রবীন্দ্রনাথের কোনো বিকল্প নাই -৫৪
শর্মিলা ঠাকুরের শৈশব কেটেছে কলকাতায় । পড়াশোনা ল্যান্সডাউন রোডে সেন্ট জন ডায়োশেসন স্কুলে । পড়তে পড়তেই সিনেমায় ডা্ক । সত্যজিৎ রায়ের একের পর এক ছবিতে দুর্ধর্ষ অভিনয় । 'অপুর সংসারে' -এর সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়ের নায়িকা হওয়ার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি । ( সৌমিত্র চট্রোপাধ্যায়ের ডাক নাম পলু । সৌমিত্রের কন্ঠে রবীন্দ্র কবিতার আবৃত্তি চমৎকার ।) অবলীলায় জয়ের নিশান উড়িয়েছেন মুম্বাইতেও । শাম্মি কাপুরের বিপরীতে 'অ্যান ইভনিং ইন প্যারিস'-এ শর্মিলার বিকিনি পরা রুপ দেখে শিউরে উঠেছে সারা দেশ । রক্ষণশীলরা ছি ছি করেছে । বলেছে, রবীন্দ্র পরিবারের কন্যা হয়ে এ কী কান্ড । লজ্জা শরমের মাথা খেতে বিবেকে বাঁধল না । সমালোচনার আগুন নিভতে সময় নিয়েছিল অনেক ।
দ্বারকানাথ ঠাকুর
------।-------------।------------।----------------।-------------------।------
দেবেন্দ্রনাথ নরেন্দ্রনাথ গিরিন্দ্রনাথ ভূপেন্দ্রনাথ নগেন্দ্রনাথ
। ।
রবীন্দ্রনাথ গুণেন্দ্রনাথ
।
-----------------------------------
। ।
গগনেন্দ্রনাথ অবনীন্দ্রনাথ
।
কমকেন্দ্র
।
গীতিন্দ্র
-------------------------------------------------------
।
শর্মিলা ঐন্দ্রিলা রমিলা
----।-------------।-----
সাঈফ আলি খান সোহা আলি খান
রবীন্দ্র দর্শন থেকে অনেক দূরে সাঈফ আর সোহা । রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর অনুরোধে বিশ্বভারতীয় প্রথম উপাচার্য হন রথীন্দ্রনাথ । রথীন্দ্রনাথের স্ত্রী প্রতিমা দেবী নিঃসন্তান । রবীন্দ্রনাথেরা ছিলেন পনের ভাই-বোন । রবীন্দ্রনাথের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী, পরিবারে তার স্থান এগারো নম্বরে ।
রবীন্দ্রনাথের শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন সত্যেন্দ্রনাথের পৌত্র সুবীরেন্দ্রনাথ । নিমতলা মহাশ্মশানে রবীন্দ্রনাথের মূখাগ্নি করেন সুবীর । সেই সুবীরের পুত্র সুপ্রিয় এখনও শান্তিনিকেতনে । বয়স বাহাত্তর ।
রবীন্দ্র পরিবার বিশাল বৃক্ষের মতো । শাখা-প্রশাখা আগমন । অনেক শাখা শুকিয়েছে । কিন্তু যা আছে তাইবা কম কিসে । তা ছাড়া রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার বহনের দায়িত্ব তো আমাদেরও । অবক্ষয়ের মরুভূমিতে পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ । রবীন্দ্রনাথ বলতেন, 'বিশ্ব সাথে যোগে যেথায় বিহারও, সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও' । যোগাযোগের এটাই অন্যতম সুত্র । বিশ্বকে যে আপনার করতে পারবে রবীন্দ্রনাথ তার । উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে পা ফেলতে হলে রবির আলোর বিকল্প কোথায় ।
রবীন্দ্রনাথ চেয়েছিলেন ব্রিটিশ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে। অনেক সময়ই তিনি ভারতে ব্রিটিশ শাসনকে ঈশ্বরের শাসনের সঙ্গেও তুলনা করতেন। এ কোনো দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদীর কথা হতে পারে না। যাই হোক রবীন্দ্রনাথের মতো বিশাল ব্যক্তিকে হারিয়ে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছিল। আর ব্রিটিশের লাভ হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের মতো ব্যক্তিকে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও খাড়া করে দিতে। কবির এ মনোপরিবর্তনে ব্রিটিশের হাত থাকলেও থাকতে পারে। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন খুব তীব্র হওয়ার কারণে কার্জনের বঙ্গভঙ্গ এক সময় রদ হয়ে যায়। ব্রিটিশ সরকার তখন পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের সান্ত্বনা দেয়ার জন্য ঢাকায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। এতেও বাঙালি হিন্দুরা ক্ষেপে যায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। এমনকি ঢাকার হিন্দুরাও চায়নি ঢাকায় একটা বিশ্ববিদ্যালয় হোক। তারা মনে করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটা মুসলমান বিশ্ববিদ্যালয় আর মুসলমানের ছেলেরা লেখাপড়া শিখে তাদের পাতে ভাগ বসাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের মতো বিশ্বকবিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। আজ যেসব রাখাল ছেলেদের রবীন্দ্র বিলাস পেয়ে বসেছে তারা জানে না তাদের দেবতাতুল্য মানুষটি রাখাল ছেলেরা লেখাপড়া শিখে সমাজের উপর তলায় উঠে আসুক এটা কখনোই চাননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী প্রায় একই সময় কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু বিশ্বভারতী মুসলমান ছাত্রদের মোটেও আকর্ষণ করেনি। ঠাকুর পরিবারের অধিকাংশ জমিদারি ছিল পূর্ববঙ্গে।
রবীন্দ্রনাথও পূর্ববঙ্গে কাটিয়েছেন বহুদিন। তার পরেও মুসলমান অধ্যুষিত পূর্ববঙ্গে তিনি তার শান্তি নিকেতন প্রতিষ্ঠা করতে উত্সাহ পাননি। তিনি এটা গিয়ে তৈরি করেন বীরভূমে। প্রথমদিকে শান্তি নিকেতনে মুসলমান ছাত্রদের কোনো প্রবেশাধিকারই ছিল না। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেকের কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন। হায়দরাবাদের নিজাম তাকে সে আমলে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেই চাঁদার সূত্রেই কিছু মুসলমান ছাত্র সুযোগ পায় শান্তি নিকেতনে লেখাপড়া করার। সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন এদের একজন। মনে রাখা দরকার, বিশ্বভারতী নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভেতর দিয়ে পূর্ববঙ্গে একটি মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজ বিকাশ হওয়ার সুযোগ পায় আর তা এ অঞ্চলের মানুষের জাগরণে বড় ভূমিকা রাখে। অর্থাত্ ইতিহাসের নিরিখে দেখতে গেলে, রবীন্দ্রনাথ নয়, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছিলেন তারাই এ অঞ্চলের মানুষের সত্যিকারের জাগরণে বড় ভূমিকা রাখেন। যা আজকের বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের অন্যতম ভিত্তি। তারাই পূর্ববঙ্গের মানুষের সত্যিকারের জাতীয় চেতনার উত্স হওয়ার দাবিদার। আজকের প্রজন্ম হয়তো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা নওয়াব সলিমুল্লাহর নামই শোনেনি।
( চলবে ... )
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?
ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই
আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।
তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে
আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন
নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন
শৃঙ্খল মুক্তি আমার
শৃঙ্খল মুক্তি আমার

ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।