তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি হাবিবুর রহমান গত ১৬ ডিসেম্বর দৈনিক প্রথম আলোর মহান বিজয় দিবস সংখ্যায় ‘সোনার বাংলা কত দূর’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। সেই লেখায় বাংলাদেশে জয় বাংলা স্লোগান নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে। বিচারপতি রহমানের লেখা থেকেই উদ্ধৃত করছি :
“প্রতিবেশী ভারতের নানাবিধ সহায়তা, সোভিয়েত ইউনিয়নের কূটনৈতিক সহায়তা এবং বিশ্বজনমতের নৈতিক সমর্থনে বাংলার স্বাধীনতার আন্দোলন বছর না যেতেই চূড়ান্ত জয়ের মুখ দেখল। ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি সকলের মুখে মুখে উচ্চারিত হলো। এসবের প্রকাশ্য ও প্রচ্ছন্ন বিরোধিতা অন্যদের ভাবিয়ে তুলল। বাংলা তো এখনো দ্বিখণ্ডিত, ‘জয় বাংলা’ বলতে ওরা কোন বাংলার কথা বলছে। ওরা কি যুক্ত বাংলার ধ্বজাধারী! ওরা কি ‘জয় হিন্দ’-এর অনুকরণ-অনুসরণ করছে! এমন দৃষ্টিভঙ্গি এখনো বিদ্যমান।” জয় বাংলা স্লোগানের প্রচণ্ড অনুরাগী বিচারপতি হাবিবুর রহমান অবশ্য তার লেখাটি তিনবার জয় বাংলা বলে শেষ করেছেন। জয় বাংলার বিরোধিতাকারীদের সম্পর্কে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা যে যথেষ্ট বিরূপ ধারণা পোষণ করেন সেটি তার লেখা পড়লে না বোঝার কোনো কারণ নেই। কিন্তু, বিরোধিতাকারীদের আশঙ্কা যে একেবারে অমূলক ছিল না সম্প্রতি তার হাতে-নাতে প্রমাণ দিয়েছেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক এ করিম। এই কূটনীতিক বহু আগেই সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে অবসর জীবন থেকে ফিরিয়ে এনে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সমালোচকরা বলে থাকেন তাকে নাকি ভারত সরকারের ইচ্ছা পূরণের জন্যই এই পদ দেয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা অবশ্য আমজনতার জানার উপায় নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্ত ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক করিম বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বক্তব্যের সার কথাটি অনুধাবন করেই সম্ভবত জয় বাংলার পাট চুকিয়ে সরাসরি জয় হিন্দ্ স্লোগান ব্যবহার করতে মনস্থ করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় দিল্লিস্থ বাংলাদেশী দূতাবাস যে আনুষ্ঠানিক স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করেছে সেখানে হাইকমিশনার তারিক করিমের যে বক্তব্য ছাপা হয়েছে সেটি শেষ হয়েছে ওই জয় হিন্দ্ স্লোগান দিয়েই। শেখ হাসিনাও নিশ্চয়ই তার বিশেষ পছন্দের এই রাষ্ট্রদূতের দূরদর্শিতায় বিমোহিত হয়েছেন। এক-এগারোর কুশীলবরা বাংলাদেশকে যেখানে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তার এবারের মেয়াদের বাকি চার বছরের মধ্যে সেখানে যে পৌঁছে যাবেন এই আস্থা তার ওপর স্থাপন না করার কোনো কারণ দেখি না। ১৯৯৬ সালের তুলনায় বর্তমান শেখ হাসিনা যে অনেক বেশি আত্মপ্রত্যয়ী সেটি ভারত সফর প্রসঙ্গে ঢাকায় আয়োজিত তার সংবাদ সম্মেলনেই প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে দেশবাসীকে জানান দিয়েছেন যে, ২০০৮-এর নির্বাচনে তার যা ভোটপ্রাপ্তি সেই জোরে বাংলাদেশকে নিয়ে যা ইচ্ছা করতে তার আর কোনো বাধা নেই। এই শেখ হাসিনাই ১৯৯৬ সালের নির্বাচনী প্রচারে আওয়ামী লীগের অতীত কৃতকর্মের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমাভিক্ষা করেছিলেন। সেই সময় তার হেজাব পরিহিত এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনারত পোস্টারে দেশ ছেয়ে গিয়েছিল। যাক, সেসবই এখন ইতিহাসের অংশ। বর্তমানের বাস্তবতা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী রীতিমতো ঘোষণা দিয়েই বিশাল ভারতের পক্ষপুটে আশ্রয় নিয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকরা ভারতের সঙ্গে তাদের পারমাণবিক সমঝোতার মূল্যস্বরূপ বাংলাদেশকে ভারতীয় প্রভাবের কাছে সমর্পণ করেছে। সাম্রাজ্যবাদী দেশটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে এবং ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকেই আমাদের স্বাধীন অস্তিত্ব বিলীন করার সব উদ্যোগে সক্রিয় সমর্থন দিয়ে আসছে। আওয়ামী নেতারা এক সময় শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি দায়ী করলেও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পুরনো প্রসঙ্গ টানলে এখন অতিশয় বিব্রতবোধ করে থাকেন।
ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন তিনি নাকি ভারতকে দ্বিপাক্ষিক ট্রানজিট না দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি বহুপাক্ষিক কানেক্টিভিটির সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছেন। তার দাবির ভিত্তি হলো, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ইশতেহারে নেপাল এবং ভুটানকে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার সুবিধা দেয়ার উল্লেখ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে হিমালয়ের কোলের এই ক্ষুদ্র রাষ্ট্র দুটিকে ট্রানজিট দেয়ায় আমাদের নাকি রাস্তা এবং বন্দরের ভাড়া বাবদ বিপুল অঙ্কের অর্থ আয় হবে। বাংলাদেশ অচিরেই সিঙ্গাপুরের সমতুল্য অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে ইত্যাদি, ইত্যাদি। বাংলাদেশের জনগণ তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা দ্বারা অধিকতর প্রভাবিত হয় জানা সত্ত্বেও বন্দর প্রসঙ্গে বাস্তব চিত্রটি জানানো এ দেশের একজন নাগরিকের কর্তব্য বিবেচনা করছি। নেপাল এবং ভুটানের মধ্যে তুলনামূলকভাবে নেপাল বৃহত্ দেশ। আমাদের প্রতিবেশী এই দেশটির মোট জনসংখ্যা তিন কোটি এবং মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও কম। এই বাণিজ্যের মধ্যে অর্ধেকই আবার ভারতের দখলে। এর অর্থ হলো বাংলাদেশের চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর দিয়ে নেপালের আমদানি-রফতানির বাকি অর্ধেকের পুরোটা আনা-নেয়া করলেও এর পরিমাণ ১.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না। ভুটানের বাণিজ্য আরো অকিঞ্চিত্কর। দেশটির মাত্র ৭ লাখ জনগোষ্ঠীর মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৪০০ মিলিয়ন ডলার। ভুটানের আমদানি-রফতানির যথাক্রমে ৭৫ এবং ৬০ শতাংশই আবার ভারতের সঙ্গে। এমতাবস্থায়, চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভুটান বড়জোর ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য পরিবহন করতে পারবে। সুতরাং আমরা যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেই নেপাল ও ভুটান বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারে আগ্রহী এবং ভারত তার প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির পণ্য পরিবহনের জন্য নিজ দেশের মধ্য দিয়ে প্রয়োজনীয় ট্রানজিট প্রদানে সম্মত হয়েছে তাহলেও বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে পণ্য নেপাল ও ভুটানে আসা-যাওয়া করবে তার পরিমাণ সাকল্যে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। পাঠকদের মধ্যে অধিকাংশই হয়তো অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বিগত দুই দশক ধরেই আমাদের জাতীয় আয় অব্যাহতভাবে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতার নিরিখে নেপাল ও ভুটানের আমদানি-রফতানিযোগ্য পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানো এ দেশের জনগণকে নির্বোধ বিবেচনা করে তাদের সঙ্গে তামাশা করা ছাড়া অন্যকিছু নয়। এ সংক্রান্ত সব পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে যে, প্রকৃতপক্ষে ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার বিতর্কিত বিষয়টি জায়েজ করার জন্যই নেপাল ও ভুটানের পণ্য পরিবহনের হাস্যকর গল্প ফাঁদা হয়েছে। ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত সংবলিত যে যৌথ ইশতেহারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়ে এসেছেন তার ফলে নিশ্চিতভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের যে প্রতিযোগিমূলক সক্ষমতা ছিল সেটি ক্ষুণ্ন হবে। উপরন্তু পূর্ব ভারতের কথিত সাত বোন রাজ্যে আমাদের রফতানি বাজার সৃষ্টির ক্রমেই যে সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল তাও অঙ্কুরেই বিনষ্ট হবে। আমি অবাক হচ্ছি যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেবল যে নীরবই রয়েছে তাই নয়, কোনো কোনো অতিউত্সাহী ব্যবসায়ী নেতা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে অভিহিত করে অভিনন্দন জ্ঞাপনও করেছেন। বেসরকারি খাতের সঙ্গে আমার দীর্ঘ তিন দশকব্যাপী যোগাযোগের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি একমাত্র বিদেশি জাহাজ এবং পরিবহন কোম্পানির স্থানীয় এজেন্ট ছাড়া অন্যকোনো ব্যবসায়ী ভারতকে ট্রানজিট দেয়ার ফলে উপকৃত হবে না। উপরন্তু জাতীয় স্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে আমাদের শিল্পায়নের গতি নিশ্চিতভাবে ব্যাহত হয়ে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান হ্রাস পাবে। এর ফলে শিল্পখাতে কর্মসংস্থানের সুযোগও সঙ্কুচিত হবে। বাংলাদেশের মতো বৃহত্ জনসংখ্যার একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেলে শিল্প ও কৃষিকে অবহেলা করে কেবল সেবাখাতের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করা হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ ধস নামা অবশ্যম্ভাবী। যেসব ভারতবান্ধব অর্থনীতিবিদ সরকারের শীর্ষমহলকে এ জাতীয় নীতি গ্রহণে প্রভাবিত করছেন, নিজ দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে তারা কোন দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে চান সেই প্রশ্ন করার অধিকার দেশবাসীর রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ২০০৮ সালের ডিজিটাল নির্বাচনে বিস্ময়কর বিজয়লাভের ফলে যে ভয়ানক আত্মতুষ্টি এবং আত্মগরিমায় ভুগছেন সেটি তার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের মধ্যেই প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, তাকে নাকি বাংলাদেশের জনগণ ভারতের সঙ্গে যে কোনো চুক্তি সম্পাদন করার অবাধ ম্যান্ডেট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনগণের ম্যান্ডেটের এমন বিশ্লেষণের সঙ্গে সভয়ে দ্বিমত পোষণ করছি। প্রথমত, সংসদে তিনি প্রায় একতরফা আসন দখল করেছেন এটা যেমন সত্যি, সেইসঙ্গে এটাও সত্যি যে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিনাপ্রশ্নে মেনে নিলেও দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে গঠিত মহাজোটের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর মতামতকে অবজ্ঞা করে প্রধানমন্ত্রী দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। এমন মন্দ এবং গণবিরোধী চিন্তা থেকেই সম্ভবত তার মরহুম পিতা ১৯৭৫ সালে এই জানুয়ারি মাসেই বাকশাল নামক চরম নিবর্তনমূলক, একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু করেছিলেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ বাকশালকে প্রত্যাখ্যান করেছিল বলেই আমাদের পঁচাত্তরের ট্র্যাজেডি প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী ভাবার অনিষ্টকর চিন্তাধারা পরিত্যাগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই। দ্বিতীয়ত, জনগণ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে কোনো সরকারকে নির্বাচিত করার অর্থ এই নয় যে, তারা প্রদত্ত ভোটের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেয়ার ম্যান্ডেটও কোনো দল বা নেতার হাতে অর্পণ করে। আশঙ্কার কথা হলো, উপমহাদেশে সিকিমের বেলায় অবিকল এ জাতীয় নতজানু চিন্তাভাবনা থেকেই দেশটির ভারতভুক্তির ঘটনা ঘটেছে। সেই থেকে সিকিমের তত্কালীন সরকারপ্রধান লেন্দুপ দর্জি নামটি অন্তত বাংলাদেশে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করা হয়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে দলটির ভূমিকা নিয়ে গর্ব করে থাকেন। তারা সার্বক্ষণিকভাবে দাবি করে থাকেন যে, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার চেতনার একমাত্র ধারক-বাহক শেখ হাসিনা এবং তার অনুসারীরা। সম্ভবত এই মানসিকতা থেকেই সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন যে, যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয়েছে, কাজেই সেই দল দেশের স্বাধীনতা বিকিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে এক সময়ের দেশপ্রেমিকের পরবর্তীকালে দেশদ্রোহীতে রূপান্তরিত হওয়ার অসংখ্য নজির রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে ফ্রান্সে হিটলারের পুতুল সরকারপ্রধান মার্শাল পেঁতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তার দেশের অন্যতম বীর সেনাপতি ছিলেন। তদুপরি, ১৯৭১ সালে ভারতের সহায়তা নিয়ে আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। আজ যখন সেই ভারতের একতরফা স্বার্থরক্ষার প্রসঙ্গ উঠছে তখন কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধকে টেনে আনা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। এই অপচেষ্টা জনগণকে বিভ্রান্ত করারই নামান্তর। সর্বশেষ কথা হলো, সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডভাবে আবেগতাড়িত হয়ে যেভাবে ১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সময়কাল পর্যন্ত তার পরিবারের দিল্লি অবস্থানের স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন, তাতে করে এ দেশের যে কোনো দেশপ্রেমিক নাগরিকের মনে এমন আশঙ্কা জাগতেই পারে যে, তার নেতৃত্বাধীন সরকার হয়তো শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের তাগিদে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিতে কোনোরকম দ্বিধা করবে না। দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক করিম তারই তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত স্মারকগ্রন্থে সগৌরবে ‘জয় হিন্দ্’ উচ্চারণ করার পর জনমনে সেই আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ভিক্ষা চাই না, কুকুর সামলান—এর আদলে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, দিনবদলের আর দরকার নেই, দয়া করে পতাকাটি বদলাবেন না।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



