somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জীবমন্দির

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

" আমার প্রেমে তোমার বিরাগ স্মরণ করে করছো তুমি শোক ।
আমর কথা শোনো, বাঁচো, আগামীকাল যতই নিকট হোক,
আজকে থেকেই এই জীবনের গোলাপগুলি কুঁড়িয়ে জড়ো করো ।"

১/
আজ একটি বিশেষ দিন । সকাল দশটা । হিমি রিকশা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে আছে অনেকক্ষন ধরে শাহবাগ যাদু ঘরের সামনে । গুল্লু আসার কথা ঠিক দশটায় । এখন সাড়ে দশটা বেজে গেছে । কিন্তু হিমির একটুও রাগ লাগছে না । সে ঠিক করেছে আজ একটু রাগ করবে না গুল্লুর উপর । আজ একটি বিশেষ দিন । হিমি আজ খুব সুন্দর করে সেজেছে । নতুন একটা লাল শাড়ি পড়েছে । কপালে বড় একটা সবুজ টিপ পরেছে । দুই হাত ভরতি পরেছে লাল-নীল-সবুজ কাচের চুড়ি । আজ একটি বিশেষ দিন । আজ হিমি আর গুল্লু কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করবে । হিমি হঠাৎ কি মনে করে আকাশের দিকে তাকাতেই গুল্লু পেছন দিক থেকে হিমির কাছে এসে বলল স্যরি দেরী করে ফেললাম । রাস্তায় এত জ্যাম ! চলো চা খাই । হিমি বলল- আচ্ছা, চলো ।

২/
সকাল বারো টার মধ্যে হিমি আর গুল্লুর বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল । হিমি বুঝতেই পারেনি বিয়ে করা এত সহজ । দু'টা সই করলো- আর বিয়ে হয়ে গেল ! দুইজন মানুষ চিরজীবনের জন্য কাছাকাছি এসে গেলো ! এই বিয়েতে সাক্ষী ছিল গুল্লু আর হিমির চার জন কাছের বন্ধু । তারা সবাই মিলে স্টারে দুপুরে খেলো । এই বিয়ের খবর হিমি এবং গুল্লুর বাড়ির কেউ জানে না । সব বন্ধুরা বিদায় নিয়ে চলে যাবার পর হিমি আর গুল্লু ধানমন্ডি লেকে গিয়ে বসলো । হিমি বলল- আমার খুব মাথা ব্যাথা করছে । গুল্লু বলল, তুমি আমার কোলে মাথা রাখো, আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেই । হিমি গুল্লুর কোলে মাথা রাখতেই ঘুমিয়ে পড়ল । গুল্লু হিমির মুখের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল- আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি । কতখানি ভালোবাসি তা তুমি কোনো দিনও জানবে না । আর তখন এক ফোটা চোখের জল হিমির গালে গড়িয়ে পড়ল । হিমির ঘুম ভেঙ্গে গেল ।

৩/
গুল্লু সন্ধ্যা ছয়টায় হিমিকে বাসায় নামিয়ে দিল । হিমি তার ঘরে ঢুকে গরম পানি দিয়ে গোছল করে এক কাপ চা খেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল । এবং সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়ল । ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখল, গুল্লুকে বিচ্ছিরি চেহারার কিছু মানুষ ধরে নিয়ে যাচ্ছে । ঘুমের মধ্যেই হিমি খুব ভয় পেল । কেঁদে উঠল । এই সময় হিমির মা এসে দেখল হিমি কাঁদছে, ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেছে । হিমি তার মাকে জড়িয়ে ধরল । হিমির মা হিমিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, রেডী হয়ে নাও পাত্র পক্ষ তোমাকে দেখতে আসছে । রাতে তারা খেয়ে যাবে । হিমি লক্ষ্মী মেয়ের মতন সুন্দর একটা শাড়ি পরে নিল । হিমিকে দেখে ছেলে সহ ছেলের বাবা-মা সবাই খুব পছন্দ করলো । তারা আর দেরী করতে চায়, আজই আংটি পরিয়ে দিবে । আংটি তারা সাথে করেই নিয়ে আসছে । হিমি হঠাৎ খুব অবাক হয়ে গেল ।অজানা এক ভয়ে তার মুখ শুকিয়ে গেল ।

৪/
রাত আট টা । মিরপুর রোড থেকে গুল্লু তার বাইকে করে বাসায় ফিরছে । সে সব গুছিয়ে রেখেছে বাসায় গিয়ে মাকে কিভাবে হিমির কথা টা বলবে । গুল্লু জানে তার মা সব হাসি মুখে মেনে নিবে । গুল্লু আজ খুব খুশি । তার জীবনের একটা স্বপ্ন আজ সত্যি হলো । গুল্লু মনে মনে ভেবে রেখেছে- সে হিমিকে কোনো দিনও কষ্ট দিবে । অনেক...অনেক ভালোবাসবে হিমিকে । বারবার গুল্লুর চোখে হিমি ভেসে আসছে । গুল্লু আসাদ গেট নেমে এক কাপ চা খেলো । একটা সিগারেট ধরালো । সিগারেট শেষ করে আবার তার বাইক স্টার্ট দিলো । গুল্লু সংসদ ভবনের রাস্তায় আসা মাত্র একটা মাইক্রো-বাস গুল্লুর গোন্ডাকে ধাক্কা দিলো । গুল্লু রাস্তার পাশে ছিটকে পড়লো । তার কপালের সামনের অংশ থেতলে গেল ।

৫/
হিমিদের বাসায় একটা ফোন আসে । ফোন ধরেন হিমির বাবা । অপর প্রান্ত থেকে বাবু নামের একজন ব্যাকুল হয়ে বলল- প্লীজ হিমিকে ফোনটা একটু দেন । খুব জরুরী । হিমির বাবা কঠিন গলায় বলল- আজ হিমিকে দেওয়া যাবে না । বাবু আবার বলল- তাহলে হিমিকে বলুন গুল্লু একসিডেন্ট করেছে । অবস্থা ভালো না । হিমির বাবা আচ্ছা বলে ফোন রেখে দিলো । কিন্তু সে শুভ দিনে তার মেয়েকে একটা দুর্ঘটনার কথা বলতে চহান না ।রাত দশটায় পাত্রপক্ষ খেতে বসল । খাওয়ার পর তারা হিমিকে আংটি পরিয়ে বিদায় নিবে । হিমি কি করবে সব ঠিক করে নিয়েছে । তাদের খাওয়া শেষ হলে হিমি ছেলেটিকে সব খুলে বলব ।

হাসপাতালে গুল্লুর পরিচিতজনরা সবাই ভিড় করেছে । গুল্লুর মা খুব কাঁদছে । গুল্লুর বাবা ডাক্তারদের পেছন পেছন পাগলের মতন ঘুরছে । গুল্লুর সব বন্ধুরা এক জাগায় জড় হয়ে পাথরের মতন দাঁড়িয়ে আছে । ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছে- গুল্লুর অবস্থা ভালো না । আত্মীয় স্বজনদের খবর দেন । মনে মনে আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন । আমরা আমাদের স্বাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি । এখন সব আল্লাহর হাতে । আমাদের আর কিছু করণীয় নেই ।

৬/
রাত সাড়ে দশটায় গুল্লুর বন্ধু হিমিকে ফোন করে গুল্লুর কথা জানায় । হিমি কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে তার বাবার কাছে এসে বলল - বাবা আমাকে ওর কাছে নিয়ে চলো । হিমি হাসপাতালে যায় । গুল্লু আছে কমায় । গুল্লুর মাথায় ব্যান্ডেজ, গলা দিয়ে গর গর শব্দ বের হচ্ছে । হিমি ডা্ক্তারকে বলল- ডাক্তার আমি যদি কিছু বলি ও কি শুনতে পাবে ? ডাক্তার বলল অবশ্যই শুনতে পাবে, তার মস্তিস্ক সচল আছে ।
হিমি বলল- আমি ওর সাথে এক মিনিট একা কিছু কথা বলতে চাই । সবাই ঘর থেকে বের হয়ে গেলো । হিমি গুল্লুর কাছে বসে এক হাত ধরে আর এক হাত গুল্লুর বুকের উপর রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলল- তুমি আমাকে ছেড়ে কোথাও যেতে পারবে না । আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ।

রাত এক টায় গুল্লু চোখ মেলে সবার দিকে তাকালো । ছোট একটু হাসি দিলো । আর কি আশ্চর্য টুক করে মরে গেল ।

" আমি তোমার স্বপ্ন এতবার দেখেছি যে আজ
আমার কাছে তোমার বাস্তব সত্তা অবলুপ্ত ।
এখন কি সময় আছে এই মৃত্য শরীরকে কাছে
পাবার এবং আমার প্রিয়তম কন্ঠের উৎস এই মুখে
চুম্বন করার ? "

( এই লেখাটি উৎসর্গ করা হলো সুরভী কে । সে খুব ভালো রান্না করতে পারে । খুব গুছানো মেয়ে । কিন্তু অনেকখানি বোকা । এই বোকা মেয়েটি ভালো থাকুক । ভালো থাকুক তার সব প্রিয় মানূষেরা । )
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×