সূচনা
(সূচনাটুকু পড়া খুব জরুরি নয়ঃ নীলগিরি পাহাড়ের উপর আমি দো'তলা একটা কাঠের বাড়ি বানিয়েছি।একেবারে আকাশের কাছা-কাছি।খুব সুন্দর,নিরিবিলি পরিবেশ।হিমির খুব সখ পৃথিবীর সব বিখ্যাত মানূষদের আমি আমাদের বাসায় দাওয়াত করে আনি।হিমির কথা মতো আমি একে একে দাওয়াত করলাম- হুমায়ূন আহমেদ,সত্যজিৎ রায়,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর,তসলিমা নাসরিন,আইনষ্টাইন, শেক্সপিয়ার,ডারউইন, এডিসন, ফ্রয়েড, পীথাগোরাস, ব্রাট্রান্ড রাসেল,আব্রাহাম লিংকন,সক্রেটিস,টলস্টয় এবং ভিঞ্চি।আরো অনেক কে বলা হয়েছে,তারা জরুরি কাজ থাকায় আসতে পারেননি।এজন্য তারা আমাকে মেইল করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।আবার অনেকে নিজে থেকেই এসেই উপস্থিত হয়েছেন।তাদের মধ্যে দু'জন হলেন সালমা হায়েক,বিজ্ঞানী নিউটন এবং পামেলা আন্ডারসন লী।হিমির খুব প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় অসুস্থতার কারনে আসতে পারেননি।এই জন্য হিমির কিছুটা মন খারাপ)
জন্মের পর বেশ কিছুদিন বাচ্চারা অধিকাংশ সময় ঘুমিয়েই কাটায়।নিদারুন অন্ধকার থেকে এসে এই পৃথিবীর আলো চক্ষে সইয়ে নিতে যথেষ্ট সময় লাগে।মজার ব্যাপার হলো আমার সেই রকম সময় লাগেনি।হিমি নীল রঙের জমকালো শাড়ি পড়ে আমার পাশে দাঁড়িয়ে বলল- তোমাকে না বললাম পাঞ্জাবী টা পরো।এখনও দেখি হাফ প্যান্ট পড়ে বসে আছো।হিমি খুব ভালো করেই জানে যে, কোথাও কোথাও একটা কিছু সীমারেখা আছে,যা আমি লঙ্গন করতে পারব না।আমি বললাম হিমি,তুমি কি জানো বিনা দোষে শাস্তি পেলেই মানুষের মনে বেশী আঘাত লাগে।মনে মনে ভাবলাম, সারল্যে ভরা হাসিখুশি স্বভাবের মেয়ে হিমি,তাকে দুঃখ দিয়ে কী লাভ!মদ খেয়ে আমি একবার হিমির হাত ধরে ছিলাম,সাথে সাথে হিমির শরীরটা কেঁপে উঠেছিল।হিমি বলেছিল,মদ খেলে কোনও দিন আমার সামনে আসবে না।তারপরও আমি মদ খেয়েছি।একবার তো হিমি রাগ করে একদিন মধ্যরাতে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়েছিল।সে যাই হোক,সম্মানিত অতিথিরা আসতে শুরু করেছেন...
বিজ্ঞানী নিউটন আমার কাঁধে হাত রেখে হাসতে হাসতে বললেন- আমি ইচ্ছা করলে শেক্সপিয়ার হতে পারতাম কিন্তু শেক্সপিয়ারের সাধ্য ছিল না নিউটন হওয়ার।হুমায়ূন আহমেদ বললেন- ঈশ্বর কেন এতো নিষ্ঠুর বলতো?রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বললেন- এদেশের কোনো কোনো অতি দরিদ্র মানুষও বিনা কারনে অহংকারী হতে পারে!সত্যজিৎ রায় আমার মাথায় হাত রেখে বললেন- আমি যাকে পায়ের তলায় রাখতে চাই এবং রাখতে পারি,সে কাতর ভাবে আমার কাছে দয়া ভিক্ষা করবে,এটাই স্বাভাবিক।কিন্তু সে যদি বিনা প্রতিবাদে পায়ের তলায় শুয়ে থাকে রবং মনে মনে আমাকেও তার পায়ের তলায় রাখে,তাহলে সুখটা ঠিক সম্পূর্ন হয় না।আইনষ্টাইন মাথা ঝাকিয়ে বললেন- আধুনিকতম বিলাসিতা হলো সংস্কৃতি চর্চা।কিন্তু টাকায় সংগীত, শিল্প এবং ধর্ম সংস্কারের খুব হুজুক দেখা দিয়েছে।ডারউইন সিগারেট টেনে ধোয়া ছেড়ে বললেন- আমি কোনও দিন ঈশ্বর কে দেখিনি।সাধারণ মানুষ কখনো ঈশ্বরের দেখা পায় না।ফ্রয়েড সাহেব সরাসরি হিমির চোখের দিকে তাকিয়ে বললেন- তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে ইয়াং লেডী।ব্রাট্রান্ড রাসেল হিমির হাতে এক গুচ্ছ ফুল দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন- এই পৃথিবী এত সুন্দর,তবু এখানে মানুষ এত কষ্ট পায় কেন?আমার প্রিয় অভিনেত্রী সালমা হায়েক আমার গালে আঙুল রেখে বলল- যৌবন চলে গেলে একটি মেয়ের আর কিছুই থাকে না।পামেলা হিমির দিকে তাকিয়ে বলল- সতীত্ব নেই অথচ সততা আছে, এমন নারীও বিশ্বব্রহ্মান্ডে আছে।মিসির আলী চাচাজ্বী বললেন-আমার অনেক জ্বর।তিন দিন ধরে বিছানায় শুয়ে আছি,ভালো লাগছিল না তাই চলে এলাম।নারীদের চিরকালীন স্ববাভবশত অসুখের কথা শুনেই হিমি ঈষৎ ব্যাকুল হয়ে মিসির আলীর কপালে হাত ছুঁইয়ে বলল,ওমা এখনও জ্বর আছে দেখছি!উত্তরে মিসির আলী বললেন- আমি একা।আমার কেউ নেই।এটাই তো আমার নিয়তি।বিছানায় শুয়ে থেকে আর ভালো লাগছিল না,যখন জানতে পারলাম সক্রেটিস আর ভিঞ্চি আসবেন,তাই না এসে আর পারলাম না।ওদের সাথে আমার কিছু জরুরি আলাপ আছে।ওদের সাথে কথা বলে মস্তিস্ক ঠান্ডা করব।ধর্ম,দর্শন,সমাজ,সংস্কার কিছুই এখন আর ভালো লাগে না।
অবশেষে হিমি এবং আমাদের সকল কে অবাক করে দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলেন আমাদের সবার প্রিয় মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।তিনি সবার দিকে তাকিয়ে বললেন- ঈশ্বরের দ্বারা সমস্ত জগৎকে আচ্ছাদন করো।তিনি যাহা দান করেছেন,তাহাই উপভোগ করো।তিনি কি দান করেছেন?তিনি আপনাকেই দান করিয়াছেন।সেই পরম ধনকে উপভোগ করো।আর সকল ত্যাগ করে সেই পরম ধনকে উপভোগ করো।মূল কথা হলো, ঈশ্বরের দ্বরাই সমুদয় জগতকে আচ্ছাদন করো।"তুমি প্রভু সৃষ্টিধর জগতের পতি/তোমা পানে সদা মোর যেন থাকে মতি!ঈশ্বরকে অনুভব করেছেন,খাঁটি মানুষ বড় দুর্লভ। লেখাপড়া তো শিখেছে অনেকেই,কিন্তু তাদের মধ্যেই বা খাঁটি মানুষ ক'জন?পাপের পথে যাওয়ার চেয়ে মরণও ভালো।
অতিথিরা সবাই এখন ঝড়ের মত কথায় মেতেছেন।আকাশে একটা মস্ত বড় চাঁদ উঠেছে।আকাশে এখন খেলা করছে ছেঁড়া ছেঁড়া মেঘ।ঠান্ডা বাতাস ভেসে আসছে।এখন পৃথিবী খুব শান্ত,সুন্দর।ভোগী, চোর এবং সাধু,যারা রাত জাগে,তারাও এই পরিবেশে মাথা ঠিক রাখতে পারে না।অনেকেই এখন খুলে বসবেন মদের বোতল।হিমি আমার কাছে সে বলল- আমি কিছুক্ষন তোমার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকতে পারি?
হিমি একটা স্বপ্ন দেখছিল।স্বর্গের বাগানে শুয়ে আছে,তার সামনে দাঁড়িয়ে এক জ্যোতিময় পুরুষ,মুখখানি অপরুপ সুন্দর।হিমি চিনতে পারল,হিমির আরাধ্য।জ্যোতিময় পুরুষটি হিমির দিকে হাত বাড়িয়ে ভূবন জয় করা হাসি দিয়ে বলল,উঠে এসো।কোন অভিমানে তুমি শুয়ে আছো?এই তো আমি দর্শন দিয়েছি।তুমি ছাড়া আর অন্য কোনও রমনী আমাকে আকৃষ্ট করতে পারে না।তুমি আমার জীবনে শুধু নারীর প্রয়োজন মেটাবে না... আসলে মেয়ে মানুষের সবচেয়ে বড় পুতুল তো তার স্বামী।
(চলবে....)
আমি ও হিমি,হুমায়ূন আহমেদ,মিসির আলী,আইনষ্টাইন,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আরো অনেকে (এক)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপির আবালীপনা।


Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।