somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাস্তায় পাওয়া ডায়েরী থেকে-৭

১৯ শে জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ৮:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"সহজ কথা কইতে আমায় কহযে,সহজ কথা যায় না বলা সহজে"।'না'- এক অক্ষরের একটি শব্দ অথচ এই ছোট্র শব্দটি উচ্চারণ করতে না পারার জন্য জীবনে ঘটে যায় অনেক কিছু।'না' কম বেশি সবাই বলে।মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন যেসব মানুষের মনের জোর খুব বেশি,যাদের দূরদৃষ্টি আছে ও যাদের ষষ্ঠ ইন্দিয় তীক্ষ্ম তারাই যে কোন কথায় সহজে না বলতে পারেন।সংকোচ বা আবেগের মতো মনের নরম দিক গুলো তাদের খুব বেশি প্রভাবিত করতে পারে না।
আমি মাদকাসক্ত।প্রথমে ফেনসিডিল খেতাম।এখন হেরোইন,ইয়াবা এবং ঘুমের ঔষধের নেশা করি।আমার অনেক টাকার দরকার হয়।আমি বেকার।টাকা কোথায় পাবো?বাড়ির থেকে এটা-ওটা সরিয়ে বিক্রি করে টাকা যোগাড় করি।কেউ আমাকে দেখতে পারে না।অনেক আত্মীয় আমাকে তাদের বাড়িতে যেতে মানা করে দিয়েছেন।এমনকি মা,বাবা আমার ওপর রাগ করে আছেন।তারা আমার সাথে কোন কথাই বলেন না।ইদানিং মাদক ছেড়ে দেবার কথা খুব ভাবছি।ছোট ছোট স্বার্থের জন্য মানুষে মানুষে এত বিবাদ।সকলেই যেন জীবনটা আঁকড়ে থাকার প্রবল চেষ্টায় নিরত।শুধু নিজের জীবন,বড় জোর পরিবারের অন্যদের জীবন,তার বাইরে বাকি লোকেরা বাঁচুক বা মরুক তাতে কিছু আসে যায় না।

শুধু মাত্র হিমির কাছেই আমি বিনাদ্বিধায় মনের সব কথা বলতে পারি।হিমির সামনে আমি অনায়াসে ছেলেমানুষী করতে পারি।হিমি তুমি বোকা বলেই মনে করো,এদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আমার আছে।আর তুমি প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হলে আর কেউ তোমাকে পরিহাস করার সাহস পাবে না।আসলে,আমি আগামী তিন মাসের মধ্যে মরে যাবো।হিমিকে ছেড়ে আমি চলে যাবো অন্যভূবনে!হিমি,যদি স্বর্গ বলে কিছু থাকে,সেখানে গিয়ে আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।আমার সমাধি কোথায় হবে জানি না।আমার সমাধির কাছে যেন,মার্বেল পাথরের একটি মূর্তি থাকে তোমার আদলে।সেই মূর্তি চেয়ে থাকবে আমার দিকে।অপেক্ষায় আছি!

আকাশ এখনো মেঘলা।আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে হিমি।দক্ষিন দিকে মুখ করে।একটু একটু আলোয় ছিড়ে ছিড়ে যাচ্ছে অন্ধকার।আজ সূর্যোদয় দেখা যাবে কিনা সন্দেহ।অনেকদিন পর আপনা-আপনি হঠাৎ হিমির কন্ঠ থেকে সুর বেরিয়ে এলো।"আষাঢ় শ্রাবন মাসে নব ঘন মেঘ ডাকে/বিজুলি চমকে,লাগে ডর,চল যাবো ঘর/কদম তলায় নিশি হলো ভোর/একটা কদমের তলে/কৃষ্ণ ঘুমালো বলে/বাঁশিটি তো নিয়ে গেল চোর...."। হঠাৎ গান থামিয়ে দিয়ে দ্রুত পায়ে নীচে নেমে এলো হিমি।স্বামীর রুমে এসে খাটের পাশে দাঁড়ালো।হাত-পা ছড়িয়ে গভীর ঘুমে রয়েছে রাজিব নূর।তার মুখটি কবি হিসেবে বেশ মানায়।হিমি আগেকার মতনই তন্বী।
আস্তে আস্তে স্বামীর গায়ে কয়েকবার ঠেলা দিয়ে সে ডাকল,এই,এই,একটু উঠবে?
অত সহজে জেগে ওঠার পাত্র নয় রাজিব নূর।গতরাতে একটু বেশী মদ্যপান হয়েছে।সেই সাথে শাহী মোরগ পোলাও।বেলা দশটা-এগারোটার আগে তার ঘুম ভাঙ্গার কথা নয়।
হিমি ব্যস্তভাবে জোরে জোরে ডাকতে লাগলো।
একটু পরে রাজিব নূর চোখ না মেলে বিরক্তভাবে বলল কে?
হিমি বলল,ওগো,গাড়িটা নিয়ে এখন একটু বের হবে?
রাজিব নূর বলল,কী?
হিমি খুব নরম অনুনয়ের গলায় বলল,গাড়িটা দশ দিন ধরে বাগানে পড়ে আছে,আমার ভালো লাগছে না।একটু চালাতে বলো না!
পুরোপুরি চোখ মেললো রাজিব নূর,কথাটা বুঝতে কিছু সময় নিল।তারপর বলল,এই আগের পাগলামি শুরু হলো!এখনও সূর্য ওঠেনি,কাক ডাকেনি এখন গাড়ি চালাবে কে?ড্রাইভার আব্দুল গাজা খেয়ে ঘুমোচ্ছে!
হিমি বলল,তুমি ডাকলে আব্দুল উঠবে না?
রাজিব নূর আবার পাশ ফিরে চোখ বুঝে বলল,ঠিক আছে- তোমার ইচ্ছে হয়েছে যখন,দুপুর বেলা চালাতে বলব!
হিমি বলল,না,দুপুরে চাই না!এখন!এখনকার আকাশ মেঘলা,আজ সূর্যদয় দেখা যাবে না,খানিক দূর গেলে দেখা যাবে।
রাজিব নূর বলল,এমন উদ্ভূট্রে কথা কখনও শুনিনি!মেঘ কি এক চিলতে হয়?এখানে যে মেঘ,দশ মাইল দূরে গেলেও সেই মেঘ।এখন উঠে সবাই মিলে তৈরি হতে হতেই অনেক বেলা হয়ে যাবে।সূর্য কি বসে থাকবে তোমার জন্য!আমাকে আর একটু ঘুমাতে দাও!
হিমি ব্যাকুলভাবে বলল,গাড়িতে যদি অসুবিধে হয়,একটা টেক্সী ক্যাব নিয়ে তো যাওয়া যায়।চলো,আমার খুব ইচ্ছে করছে।
অন্য কেউ এরকম বেয়াদপি করলে সিংহগর্জনে ধমক দিত রাজিব নূর।সে শুধু কটমট করে তাকালো স্ত্রীর দিকে।এই ছোট্রখাট্রো তরুনীটির কাছে সে জব্দ।একে সে বকুনি দিতে পারে না।কারণ, সে জানে,সংসারে মন গাঁথেনি হিমির।জাগতিক কোনও বিষয়ের প্রতিই তার আসক্তি নেই।তার সাথে দুর্ব্যবহার করলে সে হঠৎ এ সংসার ছেড়ে চলে যেতে পারে।আত্মহননও বিচিত্র নয়।সেই জন্যই তার অনেক অযৌক্তিক আবদার মেনে নিতে হয়।
রাজিব নূর বলল,ঠিক আছে কাল সকালে যাব।আজ ব্যবস্থা করে রাখব।
হিমি তবু বলল,না,আজই।চলো গাড়িতে দু'জনে বেড়াতে যাই।এই ভোরের বাতাস গায়ে মাখলে তোমার ভাল লাগবে।
শেষ পর্যন্ত হিমির জেদই বজায় রইল।শয্যা ছেড়ে দ্রুত তৈরি হয়ে নিল রাজিব নূর।পাশের ঘরে টাপুরটুপুর আর মেঘনীল গভীর ঘুমে মগ্ন।(হিমির এই দু'টা বাচ্চার নাম রাখেন নীলাঞ্জনা নীলা।খুব মায়াবতি একজন মানুষ!যার হৃদয়ে আছে এক আকাশ স্বচ্ছ ভালোবাসা।)হিমি তাদের ডাকল না।ঝুঁকে মেঘনীলের কপালে আলতো একটা চুমু দিল,আর টাপুরটুপুর কে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে এলো।
ড্রাইভার আব্দুল প্রতিদিন সকালে ওঠে নামাজ পড়ে।তাকে ডেকে তোলার প্রয়োজন হলো না।আকাশে মেঘ আরও জমাট হয়েছে।এবেলা সূর্য দর্শনের আশা নেই।আলো ফুটতে পারছে না ভালো করে।আকাশ কৃষ্ণবর্ণ।তবে বাতাসের স্পর্শ সত্যি উপভোগ্য।
গাড়িতে হেলান দিয়ে আধো-শোওয়া হয়ে রয়েছে রাজিব নূর।পাশে হিমি।হিমি পড়েছে নীল রঙের একটা শাড়ি।এক আকাশ ভালোবাসা নিয়ে হাত ধরে রেখেছে রাজিব নূরের।বাতাসে হিমির চুল উড়ছে।
ড্রাইভার আব্দুল জিজ্ঞেস করলো,কোন দিকে যাবো স্যার?
রাজিব নূর বলল,চল,যেদিকে আপনার মন চায়।হ্যাঁ রে,ঝড়টড় উঠবে না তো?সাবধানে চালান।বাচ্চা দু'টাকে বাসায় রেখে এসেছি।
গাড়ি চলতে শুরু করলো উওর দিকে।হিমি একবার পিছন ফিরে দেখে নিল।সে আস্তে আস্তে মাথা দুলিয়ে স্বামীকে জিজ্ঞেস করলো-এখন বলো,ভালো লাগছে?ঘুমোলে কত সময় নষ্ট হয়।আজকের দিন টা কেমন অন্যরকম!রাত শেষ হয়ে গেছে অথচ সকাল হয়নি!
রাজিব নূর বলল,মন্দ লাগছে না ঠিকই।কিন্তু এখন যদি ঝুপঝুপিয়ে বৃষ্টি নামে,তাহলে কি বৃষ্টিতে ভিজব?
হিমি বলল,না হয় একদিন ভিজলাম!
ড্রাইভার আব্দুল গান ছেড়ে দিল-"মাঝে মাঝে তব দেখা পাই , চিরদিন...কেন পাই না ...?/কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে ,তোমারে দেখিতে দেয় না ...?/ক্ষনিক আলোকে আখির পলকে তোমায় জবে পাই দেখিতে/হারাই -হারাই সদা ভয় হয়,/হারাইয়া ফেলি চকিতে।/কি করিলে বল পাইব তোমারে, রাখিব আঁখিতে আঁখিতে।/এত প্রেম আমি কোথা পাব নাথ,/তোমারে হৃদয়ে রাখিতে?/আরো কারো পানে চাহিব না আর, করিব হে আমি প্রানপন -/তুমি যদি বল এখনি করিব, বিষয় বাসনা বিসর্জন ।"
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×