শুনেছি আমারে ভালোই লাগে না, নাই বা লাগিলো তোর
কঠিন বাঁধনে চরণ বেড়িয়া
চিরকাল তোরে রব আঁকড়িয়া
...লোহার শিকল ডোর.....
এ পাষাণপ্রাণ চিরশৃঙ্খল চরণ জড়ায়ে ধরে__
একবার তোরে দেখেছি যখন কেমনে এড়াবি মোরে ?
শেষ বয়সে রবীন্দ্রনাথ যে সমস্ত গান করেছেন সেগুলো সবই ছিল বন্ধন্মুক্ত।সেখানে তালের বন্ধন নেই,রাগের বন্ধন নেই।এই বন্ধন মুক্তিটা একদিনেই হয়নি।সমস্ত জীবন ধরে তিনি একটার পর একটা বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন।বুদ্ধদেব বসু বলতেন,তিনি যখন কোথাও যান ছিন্নপত্র সাথে নিয়ে যান।রবীন্দ্রনাথের পূর্ববঙ্গ বাস পর্যায়ের একটি প্রামান্য দলিল হিসেবে ছিন্নপত্রতে রবীন্দ্রনাথের জীবন দর্শন,প্রকৃতির চিন্তা,মানুষ নিয়ে ভাবনা,নাটক,সঙ্গীত,চিত্রকলা এবং নৃত্যভাবনা নানান পরিচিয় আমরা পাই।
'কটাক্ষে মরিয়া যায়/কটাক্ষে বাঁচিয়া উঠে/হাসিতে হৃদয় জুড়ে,হাসিতে হৃদয় টুটে...।'
যখন রবীন্দ্রনাথের ২২ বছর তখন বাড়ীর সবাই ছোট ছেলে রবীন্দ্রনাথের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু,করেন।পাত্রী নির্বাচন করা হয় যশোরে তাদের জমিদারি সেরেস্তার এক কর্মচারীর মেয়েকে।(এর আগে আরো বেশ কিছু মেয়ে দেখা হয়েছে।)নাম মৃণালিনী।ঠাকুর বাড়ি থেকেই এই নামটি দেওয়া হয়।তার কিছুদিন পরেই আত্মহত্যা করেন কাদম্বরী দেবী।এই অকাল মৃত্যু রবীন্দ্রনাথকে প্রথমবারের টলিয়ে দেয়।বাকি জীবনে তিনি আর এই মৃতশোক ভুলতে পারেননি।বয়ে বেড়িয়েছেন কবিতায়,গানে,বিভিন্ন লেখায়।গভীর রাতে একাকী ছাদে উঠে রবীন্দ্রনাথ গাইতেন- "বসন্তের বাতাসটুকুর মতো"।
বিয়ের পর রবীন্দ্রনাথ,মৃণালিনীকে ভর্তি করে দেন লোরেটা হাউজে সেখানে মৃণালিনীকে শুধু ইংরেজী শিক্ষাই নয়,পিয়ানো বাজানো ও পাশ্চত্য সঙ্গীত শেখানোর ব্যস্থা করা হয়।
বঙ্কিমের প্রকাশিত উপন্যাস 'আনন্দমঠ' রবীন্দ্রনাথের ভালো লাগেনি।রবীন্দ্রনাথ বলেন- উপদেশের ঠেলায় চরিত্র গুলো রক্ত-মাংস পায়নি।চরিত্র গুলি যেন একটি সংখ্যা আর শান্তিকে নিয়ে বড় বেশি বাড়াবাড়ি করা হয়েছে।বঙ্কিমের প্রথম নবেল 'দূর্গেশ নন্দিনী' সেই তুলনায় রবীন্দ্রনাথের 'বউঠাকুরানীরহাট' কী?কিছুই না।
দেশ,সমাজ,জীবন,ধর্ম,সাহিত্য এইসব নিয়ে এখন আমি খুব ভাবি।আচ্ছা,সারা বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান এখন কোথায়?তা নিয়ে মাথা ঘামাই।আমি খুব অনুভব করতে পারি-বর্তমানে এ দেশের মানুষের মানসিকতার অনেক বড় একটা পরিবর্তন হয়েছে।এবং এতে আমারও একটা বড় ভূমিকা আছে।মাঝ রাতে হঠাৎ যখন ঘুম ভেঙ্গে যায়,তখন হিমির কথা ভাবলেই বুকের ভেতর টনটন করে।
রবীন্দ্রনাথের এমন কোনো নাটক নেই যা সাধারন মানুষের কথা বলে না।প্রথমদিকে পশ্চিমা গোষ্ঠী রক্তকরবী নাটকটিকে অবোধ্য বলেছিল।যা সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন- 'যাই বলো আর নাই বলো আমরা হচ্ছি ইনআর্টিকুলেট ইস্ট।আর আমার নন্দিনী হচ্ছে এই ইনআর্টিকুলেট ইস্টের প্রতীক।
রবীন্দ্রনাথ তার মুক্তধারা নাটকে সাধারন মানুষের কথা অবলীলায় বলে গেছেন-যেমন,- সেখানে রাজা যখন ধনঞ্জয় বৈরাগীকে বলেছেন,তুমি আমাকে খাজনা দেবে না শুনলাম?সে বলছে, না আমি দেব না।রাজা বলছেন,কেন দেবে না? সে বলল,আমি দেব না এই কারনে যে,আমার উদ্বৃও অন্ন নেই।ক্ষুধার অন্য আছে।যদি উদ্বৃও অন্য থাকত তাহলে আমি তোমায় দিতাম।এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে- রবীন্দ্রনাথের মতো প্রতাপশালী জমিদারের মুখ বা কলম থেকে এরকম কথা বেরিয়ে আসা একটি বিশাল ব্যাপার।
১৯০২ সালে মৃণালিনী দেবী মারা যান।তার বয়স তখন ২৯ বছর।আর রবীন্দ্রনাথের তখন ৪১ বছর।১৭ বছর তাদের দাম্পত্য জীবন।রবীন্দ্রনাথ তারপর আর বিয়ে করেননি।মৃত্যুর সময় মৃণালিনী দেবী তার পাঁচ সন্তানকে রবীন্দ্রনাথের জিম্মায় রেখে যান।মৃণালিনী দেবী যখন মারা যান তখন বড় মেয়ে মাধুরীলতার বয়স ১৫,বড় ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪,রেণুকার ১২,ছো মেয়ে মীরার ১০,আর ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথের বয়স ৭ বছর।মৃণালিনী দেবীর মৃত্যুর প্রায় বছর খানেক আগে বিয়ে হয় মাধুরীলতা আর রেনুকার।
"চোখের উপরে মেঘ ভেসে যায়,
উড়ে উড়ে যায় পাখি
সারাদিন ধরে বকুলের ফুল
ঝড়ে পড়ে থাকি থাকি...."
(চলবে....)
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।