এক দেশে এক ন্যায়পরায়ণ বাদশা ছিলেন। দেশের মানুষও সুখেই ছিল। হঠাৎ সেই দেশে দুর্যোগ নেমে এলো। অনাবৃষ্টি ও খরা চলল দীর্ঘদিন। প্রজাদের ত্রাহী ত্রাহী অবস্হা।
প্রজাবৎসল বাদশা গণক ডাকলেন, এই দুর্যোগ থেকে দেশ কবে মুক্তি পাবে, কবে বৃষ্টি হবে তাই জানতে। গণক গণনা করে বলল, যে খুব শীগগিরই একটা বৃষ্টি আসবে, তবে সাবধান! এটা পাগলা বৃষ্টি। এই বৃষ্টির পানি যেন কেউ না খায়, কেউ যেন এই পানিতে গোসল না করে। করলেই সর্বনাশ! যে করবে সে পাগোল হয়ে যাবে। তবে তার একমাস পরে আরেক দফা বৃষ্টি হবে, যা হবে স্বাভাবিক। এবং এর পর থেকে সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
বাদশা, গণকের সাবধানতা উল্লেখ করে সারা রাজ্যে ঢোল বাজিয়ে দিলেন। ' প্রজাসকল খুব শীগগিরই বৃষ্টি আসবে, তবে সাবধান এই বৃষ্টির পানি কেউ খাবেন না, বৃষ্টির পানিতে গোসল করবেন না, এটা পাগলা বৃষ্টি। তবে পরবর্তি বৃষ্টি হবে স্বাভাবিক। আপনারা ধৈর্য্য ধরুন'।
এদিকে বাদশা তার মন্ত্রিকে বলে রাখলেন বৃষ্টির এক বালতি পানি ধরে রাখতে।
কিছুদিন পর ঠিক ঠিক বৃষ্টি এলো। অনেক দিন পর বৃষ্টি পেয়ে, কে শোনে বাদশার কথা, সবাই মহা উল্লাসে বৃষ্টির পানিতে গোসল করল, পানি খেল। তারপর যা হওয়ার তাই হলো। দেশের সবাই পাগল হয়ে গেল।
এখন প্রজারা কোন একটি বিচার নিয়ে বাদশার কাছে গেলে, বাদশা ন্যায়বিচার করে দেন। আর প্রজারা দরবারের বাইরে এসে বলে, "বাদশাটা একটা পাগল!'
এরকম করতে করতে যখন বিষয়টা চরমে পৌছালো, বাদশা তখন মন্ত্রিকে ডেকে বললেন, ঐ এক বালতি পাগলা বৃষ্টির পানি কি ধরে রেখেছিলেন? মন্ত্রি বললেন, "জ্বী জাঁহাপনা"। বাদশা বললেন, "তবে নিয়ে আসুন পানি, আমিও খাই আপনিও খান"।
দুজনেই খেলেন এবং যথারিতি পাগোল হলেন। এবার প্রজারা কোন একটি বিচার নিয়ে বাদশার কাছে গেলে, বাদশা পাগলা বিচার করে দেন। আর প্রজারা দরবারের বাইরে এসে বলে, "এতদিনে বাদশার মাথা ঠিক হয়েছে"।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

