somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিন্দী মুভি বাংলা রিভিউ- “Agneepath”

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ বিকাল ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার দেখা অন্যতম সেরা মুভির নাম হচ্ছে ১৯৯০ সালে নির্মিত Amitabh Bachchan অভিনীত Agneepath। বর্তমানে যেটিকে ক্ল্যাসিক মুভির মর্যাদা দেয়া হয়। সেই Vijay Dinanath Chauhan এর অসাধারণ ভাবে চলন, কথা বলা কোন কিছু আজও ভুলতে পারি না। সেই মুভির রিমেক হলো দীর্ঘ ২২ বছর পর। আগেরটার ধারের কাছে না হলেও বলতে হবে খারাপ হয়নি।
কাহিনী জানা যাক। মুম্বাইয়ের অদূরে ছোট্ট একটি দ্বীপের নাম “মান্ডওয়া”। সেই গ্রামের ব্যাবাগ মানুষ একটু বেকুব কিসিমের। কিন্তু সেখানে ছিলেন “ডিজিটাল মান্ডওয়া”র স্বপ্নধারী এক স্কুল মাস্টার দীনানাথ চৌহান (Chetan Pandit) । সারাদিন নিজের পোলা পিচ্চি বিজয় ( Arish Bhiwandiwala) রে একটা ব্যাপক কঠিন হিন্দী কবিতা যার নাম “অগ্নিপথ” সেটা শিখায়। তার স্বপ্ন পোলা সেই কবিতার হিপ-হপ ভার্সন একদিন Youtube এ আপলোড করবে। এদিকে গ্রামটিতে প্রবেশ করলো “কাঞ্চা চিনা” ( Sanjay Dutt) । তার অনেকদিনের স্বপ্ন ছিলো বাংলাদেশের নাটকের হিরো হবে। কিন্তু আনিসুর রহমান মিলনের চেয়ে তার চেহারা একটু খারাপ হওয়ায় তেমন বেইল পায় নাই। বাধ্য হয়ে মান্ডওয়াতে ফেরত। শুরু হয় মান্ডওয়াতে কোকেইন এর কারখানা বানানোর কাজ। মাস্টার দীনানাথ থামাতে চেষ্টা করলেও তারে এক বীভৎস ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। বিজয় নিজের চোখের সামনে নিজের বাপকে মরতে দেখে। তখন থেকে তার মনে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে প্রতিশোধের আগুন। নিজের মা ( Zarina Wahab) কে নিয়ে মুম্বাইতে চলে আসে।
মুম্বাইতে ভয়ানক এক দালালের সাথে তার দেখা হয়। নাম রওফ লালা ( Rishi Kapoor) । কিশোরী মেয়েদেরকে ধরে ধরে বেচে দেওয়াই তার কাজ। বিজয় বুঝতে পারে যে তাকে তার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এই লোকটাই কাজে আসবে। ১৫ বছর কেটে যায়। সেই বিজয় এখন রওফ লালার ডান হাত বিজয় চৌহান ( Hrithik Roshan) । মা-বোন এর সাথে তার যোগাযোগ নেই। এমন কি তার নিজের বোন জানেই না যে তার কোন ভাই আছে। বিজয় থাকে ছোট্ট এক বস্তিতে যেখানে থাকে কালী ( Priyanka Chopra) এর ন্যায় অনেক আপনজন।
এদিকে কাঞ্চার ইচ্ছা হলো মুম্বাইতে তার কোকেইনের ব্যবসা করা। কিন্তু পুলিশ অফিসার গাইতোন্ডে ( Om Puri) তাকে কোন সুযোগই দিচ্ছেনা। এরই ফাঁকে বিজয় রওফ লালাকে হটানোর ব্যবস্থা করে। ধীরে ধীরে বিজয়, রওফ লালার জায়গা নিয়ে নেয়। কাঞ্চাকে বলে চলেন শেয়ার ব্যবসা করি। এভাবে ধীরে ধীরে বিজয় ছুটে চলে তার প্রতিশোধের পথে।
মুভিটি আগের মুভির থেকে অনেকটা আলাদা করা হয়েছে। মুভিটিতে জাঁকজমকতা আগের মুভির চেয়ে অনেক কম। Hrithik, Sanjay Dutt এর চরিত্রটিকে খুব বিরাট ধরনের গ্যাংস্টার বলে মনে হয়নি। একই ঘটনাবলীর মধ্যে তুলনা করতে গেলে নতুন মুভিটি জঘন্য বলে মনে হবে। আগের মুভিটিকে যারা মনেপ্রাণে গেঁথে রেখেছেন তাদের এই মুভি দেখার সময় খালি বলতে ইচ্ছা করবে “ধুর মিয়া !! এইটা কিছু হইলো??” সেকারণে মুভিটিকে আগের মুভির সাথে তুলনা করা একেবারেই ঠিক না।
মুভিটিতে খুবই টানটান রোমাঞ্চকর কিছু দৃশ্য আছে যেগুলি আসলেই দারুণ হয়েছে। নতুন পরিচালক Karan Malhotra আসলেই দারুণ কাজ করেছেন। বিশেষ করে শেষ দৃশ্যে বিজয়-কাঞ্চার লড়াইকে অনেকে David Vs Goliath এর সাথে তুলনা করছে।
Hrithik অভিনয় বরাবরের মতোই অসাধারণ হয়েছে। তার চোখে যেন প্রতিশোধের আগুন ভালোভাবেই দেখা যাচ্ছিল। সবসময় নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাবার অদম্য ইচ্ছা অভিনয়ের মাধ্যমে দারুণভাবে দেখিয়েছে। আমার মতে Hrithik এর প্রাপ্য বলিউডের সিংহাসন এবার দিয়েই দেওয়া উচিত।
Sanjay Dutt এর চরিত্রটি একেবারেই অন্যরকম। ভয়ংকর এক খলনায়কের আবির্ভাব এখানে। মুভির প্রথমদিকে মনে হচ্ছিল যে Joker এর মত অসাধারণ কোন ভিলেনের দেখা পেতে যাচ্ছি। তবে মুভিতে কেমন জানি তাকে বেশি দেখা যায়নি। তাকে আরও একটু ভালোভাবে ব্যবহার করা যেত।
Rishi Kapoor ফাটাফাটি অভিনয় করেছে। দারুণ শক্তিশালী এক চরিত্র। যদিও মেয়েদের নিলাম করার দৃশ্যগুলিতে কেমন জানি গা রি রি করে। বিজয়ের বোনকে নিয়ে নিলাম করার দৃশ্যটি একদম ভালো লাগেনি।
Priyanka Chopra ‘র চরিত্রটি একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। Om Puri কে দারুণ লেগেছে। ছোট্ট বিজয় চরিত্রে Arish দুর্দান্ত। তবে হতাশ করেছে বিজয়ের মায়ের চরিত্রটি। Zarina Wahab এর প্রত্যেকটি দৃশ্য কপাল চাপড়াইসি। আগের মুভিতে ভয়ংকর শক্তিশালী এক চরিত্রের এই হাল?
মুভিতে Ajay – Atul এর গানগুলি খুব একটা খারাপ হয়নি। Katrina Kaif চিকনি চামেলীর মাধ্যমে আবার বাজিমাত করলেও গানের দৃশ্যায়ন আমার কাছে অনেক সস্তা বলে মনে হয়েছে। তবে Ajay-Atul এর আবহ সংগীত সত্যিই অসাধারণ হয়েছে।
মুভিটির খারাপ দিক মনে হয়েছে বিজয়-কাঞ্চার লড়াই যেন একটু প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ হয়ে গেল। কেন জানি বিজয়ের পথ কিছুটা বিচ্যুত হয়ে গেল। এছাড়া মুভিতে Hrithik এর চরিত্রের কিছুটা বিশ্বাসঘাতকতা ভালো লাগেনি।
পুরো মুভিটি-জুড়ে দর্শকদের যেন আঁকড়ে রাখে । এক কথায় দারুণ মুভি।
রেটিং- ৪/ ৫
২৩টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×