মা সেদিন খালাকে বলছে- আমার রাজীব টার ধৈর্য সহ্য একেবারে নাই । অল্পতেই অস্থির হয়ে পড়ে । আসলেই আমার অল্পতেই মাথা গরম হয়ে যায় । আর মাথা গরম হবে না কেন, একের পর এক এলোমেলো ব্যাপার ঘটেই চলেছে । সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করার পরে দেখি- আমার ব্রাশ নয় ছোট ভাইয়ের ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করেছি । গোছল করতে গিয়ে সাবান মাখার পর দেখব কলে পানি নেই । আচ্ছা, ভালো কথা মটর ছাড়ার পর দেখা যাবে কারেন্ট চলে গেছে । জামা পড়তে গিয়ে জামা খুঁজে পাবো না, মোজা খুঁজে পাবো না । তাড়াহুড়া করে বাইরে যাওয়ার পর দেখব- মোবাইল বাসায় রেখে গেছি । একটা রিকশা পাবো না । অনেকক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর যা-ও একটা রিকশা পাবো- রিকশাওয়ালা ২০ টাকার ভাড়া বলবে ৬০ টাকা । রিকশায় কিছু দূর যাওয়ার পর দেখব রাস্তায় ভয়ানক জ্যাম ।
একটা লেখা শেষ করে অনেক রাতে ঘুমিয়েছি । ভেবে রেখেছি সকাল ১২ টার আগে ঘুম থেকে উঠব না । কিন্তু সেদিন ঘুম থেকে উঠতে হলো সকাল ৭ টায় । একটা ভিক্ষুক দরজা নক করছে তো করছেই । ভিক্ষুকটার ধৈর্য রর্বাট ব্রুস এর চাইতেও বেশী । দরজা খুলে ভিক্ষুকটা্কে ভেবেছিলাম কঠিন দুই একটা কথা বলব । ভিক্ষুকটাকে দেখে মায়া লাগল, কিছুই বললাম না । শুধু বললাম- ভিক্ষাবৃত্তি আমাদের নবীজী পছন্দ করতেন না, কাজেই আমি আপনাকে ভিক্ষা দিবো না । দরজা বন্ধ করে ঝাপ দিলাম বিছানায় । তখন শুরু হলো পাশের বাড়ির ডাম ডাম শব্দ । তিল তলার কাজ চলছে । মোবাইল বাঝলো- ধরলাম । নাম্বার চিনি না, অপরিচিত একজন মেয়ে বলল- আপনি একজন বাজে লোক । খুব বাজে বলেই ফোন রেখে দিলো । গতকাল একজন অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন করে বলল- রাজীব নূর আপনি একজন অসাধারন মানূষ । আপনার তুলনা হয় ।আপনাকে ভালোবাসতে ইচ্ছা করে শ্রদ্ধা করতে ইচ্ছা করে- এইটুকু বলেই ফোন রেখে দিলো । এখন আমি এইসব নিয়ে মাথা ঘামাই না । কে আমাকে ভালো বলল- কে আমাকে বাজে বলল। সবচেয়ে বড় কথা আমি জানি আমি কি রকম ।
যাবো প্রাইম ব্যাংকে চলে যাই ব্র্যাক ব্যাংকে । আধা ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর মনে হয়- আমি এই ব্যাংকে কেন ? গতকাল মধ্যরাত্রে ইচ্ছা করলো নিজের গালে নিজে চড় দেই । দুইটা থাপ্পড় দেই । খুব বড় ধরনের একটা ভুল করেছি । গত এক বছরে এই ধরনের ভুল করি নাই । রাত এক টায় ড্রয়ারে হাত দিয়ে দেখি সিগারেট নাই ! আমার মাথা তো পুরাই নষ্ট । এই ভুলটা কিভাবে হলো বুঝতে পারলাম না । রাগ করে নিজেকে নিজেই দুইটা বাজে বকাও দিয়েছি । যাই হোক, আচ্ছা কেউ কি বলতে পারেন শীত কালে এত বিয়ে হয় কেন ? গত এক মাসে আমাদের ১৭ টা বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে হয়েছে । আমি একটা তে গিয়েছি, মা একটা গিয়েছে । অসহ্য । তোরা বিয়ে করবি কর আমাদের যেতে হবে কেন ? বিয়েটা হচ্ছে একান্তই দুইজনের ব্যাপার । সারা শহরের মানূষ নিয়ে DJ পার্টি করার দরকার কি ?
আমি জানি, আমি যেমন ভালো লেখালেখি করতে পারি না আবার ভালো ছবিও তুলতে জানি না । তারপরও অনেক শখ হয় কিছু লিখি কিছু ছবি তুলি । আমার লেখালেখিতে আর ছবি তোলাতে কারো উপকার না হোক সমস্যা তো হয় না । অনেক শখ করে ফেসবুকে একটা ফোটোগ্রাফী গ্রুপ খুলেছি যার নাম 'আমার ফোটোগ্রাফী' । আমাকে বলা হয়েছে ফোটোগ্রাফী গ্রুপটা বন্ধ করে দিতে । আমি ফোটোগ্রাফী নামে ধারাবাহিক ভাবে একটা লেখা লিখছি ছয় মাসে মাত্র তিন পর্ব লিখেছি । আজ আমাকে মানা করে দেওয়া হয়েছে যেন ফোটোগ্রাফী নিয়ে আর না লিখি । আমাকে যে মানা করেছে সে আমার বন্ধু । আমার বন্ধু ভালো লেখে ভালো ছবি তোলে । বন্ধুর কাছ থেকে আমি অনেক শিখেছি । বন্ধু বলল- ফোটোগ্রাফী নিয়ে লেখার ক্ষমতা আমার নেই । আমি নাকি ক্যামেরা ধরতেই জানি না । ( মাঝে মাঝে আমার এই রকমই মনে হয় ) ফোকাস এর কাজ কিছুই জানি না । ( আসলেই মাঝে মাঝে চোখে ধান্ধা হয় ) আমি মানি আমি ক্যামেরার কিছুই বুঝি না । আজ থেকে ১০ বছর পরেও আমি বলল আমি ক্যামেরার কিছুই বুঝি না জানি না । যদি ২/৩ টা পুরস্কারও পেয়ে যাই তবুও বলব আমি ফোটোগ্রাফী'র কিছুই জানি না । কোনো কিছুরই জানার শেষ নেই ।
আমার বন্ধু জ্ঞানী মানূষ । অবশ্যই আমার চেয়ে হাজার গুন না লক্ষ গুন বেশী বুঝে । আমার ভালোই জন্যই হয়তো আমাকে লিখতে মানা করছে । আমি গাধা দেখে বুঝতে পারছি না । তাই আমি আমার জ্ঞানী বন্ধুর সাথে কোনো তর্কে যাই না । আমি আমার বন্ধুর সব সময় মঙ্গল কামনা করি । যখন বন্ধুর কোনো সা্ফল্যের খবর পাই অনেক আনন্দ হয় । কিছু কিছু ব্যাপারে আমার ঘাড়ের রগ তেরা । এতই তেরা যে কুকুরের সাথে জিদ করে মাটিতে ভাত খাই । দাবা খেলাটা আমার অনেক ভালো লাগে । বিশেষ করে যখন মন্ত্রী চেক দেয় রাজা কে । রাজার আর বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না ছোটবেলায় দেখেছি কচ্ছপ একবার যা কামড়ে ধরে তা আর ছাড়ে না । যাই হোক, সকালে সিদ্ধান্ত নিবো ফোটোগ্রাফী গ্রুপ আর ফোটোগ্রাফী নিয়ে লেখাটা বন্ধ করবো কিনা ।
অনেকদিন আগে একটা কবিতা পড়েছিলাম- হুমায়ুন আজাদের । কবিতার নাম 'সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' । আমার খুব পছন্দের একটা কবিতা । কিছু কিছু লাইন আজও মনে আছে- 'আমি জানি সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে ।/ চ'লে যাবে শহর বন্দর গ্রাম ধানক্ষেত/ মন্দির মসজিদ গির্জা নির্জন প্যাগোডা/ সাধের সমাজতন্ত্রও নষ্টদের অধিকারে যাবে ।/ রবীন্দ্রনাথের সব জ্যোৎস্না.... কাশবন একদিন নষ্টদের অধিকারে যাবে ।' যতটুকু মনে আছে লিখলাম ভুল হতে পারে ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

