দেশব্যাপী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দবীদের উপর নির্বাচনোত্তর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মাধ্যমে স্বয়ং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার অংগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোই এর সূচনা করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীরা ক্ষমতা গ্রহণ করেই বললেন যে এটা আওয়ামী লীগ বা তার সহযোগীদের কাজ নয়; বিএনপি-জামায়াতের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এসব হত্যাযজ্ঞ সংঘর্ষ আওয়ামী লীগের উপর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বললেন যে, হিংসাত্মক কার্যকলাপ ব করার জন্য তিনি পুলিশ বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পাশাপাশি প্রশাসনকে সাহায্য করা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনের জন্য দলীয় কর্মীদেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারের আইন শৃংখলা বাহিনী এবং দলীয় কর্মীদের এক কাতারে নিয়ে যাওয়ার তার এই নির্দেশ হিতে বিপরীত করেছে। প্রতিপক্ষের উপর হামলা, চাঁদাবাজি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্পত্তি দখল এবং সন্ত্রাস ও হিংসাত্মক কার্যকলাপের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের যেখানে সকলেই ক্ষমতাসীন তার দলের সাথে সম্পৃক্ত সেখানে দলীয় কর্মীদের উপর আইন শংখলা রক্ষার দায়িত্ব ভাগ করে দেয়ায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগসহ আওয়ামী লীগের প্রতিহিংসা পরায়ণ অংশটি নতুন শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠে। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর একটি বক্তব্যও আগুনে ঘৃতাহুতির কাজ করেছে বলে অনেকে মনে করেন। তিনি বলেছেন যে, যারা দেশব্যাপী হিংসাত্মক কার্যকলাপ বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তথা বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে তারা প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের লোক নয়, বিএনপি-জামায়াত থেকে আওয়ামী লীগে সদ্য যোগদানকারী দৃষ্কৃতকারী। আওয়ামী লীগে নতুন সদস্যের প্রয়োজন নেই। তার এই মন্তব্য ছিল বাস্তব অবস্খার পরিপন্থী। অকুস্খলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানেন সন্ত্রাসীরা কারা, আওয়ামী লীগের পুরাতন নেতাকর্মী না বিএনপি-জামায়াতের ভোল পাল্টানো নব্য আওয়ামী লীগার। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য দিন বদলের রাজনীতির পরিচায়ক মনে হয়নি, তার কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল এতে তার মূলে কুঠারাঘাত পড়েছে। ফলে সন্ত্রাসীরা অনুপ্রাণিত হয়েছে। দলীয় পরিচয় না দেখে যদি অপরাধকে অপরাধ গণ্য করে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের ধরা হতো তাহলে সকলেই সিগন্যাল পেয়ে যেতো, আইনের শাসন কায়েম হতো, সুশাসনের জন্য যা অপরিহার্য। কিন্তু তা হয়নি। ফলে দলীয় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী বাব পত্রিকাগুলোকেও বলতে হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলান। আবার এমপির নেতৃত্বে কাস্টমস হাউজেও হামলা হচ্ছে। খবর বেরুচ্ছে, এক হাজার দেড় হাজার টাকায় হত্যা ছিনতাই দেশে সবই সম্ভব হয়ে উঠেছে। অপরাধ প্রবণতা এতই মারাত্মক হয়ে উঠছে যে, স্কুল ছাত্রদের অপরাধে সম্পৃক্ত করার জন্য তাদের হাতে বিদেশী অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে। সীমান্ত পথে অবাধে অস্ত্র আসার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যাচ্ছে, দু'একদিন সেখানে থেকে অস্ত্র নিয়ে ফিরে আসছে। এই অবস্খায় আমাদের সীমান্তরক্ষীরা কি করছেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্ত পথে চোরাচালান ও অস্ত্র পাচার রোধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার তাগিদও দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্খা যা তাতে দেখা যায় যে, চোরাচালান এবং অস্ত্র পাচার দু'টোই বেড়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দেড় সপ্তাহের মাথায় যদি দেশের এই অবস্খা হয় তাহলে বাকী ২৬৫ সপ্তাহ শেষে দেশ কোথায় গিয়ে পৌঁছবে দেশের মানুষকে তা ভাবিয়ে তুলেছে।
প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তা নির্মূলের জন্য একটি আঞ্চলিক টাস্কফোর্স গঠনের লক্ষ্যে বৃটেনের সহায়তা চেয়েছেন। মার্কিন সাহায্যও হয়ত চাইবেন, ভারতীয় সাহায্য তো পাবেনই। এই টাস্কফোর্স বাংলাদেশকে আফগানিস্তান কিংবা পাকিস্তান বানাবে কি না অনেকেই এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তার কনসেপ্টটি চমকপ্রদ, তবে রূপরেখা এখনো বোধগম্য নয়। নিজ দলের সন্ত্রাসীদের প্রণোদনা দিয়ে দেশে বা বিদেশে সন্ত্রাস দমন করা যায় না এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঠেঙ্গানোর ফর্মুলা যে সঠিক ফর্মুলা নয় তা উপলব্ধি করার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সম্ভবত মহাজোটভুক্ত সকল দলেরই রয়েছে। এ থেকে যত তাড়াতাড়ি আমরা শিক্ষা নিই ততই মঙ্গল। অকুস্খলের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানেন সন্ত্রাসীরা কারা, আওয়ামী লীগের পুরাতন নেতাকর্মী না বিএনপি-জামায়াতের ভোল পাল্টানো নব্য আওয়ামী লীগার। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য দিন বদলের রাজনীতির পরিচায়ক মনে হয়নি, তার কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল এতে তার মূলে কুঠারাঘাত পড়েছে। ফলে সন্ত্রাসীরা অনুপ্রাণিত হয়েছে। দলীয় পরিচয় না দেখে যদি অপরাধকে অপরাধ গণ্য করে তাৎক্ষণিকভাবে অপরাধীদের ধরা হতো তাহলে সকলেই সিগন্যাল পেয়ে যেতো, আইনের শাসন কায়েম হতো, সুশাসনের জন্য যা অপরিহার্য। কিন্তু তা হয়নি। ফলে দলীয় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী বাব পত্রিকাগুলোকেও বলতে হচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে সামলান। আবার এমপির নেতৃত্বে কাস্টমস হাউজেও হামলা হচ্ছে। খবর বেরুচ্ছে, এক হাজার দেড় হাজার টাকায় হত্যা ছিনতাই দেশে সবই সম্ভব হয়ে উঠেছে। অপরাধ প্রবণতা এতই মারাত্মক হয়ে উঠছে যে, স্কুল ছাত্রদের অপরাধে সম্পৃক্ত করার জন্য তাদের হাতে বিদেশী অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে। সীমান্ত পথে অবাধে অস্ত্র আসার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে যাচ্ছে, দু'একদিন সেখানে থেকে অস্ত্র নিয়ে ফিরে আসছে। এই অবস্খায় আমাদের সীমান্তরক্ষীরা কি করছেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্ত পথে চোরাচালান ও অস্ত্র পাচার রোধে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করার তাগিদও দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত অবস্খা যা তাতে দেখা যায় যে, চোরাচালান এবং অস্ত্র পাচার দু'টোই বেড়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দেড় সপ্তাহের মাথায় যদি দেশের এই অবস্খা হয় তাহলে বাকী ২৬৫ সপ্তাহ শেষে দেশ কোথায় গিয়ে পৌঁছবে দেশের মানুষকে তা ভাবিয়ে তুলেছে।
এবার দেখা যাক......................
নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের দ্বিতীয় দিনই একটি অঘটন ঘটেছে। এই অঘটনটি ছিল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্যান্য সিনিয়র নেতারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় গেলে তারা ১০ টাকা কেজি দরে চাল এবং বিনামূল্যে সার সরবরাহ করবেন। ক্ষমতায় যাবার একদিন পরেই তারা এই প্রতিশ্রুতিটি অস্বীকার করলেন, বললেন যে, তারা কখনো এই প্রতিশ্রুতি দেননি, তাদের ম্যানিফেস্টোতে একথা কোথাও লেখা নেই। বিএনপি-জামায়াত তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর জবাবে কয়েকটি পত্রিকা দিন তারিখ উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলো যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের কোটালী পাড়া, বগুড়ার শেরপুর এবং রংপুরের পীরগঞ্জের জনসভায় এবং তার দলের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা জনাব জিল্লুর রহমান তার নির্বাচনী এলাকায় এই প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন। দৈনিক প্রথম আলো ও জনকণ্ঠ পত্রিকাসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এই খবর ছাপা হয়েছে। তারা এর ফটোকপিও ছাপিয়েছেন। এর পর দলের নেতারা আর উচ্চবাচ্য করেননি। চাল প্রতি কেজি ১০ টাকায় নামবে কিনা আমি জানি না। তবে বাজারে এখন ২৩/২৪ টাকায় একটা চাল পাওয়া যাচ্ছে। লোকজন বলাবলি করছে যে, এই চালটি এতই ভেজা যে দাঁতের নীচে দিলে চ্যাপ্টা হয়ে যায়, রান্না করে খাওয়া যায় না। চাল ভিজিয়ে ওজন বাড়িয়ে কেজিতে দু'চার টাকা কমিয়ে পড়তা মিলানোর চেষ্টা কিনা এটা কে জানে।
মহাজোট সরকারের সামনে অনেকগুলো এজেন্ডা। এই এজেন্ডাগুলোর সাথে দৃশ্যমান ও অদৃশ্য দেশী বিদেশী অনেক শক্তি জড়িত। ইতোমধ্যে একটি ইংরেজী সাময়িকী খবর দিয়েছে যে, নির্বাচনের আগে বেগম জিয়াকে একটা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের অনুরোধ করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল যে তিনি যদি তাতে স্বাক্ষর করেন তাহলে নির্বাচনে তাকে জেতানো হবে এবং তিনি ক্ষমতায় আসবেন। বেগম জিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। নির্বাচনের পূর্বে ও নির্বাচনের প্রাক্কালে যে আবহ সৃষ্টি করা হয়েছিল তাতে এ তথ্যটিকে মিথ্যা বলে গণ্য করা যায় বলে মনে হয় না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছেন। তার সামনে প্রতিশ্রুতির পাহাড়। তিনি যে বাঘের পিঠে সওয়ার হয়েছেন এবং দেশের যে বাস্তবতা সে সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে তিনি কিভাবে এগুবেন দেশবাসী তা দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে।
কেউ কেউ বলছেন যে, এবারের আওয়ামী লীগ সরকার '৭১ এবং '৯৬ এর আওয়ামী লীগ সরকার থেকে আলাদা। অতীতে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দবীদের ক্ষমা করে তারা যে ভুল করেছেন এবার তা করবেন না, বিশেষ করে ইসলামপন্থীদের তারা উৎখাত করবেন। এই এজেন্ডাটি তাদের যত না নিজেদের তার চেয়ে বেশি সীমান্তের ওপারের। ভারত আল্লাহর দ্বীন ইসলামের সাথে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসকে গুলিয়ে ফেলে যে বড়িটা তৈরি করেছে তা ক্ষমতাসীন দলের কর্ণধারদের অনেকেই গিলে ফেলেছেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দলের অন্তর্ভুক্ত কিনা আমি জানি না। তবে তার পিতাও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবর রহমান এদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না বলেই বাংলাদেশকে ইসলামী দেশসমূহের সংস্খা ওআইসির সদস্য বানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন যে, বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হবে। তার এই ঘোষণার সাথে বাহাত্তরের সংবিধান পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকারের একটা মিল হয়তো রয়েছে। বাহাত্তর-উত্তর সংবিধানের মূলনীতি থেকে ইসলামী ধারাগুলো বাদ দিয়ে ভারতীয় সংবিধানের আদলে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিকতা ফিরিয়ে আনতে গেলে ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে কি ধরনের প্রতিক্রিয়া হবে এবং ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশগুলো তা কিভাবে গ্রহণ করবে তা দেখার বিষয়। বায়তুল মোকাররম মসজিদে খতিব নিয়োগকে কেন্দ্র করে মুসল্লীদের একাংশের ন্যায় এখানে প্রতিবাদের বিস্ফোরণ ঘটবে না মানুষ তা মাথা পেতে নেবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে প্রতিবেশী ভারত যে এ কাজটি খুব তাড়াতাড়ি করাতে চায় তাতে সন্দেহ করার অবকাশ নেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসতে না আসতেই তারা কূটনৈতিক চাপ দিতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী ভারত সরকার তাদের বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর ঢাকা সফরের আগেই কিছু মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্খা গ্রহণের জন্য নতুন সরকারকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করা তাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। বাংলাদেশে ইসলামের প্রসার ঘটুক ভারত তা চায় না। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত: বাংলার মুসমানদের কারণেই ১৯৪৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গ এবং আসামের সিলেট নিয়ে পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান গঠিত হয়েছিল যা পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দ্বিজাতি তত্ত্ব ছিল এর ভিত্তি। গণভোটে এই অঞ্চলের মুসলমানরা অবিভক্ত ভারতের বিরুদ্ধে রায় না দিলে দেশ ভাগ হতো না এবং হিন্দুরা জমিদারী হারাতো না। দ্বিতীয়ত: ভারত চায় না যে, এখানে ইসলামভিত্তিক সমাজ ব্যবস্খা কায়েম হোক। কেননা এই সমাজ ভারতীয় সমাজের ভিত্তি নড়বড়ে করে দিতে পারে। পাঠকরা নিশ্চয়ই জানেন যে, ভারতের মোট হিন্দু জনসংখ্যার প্রায় ৪৩ শতাংশ হচ্ছে দলিত নিম্ন বর্ণের। উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের অত্যাচারে নিেষিত নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের মধ্যে এক সময় ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল, যা ঠেকাতে বেশ কয়েক বছর আগে সরকারকে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয়েছে। বাংলাদেশ যদি ইসলামী সাম্য ও ন্যায় বিচারের দৃষ্টান্ত হয়ে যায় তা হলে ভারত সরকারের পক্ষে নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের দাবিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে তাদের যদি অর্ধেকও বিদ্যমান প্রবণতা অনুযায়ী ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হবার সুযোগ পায় তা হলে ভারতের ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ টুকরো টুকরো হয়ে যেতে পারে বলে তাদের আশংকা কি ফুরিয়ে যাবে? অবশ্যই না ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

