"তুমি কি আমার আকাশ হবে?
মেঘ হয়ে যাকে সাজাব
আমার মনের মত করে।"
নারী জাতির ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় খুব প্রবল হয়।ওরা অনেক কিছুই আগে থেকে টের পেয়ে যায়।আমি একটা মেয়েকে চিনতাম।সে আপন মনে একা একা কথা বলত।তার জন্মের আগের অতীত,দূর ভবিষৎতের কথা সব বলে দিতো।এমন ছিল তার কথা বলার ধরন,ঠিক যেন সে চোখের সামনে অনেক অদৃশ্য কিছু দেখতে পেতো।
বেশ কয়েক বছর আগে আমি বিয়ের অনুষ্ঠানে ছবি তুলতে কুমিল্লা যাই।(কার বিয়ে নাম বলব না।নাম বললে সবাই চিনে ফেলবেন।)রাত দেড়টা বেজে যায় কিন্তু বিয়ে বাড়ির হৈচৈ-এ ঘুমাতে না পেরে পুকুর পারে হাঁটতে যাই।ফকফকা জ্যোন্সা।সুন্দর বাঁধান পুকুর ঘাট।কী ঠান্ডা বাতাস।পুকুর ঘাটের পেছনে বিশাল ধানক্ষেত।অশ্বথ গাছের নীচে আমি সিগারেট ধরিয়ে পীথাগোরাসের মত চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকি।কতক্ষন সময় চলে যায় বলতে পারব না।হঠাৎ দেখি পুকুর ঘাটে পা ডুবিয়ে একটা মেয়ে বসে আছে।সাদা শাড়ি পরা।মাথার চুল খোলা।বাতাসে মেয়েটির চুল আর শাড়ির আঁচল উড়ছিল।দুই হাত ভরতি কাচের চূড়ি।আহ কি সুন্দর দৃশ্য!কিন্তু এই দৃশ্য আমি ক্যামেরা বন্দি করতে পারলাম না।তখন সাথে ক্যামেরা ছিল না।
পরের দিন বিকেলে নিজে থেকেই মেয়েটার অনেক গুলো ছবি তুলি।আমি ছবি তুলতে চাইলে মেয়েটা মানা করেনি আমাকে।এই মেয়েটার ছবি তুলে অনেক আনন্দ পেয়েছিলাম।বিয়ের অনুষ্ঠানে মেয়েটার যত ছবি তুলেছিলাম,নতুন বউ এর ছবিও এত তুলি নাই।মেয়েটাকে দেখলেই রবীন্দ্রনাথের একটি কবিতা'র কথা খুব মনে পড়ে-
"বেলা যে পড়ে এল, জলকে চল
পুরানো সেই সুরে/কে যেন ডাকে দূরে-
কোথা সে ছায়া সখী,কোথা সে জল!
কোথা সে বাঁধা ঘাট,অশথতল!
ছিলাম আনমনে/একেলা পুকুর ঘাটে,
কে যেন ডাকিল রে,জলকে চল।।"
পরের দিন বিকেলে যখন আমি ঢাকা ফিরে আসি,তখন কালর্ভাটের উপর দাঁড়িয়ে দেখি মেয়েটা ধানক্ষেতের উপর দিয়ে দৌঁড়ে আমার দিকে আসছে।মেয়েটাকে দেখে আমি থেমে যাই।মেয়েটা আমার কাছে এসে বলল- "সেই প্রথম থেকেই তোমাকে মহা পুরুষ বলে জেনেছি।তোমাকে স্পর্শ করার অধিকার আমার নেই,তাই দূর থেকে মাথা মাটিতে ঠেকিয়ে প্রনাম জানাতে চাই।" আমি দেখলাম মেয়েটার চোখ দিয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে।মেয়েটাকে আমার খুব আপন বলে মনে হলো।মুহুর্তের জন্য আমি সব ভুলে গিয়েছিলাম।
ইচ্ছে করলে আমি মেয়েটির হাত ধরতে পারতাম।দু'টো কথা বলতে পারতাম।তবু আমি তা করিনি।তাহলে মনে মনে তাকে এতবার ডাকি কেন?মনে মনে অনেক কথা হয় কেন?ইস্ অন্য কেউ জানতে পারলে কি ভাববে?
"তুমি কি আমার কবর হবে?
যেখানে শান্তির শীতল বাতাসে
বয়ে যাবে আমার চিরনিদ্রার অফুরন্ত প্রহর।"
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।