somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

অন্তরালে

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১২:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"তাহার স্পর্শে তাহার গন্ধে তাহার কন্ঠস্বরে
আমার স্পর্শ আমার গন্ধ আমার কন্ঠ মিশে
তাহার সময় হয় না তো শেষ, তাহার সময় জুড়ে
আমি শুধু আমিই থাকি, শুরু এবং শেষে...."

সময় সন্ধ্যা ৭ টা।খুব অস্থির লাগার কারনে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে যাই।ঘরে ঢুকে দেখি,হিমি আমার ঘরে ঘুমিয়ে আছে।গভীর ঘুম। স্বপ্ন দেখছি নাতো?আমি অনেকটা দূরত্ব রেখে হিমির পাশে গিয়ে বসি।মায়াময় একটি মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেও অনেক ভালো লাগে।মুখের উপর চুল এসে পড়েছে হিমির।আমি আঙুল দিয়ে সরিয়ে দিলাম চুল গুলো।সেই সামান্য স্পর্শেই চোখ মেলে তাকালো হিমি।চমকে উঠলো না,উৎসুক হয়ে তাকিয়ে রইল আমার দিকে।আমি হিমির ঠোঁটে আঙুল বুলিয়ে দিলাম।তারপর হিমির নাক ও চোখের পাশে আঙুল দিয়ে আঁকতে লাগলাম ছবি।হিমি আমার আঙুলটা এক সময় চেপে ধরতেই আমি হিমিকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করতে শুরু করলাম।

রাত ৯ টায় হিমির সাথে আমার দেখা হয় বাংলা মটর।আজ কৃষ্ণপক্ষ।কোনও কারনে আজ রাস্তার সব নিয়ন বাতি জ্বলছে না।সমস্ত নগরী অন্ধকার বলে মনে হচ্ছে। তারপর একসাথে রিকশায় উঠলাম।আমার বাম হাতে জলন্ত সিগারেট।ডান হাত হিমির ডান হাত ছুঁয়ে আমি বিড় বিড় করে বললাম,
"You did wish, that I would make her turn:
Sir,she can turn ,and turn, and yet go on,
And turn again and she can weep,sir weep..."
হিমি বলল, চুপ করে আছো কেন?আমি বললাম,বেশি কথা বললে রোগ হয়।সেই রোগের নাম 'ক্লার্মিম্যানস সোর থ্রোট'।হিমি হেসে ফেলল।বড় ভালো লাগে এই বোকা মেয়েটির হাসি।আমি অনেক গবেষনা করে দেখেছি- বাংলাদেশের নারী জাতির মধ্যে যে কত মহৎ ,অসাধারন হৃদয় রয়েছে,তা অনেকেই জানে না!
আমি হিমির দিকে না তাকিয়েও খুব বুঝতে পারছি,হিমি আমার দিকে তাকিয়ে আছে।আমি আকাশের দিকে তাকাই।চাঁদ নেই,দু-একটি নক্ষত্র দেখা যাচ্ছে।
হিমি বলল আকাশে কি দেখ?আমার দিকে তাকাও।হিমি জানে না,আকাশের দিকে তাকালেও আমি হিমিকেই দেখতে পাই।আকাশের একটি জ্বল জ্বল করা তারার নাম 'হিমি'।
হিমি বলল কথা বলো,রাজিব নূর চুপ করে থাকবে না।কথা বলো।তুমি চুপ করে থাকলে আমার ভালো লাগে না।হিমির মুখে এক আকাশ অস্থিরতা।আমি বললাম- আমি আমার মায়ের মুখ পেয়েছি,বুঝলে?মাতৃমুখী ছেলে জীবনে অনেক উন্নতি করে।এইবার দেখ না কি করি।

রাত ১০ টায় আমি হিমিকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফিরি।হিমিকে আমার অনেক কথা বলতে ইচ্ছা করে।কিন্তু আমি বলি না।কেন আমার এত সংশয়?হিমিকে বলতে ইচ্ছা করে- নানান ঝামেলায় থাকি।তবুও যখনই একটু ভালো থাকি,তখনই হাস্যময় এবং কৌতুকপ্রবন থাকি।সব প্রিয় মানুষদের কাছে নিয়ে আনন্দে থাকতে চাই।আমি খ্যাতি চাই না,প্রতিষ্ঠা চাই না।কোন কিছুতেই আমার লোভ নেই,মোহ নেই।চমক দেখাবার কোন প্রয়াস নেই।আমি শুধু আদর-ভালোবাসা চাই।ভালোবাসার জন্য যে এত কাঙাল,তাকে কি ভালোবাসা না দিয়ে পারা যায়?হিমি ভালোবাসা পেলেই আমি অনেকদিন বেঁচে থাকব।

রাত ২ টা।গভীর রাত।আমি ব্যালকনিতে।আমার হাতে সিগারেট।এখন মধ্যরাতে আর আকাশের দিকে তাকাতে ইচ্ছা করে না।বার বার সেই দৃশ্য চোখে ভাসছে।ঘর আলোকোজ্জল।বড় একটা খাটে শুয়ে আছে হিমি।হিমির ঘুমন্ত সারা শরীরে প্রচুর অলংকার।জরির চুমকী বসানো নীল শাড়ি পরা।পায়ে নূপুর।দু'গালে লাল রঙ।একজন ফটোগ্রাফারের চোখ দিয়ে হিমির মুখ ও শুয়ে থাকার ভঙ্গি লক্ষ করলাম।এমন সাজে কেউ ঘুমোয়?ইচ্ছে করছিল গান গেয়ে হিমির ঘুম ভাঙ্গাই।ঠিক যেন রুপকথার মতন।পরে অবশ্য আমি হিমিকে বলেছিলাম- তুমি এত সাজ করে ঘুমোও কেন?হিমি ঊওরে বলেছিল,স্বপ্নের মধ্যে আমি তোমার হাত ধরে কত জায়গায় ঘুরে বেড়াতে যাই।সেই জন্য আমি সেজে থাকি।আমি হেসে বললাম-মানুষ যেদিন যে পোশাক পড়ে ঘুমোতে যায়,স্বপ্নে সেই পোশাকই দেখা যায় নাকি?কথা শেষ করে আমি হিমির মুখের দিকে তাকাই।হিমির মুখখানি চতুর নয়,সারল্য মাখানো।আমি যদি কবি হতাম তাহলে লিখতাম-

"এই অপরুপ ছায়া ঘিরিতেছে কী যে মায়া
স্বর্গ হতে ভেসে আসে কুলকুল ধ্বনি
তবুও দেখি না কিছু,তবুও শুনি না কিছু
মনে পড়ে তার মুখ
তার সেই নিবিড় চাহনি...."
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×