somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

ভীষন অন্ধকার

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১১ রাত ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"কামের উদ্রেক যে করে, সেই মেঘে সহসা দেখে তার সমুখে
যক্ষ কোনোমতে চোখের জল চেপে ভাবলে মনে-মনে বহুখনঃ
নবীন মেঘ দেখে মিলিত সুখীজন তারাও হয়ে যায় অন্যমনা,
কী আর কথা তবে, যদি সে দূরে থাকে যে চায় কন্ঠের আলিঙ্গন ।"

অনেক বছর ধরে শহীদ মিনারের সামনে একটা পাগল কে বসে থাকতে দেখে সফিক । নোংরা-ছেড়া জামা পরা । চুলে দাঁড়িতে জট । সফিক সময় পেলেই পাগলটার কথা ভাবে । তার স্ত্রী রুমু'কেও এই পাগলটার কথা বলেছে । রুমু কোনো আগ্রহ দেখায়নি । রুমু'র পৃথিবীতে শুধু দুইজন তার স্বামী আর তিন বছরে বাচ্চা অর্ক । সব কিছুতেই সফিকের এক আকাশ কৌতুহল । একদিন সফিক দুপুরে লাঞ্চ করেই অফিস থেকে বের হয়ে যায় । অফিসে তার খুব অস্থির অস্থির লাগছিল । সফিক হাঁটতে হাঁটতে শহীদ মিনারের সামনে আসে । পাগলটা পাশে গিয়ে বসে । পাগলটা একবার মুখ তুলে সফিক কে দেখে একটুখানি হাসে । সফিক ভাবে পাগলের হাসিটা সুন্দর । পাগলটা ঠান্ডা গলায় সফিককে অবাক করে দিয়ে বলল- অফিস শেষ হওয়ার আগেই যে বের হয়ে এলে ! এত অস্থির কেন তুমি ।

সন্ধ্যা পর্যন্ত সফিকের সাথে পাগলটার অনেক কথা হলো । পাগলটার নাম সূর্য । সফিকের ধারণা সূর্য'র অলৌকিক ক্ষমতা আছে । সে সূর্যকে একটা সেলুন নিয়ে গিয়ে চুল- দাড়ি কাটালো । সূর্যকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার পর সফিকের স্ত্রী রুমু খুব চেচামেচি শুরু করলো । রুমু বলল- এই পাগল ঘরে থাকলে আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যাবো । সূর্য সফিককে আগেই বলেছিল তোমার স্ত্রী আমাকে ঘরে ঢুকতে দিবে না । সফিক কোনো উপায় না দেখে- সূর্যকে তার বন্ধুর মেসে রেখে বাসায় ফিরলো । রাতে সফিক টেবিলে খেতে বসলে রুমু একটা কথাও বলে নি । সফিক বারান্ডা থেকে সিগারেট খেয়ে এসে দেখে রুমু শুয়ে পড়েছে । সফিক রুমুকে টেনে নিজের কাছে নেয় । রুমু ঘেমে যায় । রুমুর দিকে পাগলের মতো তাকিয়ে থাকে । চুমু খায় । সবশেষে অনেক ক্লান্তি নামে ।

পরদিন, সফিক অফিসে না গিয়ে সূর্য'র সাথে সারাটা দিন অনেক গল্প করে কাটায় । সূর্য সফিককে জানায়- তোমার স্ত্রী তোমাকে বিয়ের করার আগে একজনের সাথে তার প্রেম ছিল দীর্ঘদিন । এই কথা শুনে সফিক খুব মুষড়ে পড়ে । সে ভাবত তার স্ত্রী শুধু তাকেই ভালোবাসে । সন্ধ্যায় মেস থেকে বের হয়ে সফিক এলোমেলো হাঁটতে থাকে রাস্তায় । বারবার রুমু'র কথা মনে পড়ে । রুমু আর একজনকে ভালোবাসতো ! এই কথা কেন গোপন করেছে রুমু । রুমুকে তো সফিক কম ভালোবাসে নি । একটা সিগারেট ধরিয়ে সফিক দোতলায় উঠে যায় । অনেক বছর আগে সফিক এ বাড়িতে প্রায়ই আসত । লিলি কি এখন থাকে এ বাড়িতে ? বন্ধ দরজায় টোকা দিতেই - লিলি দরজা খুলল । লিলি দেখতে আগের মতোই আছে । লিলি সফিকের দিকে তাকিয়ে বলল তুমি ! এত বছর পর ! চার বছরে তুমি একটুও বদলাও নি ।

সফিক বলল- লিলি তুমি বিয়ে করোনি ? লিলি বলল- স্বামী, বাচ্চা থাকলে তোমাকে ঘরে ঢুকতেই দিতাম না । আমি একা । ভালোই আছি । লিলির ঘরে সব সময় বেলী ফুলের গন্ধ পাওয়া যায় । যা মনকে শান্ত করে দেয় । সফিককে দেখে লিলি অনেক খুশি হয়েছে । লিলির মুখ অপ্রত্যাশিত খুশি ঝকমক করছে । লিলি একটা দামী মদের বোতল বের করলো । যা বিশেষ অতিথিদের জন্য সব সময় লিলির ঘরে মজুদ থাকে । সফিক বিয়ের পর মদ খাওয়া ছেড়েই দিয়েছিল । কিন্তু সে আজ খাবে । তার স্ত্রী তার সাথে প্রতারনা করেছে । লিলি বলল- মদ খেয়ে আগের মতো চিৎকার চেচামেচি করবে না । আমি ভদ্র মেয়ে । এখানে আমাকে অনেক নিয়ম মেনে থাকতে হয় । সফিক আজ অনেক মদ খাবে । রুমু তার কাছে কথা গোপন করেছে । লিলি একটা রবীন্দ্র সংগীত গেয়ে শোনালো সফিককে । ''আমি রুপে তোমায় ভোলাব না ।'' গান শেষ হওয়ার পর লিলি বলল- আমাকে একটা কবিতা শোনাও সফিক । সফিক আবৃত্তি করলো- "ব্যাপক ঝড়ের মতো তোমাকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে ।/ তীব্র ক্ষুধার মতো তোমাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকতে ইচ্ছা করে ।/ দুপুরের কড়া রোদের মতন তোমার কাছ থেকে উষ্ণতা পেতে ইচ্ছা করে ।/ বৃষ্টির অজস্র ফোটার মতন তোমার গায়ে আদরের দাগ করে দিতে ইচ্ছা করে ।"

কবিতা শেষ হতেই লিলি সফিকের বুকে ঝাপ দেয় । সফিক মনে মনে ভাবে এখন আমার মুক্তি মিলবে । ভীষন অন্ধকার থেকে মুক্তি মিলবে । লিলি সফিকের একটা হাত নিয়ে তার বুকে রাখে, বলে কি বুঝতে পারছো ? সফিক বলল- কি ? লিলি বলল- অনেক ব্যাথা । এক আকাশ ব্যাথা । লিলির ঘর্মাক্ত কপালে চুমু খায় সফিক ।

লিলির বাসা থেকে বের হয়ে সফিক টলতে টলতে নিজের বাসায় যায় । দরজা খুলেই সফিককে এক পলক দেখে রুমু বলল- তুমি মদ খেয়েছো ? সফিকের ছোট উত্তর- হুম খেয়েছি । রুমু কাঁদতে কাঁদতে বলল- কোনো মেয়ে-মানুষের কাছে যাওনি ? সফিক বলল, না । রুমু রেগে গিয়ে বলল- তোমার ঠোঁটে গালে শার্টে লিপস্টিকের দাগ কেন ? তোমার গায়ে পারফিউমের গন্ধ কেন, যা তুমি মাখো না । সফিক কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না । বারান্দায় গিয়ে চুপ করে বসে রইল । তখন আকাশের সব মেঘ কেটে
গিয়েছে ।

পাগল সূর্য চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ভাবছে - যা করেছি ভালোই করেছি । আমার কেন সফিকের মতন সুন্দর স্ত্রী নেই । সুন্দর ফুটফুটে বাচ্চা নেই । কি ক্ষতি হতো আমার যদি সফিকের মত্ সুন্দর একটা সাজানো সংসার থাকত । সফিক আমাকে বিশ্বাস করেছে, আমি তার বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েছি । তার সংসারে অবিশ্বাস ঢুকিয়ে দিয়েছি । সূর্য একটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে শয়তানের মতো একটা হাসি দিলো ।

" দিলাম পরিচয় চিহ্ন, অতএব জানবে আমি আছিু কুশলে,
তোমার কালো চোখে লোকের কথা শুনে না যেন দেখা দেয় অবিশ্বাস ;
বিরহে প্রণয়ের ধ্বংস হয় নাকি, কিন্তু অভাবের প্রভাবে
আমার মনে হয় স্নেহের উপচয় মহৎ প্রেমে পায় পরিণাম ।"
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×