somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

আজকের ডায়েরী - ৩০

০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকে সামান্য বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের গজব অবস্থা।
হয়তো আপনি বলবেন, আমি ভুল বলছি। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে। আমি মোটেও ভুল বলছি না। যারা বলে তারা মনে হয় ভুল বলছে। দেশ মোটেও উন্নতির মহাসড়কে নয়। যদি পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেল এর জন্য আপনারা বলেন দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে তাহলে ভুল হবে। আজ মতিঝিল গিয়েছিলাম। বৃষ্টি হয়েছে। হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে যায় পুরো মতিঝিসহ আশেপাশের এলাকায়। বছরের পর একই অবস্থা। এর কি স্থায়ী কোনো সমাধান নেই? কোনো সরকার কি পারবে এই দুর্ভোগ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে?

এই ভয়াবহ জলজোট এবং যানজোটের সময় আমি মতিঝিল উপস্থিত ছিলাম। মানূষের কষ্ট আর ভোগান্তি নিজের চোখে দেখেছি। দুই ঘন্টা চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। রাস্তার পানি কমে না। শেষে পানির মধ্যে নামলাম পথে। সকালে বাসা থেকে সাদা শার্ট পড়ে বাবু সেজে বের হয়েছিলাম। দিনশেষে আমার অবস্থা হয়েছে কাঙ্গালী টাইপ। মতিঝিলে দরকারী কাজ ছিল। কাজের কাজ কিচ্ছু হলো না। শুধু হলো কষ্ট আর ভোগান্তি।

রাস্তায় চলছে মেট্রোরেলের কাজ। রাস্তা হয়ে গেছে চিপা। এর মধ্যে ফুটপাত ভাঙ্গা। ভাঙ্গা ফুটপাতও চোখে দেখা যায় না। ফুটপাত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমি পড়ে গেলাম এক গর্তে। পায়ের সু খুলে কোথায় ভেসে গেল। মোবাইল গেল ভিজে। উন্নয়নের মহাসড়কের ময়লা পানিতে আমার মাখামাখি অবস্থা! নটরডেম কলেজের সামনে আরো বেশি পানি জমে আছে। কয়েকজন বাচ্চা ছেলেকে দেখলাম পানিতে লাফালাফি করে গোসল করছে। অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে মোবাইল বের করে ছবি তুলছে, ভিডিও করছে। বাসের মধ্যে বসে থাকা লোকজন সরকারকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে।

সকাল দশটায় বাসা থেকে বের হয়েছি। বাসায় ফিরলাম সন্ধ্যা সাতটায়। এক ঘণ্টারও কম সময়ের রাস্তা অথচ বাসে করে ফিরতে সময় লাগলো সাড়ে তিন ঘন্টা। পানিতে রাস্তায় গাড়ি, বাস এবং বাইক গুলো বন্ধ হয়ে থেমে আছে। দুপুরে প্রচন্ড ক্ষুধা লেগেছিলো। মতিঝিল হীরাঝিল নামক এক রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম। এক প্লেট কাচ্চির অর্ডার দিলাম। এক নলা মুখে দেবার পর আর খেতে ইচ্ছা করলো না। মোটেও স্বাদ না। গত পাঁচ বছরে এরকম ফালতু কাচ্চি খাই নি। এত তেল দিয়েছে হাতে তেল মাখামাখি। না খেয়ে ২২০ টাকা বিল দিলাম। ১৯০ টাকা কাচ্চি। ২০ টাকা পানি। দশ টাকা বকশিস।

রাস্তার পাশের চায়ের দোকান থেকে রুটি কলা খাবো, সেই অবস্থাও নেই। বৃষ্টির জন্য দোকানপাট বন্ধ। অথচ কথা ছিল দুপুরে বাসায় এসে ভাত খাবো। সুরভি ইলিশ মাছ রান্না করেছে। প্রচন্ড রাগে শাপলা চত্ত্বর থেকে এই নোংরা পানি পাড়িয়ে হেঁটে হেঁটে দৈনিক বাংলা এলাম। পাশ দিয়ে বাস-গাড়ি যাওয়ার সময় সমুদ্রের মতো বিশাল ডেউ এসে কোমর পর্যন্ত ভিজিয়ে দিল। এক গর্তে পা পড়ে গেল। হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা পেলাম। প্যান্টের অনেকখানি ছিড়ে গেল। দৈনিক বাংলা এসে লাফ দিয়ে এক বাসে উঠলাম। সেই বাস আবার শাপলা চত্ত্বর হয়ে মগবাজারের দিকে গেল। বাসের জানালা দিয়ে মানূষের ভোগান্তি দেখলাম।

আমার কাছে টাকা ছিল না। সকালে বাসা থেকে বের হবার সময় সুরভির কাছ থেকে পাঁচ শ’ টাকা নিয়ে বের হয়েছি। আজ জনদুর্ভোগের বেশ কিছু ছবি তুলেছি। যারা বলে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে আজ তাদের গালি দিতে ইচ্ছা করেছে। তারা মিথ্যা কেন বলে? যদি পারতাম এই উন্নয়নের মহাসড়কে তাদের কান ধরে নিয়ে আসতাম। দ্যাখ এবার নিজের চোখে কি অবস্থা মিথ্যাবাদীর দল! তোমাদের উন্নয়নে সীমাহীন কষ্ট মানূষের। আর কত ভন্ডামি করবি? দেশের কোনো উন্নয়নয় হয় নি। আজও মানুষ রাস্তায় ঘুমায়। ভিক্ষা করে। অসংখ্য যুবক বেকার। উন্নয়ন হয়েছে তোদের। এবং তোদের ছত্রছায়ায় থাকা লোকজনের।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৪
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তুমি আছ

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৩৯




এই পৃথিবীতে তুমি কোথায় আছ প্রজাপতির মত ?
হৃদয়ে কি দু:খ জাগে উত্তাল ঢেউয়ের মত কত
দেখ মধু মঞ্জুরী লতায় ফুল ফুটেছে তোমার আশায়
তুমি কি ছুঁয়ে দিবেনা তারে তব ভালোবাসায়।

এই পৃথিবীতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি মানবে ইসরায়েল

লিখেছেন লিংকন বাবু০০৭, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৪১

অনিচ্ছা নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি মানবে ইসরায়েল: সিএনএন।

রাতভর উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই খবরে বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম।
যুদ্ধবিরতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

=সবাই যে যার মত নিঃসঙ্গ=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪৮



নিস্তব্ধ রাত অথবা দিনের দুপুর
যখন একাকি আনমন
নিঃসঙ্গতা এসে চোখে দাঁড়ায়, কোথাও কেউ নেই;
হতে হয় নিমেষই নিঃসঙ্গতার কাছে নমন।

কেউ আসে না মনের ঘরে
খোঁজ নিতে দেয় না কেউ উঁকি;
স্মৃতিঘরে ফিরে যেতেও চাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নেপাল সিরিজ ১ঃ শিক্ষায় নুতন চেষ্টা

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

আসেন নেপালের নুতন সরকার এসে ১০০ দিনের যে পয়েন্ট গুলো ঘোষনা দিয়েছে তার মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা এই কয়েক দিনে কি করলো, জানি! অন্যান্ন পয়েন্ট নিয়েও লিখবো, আজকে শুধু শিক্ষা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধবিরতি ও ইসরায়েলের "ঘাস কাটা" এবং "মাটির স্তর সরিয়ে ফেলা" কৌশল

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৯ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৩৩


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ কিছুদিন আগেই ট্রাম্পের নাম নোবেল পুরস্কারের জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। ট্রাম্পের এই ভৃত্যসুলভ মিত্র মধ্যস্থতা করে আমেরিকা-ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে - এই খবর শুনে মনে সংশয় তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×