somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এতো শক্তি কোথায় পেলে আপু!

২২ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আয়নার সামনে দাড়িয়ে মেয়েটি আজকেও ঝর ঝর করে কেঁদে ফেললো। গলার কাছটাকে কি জানি কি আটকে আছে ভাবটা যাবার আগেই কান্না বন্ধ করে হাত দিয়ে চোখ মুছলো। বাসায় কেউ যদি টের পায় সে কাঁদছে, সবাই বেস্ত হয়ে যাবে। ভাইয়া হয়তো আজকে অফিস থেকে আসার পথে একগাদা চকলেট আনবে, মা হয়তো তার প্রিয় ডিশটা বানাবে। বাবা কানে কানে জিজ্ঞেস করবে মা বকেছে কিনা।কিন্তু সে কাউকেই বলতে পারবেনা কি হয়েছে। তার কষ্টটা যে শুধু চেপে রাখার কষ্ট, কাউকে বলার না, হাল্কা হবার না। এটা সে এই বয়সেই বুঝে গেছে।


এসব ভাবতে ভাবতেই কল খুলে হাত মুখ ধুয়ে স্কুলের জন্য তৈরি হয়ে নেয় মেয়েটি।সে এখন একাই আসাযাওয়া করতে পারে, কিন্তু বাসার সবার ধারনা সে পারবেনা। তাই কেউ না কেউ তাকে এখনও স্কুলে পৌঁছে দেয়। মেয়েটা মনে মনে হাসে আর বলে, আমি যে কত্ত বড় হয়ে গেছি, তোমরা ভাবতেও পারবেনা।

মেয়েটা বরাবর খুব ভালো ছাত্রী। খুব ভালো না হলে তার স্কুলে টিকে থাকাটাও খুব কঠিন। স্কুলের আপারা ওকে অনেক আদর করেন। ডিবেট বা সাইন্স ফেয়ার কিংবা হ্যান্ডবল, ভলিবল সব কিছুতেই মেয়েটির থাকা চাই। স্কুলে একদিন না আসলে ওর মনে হতো দিনটাই যেনও বৃথা। সেই একি মেয়ে আজকাল যখন স্কুলের গেইটে এসে দাঁড়ায় ওর ভেতরে ঢুকতে ইচ্ছে করে না। স্কুলের গেইট থেকে ক্লাস রুমের দূরত্ব যেনও অনন্ত অসীম।সব সময় চঞ্চল আর দুরন্ত মেয়েটা এখন স্কুলে ঢুকে ব্যাগটা শক্ত করে বুকে চেপে। পেটের ব্যথার অজুহাতে আজকাল এসেম্বলিতেও মেয়েটা যায় না। অথচ 'সোনার বাংলা' গাওয়ার সময় পিটি আপা সবার আগে মেয়েটার খোজ করেন। এই গানটা মেয়েটাও খুব প্রিয় একটা গান ছিলো। শুধু গান! পুরো বাংলা বিষয়টি ই ছিলো মেয়েটির সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয়। এক সময় প্রায়ই সপ্ন দেখত, বড় হলে বাংলা আপাদের মত গোল টিপ আর সুতি শাড়ি পরে স্কুলের বাংলা ক্লাস নেবে।


একটা বড় দীর্ঘশ্বাস ফেলে, মেয়েটা ক্লাসে ঢুকে দেখলো সবাই হুড়োহুড়ি করে আম্বিয়ার চরিত্র বিশ্লেষণ পড়ছে। আজকে ফার্স্ট পিরিয়ডে 'পরিমল স্যারের' ক্লাস।গত ক্লাসেই 'হাজার বছর ধরে' পড়ানোর পর আজকে পড়া ধরবেন। মেয়েটার মুখ কুঁকড়ে গেলো, সবাই ধরেই নিয়েছে সবচেয়ে ভালো করে উত্তরটা এই মেয়েটাই দেবে।কিন্তু কেউ জানে না, মেয়েটি বইয়ের একটা পাতাও উল্টে দেখেনি। যদি ও 'স্যার' শেষ করানর বহু আগেই মেয়েটি এই উপন্যাসটি কম করে হলেও ২০ বার পড়েছে। ওর খুব ভালো লাগার উপন্যাস ছিলও। না, আম্বিয়া নয়। টুনির মাঝেই নিজেকে খুজত মেয়েটি। এখন এই উপন্যাসটার নাম শুনলেও ঘিন্না লাগে। জঘন্য কিছু ঘটনা চোখের সামনে এসে এমন ভাবে নাচতে থাকে জে নিজের কাছ থেকে নিজে পালিয়ে বেড়াতে চায় মেয়েটি।

সেদিন পরিমল 'স্যার' বলেছিলেন একটু বসতে, হাজার বছরের চরিত্র বুঝিয়ে দেবেন। সরল বিশ্বাসে মেয়েটি অপেক্ষাও করছিলো। কিন্তু ......................................... নাহ, মেয়েটি আর ভাবতে পারে না। নিজেকে সংযত করে নেয়। কেউ কিছু বুঝে গেলে কিভাব্বে! নাহ, কাউকে কিচ্ছু বুঝতে দেওয়া যাবে না।

নাকের লোম ছিঁড়তে ছিড়তে পরিমল ক্লাসে ঢুকে। এক মুহূর্তের জন্য মেয়েটির চোখ আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। মাথা নিচু করে লোকটির কথা শুনে যায়। না শুনে উপায় নেই। তার জীবনে যাই হোক না কেন পরীক্ষা থেমে থাকবে না। মাকে জেমন তেমন বুঝিয়ে কচিং বাদ দিয়েছে, তাই ক্লাসের পড়া(!) তাকে শুন্তেই হবে। আর কানটা বন্ধ করে রাখার ও তো উপায় নেই।লোকটা মেয়েটাকে ডেকে দাড় করায়। ঝাড়ি দিয়ে বলে বেঞ্চের নিচে মুখ লুকাইসো কেন? আমার দিকে তাকায়ে পড়া শোনো। বলে শুকরের মত ঘত ঘত করে হাসে। মেয়েটা কুকড়ে যায়, একটা পাপড়ি না মেলা ফুলের মত।

মেয়েটা মাথা উঁচু করে, উচু করে দেখে সত্যি ই সেখানে কোন মানুষ দাঁড়িয়ে নেই। হিংস্র এক বন্য দাঁতালো জন্তু কি জানি কি বলে যাচ্ছে। মেয়েটার কানে কিছু ঢোকে না। মনে মনে ভাবে বাংলা ভাষাটা এতো নোংরা কেন!





পরিশেষেঃএই লিঙ্কের তথ্য মতে পরিমল স্বীকার করেছে সে ভিকারুন নিসার আরও ১২ জন ছাত্রিকে নির্যাতন করেছে। এই মেয়েগুলো প্রত্যেকটা দিন এই পশুর অধমের মুখামুখি হয়েছে, ৪৫ মিনিটের ক্লাস করেছে, পরিক্ষার খাতায় লিখতে হবে বলে হয়তো এই জানয়ারের লেকচার ও খাতায় তুলেছে। ,এই ছোট্ট ছোট্ট আপুগুলো এতো শক্তি কোথায় পেলো কেউ কি বলতে পারেন? আমি কোন ভাবেই পরিমলকে শিক্ষক হিসেবে ভাবতে পারছিনা। আমি জানিও না সে বাংলা বিভাগের কোন বিশয়গুলো পড়াতো। বাংলা ভাষাটাকে কি নির্মম ভাবে ধর্ষণ করে গেলো এই জানোয়ারটা আমরা কি বুঝতে পারছি! রফিক, বরকত; পারলে আমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন! আর আমার ছোট্ট বোনগুলোকে কি বলার আমি জানি না। আমি আসলেই জানি না। আপুরা তোমরা কেউ যদি এই লেখাটা পড়ে থাকো, মনে রেখ তোমরা পৃথিবীর যেকোনো সাইন্টিস্ট, নভোচারী বা বিশাল যেকোনো মানুষের চেয়ে অনেক বড়, অনেক অনেক উঁচুতে তোমাদের জায়গা।
১৮টি মন্তব্য ১৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×