somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দী মুভি বাংলা রিভিউ- “The Dirty Picture”

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছিঃ ছিঃ এত ছোট কাপড়?? Adult Movie?? এটা দেখা যায়?? প্রথম দৃশ্যেই আবার বিছানা ছিঃ ছিঃ। আরে ব্যাটা তোরে দেখতে কেডায় কইসে? বিদ্যা বালান কী তোরে SMS করসে যে তুই না দেখলে তিতাস নদীতে ঝাঁপ দিমু?
নিজেই ছিঃ ছিঃ করি আবার দেখার সময় তো এক ইঞ্চিও বাদ দিই না। দেখার নামে গিলি। আর দেখা শেষে বলি এই নোংরা মেয়েগুলির জ্বালায় যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে।
তেমনই এক নোংরা মেয়ে ছিল আশির দশকে দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্রে হৈ-হুল্লোড় লাগায়ে দেওয়া Silk Smitha। তার যৌবনের আগুনে অনেকেরই হৃদয় পুড়েছে কিন্তু শেষে ভাগ্যে জুটেছে “নোংরা” ও “অশ্লীল” নাম। তারই জীবন নিয়ে মুভি “The Dirty Picture”। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরী মুভিটি কারণ কেবল মাত্র প্রাপ্তবয়স্করাই বলতে পারবে এক অসাধারণ মুভি দেখে আসলাম।
কাহিনী জানা যাক। গরীব ঘরের মেয়ে রেশমা । মুভি পাগল এবং তৎকালীন সুপারস্টার Surya ( Naseeruddin Shah) এর প্রেমে মগ্ন। তার স্বপ্ন নায়িকা হবার। কিন্তু চেহারা তো কিছুই নাই। তাকে প্রেমিকাও মানায় না আবার স্ত্রীও মানায় না। বাসায় খাবার নেই। দুদিন ধরে চিনি খেয়ে আছে। এদিকে কুকুর পুরুষগুলি সবসময় লেজ নাড়া চাড়া করছে। অনেক চেষ্টা করেও মুভিতে কাজ পায় না। একবার এক মুভির একটি গানে এক Dancer এর প্রয়োজন যাকে একটু চাবুকের মার সহ্য করতে হবে। কেউ রাজী না। এগিয়ে আসে সে। এবং যে এক আগুন ঝরানো দৃশ্য করলো সেই দৃশ্যের জন্য মুভি চরম হিট। এরপর প্রযোজক Selvaganesh (Rajesh Sharma) তাকে নিয়ে একের পর এক মুভি করতে থাকে। তার নাম হয় Silk ( Vidya Balan)। সুপারস্টার Surya ( Naseeruddin Shah) ও Silk এর যৌবনের দাস হয়ে যায়। সবাই মুভি দেখতে যায় শুধুমাত্র Silk এর একটি দৃশ্যের জন্য। এদিকে মেধাবী পরিচালক Abraham ( Emraan Hasmi) এর ভালো মুভির কোন দাম নেই। সবাই Silk এর দেহ দেখতে চায়। Abraham শুধুমাত্র অপেক্ষায় থাকে কবে তার শত্রু Silk এর পরাজয় হবে।
Silk এর জীবনে দারুণ খ্যাতি এবং তার সাথে স্বপ্নের রাজকুমার Surya’র সাথে প্রেম সব মিলিয়ে অসাধারণ এক সময়। কিন্তু কয়েকদিন পর সে বুঝতে পারে যে Surya কেবল তার দেহকেই চায়। আর কিছু নয়। খ্যাতি, অহংকার এবং একাকীত্বের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে Silk । এদিকে তার পিছনে সর্বদাই খারাপ বলে পত্রিকার লোকেরা। মাঝে Surya’র ভাই Ramakanth ( Tusshar Kapoor) এর সাথে প্রেমের পর তাকে দ্রৌপদী নামকরণ করা হয়। কিন্তু মাদক-ধুমপান সবকিছু ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় তাকে। Ramakanth ও তার থেকে দূরে চলে যায়।
ডুবে যাওয়া Career কে বাঁচাতে সে নিজেই মুভি প্রযোজনা করে কিন্তু ততদিনে তার মোটা শরীর আর তাকে আগের Silk বানাতে পারে না। এদিকে Abraham ( Emraan Hashmi) এখন নামকরা পরিচালক। Silk আজকে তার কাছে পরাজিত। কিন্তু কেন জানি তার পুরোনো শত্রুর শোচনীয় অবস্থা দেখে তার হৃদয় কেঁদে উঠে। যখন সবাই Silk এর নাম ভুলে যাবার পথে তখন Abraham তাকে সংগ দেয়। কিন্তু একদিন Silk সকলকে বিদায় জানিয়ে চলে যায় যেখান থেকে ফেরত আসার কোন পথ নেই।
মুভিটিতে মূলত দেখানো হয়েছে যে পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষদেরকে নারীরা কীভাবে খুব সহজেই নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাতে পারে। মুভিটির প্রত্যেকটি দৃশ্য এবং সংলাপ এক কথায় অসাধারণ। Milan Luthria’র যোগ্য পরিচালনা এবং Ekta Kapoor এর প্রযোজনার পর বিশেষভাবে সংলাপের জন্য Rajat Arora কে বাহবা দিতেই হয়।
মুভিটির মুল প্রাণ হলো Vidya Balan। এক কথায় ফাটাফাটি অভিনয়। এবছর যদি কোন ঘোষণা হয় যে আর অভিনেতা-অভিনেত্রী আলাদা পুরস্কার নয়। শুধুমাত্র একটি পুরস্কার দেয়া হবে। তবে নিঃসন্দেহে সেরা অভিনেতার পুরস্কার এবছর বিদ্যা বালান পাবেই। সংক্ষিপ্ত পোষাকে থাকা সত্বেও তার দৃশ্যগুলি প্রত্যেকটি তালি দেবার মত। একজন নায়িকার বিজয় তখনই হয় যখন দর্শকেরা তার যৌন আবেদনকে ভুলে গিয়ে অদ্ভুত হয়ে তার চেহারার দিকে তাকিয়ে থাকে। এখানেই বিদ্যা বালান সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।
এছাড়া Naseeruddin Shah, Emraan Hashmi কে বেশ ভালো লেগেছে। Tusshar Kapoor কে মোটামুটি লেগেছে। Anju Mahendra ‘র চরিত্রটিও বেশ ভালো। এছাড়া রাতনাম্মা চরিত্রে বেশ ভালো লেগেছে Mangal Kenkre কে।
মুভিটির সংগীত মোটামুটি হলেও “উ লা লা উ লা লা “ গানটির জন্য সবাই পাগল। Vishal – Shekhar এর সংগীতে বিখ্যাত সংগীতজ্ঞ বাপ্পী লাহিড়ী এই গান গেয়ে সবাইকে মাতিয়ে ফেলেছে।
মুভিটি আসলেই একটি Adult Movie। কারণ বেশ কিছু রগরগে দৃশ্য আছে, যেগুলি আবার কাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় বলতে হবে। সুতরাং সবাই মিলে এক সাথে দেখার মত মুভি এটাকে আমি বলছি না। তবে যারা যারা মুভিটি দেখবেন, সবাই বলতে বাধ্য হবেন যে পুরাই উ লা লা মুভি। এক কথায় অসাধারণ।
রেটিং – ৪ / ৫



১৯টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×