"সকালে উঠে
কাকেরা বলে কা,কা,কা,
আর ছেলে-পেলে বলে চা,চা,চা,
কোকিল বলে কুহু,কুহু,কুহু
আমি বলি আল্লাহু,আল্লাহু।"
একজন মানুষের মুখের হাসি আর চা এই দুটো জিনিস যদি সুন্দর হয় তাহলে আর কিছু লাগে না-সেদিন এই কথা হিমি কে বললাম।আমার কথা শুনে হিমি হাসতে হাসতে আমাকে মৃ্দু ধমক দিয়ে বলল বেশী কৌতুহল ভালো না।বনের হরিন যখন বেশী কৌতুহল দেখায় অমনি সে ফাঁদে ধরা পরে।এমনকি বাঘ ও যখন বাধা ছাগল দেখে কৌতুহল সামলাতে পারে না,অমনি গুলি খেয়ে মরে।আমি হিমিকে থামিয়ে দিয়ে বললাম- আর মানূষ বেশী কৌতুহল দেখায় বলেই এত বড় বড় জিনিস আবিস্কার করে!
কী সুন্দর সকাল!আকাশটা ও কী সুন্দর এর মধ্যে আমি যদি হঠাৎ করে মরে যাই?এখনো কত কাজ বাকি আছে।মরেও শান্তি পাবো না।হিমিকে নিয়ে এখনও নীলগিরি পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া হয়নি।হিমি নরম সুন্দর চোখের দিকে তাকিয়ে বলিনি-"আমাকে খুঁজবে প্রভাতের প্রথম সূর্য কিরনে,/যদি না পাও,খুঁজবে সন্ধ্যায়,যখন সূর্য ডুবি ডুবি করেও ডুবছে না।/সাবধান!মধ্যাহ্নে আমাকে কখনো অনুসন্ধান করবে না।"
অনেক কিছুর জন্য,এখনো আমি অপেক্ষা করে আছি।বেশীর ভাগ মানুষ অপেক্ষা পছন্দ করে না।তারপরেও আমি অপেক্ষা করে আছি।আসলে অপেক্ষা করতে হয়।ভালোবাসা'র জন্য অপেক্ষা করতে হয়,ঘৃনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়,মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়,আবার মুক্তির জন্যও অপেক্ষা করতে হয়।আমি অপেক্ষায় আছি।অপেক্ষাই মানব জাতির নিয়তি।অপেক্ষা করতে আমার ভালোই লাগে।
জীবন অতীব ক্ষনস্থায়ী।কে কবে কীভাবে মারা যাবে তার ঠিক নেই।এই ক্ষনস্থায়ী আয়ুস্কালের মধ্যে যদি সামান্য কয়েকটি মুহূর্তও যদিও পাওয়া যায়,তাই বা কম কী?মানুষের জীবনে কয়েকটাই মাএ গোল্ডেন মোমেন্ট আসে,আর বাদ বাকি জীবনটা কাটে সৃস্তি রোমন্থন করে।সুন্দর একটা কবিতা মনে পড়লো- " হে বৃষ্টি,মেঘ না থাকলে/তোমার অস্তিত্ব নেই যেমন,/আমার দুঃখ গুলোরও কোনো মূল্য নেই আমি না থাকলে।"
সেদিন সন্ধ্যায় ফুলার রোডের ফুটপাতে বসে হিমিকে বললাম-তুমি কি জানো,চাঁদের বুকে মাঝে মাঝে কিসের কালো দাগ?হিমি তার আশ্চর্য সুন্দর এবং আশ্চর্য নরম গলায় বললো,পরাজিত এবং হেরে যাওয়া মানুষের কষ্টের দাগ!পৃথিবীতে এখনো মানুষ কাঁদে,যখন হেসে উঠো তুমি।পৃথিবীতে এখনো মানুষ ক্ষুধায় কাতর,কারো বেঁচে থাকা কি বিষাক্ত হয়ে উঠল তোমার একটু অবহেলায়?হিমির চোখ ভিজে উঠেছে।
আমি জানি আমার অনেক ব্যর্থতা আছে।তারপরও মনে হয় হিমি আমার পাশে থাকলে এক ফুয়ে উড়িয়ে দিতে পারি হাজার টা ব্যর্থতা।আমি কেন জানি,অনেক কিছু একটু আগে আগে টের পেয়ে যাই।টের পাই,আমার প্রিয় মানুষের সাথে আমার সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে।টের পাই জীবনে আমি উন্নতি করতে পারবো না।কিন্তু তাতে কারো কোনো ক্ষতি হবে না।শুধু আমার নিজের ছাড়া-টের পাই।আমি ছোট বেলা থেকেই দেখেছি কারো সাথেই আমার মিলে না,তাই আমি নিজের মতোই একলা একলা ঘুরে বেড়াই।
আমার মন খারাপ হলেই হিমির সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে।তাই সেদিন গভীর রাতে হিমি কে ফোন দিলাম।শুরু করলাম আজাইরা প্যাচাল,হিমি শুধু একটু পর পর হু হা করে যাচ্ছে।হিমি, পৃথিবীর আধুনিক লেখা পড়তে হলে অন্তত দশ জনের লেখা আগে পড়তে হবে।কবিতায়- ইয়েটস,ফার্নান্দো পাসোয়া,সি.ভি কাভাপি,হোর্হে লুই বোহের্স,আর গল্প, উপন্যাসে- মার্সেল প্রুস্ত,টমাস মান,ফানৎস কাফকা,জেমস জয়েস,ভার্জিনিয়া উলফ আর উইলিয়াম ফকনার।তারপর আরো আছেন- শোপেনহাওয়ার,নিৎসে,জরথ্রুস্তের,ফেরদৌসী,হোমার,ভার্জিল,ওভিদ,দান্তে,শেক্সপিয়ার,গ্যেটে,টলস্টয়,রবীন্দ্রনাথ-,এদের বই শেষ করে,তারপর তোমার ইচ্ছা মতন,তুমি যা খুশি পড়ো।কিন্তু আগে ক্লাসিক পড়া থাকলে বাকি সব জলের মতো বুঝে যাবে।এ সময়ের যে কোনো সাধারন মানের লেখকের লেখা কোনো বইয়ের এ জায়গা ও জায়গার দুটো সংলাপ পড়ে বা তিন চার লাইন পড়লেই বুঝতে পারবে গতি কোন দিকে।
আমার কথার শেষে হিমি বলেছিল-না,আমি পারব না।আগে নিজেদের জানব,তারপর অন্যদের,বিদেশীরা আগে নিজেদের জেনেছে তারপর অন্যদের।তারপর আমাকে একটা ইংরেজী গান শুনিয়ে দিলো।গান টা খুব সুন্দর!সুরটাও দারুন!
" আই ওন্ট ইউজ ওয়ার্ডস এগেইন
দে ডোন্ট মীন হোয়াট আই মেন্ট
দে ডোন্ট সে হোয়াট আই সেইড
দে আর জাষ্ট দ্যা ক্রাস্ট অফ দ্যা মীনিং
উইথ রেল্মস আন্ডারনিথ
নেভার টাচড
নেভার টাচড
নেভার ইভিন মুভড দো
ইফ ল্যাঙ্গু্য়েজ ওয়্যার লিকুইড
অ্যান্ড ইটস্ গান
গান
অ্যান্ড গান, ইটস্ গান।"
(যোজন যোজন অন্যায় করেও মানুষ- হাসতে পারে,হাসে,গান গায়,ঘুমাতে পারে ঘুমোয়,ভালোবাসে,কাঁদে কাঁদায়।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


