আমির খান যেই মুভিতে হাত দেয়, পুরা পিউর গোল্ড বানায়া ছাড়ে। এই কথা, শুধুমাত্র এই কথা ভাইবা কি মরতে দেখতে বইলামরে ভাই!!! ভালো লাগলো না আমির খানের ফকিরা এই মুভি। মুভি দেখি বলে কি যা তা দেখতে হবে নাকি?? মানুষের গরিবী নিয়ে মিডিয়া এবং উচ্চবিত্তদের লাফালাফি দেখে মেজাজটা পুরাই বিগড়ায় গেসে।
কাহিনী বলি। সবাই এক্কেরে কাথা বালিশ নিয়া পড়েন। কখন ঘুমায় পড়েন গ্যারান্টি নাই। Natha ( Omkar Das Manikpuri) এবং Budhiya ( Raghubir Yadav) দুই গরিব কৃষক ভ্রাতা। জমি বন্ধক হয়ে পড়ে আছে। পয়সা পাতি কিছুই নাই। বাসায় Natha’র দজ্জাল বউ আর বিছানায় পড়ে থাকা অলটাইম চিক্কুর পারা এক মহিলা যিনি Natha ভাইয়ার মা জননী। দুই ভাই মিলে সরকারের দুর্দান্ত এক কর্মকান্ডের থেকে চরম একখান আইডিয়া পায়। আত্মহত্যা!! নিজের জান নিজে দিয়া দাও। সরকার থেকে পয়সা নাও। কি মরতে Natha’র মুখ দিয়া যে বাইর হইলো: আমি মরমু!! তার পর থেকে জান শেষ। এক ক্ষুদ্র পত্রিকা থেকে শুরু করে দেশের নামি দামি নিউজ চ্যানেল এসে পিছে লাগে Natha’র । এক গরিবের মাটির বাসার সামনে কয়েক শ সাংবাদিক ও পুলিশের ভীড় !! পুরা দেশ তোলপাড়। মুভিটি যখন বিরক্তির শীর্ষবিন্দুতে চড়ে উঠে তখন আসে এক দারুন রোমাঞ্চকর মুহূর্ত!! সেটা কী?? Natha ভাইয়ার টয়লেট লাগে!!! তালি দেন তালি দেন!! বেচারা তার মলত্যাগের উদ্দেশ্যে খোলা মাঠের দিকে পালিয়ে যায়। তখন এক ক্যামেরা ম্যান ভাইয়ের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এই অসাধারণ দৃশ্য। পাগলের মত সবাই ছুটে চলে মাঠের উদ্দেশ্যে কিন্তু সেখান থেকে Natha উধাও!! শুরু হয় বিরাট রাজনৈতিক মারামারি। সবশেষে এক দুর্ঘটনায় থেমে যায় সবকিছু। একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেটা হয়তো Natha ই। সুতরাং আজকের সংবাদ এই পর্যন্তই। এদিকে যেহেতু এটি কোন আত্মহত্যা নয় সেকারণে Natha’র পরিবার একটা প্রাণ ম্যাংগো জুস পর্যন্ত পায় না!! কিন্তু নাথা আসলে বেচে আছে। শেষ দৃশ্যে এটি দেখিয়ে মনে হয় পরিচালক সিকুয়েলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এমন ভাব যেন সারা দুনিয়া জেমস বন্ডের মতো Natha রে দেখবার জন্য এক্কেরে উতলা হইয়া আসে।
পরিচালক Anusha Rizvi ‘র কাজ সম্পর্কে বলবো: ম্যাডাম বহুত বোরিং মুভি। তবে আমার আশা তিনি ভালো পরিচালক হয়ে উঠবেন। মুভিটির কাহিনী আমার কাছে মোটেও ভালো বলে মনে হয়নি। দরিদ্র মানুষদের কষ্টের জীবন নিয়ে এরকম মশকরা মোটেও মজার বলে কারো মনে হবে কিনা জানি না। মুভিটির সংলাপ গুলি একটু গ্রামীণ হিন্দী ধরণের। এজন্য অনেকের অনেক বিরক্ত লাগবে। মুভিটি ১৯৯৭ এর Mad City এবং ২০০৬ সালের মালায়ালাম মুভি Pakal এর অনুকরণ হওয়ার অভিযোগ আছে। কিন্তু আসলেই নকল কিনা সেটা খতিয়ে দেখার ইচ্ছা আমার মোটেও নেই।
অভিনয় সকলের মোটামুটি মানের হয়েছে। আমির খানের প্রযোযিত মুভি হলেও সেরকম ভালো মানের নয়। চিত্রায়ণও খারাপ নয়। তবে এক কথায় বেশ বোরিং একটি মুভি।
রেটিং – ১.৫ /৫
হিন্দী মুভি বাংলা রিভিউ- “Peepli [Live]”
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এমন কেন?
একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।
শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।