রবীন্দ্রনাথের কোন বিকল্প নাই -১
আমি সব সময় কোন কিছু লেখার আগে হিমিকে ফোন দেই।হিমির সাথে কথা বললেই আমার শক্তি অনেক বেড়ে যায়।তখন মনে হয় আমি অনেক কিছুই করে ফেলতে পারব।চোখ বন্ধ করে আমি হিমির সাথে কথা বলি- হ্যালো,হিমি আজ রাতের খাবার কি?হিমি হঠাৎ রেগে গিয়ে বলল,বিষ আছে বিষ!আমি বললাম ঠিক আছে,তুমি খেয়ে শুয়ে পড়ো।আমার ফিরতে আরো দেরী হবে বলে আমি ফোন কেটে দেই।কিছুক্ষন পর হিমি আমাকে ফোন করে বলল- আজকের খবরের কাগজে তোমার রাশিফল কি লিখেছে শোনো,তুলা(Libra) অনেকে বলতে পারে- আপনার পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।কিন্তু না।শাস্ত্রীয় হিসাব বলছে- আপনার পরিকল্পনা ৯৯ ভাগ সফল হবে।আপনার সমালোচকেরাই বরং 'ভেস্তে' যায় কি না,সেটাই দেখার বিষয়।আমি বললাম, আচ্ছা আচ্ছা এখন রাখি।হিমি বলল দাঁড়াও এই ধাঁধাঁ টার উওর দিয়ে ফোন রাখো।'যে বিক্রি করে সে জিনিসটি চায় না।যে কেনে সে জিনিসটি ব্যবহার করে না।আর যে ব্যবহার করে সে জিনিসটি দেখতেই পায় না।কি সে জিনিস?' আমি হিমিকে বললাম আমি তোমার ধাঁধাঁটির উওর জানি,কিন্তু তোমাকে বলব না।এইটুকু বলেই আমি মোবাইল অফ করে রাখি।
"হায় রে সত্য কঠিন ভারী
ইচ্ছেমতোন গড়তে নারি
স্বপ্ন সেও চলে আপনমতে
আমি চলি আমার শূণ্যপথে..."
এখন হিমির সাথে কথা বলার সময় না।আমার মাথায় ঘুরছে রবীন্দ্রনাথ।গুরুকে নিয়ে লেখাটা শেষ করতে হবে।কিন্তু হিমির ধাঁধাঁটি আমাকে মনে করিয়ে দিল,গতকাল রাতে রবীন্দ্রনাথ স্বপ্নে আমাকে একটি ধাঁধাঁ'র উওর জানতে চেয়েছিলেন।ধাঁধাঁটি ছিল এই রকম- 'এক ভাই ডালে,আর এক ভাই খালে,দুই ভাই-এ দেখা হয় মরনের কালে।'এই ধাঁধাঁটির উওর আমার জানা নেই।হিমির কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।যাই হোক, ফালতু কথা বাদ দিয়ে মুল লেখায় যাই।
একসময় কোনো কোনো মহল থেকে বলা হতো,যে ইংরেজী গীতাঞ্জলীর জন্য রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন,তার আসল কৃতিত্ব এন্ড্রুজের।এন্ড্রুজের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রথম দেখা লন্ডনে,ইংরেজ চিত্রকর রোটেনস্টাইনের বাড়িতেএ।এন্ড্রুজ পাদ্রি হয়ে ভারতে এসেছিলেন,পরে দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষিক হিসেবে।কিন্তু তার কিছুদিন পরেই এন্ড্রুজ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রান পুরুষ।শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথের সত্তর বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করতে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন, 'তোমার প্রতি চাহিয়ে আমাদের বিস্ময়ের সীমা নাই'।
আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যে হাতেখড়ি;মাত্র ১২ বছর বয়সে প্রথম কাব্যগ্রন্থ পৃথ্বিরাজ পরাজয়(অপ্রকাশিত)রচনা;১৩ বছর থেকে লেখালেখির প্রকাশ;১৫ বছরে প্রথম গ্রন্থের(কবি কাহিনী)জনক।উল্লেখ্য,৮০ বছরের জীবনে রবীন্দ্রনাথ কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন ৫৬টি,ছোট গল্প লিখেছেন ১১৯টি,উপন্যাস ১২টি,ভ্রমন কাহিনী ৯টি,শিশুসাহিত্য ৮টি,গান হাজার তিনেকের বেশি(যেগুলোর অধিকাংশতে নিজেই সুর দিয়েছিলেন)।এছাড়া নাটক,নৃত্যনাট্য,প্রবন্ধসহ বিভিন্ন জনের কাছে লেখা অসংখ্য চিঠি তো রয়েছেই।সব্যসাচী এই শিল্পী জীবনের শেষ পর্যায়ে চিত্রকলার প্রতি ঝুঁকেছিলেন;আড়াই হাজারের মতো ছবি এঁকেছিলেন এবং তাঁর আঁকা সেইসব ছবি 'আগামী যুগের আর্ট' হিসেবে স্বীকৃত।
রবীন্দ্রনাথ যৌবনে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া,পাবনা ও রাজশাহীতে অসামান্য দক্ষতায় জমিদারি চালিয়েছিলেন।গীতাঞ্জালি কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার(১৯১৩)-এর প্রাপ্ত অর্থের একাংশ দিয়ে গরিব প্রজাদের জন্য ঋনের ব্যবস্থা করেছিলেন।বাকি অর্থ দিয়ে ১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বসংস্কৃতির মিলন কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বভারতীয় আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
রবীন্দ্রনাথকে আমরা নানা ভাবে দেখি,কবি,ঔপন্যাসিক,নাট্যকর,চিত্রকর,বিশ্বপথিক,ভারত পথিক,দার্শনিক।আমরা জানি যে,রবীন্দ্রনাথের হাতে বাংলা ছোট গল্পের শুরু।বাংলা উপন্যাসের রুপটাও প্রথম বদলে দিলেন তিনি।রবীন্দ্রনাথ শুরু করেছিলেন ইতিহাসমূলক উপন্যাস দিয়ে।পরে তিনি মনে করলেন,উপন্যাস লেখার জন্য আমাদের ইতিহাসের দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন নেই।রবীন্দ্রনাথ যেভাবে সমাজ,শিক্ষা,রাজনীতি এবং পল্লী পুর্নগঠন নিয়ে কথা বলেছেন-এর মধ্যে তাঁকে বোঝা তাঁর সমগ্র চিন্তাধারাকে গ্রহন করা সহজ নয়।
পল্লী পুর্নগঠনের ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তন এবং কৃষিতে নিয়োজিত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা চিন্তা করেছিলেন।তিনি সমবায়ের কথা ভেবেছেন,কৃষি ব্যাংক খুলেছেন,গ্রামে বিদ্যালয় খুলেছেন।আর এ সব কিছুর মধ্যে দিয়ে তিনি আমাদের চিন্তাভাবনার সীমা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন।
(চলবে)
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।