somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

সাহসী নারী তসলিমা নাসরিন অথবা নারী এক প্রকার বৃক্ষ -১

২২ শে মার্চ, ২০১১ সকাল ৯:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তসলিমা নাসরিনের প্রথম বই বের হয় ১৯৮৬ সালে।আর আমি তসলিমা নাসরিনের বই প্রথম পড়ি ১৯৯৬ সালে।তখন আমি অনেক ছোট।আমার মনে আছে- এক আকাশ কৌতুহল নিয়ে তার বই পড়তে শুরু করি।আমি বুঝি না,এই সাহসী নারীকে কেন মানূষ খারাপ বলে।সে কি এমন লিখেছে?সে কি মিথ্যা লিখেছে?এসব জানতে- আমি তার সব বই পড়ে ফেলি।তার প্রতিটা বই-ই ৪/৫ বার করে পড়ে ফেলেছি।তিনি যা লিখেছেন,সব সত্যি কথা লিখেছেন।তসলিমা নাসরিনের সব লেখা পড়ে আমার একটা কথাই বার বার মনে হয়েছে যে- অনেক বড় কলিজা না থাকলে এই রকম লেখা সম্ভব নয়।তিনি একজন কবি,সাংবাদিক এবং চিকিৎসক।

আমি ইদানিং খুব ভাবছি তসলিমা নাসরিনকে কি করে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।আমি কি স্বরাষ্ট মন্ত্রীর সাথে কথা বলব?নাকি প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখব?অথবা বারাক ওবামার কাছে সাহায্য চাইবো?আবার ভাবছি দেশে ফিরিয়ে আনলে তো মোল্লা'রা তাকে বাঁচতে দিবে না।হুমায়ূন আজাদের মতো তাকেও মেরে ফেলবে।''তসলিমা নাসরিন অথবা নারী এক প্রকার বৃক্ষ'' তে আমি তার সব লেখা নিয়ে আলোচনা করবো ধারাবাহিক ভাবে।আশা করি সবাই মন দিয়ে পড়বেন এবং বুঝতে চেষ্টা করবেন।তসলিমা নাসরিনের জন্ম ১৯৬২ সালের ২৫ আগষ্ট,ময়মনসিংহে।সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন নিষ্ঠার সাথে।১৯৯৩ সালে চাকরিতে ইস্তফা দেন- কারণ চাকরি করলে লেখালেখি ছাড়তে হবে সরকারের নির্দেশ।এই লেখালেখির জন্যই তিনি তার প্রিয় স্বদেশ থেকে বিতাড়িত হন।কিন্তু তিনি লেখালেখির জন্য প্রচুর পুরস্কার এবং সম্মান অর্জন করেছেন।ভারত থেকে দু'বার পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার।পৃথিবীর ৩০টি ভাষায় তার বই অনুবাদ হয়েছে।মানববাদ,মানবাধিকার,নারী-স্বাধীনতা ও নাস্তিকতা বিষয়ে তিনি পৃথিবীর বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং বিভিন্ন বিখ্যাত মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছেন।

মেয়েরা কি সব সময় প্রস্তুত থাকে অ্যাসিড,ছিনতাই,অপহরন,ধর্ষন,হত্যা ইত্যাদি যে-কোনও দুর্ঘটনার জন্য?এক সময় মানূষ গুহায় বাস করতো,কন্যা সন্তান জন্মালে জ্যান্ত কবর দিত।সেই সময় অনেক আগেই চলে গেছে কিন্তু সেই সময়ের মানসিকতা খুব একটা যায়নি।গ্রিয়ারের লেখা 'ফিমেল ইউনাক' গ্রন্থে মেয়েদের হাইহিল জুতো আবিস্কারের একটি দারুন কারণ দেখিয়েছেন,পুরুষ যখন একটি মেয়েকে আক্রমন করে,মেয়েটি নিজেকে বাঁচাবার জন্য প্রথমে দৌড় দেয়,সে যেন ভালো দৌড়াতে না পারে,হাইহিলের ব্যবস্থা সেজন্যই।এখনও অনেক মেয়ে একা বাইরে কোথাও যেতে পারে না।তাদের একজন সঙ্গী চাই।আমাদের দেশের চরিত্র সচেতন বুদ্ধিজীবিরা গোপনে মেয়ে নিয়ে ঘোরাফেরা পছন্দ করেন,শহরের বড় বড় রেস্তরায় সবচেয়ে কোনার টেবিলে বসে মেয়েদের ভালোবাসার কথা বলেন বা অফিস ঘরের দরজা বন্ধ করে মেয়েটার কানে তারা ঘন ঘন বলেন- ভালোবাসি।মজার ব্যাপার হলো তার ঘরে কিন্তু স্ত্রী,পুত্র কন্যা সবই আছে।ছাত্র-শিক্ষক,বেকার,শ্রমিক,পুলিশ,উকিল,শিল্পপতি,ব্যবসায়ী,আমলা- এরা নিয়মিত পতিতালয়ে যায়।এরা পতিতার শরীর থেকে নিজের শরীরে রোগ-জীবানু নিয়ে আসে।এবং যখন এরা এদের স্ত্রীকে সংক্রামিত করে।কেউ বুঝতে পারছে না,এত ঘন ঘন গর্ভপাত হচ্ছে কেন,এত মৃত শিশু জন্মাচ্ছে কেন বা এত বিকলাঙ্গ শিশু।এর কারন 'সিফিলিস'।বাসর ঘরে একটি মেয়ে স্বামী'র কাছ থেকে প্রথম উপহার পাচ্ছে- সিফিলিস।(এই রোগ সারানোর জন্য গোপনে পেনিসিলিন ইনজেকশন নিচ্ছে সমাজের ভালো মানূষেরা।

মেয়েদের জীবনে কোনও না কোনও বির্পযয় ঘটলে তারা আত্মহত্যা করে,কেউ বেশ্যা পাড়ায় আশ্রয় নেয়,আর এদু'টোর কোনওটি সম্ভব না হলে অগত্যা সাহিত্যে আশ্রয় নেয়।এখানে একটি মজার ব্যাপার হলো- একটি মেয়ে লিখতে শুরু করলে নানান ধরনের মানূষের আকর্ষন জন্মায়।বাংলা ব্লগ গুলোতেও এরকম দেখা যায় (হা হা হা)।আচ্ছা,মেয়েদের বিদ্যাশিক্ষা কি সন্তান পালনের জন্য?নাকি স্বামী'রা 'ঘরের শিক্ষিত বউ' নিয়ে এক ধরনের গর্ববোধ করার জন্য?প্রকৃতি পুরুষ ও নারীকে আলাদা করে দেখে না।কিন্তু সমাজ দেখে!আমাদের বাসায় যে মহিলাটি ঘরের কাজে আমার মাকে সাহায্য করেন,তিনি আমাকে জানালেন,মেয়েরা গাছে উঠলে গাছ মরে যায়,সে গাছে আর ফল হয় না।মজার ব্যাপার হলো-উদ্ভিদবিজ্ঞানের কোথাও কিন্তু লেখা নেই নারী-স্পর্শের সাথে গাছের বাঁচা মরা'র কোনও সম্পর্ক আছে।

বোকা মেয়ে গুলো,গালের রং,চোখের কালি,ফেসিয়াল,ভ্রু প্লার্ক,চুলের স্টাইল,পেন্সিল হিল জুতো,টিভি নিয়ে মহা ব্যস্ত।কিছু অর্কিড আছে এমন,কিছুতে ভর না দিয়ে দাঁড়াতে পারে না।ঠিক সেই রকম কিছু মেয়ে আছে-যে মেয়েরা বিয়ের আগে বাবার,বিয়ের পরে স্বামীর নামের লেজ ধরে বেঁচে থাকে।কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করলেই মেয়েরা অনেক কুসংস্কার এবং ধর্ম থেকে মুক্তি পায় না।

(চলবে.....)
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×