পৃথিবীর কুখ্যাত হানাদার অসভ্য বৃটিশ বেনিয়ারা এক সময় সারা জাহানকে হানা দিয়ে জবরদখলে সচেতন নাগরিকদের স্বাধীনতার আন্দোলন দমনে কথায় কথায় বন্দী করে পুলিশ রিমান্ডে বৃটিশ পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশরা অতি উৎসাহে, আনন্দে দেশের স্বাধীনতা প্রেমিক নিরাপরাধ অসহায় বন্দীকে অমানুষিক মারপিটে, অত্যাচারে সরকারের তথা পুলিশের টারগেটকৃত কথা, তথ্য বের করত।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে বর্তমানে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে দিনবদলের চর্চা হলেও স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশের সম্মানিত নাগরিকদের প্রজাতন্ত্রের জালিম পুলিশদের অমানবিক জুলুম-অত্যাচার বন্ধ করতে নির্বাচিত সম্মানিত এমপি-মন্ত্রী সাহেবগণ একটিবারও পুলিশ রিমান্ড বিষয়ে আলোচনায় দিনবদলের পালা দেখান না কেন? আপনাদের উপর কি জনসাধারণ, জনকল্যাণ ও জনস্বার্থমূলক কাজকর্মের আশা করতে পারে না? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন আইনজীবী। সম্মানিত আইন মন্ত্রী সাহেব একজন স্বনামধন্য প্রবীণ আইনজীবী। তিনি জনগণের দুঃখ-দুর্দশা জানেন। তিনি তো জুলুমবাজী পুলিশ রিমান্ড বাতিলের জন্য কেবিনেট মিটিংয়ের বিবিধ এজেন্ডায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে ধন্যবাদ ও অভিনন্দনের পাত্র হতে পারেন।
ফৌজদারি মামলায় পুলিশরা কোর্টে বন্দীকে পুলিশের ইচ্ছামত ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে থাকে। বন্দীদের মধ্যে দুর্ভাগ্যবশত পরিস্থিতির শিকার সম্মানিত আয়করদাতা, উচ্চশিক্ষিত ভদ্রলোক, আলেম ওলামা, বিশ্ববিখ্যাত প্রফেসর, প্রাক্তন মন্ত্রী প্রমুখ সম্মানিত নিরপরাধ ব্যক্তিরা থাকেন, যাদেরকে সম্মান করার মতো জ্ঞান ও ভদ্রতা পুলিশের নেই। কোর্ট পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করলে পুলিশদের খুশীর সীমা থাকে না, যেন একটা শিকার পেয়ে গেল। পুলিশ মানুষকে যে রকম মারপিট করে, তা একটা পাগলা কুত্তাকেও করে না। একজন বন্দী প্রজাতন্ত্রের পুলিশ কর্মচারীর নিকট কি কুত্তার চেয়েও অধম? এটা কি হৃদয়বিদারক বিচিত্র কাহিনী নয়? এটাই কি সম্মানিত মুক্তিযোদ্ধা তথা ৩০ লাখ মুক্তি পাগল মানুষের রক্ত জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ফসল?
রিমান্ড শেষে পুলিশ বন্দীকে কোর্টে হাজির করলে, ম্যাজিস্ট্রেট ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড করেন। আইন অনুযায়ী এটাই গ্রহণযোগ্য এবং বিচারের বিষয়বস্তু। পৃথিবীর সভ্যদেশে কোর্টে বাদী-বিবাদীর উকিল সাহেবদের জেরায় বন্দীর মুখ থেকে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসে। সুতরাং বন্দীকে অনর্থক কুকুর-শিয়ালের মতো মারপিটের প্রয়োজন হয় না। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, পুলিশ রিমান্ডের অধিকাংশ বন্দী বিচারে বেকসুর খালাস হয়ে যায়। যে সব মামলায় বন্দী খালাস হয়, সেইসব মামলায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারকে ৫/৬ বার পুলিশ রিমান্ড নিয়ে মারপিট করলে পুলিশ রিমান্ডের অতি উৎসাহ, আনন্দ ও স্বাদ মিটে যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



