somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

গোপন পাপ

২৪ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হঠাৎ খুব ভোরে মামুন এর ঘুম ভেঙ্গে গেল।
সে খুব আস্তে বিছানা থেকে নামল স্ত্রী নিলা'র যেন ঘুম না ভাঙ্গে। মামুন বারা্ন্দায় গিয়ে দাড়ালো। আকাশ এখনও ফর্সা হয়নি। মসজিদে ফজরের আযান দিচ্ছে। মামুন নিলাকে বিয়ে করেছে দু'বছর হলো। নিলা'র ইচ্ছার কারনে এখনো তাদের বাচ্চা হয়নি। ভোরের এক ঝলক ঠান্ডা বাতাস এসে মামুনকে শীতল করে দিলো। সে একটি সিগারেট ধরালো। নিলা'র জন্য সে ঘরে শুয়ে বসে আরাম করে সিগারেট খেতে পারে না। ছোট্র বারান্দাটাই তার সিগারেট খাওয়ার জায়গা। সিগারেটে শেষ টান দেওয়ার পরই মামুন দেখতে পেলো তার পায়ের কাছে একটা কাপড়ের পোটলা। সে কৌতুহলের কারণে কাপড়ের পোটলাটা খুলে দেখে সেখানে একটা ছোট মৃত বাচ্চা'র লাশ। ফুটফুটে একটা বাচ্চা। দু'টো হাতই মুঠো করা। দেখলে মনে হয় বাচ্চাটা খুব আরাম করে ঘুমাচ্ছে। গলার কাছে কিসের যেন দাগ। ভয়ে মামুনের হাত-পা কাপছে। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সে কিছুই বুঝতে পারছে না।

মামুন দৌড়ে সোবার ঘরে গিয়ে নিলা'র হাত শক্ত করে ধরে রাখে।
নিলা'র ঘুম ভেঙ্গে যায়। নিলা আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে বলে কি হয়েছে এই ভোরবেলা? আজ এত সকালে সাহেবের ঘুম ভাঙ্গল যে! মামুনের অবস্থা দেখে নিলা খুব ভয় পেয়ে যায়। নিলা ভয় মেশানো গলায় বলতে থাকে- এই কি হয়েছে তোমার? কাপছো কেন? শরীর খারাপ লাগছে? মামুন কিছু বলল না, শুধু হাত দিয়ে বারান্দার দিকটা দেখালো নিলাকে। নিলা বারান্দায় গিয়ে মৃত বাচ্চাটাকে দেখে ভয়ে চিৎকার দিয়ে মামুনকে জড়িয়ে ধরল। নিলা কাঁদতে কাঁদতে বলল, এই বাচ্চা এখানে কেমন করে এলো? কার বাচ্চা? কারা এখানে রেখে গেল? মামুন ছোট্র করে বলল- আমি কিচ্ছু জানি না।
আকাশ ফর্সা হতে শুরু করেছে। একটু পর বুয়া আসবে, ঘর ঝাড়ু দিবে। নিলা মামুনকে বললো- কাউকে কিচ্ছু জানানো যাবে না। পুলিশকেও না। পাড়া-প্রতিবেশী কাউকে না। আইন নির্দোষ মানুষকেই শাস্তি দেয়। সমাজে আমরা মুখ দেখাতে পারব না। কোনো দোষ না করেও আজ আল্লাহ আমাদের এই পরিস্থিতি ফেললেন। তুমি বাচ্চাটাকে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে আপাতত কোথাও লুকিয়ে রাখো। মামুন ঠিক তাই করলো- বাচ্চাটাকে একটা বড় টাওয়াল দিয়ে পেঁচিয়ে আলমারির ভেতর লুকিয়ে রাখল।

নাসিমা বুয়া ঘরে ঢুকেই নিলাকে বলল- কি গো ভাবী তোমার মুখ এমন শুকনো কেন? রাতে কি সাহেব ঘুমাতে দেয় নাই? নিলা কঠিন গলায় বলল- তাড়াতাড়ি তোমার কাজ শেষ করো, আজ নাস্তা বানাতে হবে না। মামুন আজ অফিসে যাবে না। শুধু দু'কাপ চা বানিয়ে দিও। বুয়া চলে যাবার পর নিলা ঘরে চা নিয়ে ঢুকে দেখে মামুন মূর্তির মতো বসে আছে। নিলাকে দেখে মামুন বলল চা খাবো না। নিলা বলল- চা খাও ভালো লাগল। তারপর আসো দু'জন মিলে চিন্তা করি কি করা যায়। কেউ একজন আমাদের সাথে এই কাজটা করেছে। আমাদের ভয়ংকর একটা বিপদে ফেলেছে। মামুন বলল- কে এই শত্রু? আমি তো কোনো দিন এমন কিছু করি নাই যে আমার শত্রু থাকতে পারে। মামুন হঠাৎ রেগে গিয়ে নিলাকে বলল- তুমি নিশ্চয়ই এমন কোনো বাজে কাজ করেছো তার জন্য আজ আমাদের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হলো। মামুন চোখ মুখ লাল করে হঠাৎ নিলা'র গালে একটা চড় বসিয়ে দিলো। নিলা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ল। নিলার গালে পাঁচ আঙুলের দাগ বসে গেছে।

নিলা কি করে বলবে, অনেক বছর আগে রাজু নামের একজনের সঙ্গে তার ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। সে মানুষটা নিলাকে দারুন আদর করতো। সেই আদর নিতে নিলা'র অনেক ভালো লাগত। পাঁচ বছর আগে নিলাকে না জানিয়ে রাজু চলে যায় লন্ডন। তারপর রাজু'র আর খোঁজ পায়নি নিলা। এই পাপের শাস্তি কি ঈশ্বর আজ দিলেন মৃত অচেনা-অজানা বাচ্চাকে দিয়ে! এইসব ভেবে নিলা খুব কাঁদতে থাকে।
মামুন এসে নিলা'র পাশে বসে বলল- নিলা তোমার কোনো দোষ নেই। তোমাকে একটা ব্যাপার বলা হয়নি। তোমাকে বিয়ে করার আগে আমি একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম। মেয়েটার নাম ছিল চন্দ্রা। ইডেন কলেজে পড়তো। চন্দ্রার সাথে আমার অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়। কিন্তু চন্দ্রাকে আমি আর বিয়ে করি নাই। বিয়ে করি তোমাকে। চন্দ্রার অভিশাপে আজ ঈশ্বর আমাদের এই শাস্তি দিয়েছেন।

সকাল গড়িয়ে এখন দুপুর।
সকালে নাস্তা করা হয়নি। দুপুরেও কিছু রান্না করা হয়নি। তাদের আজ ক্ষুধাবোধ নেই। সারা ঘরময় কেমন বিষাদের ছড়াছড়ি। মামুন দেখল তার স্ত্রীর শাড়ি এলোমেলো হয়ে আছে। আঁচল নিচে পরে আছে। মামুন নিলা'র ভরাট বুকের দিকে তাকালো। কোমরে ভাজের দিকে তাকালো। নিলা'র চোখের পানি গাল বেয়ে বুকের উপর পরে ব্লাউজ ভিজে গেছে অনেক খানি। মামুন ভাবছে যদি পুরো ব্যাপারটা স্বপ্ন হতো। আলমারিতে কোনো মৃত বাচ্চা নেই। পুরো ব্যাপারটা একটা দুঃস্বপ্ন। মামুন নিলা'র দিকে চেয়ে বলল- আমি থানায় যাচ্ছি। পুলিশকে সব খুলে বলব। আমরা কোনো অন্যায় করি নাই। তবে আমরা কেন ভয় পাচ্ছি! কেউ হয়তো এই বাচ্চাটা আমাদের এইখানে রেখে গেছে। এখন, যা করার পুলিশ করবে। তুমি চোখ মুছো। তোমার চোখে পানি দেখলে আমার অনেক কষ্ট হয়। যাও গোছল করো। ফ্রেশ হও। আমি আছি, কোনো ভয় নেই।

সন্ধ্যায় পুলিশ এসে বাচ্চাটাকে নিয়ে গেল।
মামুন আর নিলা রাতে বাইরে খাওয়া-দাওয়া করলো। মামুন নিজে পছন্দ করে বেইলী রোড থেকে নিলাকে একটা নীল শাড়ি কিনে দিলো। অকারণের অনেকক্ষন রিকশা নিয়ে ঘুরলো। রাতে বাসায় ফিরে নিলা নতুন শাড়িটা পড়ে স্বামীর পাশে গিয়ে বসল। মামুন নিলাকে বুকে জড়িয়ে ধরল। ঘরের লাইট বন্ধ হয়ে গেল। শীতের রাত খুব ছোট। সময় অনেক কম। নিলা তার স্বামীর কাছ থেকে আদর নিতে নিতে মনে মনে বলল- অন্ধকারে রাজু যা, মামুনও তা। যতবার মামুন নিলাকে আদর করে তার চন্দ্রার কথা মনে পড়ে। অন্ধকারে নিলা যেমন, চন্দ্রাও তেমন। নিলা ফিসফিস করে মামুনকে বলল- আমার একটা বাচ্চা চাই।

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩৪
১৮টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিলের কোনো রসিদ নেই

লিখেছেন রাজসোহান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৪



ঢাকার পাইপলাইন গ্রাহকদের একটা বড় অংশ এই জুলাইয়ে জানিয়েছেন, দিনে এক থেকে দুই ঘণ্টার বেশি গ্যাস তাঁরা পান না। সেই এক-দুই ঘণ্টাও আসে গভীর রাতে কিংবা ভোরের আগে। ফলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ: মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর রেমিট্যান্স কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন ও টেকসই উন্নয়নের বিকল্প কৌশল
একটি অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ফিজিবিলিটি স্টাডি।

একটি ধারাবাহিক গবেষনামুলক পোস্ট : পর্ব- ১

ভুমিকা
১.১ গবেষণার পটভূমি
একবিংশ শতাব্দীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছাত্রদলকে সামলাতে না পারলে ক্যাম্পাসগুলো সহিংসতায় পূর্ণ হবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮


রাতে রংপুর, সকালে জগন্নাথ। আজকে জগন্নাথে ছাত্রদলের হামলার শিকার একযোগে সব বিরোধী দল। এসব কি ছাত্রদলের কাজ? নাকি ছাত্রদলের ভেতর ছাত্রলীগ প্রবেশ করেছে? জকসু জিএসের জীবন আশংকাজনক। দেশে যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস নিয়ে গ্যাসলাইটিং: কোনটা আসল সংকট, কোনটা কৃত্রিম?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২১


বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা কী, এই প্রশ্ন করলে সবাই একবাক্যে বলবেন গ্যাস সংকটের কথা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে, ফলে লোডশেডিং বেড়েছে বহুগুণ। কলকারখানা হোক বা বাসাবাড়ি, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×