করে।আমি তখন অপরাজেয় বাংলা'র সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের মার'মুখি ভুমিকা দেখছি।একজন পুলিশ হঠাৎ আমার দিকে তেড়ে এলো এবং পায়ে খটাং করে দিল এক লাঠি'র বাড়ি।আমি ব্যাথায় চিৎকার করে মাটিতে পড়ে গেলাম আর অন্য পা দিয়ে পুলিশটাকে কষিয়ে একটা লাথি দিয়ে দিলাম।আমার অনেক রাগ হচ্ছিল,তাই সাহসটা করে ফেললাম।রাগি পুলিশটা এবার পিস্তলে হাত দিল,হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো-কিন্তু সেই সময় মিছিলের কিছু লোক ছিটকে এলো এদিকে।তাদের বেপরোয়া হতচকিত ধাক্কায় রাগি পুলিশটা সরে গেল।আমি উঠে দাঁড়ালাম।হাঁটুতে সাংঘতিক ব্যাথা,চোখ ভিজে আসছে।ঠিক সেই সময়ে দু'টো গুলির আওয়াজ।আর্ত চিৎকার।টিয়ার সেল।ভয়ে মানুষের ছোটাছুটি।
সেই মেঘলা দুপুরে পুলিশ ঠিক তিন রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল।তাতে চলন্ত বাসে বসে থাকা একটি লোক মারা যায়।আমি আমার ভেজা চোখেও দেখতে পেয়েছিলাম।অন্য সবাই দেখেছে একটু দেরীতে।আমি আমার জখম পা নিয়েই কাছ-ঘেষা বাসটায় উঠে পড়ি।তখন হুড়োহূড়ি করে যাএীরা সব নেমে যাচ্ছে।আর গুলি লাগা লোট মরে পড়ে আছে।রক্তে ভেসে যাচ্ছিল বাসের সীট,মেঝে।কোনো সাংবাদিক হয়তো চকাচক দু'তিনটা ছবি তুলে নিচ্ছিল।আর ঠিক তখন আমি দেখতে পাই-লেডীজ সীটে খুব সুন্দর নীল শড়ি পরে একটা মেয়ে বসে আছে।মেয়েটা খুব ভয় পেয়েছে।এতো ভয় পেয়েছে যে পালাতে পারেনি।গোঙ্গাছে,পানি!পানি করছে।আমি বললাম-আরে...,পালান পালান!নামুন তাড়াতাড়ি!বলে আমি গিয়ে মেয়েটির হাত ধরে টেনে নামিয়ে নিয়ে আসি বাস থেকে।বাইরে টিয়ার গ্যাসের ধোয়া,লোকজন যে যেদিকে পারছে পালাচ্ছে,পুলিশ তেড়ে যাচ্ছে যাকে পাচ্ছে সামনে তার দিকে।ঠাস ঠাস করে লাঠি পড়ছে।
আমাকে মারার জন্য কমপক্ষে সাত জন পুলিশ লাঠি তুলেছিল।সাথে মেয়েটি ছিল বলে বেঁচে গেলাম আমি।পুলিশ সাথে মেয়ে দেখে আমায় মারেনি।
তীব্র টিয়ার গ্যাসে প্রায় অন্ধ চোখে ছুটতে ছুটতে আমরা আজিজ মার্কেটের সামনে চলে গিয়েছিলাম।
কোথায় থাকেন আপনি?
মেয়েটি কোন জবাব দিতে পারেনি।শুধু কাপছিল ভয়ে,অবিশ্বাসে।
নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে বসতে দেই আমি।জিরোতে দিলাম।দু'জনেরই চোখ লাল হয়ে গেছে।দু'জনেই হাফাচ্ছি।
অনেকক্ষন বাদে মেয়েটি তার ঠিকানা বলতে পারলো।
আমি বললাম একা যেতে পারবেন?
না।ভিষন ভয় করছে-মেয়েটি বললো।
কিন্তু আমাকে যে এখন লাইব্রেরীতে যেতে হবে।এই বই দু'টো ফেরত দিতে হবে।খুব জরুরী।
মেয়েটা কাঁদছিল।কিছু বললো না।
ঠিক সেই সময়ে আকাশ ফুঁড়ে বৃষ্টি নেমেছিল।খুব বৃষ্টি।সাংঘাতিক বৃষ্টি।
আরে ...,উঠুন!ভিজবেন যে!মার্কেটের কোনো দোকানে ডুকে পড়তে হবে।
মেয়েটি উঠেনি,ছোটেনি,বসে রইলো মুখ নীচু করে।আমার হাতের বই দু'টো ভিজছিল।
আমি চলে যেতে পারতাম।যাইনি শেষ পর্যন্ত।মেয়েটির সাথে আমিও ভিজেছিলাম বই দু'টো হাতে নিয়ে।
মজার ব্যাপার হলো সেই বিকেলে বৃষ্টি আর থামেনি।প্রচন্ড বৃষ্টিতে আন্দোলন থেমে গেল,পুলিশের হামলা বন্ধ হলো জনসাধারন পালালো নিরাপদ আশ্রয়ে।আর আমি বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই নীল শাড় পরা মেয়েটিকে বাড়ি অবধি পৌছে দিলাম।কিছু পথ হেঁটে কিছু পথ রিকশায়।

সাতদিন পর আমার পায়ের ব্যাথা ভালো হয়েছিল আর দশ দিনের মাথায় আমি মেয়েটির একটি ফোন পাই।ফোনের কথা গুলো ছিল এই রকম-"আমি সেই মেয়েটি,যে সেদিন চোখের সামনে লোকটাকে মরে যেতে দেখে পাথর হয়ে গিয়ে ছিলাম।মনে হয় আমার হার্ট ফেল হয়ে যেত,আপনি আমাকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে না আনলে।আমার বোধ হয় জ্ঞানও ছিল না।কি রকম যেন হয়ে গিয়েছিলাম!বৃষ্টিতে ভিজে আমার জ্বর হয়ে গিয়েছিল,জানেন?(আমি শুনেই যাচ্ছি,কিছু বলার সুযোগ পাচ্ছি না।)তবু ওই বৃষ্টিটা বোধ হয় দরকার ছিল।ভিজে ভিজে মাথা ঠান্ডা হয়ে ছিল,শরীরে শক্তি ফিরে এসে ছিল।আপনার সাথে আর একবার দেখা হতে পারে কি?আমার যে মুখোমুখি একবার ধন্যবাদ আর কৃ্তজ্ঞতা জানানো দরকার আপনাকে।আর কি অভদ্র আমি! সেদিনতো এক কাপ চাও অফার করা হয়নি আপনাকে!
আমি ফোনটা কেটে দিয়ে মা'কে বলি- মা,চা দাও,বাইরে যাবো।
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুকুলে নয় শেখ হাসিনা (আপা) প্রতিকুল পরিস্থিতিতেই বেশি অকুতোভয়।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৪




একদিকে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন তিনি দেশে ফিরছেন, আরেকদিকে তিনি প্রায় নিশ্চিন্ন করে দেয়া আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ফেলেছেন! এবং সেই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক, ভয়ঙ্কর এবং অবৈধ রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×