উচ্চশিক্ষাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯২ সালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৭ নম্বর আইনে বলা হয়,‘ কলেজ শিক্ষার স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচী আধুনিকীকরণ ও শিক্ষার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, যোগ্যতা বৃদ্ধিসহ কলেজের যাবতীয় বিষয় ও ব্যবস্খাপনার দায়িত্ব একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর ন্যস্ত করা সমীচীন। বিশ্ববিদ্যালয়টি তার এ লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে বলে মনে করেন প্রতিষ্ঠানটির সাথে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা- কর্মচারীগণ। তারা মনে করেন দেশী বিদেশী চক্রান্তকারীরা চায় না এ দেশের সাধারণ মানুষের সন্তানরা উচ্চশিক্ষা লাভ করে মাথা উঁâু করে দাঁড়াক। তাই তারা উঠে পড়ে লেগেছে সংস্কারের নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করতে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আগে প্রতিবছর হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ভারতে যেত উচ্চশিক্ষার জন্য, এখন তা বìধ হয়ে যাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে, এ চক্রান্তের সাথে ভারত এবং এ দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও জড়িত বলে মনে হয়।দেশের সব কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মিলে আসন সংখ্যা মাত্র ৪০ হাজার। অপরদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধূু অনার্সেই আসন সংখ্যা ১লাখ ৮০ হাজার। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ায় গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের সন্তানরা বাড়ির পান্তাভাত খেয়ে মান সম্মত অনার্স মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিতর্কিত করতে পারলে সচেতন অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পেরে ভারত এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে ঝুঁকবে। এর ফলে কমপক্ষে ৩০ হাজার ছাত্র-ছাত্রী প্রতিবছর ভারতে যাবে উচ্চশিক্ষার জন্য।এ বাণিজ্যিক দিক বিবেচনা করে ভারত দেশের একশ্রেণীর শিক্ষাবিদ ও মিডিয়াকে কাজে লাগিয়েছে সংস্কারের নামে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছে।
যদি সংস্কারের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজগুলোকে দেয়া হয় তাহলে উচ্চশিক্ষার মান আগের চেয়ে নীচে নেমে যাবে। কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের ছাত্রছাত্রীদের নিয়েই হিমশিম খাচ্ছে। ১৭ বছর আগে যখন কলেজগুলো বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল তখন দেখা গেছে কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরা সবসময় বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার হতো। তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হতো। এখন যে শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন তারাই প্রশ্নপত্র তৈরি এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন, ফলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে কোন সমস্যায় পড়তে হয় না। ১৭ বছর আগে এ সুবিধা ছিল না, পাঠ্যক্রম পরিচালনা করতেন কলেজের শিক্ষকগণ, কিন্তু প্রশ্নপত্র এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ, ফলে অনেক সময়ই দেখা যেত প্রশ্নের সাথে পাঠ্যসূচীর কোন মিল নেই, পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করার অভিযোগও রয়েছে। তখন ছাত্র অসন্তোষের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পরিদর্শক হত্যার মত অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
সূত্রটি আরো জানায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ১৮শ কলেজ আছে। ২৯টি বিষয়ে অনার্স কোর্স আছে। এমন অনেক বিষয়ে অনার্স কোর্স পড়ানো হয় যা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। এ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব আয়ে চলে। প্রায় ২শ’ কোটি টাকার ফান্ড আছে। দুর্নীতির ধুয়া তুলে এ বিশাল প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করা হচ্ছে, কিন্তু কি সেই দুর্নীতি তা কেউ বলতে পারছে না। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী শিক্ষক কেলেংকারীর মত ঘটনা ঘটছে, অন্যান্য প্রায় সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়েই কথা আছে। কিন্তু কই ঐ সব বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কারের তো কোন প্রশ্ন আসছে না? এবার ভর্তি নিয়ে কিছু কিছু কলেজে যে অল্পবিস্তর দুর্নীতি হয়েছে তার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বর্তমান সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগ ও কোন কোন ক্ষেত্রে মন্ত্রী এমপিরা দায়ী। তাদের দুর্নীতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে কলেজ শিক্ষক এমন কি অধ্যক্ষরা পর্যন্ত লাঞ্ছিত হয়েছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হওয়ার কারণে সারাদেশের কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা একই সিলেবাস অনুসারে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে , বারবার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার হয়রানি থেকে রেহাই পেয়েছে, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার কারণে দেশের এক প্রান্তের কলেজের ছাত্র অপর প্রান্তে ট্রান্সফারের সুযোগ পাচ্ছে। একই শিক্ষাবর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সেশনজটের কারণে আগে পরে পাস করার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে না। বর্তমান সরকার যে একমুখী শিক্ষাব্যবস্খার কথা বলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, তারপরও এ বিশ্ববিদ্যালয়কে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত কেন? এতে কার লাভ? আসুন এ প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পথে।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার
বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?
কর্মসংস্থান? না।
বিনিয়োগ? না।
ডলার সংকট? না।
গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।
ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
পণ্ডশ্রম

এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,
চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।
কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,
আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।
দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।