somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজনীতি
২০০৬ এর ২৮ অক্টোবর ঢাকার রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।২২৮ অক্টোবর রাজপথে হাসিনার দ্বারা লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ফাসি চাই।

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কি করে মহাজোটকে ক্ষমতায় আনলো? একটি মহাবিপর্যয় চারদলের জন্য!

০৬ ই জানুয়ারি, ২০০৯ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এবারের নির্বাচনে মহাজোটভুক্ত আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দল মোট ভোটের ৫৬ শতাংশ পেয়ে ৮৭ শতাংশ সংসদীয় আসনে জয়ী হয়েছে। পক্ষান্তরে বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটভুক্ত অন্যান্য দল ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়ে পোনে এগার শতাংশ আসন পেয়েছে। এবার ‘না' ভোট পড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের কাছাকাছি।

এবারে নির্বাচনে মোট ৮ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৬৯৮টি ভোটের মধ্যে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ৬ কোটি ৮৯ লাখ ৪ হাজার ৯৬টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ৬ কোটি ৮২ লাখ ৯৫ হাজার ৬৪২টি। নির্বাচনে প্রদত্ত গড় ভোটের হার ৮৫ শতাংশের উপরে। তবে ৮৩টি আসনে এই হার ৯০ শতাংশের বেশি। শুধু বাংলাদেশ নয় সমসাময়িক বিশ্বের ইতিহাসে এই রেকর্ড অনন্য।

এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে ২৩০টি আসনে জয়ী হয়েছে। জাতীয় পার্টি ৪৯ লাখ ৫ হাজার ৪৫৯ ভোট পেয়ে ২৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। জাসদের তিনটি আসনে প্রাপ্ত ভোট হচ্ছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৭৬৪টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি পেয়েছে ২টি আসন এবং ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৩ ভোট। অন্যদিকে চারদলীয় জোটের প্রধান শরিক বিএনপি পেয়েছে ২ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৫ ভোট (৩৩.৩১%) এবং ২৯টি আসন। একইভাবে জামায়াত পেয়েছে মোট ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮২ ভোট (৪.৮১%) এবং দু'টি আসন, বিজেপি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৯ ভোট (০.২৫%) এবং ১টি আসন পেয়েছে। অর্থাৎ জোটগতভাবে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৬২ আসন এবং চারদলীয় জোট ৩২টি আসন পেয়েছে। এই ফলাফল অকল্পনীয়।

নির্বাচনের এই ফলাফল থেকে পর্যবেক্ষকরা হতভম্ব হয়ে পড়েছেন, স্বয়ং বিজয়ী দল এতে ভয়-বিহ্বল, দেশবাসী স্তম্ভিত এবং সম্ভবত বিশ্ববাসীও ঘটনার আকস্মিকতায় ফলাফল বিশ্লেষণ কিংবা এর উপর মন্তব্য করার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে আমি এই ফলাফলের উপর খবর প্রকাশিত হতে দেখেছি। তবে ভারতীয় দু'টি পত্রিকা ছাড়া আর কাউকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কিংবা বিশ্লেষণধর্মী কোনো মন্তব্য করতে এখনো দেখিনি। ২৯ তারিখে নির্বাচন শেষ হবার পর রাতের মধ্যে বেসরকারি ফলাফল ঘোষিত হয়ে যায়। কিন্তু দেশে এখনো স্বাভাবিক অবস্খা ফিরে আসেনি, সর্বত্র মানুষের মধ্যে কেমন একটা আতঙ্ক যেন কাজ করছে। এই আতঙ্ক দুটি কারণে, এক. নির্বাচনোত্তর হামলায় জান-মালের ক্ষয়ক্ষতির আশংকা যা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দুই. আওয়ামী লীগ শাসনের অতীত অভিজ্ঞতা। অনেকেই বলছেন, ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে জরুরি অবস্খা ঘোষণার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রাণচঞ্চল একটি বহুদলীয় গণতন্ত্র বলবৎ ছিল। ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনী ফলাফল এই দেশটিকে কার্যত: ‘গণতান্ত্রিক ডিক্টেটরশীপে' রূপান্তরিত করেছে। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন দখল করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিল। এবার মহিলা আসনসহ দলটির অনুকূলে নেয়া আসনের সংখ্যা ৩০০ অতিক্রম করবে। এই অবস্খায় এবং যেখানে এই দলে নেতা-কর্মীরা নিজেদের বাংলাদশের একচ্ছত্র মালিক বলে মনে করে, অন্যদের বলে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি সেখানে এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদেরকে নিকৃষ্টতম উৎপীড়কে পরিণত করবে না তা কি করে বলা যায়? ক্ষমতা নীতিহীন মানুষের দুর্নীতিগ্রস্ত হতে সাহায্য করে। এই ক্ষমতা যখন নিরঙ্কুশ হয় তখন তা ব্যক্তি বা দলকে আগা গোড়াই করাপ্ট করে তুলতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে যে আওয়ামী লীগের বেলায় এটা খুবই সহজ। অবশ্য দলটি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সত্যটি উল্টিয়ে দিতে পারতো। কিন্তু তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে এর পরিচয় পাওয়া যায়নি। তৃতীয় মেয়াদে পাওয়া যাবে কিনা সময়ই তা বলে দেবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠতা অর্জন এবং বিএনপি'র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শোচনীয় পরাজয়ের কারণ কি। এতদিন পর্যন্ত সারা দুনিয়া জেনে এসেছে যে এদেশে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা আওয়ামী মতাদর্শের অনুসারীদের তুলনায় অনেক বেশি। গত ত্রিশ বছরের নির্বাচনী রেকর্ডও এই সাক্ষ্যই দেয়। তা হলে এমন কি ঘটলো যে পার্লামেন্টে তাদের প্রতিনিধিত্ব ১০ শতাংশে নেমে এসেছে এবং আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব ৯০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে?

মহাজোটের জয়ের পেছনে বিশ্লেষকরা যে কয়টি কারণ উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : (১) নিজেদের মধ্যে মত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব শেখ হাসিনার পেছনে ঐক্যবদ্ধ ছিল (২) দলটির ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব দলের ভাঙ্গনই শুধু রোধ করেনি বরং কেয়ারটেকার সরকার আরোপিত জরুরি বিধির নির্যাতনকেও বহুলাংশ ঠেকিয়েছে। (৩) কেয়ারটেকার সরকারের পদক্ষেপসমূহের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের সাথে প্রকাশ্য ও গোপন যোগাযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় পদক্ষেপের ব্যাপারে দলটির সর্বাঙ্গীন সহযোগিতা নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্তসমূহকে প্রভাবানিðত করতে সাহায্য করেছে এবং এই সিদ্ধান্তসমূহ আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং চারদলীয় জোটের বিপক্ষে গেছে (৪) দলীয় জোটের বিরুদ্ধে দলটি অত্যন্ত নিপুণতার সাথে প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহকে ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে এবং অপশাসন, দুুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধিসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সকল অপকর্মকেও তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে জনমতকে নিজেদের অনকুলে নিয়ে এসেছে (৫) সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের জামায়াত বিরোধী তৎপরতা, যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের অভিযুক্তকরণ জামায়াত এবং জোট উভয়কেই নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে (৬) জনগণের পরিবর্তনের স্পৃহাকে আওয়ামী লীগ কাজে লাগিয়েছে এবং জনপ্রিয় ইস্যুসমূহকে দলটির মেনিফেস্টোয় অন্তর্ভুক্তকরণ বিশেষ করে ১০ টাকা দামে চাল সরবরাহ, বিনামূল্যে সার বিতরণ এবং প্রত্যেক পরিবারে অন্তত একজনের কর্মসংস্খানের প্রতিশ্রুতি বস্তিবাসী, রিক্সাশ্রমিক, চাকুরিজীবী এবং কৃষক শ্রেণীকে আকৃষ্ট করেছে।

পক্ষান্তরে বিএনপি'র পরাজয়ের কারণগুলো কোন কোন বিশ্লেষক এভাবে বর্ণনা করেছেন : (১) বেগম জিয়ার অনুপস্খিতিতে বিএনপির দ্বিধাবিভক্ত নেতৃত্ব তার সাংগঠনিক সংহতিকে সাংঘাতিকভাবে নষ্ট করেছে। এর ফলে দলটির বিরুদ্ধে পরিচালিত কেয়ারটেকার সরকারের নির্যাতন তৎপরতা ঠেকানোর ক্ষমতা তার অনেকটা সংকুচিত হয়ে পড়ে (২) বেগম জিয়াকে জেলে নেয়ার পর দলের যারা হাল ধরেছিলেন তারা দেশে কি ধরনের পরিবর্তন আসছে তা আঁচ করতে পারেননি। এতে করে পরিবর্তিত পরিস্খতির সাথে খাপ খাওয়ানোর লক্ষ্যে দলীয় নীতির পরিবর্তন সাধন এবং তার ভিত্তিতে দলীয় প্রার্থী-নির্বাচন তারা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে গেছেন। (৩) নির্বাচনী কমিশন ও কেয়ারটেকার সরকারের সাথে সহযোগিতা করার ব্যপারে বিএনপির অনীহা ও এক গুয়ে নীতি নির্বাচন প্রশাসনের সাথে তাদের বিরাট দূরত্বের সৃষ্টি করে এবং এর ফলে নির্বাচনী সিদ্ধান্তসমূহ তাদের অনুকূলে আনতে তারা ব্যর্থ হয়। (৪) জামায়াতের সাথে দলটির ঐক্য ভোটারদের পছন্দনীয় ছিল না (৫) দলীয় নেতাদের ব্যাপকভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়া এবং দল কর্তৃক তাদের বিরদ্ধে ব্যবস্খা গ্রহণে ব্যর্থতা ভোটারদের মধ্যে এই ধারণার সৃষ্টি হয় যে দলটি প্রকৃতপক্ষে ভোটারদের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে দেশে কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না। (৬) দলের নির্বাচনী প্রচারণা সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়নি। দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি মোকাবেলার জন্য তাদের ভোট প্রার্থনা প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো কাজে লাগেনি। (৭) প্রার্থী মনোনয়নে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দলের জন্য নেতিবাচক পরিস্খিতি সৃষ্টি করেছে এবং (৮) পার্টির ম্যানিফেস্টো ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি জোট মহাজোটের পরাজয় ও জয়ের পেছনে যে সমস্ত কারণগুলো কাজ করেছে সেগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখি। আমার মতে মহাজোটের জয় ও চারদলীয় জোটের পরাজয়ের পেছনে প্রধানত একটি কারণ দায়ী।

পাঠকরা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে, সেনা সমর্থিত বর্তমান কেয়ারটেকার সরকার ক্ষমতায় এসে ম্যান্ডেট বহির্ভূত অসংখ্য কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন। তারা দেশকে বিরাজনীতি করণের একটি অবাস্তব এজেন্ডা হাতে নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দলের সংস্কার, রাজনৈতিক ব্যবস্খার সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, বিচার ব্যবস্খার সংস্কার এমন কোনো কাজ নেই যাতে তারা হাত দেননি। দুই নেত্রীকে নির্বাসনে পাঠানোর ব্যর্থ পরিকল্পনাও তারা বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাদের এই কাজগুলো ছিল সংবিধান পরিপন্থী এবং কেয়ারটেকার সরকারের আওতা বহির্ভূত। এই সরকারের স্রষ্টাদের মধ্যে কেউ কেউ আবার উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠলেন, ক্ষমতার অংশীদার হবার বাসনা তাদের মধ্যে দেখা দিল। দুই নেত্রীকে তারা একাজে ব্যবহার করতে চাইলেন কিন্তু পারলেন না। এক নেত্রী অবশ্য এই সরকারের সকল কাজকর্মের বৈধতা দেয়ার ঘোষণা দিলেন। কিন্তু তথাপিও তাকে দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলে আখ্যায়িত করে প্রেস নোট জারি করা হলো। অন্য নেত্রী নিশ্চুপ থাকলেন; বৈধতার বিষয়ে এতটুকু বললেন যে ক্ষমতায় গেলে বিষয়টি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে। মামলা দিয়ে হয়রানী প্রসঙ্গে তিনি আরো বললেন যে নির্বাচিত সরকারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যদি একটা মামলা হয় তাহলে অনির্বাচিত সরকারের সংবিধান পরিপন্থী কাজকর্মের জন্য দশটা মামলা হতে পারে। এই অবস্খায় সরকার প্রমাদ গুণলেন। একজন তাদের দৃষ্টিতে দেশের জন্য বিপজ্জনক, কিন্তু তাদের জন্য নয়, আরেকজন দেশের জন্য বিপজ্জনক না হলেও তাদের জন্য বিপজ্জনক। তারা প্রথমজনকেই বেছে নিলেন। নির্বাচনের সকল তৎপরতার টার্গেট হয়ে উঠলো বিএনপি ও তার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ প্ররোচণায় বিএনপি নেতৃত্বে ভাঙ্গন আনা হলো এবং এই প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত দৃষ্টিকট্টভাবে দলটির মূলধারাকে বাদ দিয়ে বিচ্ছিন্ন অংশকে স্বীকৃতি দিয়ে দিলেন। এর আগে শোনা গেলো যে সশস্ত্র বাহিনীর একটি গোয়েন্দা সংস্খার তরফ থেকে গান পয়েন্টে বিএনপি'র স্খায়ী কমিটির কিছু সদস্যকে ডেকে নিয়ে একটি কাগজে সই করিয়ে একজন দলের অস্খায়ী চেয়ারপার্সন এবং অন্যজনকে মহাসচিব বানানো হলো এবং তাদের অফিসিয়েল স্বীকৃতিও দেয়া হলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিরপেক্ষতার সকল নিয়মনীতি লংঘন করে বিএনপি'র গঠনতন্ত্রের সমালোচনা করতে থাকলেন। নির্বাচনী মাঠ রোড ম্যাপ ঘোষণার পূর্ব থেকেই আওয়ামী জোটের জন্য মসৃণ এবং বিএনপি জোটের জন্য তখন থেকেই কঠিন করে তোলার কাজ শুরু হলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে গোটা কমিশনই আওয়ামী লীগ ও তার নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত দলগুলোর কোচ-এর ভূমিকা পালন করতে শুরু করলো। নির্বাচনী-বিধিমালা সংশোধিত জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, সংসদীয় এলাকা পুন: নির্ধারণসহ নির্বাচন সংক্রান্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়াই আওয়ামী লীগের সাথে পরামর্শক্রমে করা হয়েছে। কমিশনের এই পক্ষপাতিত্ব নগ্নভাবে ধরা পড়ার পর বেগম জিয়া সিইসির পদত্যাগ দাবি করেছিলেন। কিন্তু এই দাবিতে চারদলীয় জোট অটল থাকেনি।

এদিকে মহাজোটের প্রার্থী নির্বাচনেও সরকারি ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বস্তুত বাইরে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের মহড়ার মাধ্যমে। সরকার সকল দলের কথিত দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা ও তাদের গ্রেফতারের নাটক দেখালো ও ভেতরে ভেতরে তারা একটি দল ও জোটের টার্গেট করা প্রার্থীদের পক্ষেই সর্বদা কাজ করেছেন। একটি উদাহরণ দিচ্ছি। ২০০৭ সালের নবেম্বর মাসে পেশাগত কাজে আমি রাজশাহীর তানোর সফর করেছিলাম। ঐ এলাকায় ওমর ফারুক চৌধুরী নামে আওয়ামী লীগের একজন নেতা আছেন যিনি এবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। দিনার ফুড প্রোডাক্টস এর মালিক এই ভদ্রলোকের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী মামলা করেছিল। দীর্ঘদিন তিনি পলাতক ছিলেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন যে, তার গা ঢাকা থাকা অবস্খায় একদিন দেখা গেলো যে সেনাবাহিনীর একজন মেজরের নেতৃত্বে এক দল আর্মী অফিসার ও র‌্যাব কর্মী তার বাড়িতে হাজির হয়েছেন। এলাকাবাসী প্রথম মনে করেছিল যে তারা মামলা সংক্রান্ত কাজে এসেছে। পরে দেখা গেল যে এই কর্মকর্তারা তার বাড়ির পুকুরে মাছ ধরছেন। এর কিছুদিন পর দুর্নীতির অভিযোগগুলোর আর হদিস পাওয়া যায়নি। একটি বিশেষ বাহিনীর তরফ থেকে সারা দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি'র নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ ও তার অংগ সংগঠন শুধু পৃষ্টপোষকতা পায়নি বরং সাংগঠনিক ও বৈষয়িকভাবেও লাভবান হয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের অনেকেই তাদের কনটাক্ট পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে। প্রশাসনিক সহযোগিতায় বিশেষ এজেন্সি দিয়ে প্রত্যেকটি ইউনিয়ন সার্ভে করা হয়েছে এবং নির্বাচনের জেতার কৌশল উদ্ভাবন করেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনী ফলাফলের উপর তার প্রভাব পড়েছে। আওয়ামী জোটের নির্বাচনে জেতার এটাই মুখ্য কারণ। চারদলীয় জোটের হারবার পেছনে যে গৌণ কারণগুলো কাজ করেছে তার মধ্যে রয়েছে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই জোটের নির্বাচন প্রস্তুতি। জোট নির্বাচনে যাবে কি যাবে না, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিদ্যমান পক্ষপাত দুষ্ট অবস্খায় গ্রহণ করা হবে কি হবে না এ ব্যাপারে তারা সময় ক্ষেপণ করেছেন। জোটগতভাবে তাদের প্রর্থিতা চূড়ান্ত করতেও সময় লেগেছে। এ প্রেক্ষিতে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য তারা যে সময় পেয়েছেন তা ছিল অত্যন্ত সংকীর্ণ। তথাপিও তাদের জনসভা, মিটিং মিছিলে বাঁধ ভাঙ্গা জনতার যে ঢল পরিলক্ষিত হয়েছিল তা ছিল অভূতপূর্ব। মানুষের এই সমর্থন ভোটের আকারে তাদের বাক্সে পড়েনি এটা টিক নয়, তথাপিও তাদের হারার পেছনে যে কারণ তা ছিল অন্যত্র।

চারদলীয় জোট তথা বিএনপি-জামায়াত তাদের সহজাত বিশ্বাস অনুযায়ী সেনাবাহিনীসহ এবারও আইন শৃকôখলা বাহিনীর নিরপেক্ষতার উপর খুব বেশি ভরসা করেছিল। কার্যত: তাদের এই ভরসা কাজে আসেনি। ইতোপূর্বে এই সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অঢেল অর্থের ছড়াছড়ি হতে দেখা গেছে। যদিও চারদলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সংসদ নির্বাচনে তাদের অংশ গ্রহণ প্রতিদ্বন্দবী জোটের জন্য প্রতিযোগিতাকে কঠিন করে তোলার প্রেক্ষাপটে এবার অর্থের ছড়াছড়ি ছিল ব্যাপক। অভিযোগ অনুযায়ী টি স্টল, মুদি দোকান, বিশেষ কিছু এনজিও দফতর এই অর্থের বাটোয়ারা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। ফ্লেক্সিলোডের মাধ্যমে টাকা বিতরণ হয়েছে, নগদ বন্টন পদ্ধতি তো ছিলই। প্রপাগাণ্ডা কৌশল হিসেবে পত্রপত্রিকা এবং কিছু টিভি চ্যানেলে তারা চারদলীয় জোট কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগ ও তাদের গ্রেফতারের কল্পিত ঘটনা ছড়িয়ে দিয়ে মহাজোট নির্বিঘেí এই কাজ করেছে। কোন কোন স্খানে কিছু আর্মী অফিসারদের বিরুদ্ধেও অর্থ বন্টনের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তথাপিও উপস্খিত ভোটারদের ভোটের উপর তারা আস্খা রাখতে পারেনি, টার্গেট করে দেড় শতাধিক আসনে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ অনুপস্খিত ভোটারকে উপস্খিত দেখিয়ে নিপুন কারচুপির মাধ্যমে তাদের ভোট বাক্সে ঢুকিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিনিটে এক বা একাধিক ভোট পড়ার এটাই একমাত্র ব্যাখ্যা বলে আমার ধারণা। ভোট নেয়ার ক্ষিপ্রতা ছাড়াও কোন কোন কেন্দ্রে ১০০ ভাগের বেশি ভোট কাস্ট করেও এবার নির্বাচন কমিশনকে অনন্য নজির স্খাপন করতে দেখা গেছে।

এবারই প্রথম বাংলাদেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা তৈরির ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে। তবে ভোট কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং এজেন্টদের অভিন্ন ভোটার তালিকা ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এজেন্টদের যে তালিকা দেয়া হয়েছে তাতে ছবি ছিল না। ভোট নেয়ার জন্য ভোটারদের পরিচয় যাচাইও করা হয়নি। আইডি কার্ড কোনো কাজে আসেনি। ফলে বোগাস ভোট যেমন রোধ করা যায়নি তেমনি বৈধ ভোটাররাও ভোট দিতে পারেননি। এবার নির্বাচন কমিশন ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়িয়েছেন কিন্তু কেন্দ্র নির্বাচনের মানদণ্ড ব্যাপকভাবে লংঘন করেছেন। নতুন কেন্দ্রসমূহ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ দল ও জোটের নেতাকর্মীদের সুবিধাজনক স্খানে স্খাপন করা হয়েছে যেখানে চারদলীয় জোটের নেতাকর্মীদের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে দেখা যায়। অনেকে কেন্দ্রে গিয়ে ফিরে এসেছেন তালিকায় তাদের নাম খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি আমার পরিবারের সকল সদস্য এক কেন্দ্রে ভোট দিতে পারিনি। একই হোল্ডিং নং এবং একই ঠিকানা সত্ত্বেও আমাদের চারজনকে তিনটি কেন্দ্রে ভোট দিতে হয়েছে। আমিও আমার স্ত্রী এক কেন্দ্রে, ছেলে এক কেন্দ্রে এবং মেয়ে আরেক কেন্দ্রে। ভোটের দু'দিন আগ থেকে বহু চেষ্টা করে হয়ত আমাদের পক্ষে কেন্দ্র খুঁজে ভোট দেয়া সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ? ভোটার তালিকার ভুল ভ্রান্তির কথা নাই বা বললাম। হাজার হাজার ভোটকেন্দ্রে বিএনপি'র এজেন্ট ছিল না। তাদের হয় বের করে দেয়া হয়েছে অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্রে আসতেই দেয়া হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে এমনও খবর পাওয়া গেছে যে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিএনপি কর্মীদের অনুপস্খিতিতে নিজেরাই বিএনপির এজেন্ট সেজে ভোট নিয়েছে। প্রশাসন এক্ষেত্রে তাদের সহায়তা করেছে। কেয়ারটেকার সরকার ও যৌথবাহিনী সারাদেশে দুর্নীতি দমনের নামে যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এতে জেলা উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী আত্মগোপনে বাধ্য হয়েছিল। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ফিরে আসলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফিরে এসে নির্বাচনী কাজে স্বাভাবিকভাবে অংশ নিতে দেয়া হয়নি। সংগঠন হিসেবে বিএনপিও নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি। এই অবস্খায় ভোট কেন্দ্রও তাদের জন্য ছিল অরক্ষিত। বিএনপির ম্যানিফেস্টো ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেনি। একথাটির সাথে আমি পুরোপুরি একমত নই। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি ম্যানিফেস্টো দু'টি মিলিয়ে দেখলে গুণগত পার্থক্য খুব কমই পাওয়া যাবে। আওয়ামী লীগ অতিরিক্ত যা করেছে সেটা হচ্ছে ১০ টাকায় চাল এবং বিনামূল্যে সার বিতরণের প্রতিশ্রুতি এবং পরিবার পিছু একজনের কর্মসংস্খানের নিরাপত্তার অঙ্গীকার। রিক্সাওয়ালা, বস্তিবাসী এবং দরিদ্র কৃষকদের একটি অংশের জন্য এই প্রতিশ্রুতিগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল সন্দেহ নেই, কিন্তু এতে তাদের বাক্সে নিরঙ্কুশ ভোট পড়ার কথা নয় যদি না সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কারচুপি না হতো। যুদ্ধাপরাধী ইস্যুটি নির্বাচনী রাজনীতিতে চমক সৃষ্টি করলেও ভোটকে প্রভাবিত করেছে বলে আমি মনে করি না। জামায়াতের আসন সংখ্যা হন্সাস পেয়েছে নীল-নকশার নির্বাচনের অংশ হিসেবে, মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করার কারণে নয়। জামায়াতের ৩৮ জন প্রার্থীর মধ্যে তিন জনই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, গাজী নজরুল ইসলাম, আতাউর রহমান এবং মনিরুজ্জামান মিন্টু। তথাকথিত যুদ্ধাপরাধই যদি ইস্যু হয় তাহলে এদের হারানো হলো কেন? ইসলামের নাম নিলে, ইসলামকে অনুসরণ করলেই কি মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়? যাক এই ইস্যুকে নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ বলে মনে করলে দেশ এবং মাটির সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। দেশের মানুষ জানে কে কি করেছে, তারা খুনী, লুটেরা না দেশদ্রোহী এবং তার ভিত্তিতেই তারা ভোট দেয়। এবার জামায়াতের ভোট বেড়েছে ১৪%। কিন্তু আসন বাড়েনি, কারণ আমি আগেই উল্লেখ করেছি। ৩৮টি আসনে এবার ৩২,৮৮,৭৮২ জন ভোটার জামায়াত প্রার্থীদের ভোট দিয়েছে। গত নির্বাচনে তারা ভোট পেয়েছিল ২৩,৮৫,৩৬১টি ২৬১টি আসনে জামায়াত কর্মী সমর্থকদের ভোট-এর অন্তর্ভূক্ত নয় এবং তাদের সংখ্যা নিতান্ত কম বলে মনে করার কারণ নেই। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২,২৭,৫০৮৬৫ ভোট পেয়েছে, আগের নির্বাচনে পেয়েছে ২,২৩,৬৫,৫১৬ ভোট। অর্থাৎ তারা গত নির্বাচনের তুলনায় ৮৩,১১৩ ভোট কম পেয়েছে। এটা কি বিশ্বাসযোগ্য?

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এবার ভোট পেয়েছে ৩,৩১,৪৯,৯০৪টি গত নির্বাচনে তারা পেয়েছিল ২,২৩,৬৫,৫১৬টি। অর্থাৎ তাদের ভোট বেড়েছে ১,০৭,৮৪,৩৮৮টি। আওয়ামী লীগ গত ৭ বছরে এমন কি অবদান রেখেছে যাতে এক কোটিরও বেশি লোক হুমড়ি খেয়ে তাদের দিকে ঝুঁকে পড়লো? সাধারণ মানুষের সমর্থন নয়, তিনটি শক্তির যৌথ অপারেশন ছাড়া এই অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটানো সম্ভবপর নয় বলে অনেকের ধারণা। আমি তাদের সাথে একমত।




৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এমন কেন?

লিখেছেন তাই-ফি, ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৪৪

একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।

শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×