somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(০২)

০১ লা মে, ২০০৮ রাত ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(০২)

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)


রূপা, মানুষের ভাষা এতো বেশি অক্ষম যে, তুমিই বুঝালে আমাকে। এই বুকটাতে এতো বেশি কথা জমে আছে, প্রচণ্ড ভারে ফেটে যেতে চায় ; বিশ্বাস করো, খুব কষ্ট হয়, খুব ! তাই তো ফিরে ফিরে তোমার কাছেই যেতে চাই, হালকা হবো বলে। কথার ফুলঝুরি ছোটাবো বলে, বুকের পাথরটাকে গলিয়ে ঝরণা করবো বলে। প্রচণ্ড ইচ্ছা নিয়ে যাই, তোমাকে কোলে বসিয়ে উন্মাদ আদরে আদরে যুবকের গল্প বলবো, এবং সেই মেয়েটির গল্প শুনবো, যা আমার আজো শোনা হয়নি। অথচ এমনই নিয়তি আমার, কিছুই বলা হয় না, বুকটা হঠাৎই অবরুদ্ধ হয়ে ওঠে, ভাষা অক্ষম আর কণ্ঠ নির্বাক হয়ে যায়। তোমার দিকে চেয়ে আমি কেমোন হয়ে যাই। রূপা, বিশ্বাস করো, আমি মরিয়া হয়ে ওঠি, কিছু বলতে চাই- বলিও বটে। তবে এ কথা সে কথা নয়। খেই হারিয়ে কী বলতে কী যে বলে ফেলি অসংলগ্ন, যার অর্থ আমি নিজেও বুঝি না। হয়তো এর কোন অর্থই নাই। তুমি কী মনে করো জানি না, কিন্তু যখন ফিরে আসি, মনে মনে সঙ্কোচে মরে যাই ছুঁড়ে দেয়া এসব হালকা আর অসংলগ্ন কথার জন্য। আমার জন্মান্ধ চোখকে ক্ষমা করো রূপা, সে তোমাকে, একান্ত তোমাকেই দেখতে চায় বলে এমন পলকহীন চেয়ে থাকে তোমার চোখের তারায়। সে কী দেখে, জানি না আমি। হয়তো তোমার চোখের আয়নায় নিজেকেই ফিরে ফিরে দেখে।

এবার সেই যুবকের গল্প শুনো। যুবকটি এভাবেই মেয়েটির বিষণ্ন মুখের দিকে চেয়ে থাকে অপলক। ঐ বিষণ্নতার উৎস খুঁজে বেদনায় নীল হয়ে ওঠে নিজে নিজে। তাঁর কষ্ট সে নিতে চায় বলে সে নিজের কষ্টও ছুঁড়ে দেয় ওর দিকে। মেয়েটি কিন্তু তা বুঝলো না। ভাবলে হয়তো, এ যুবক ক্ষণভঙ্গুর ; কষ্ট ধারণ করার ক্ষমতা যার নাই একেবারেই, সে কিনা যোগ্যতার বড়াই করে ? মেয়েটির মৃদু ভর্ৎসনায় সম্বিৎ ফিরে পায় সে। তাই তো ! কষ্ট সইতে না পারলে এমোন বন্ধুর পথে এসেছো কেন ? অতঃপর যুবক গুটিয়ে নেয় নিজকে এই গভীর কষ্টের এমোন হাস্যকর হালকা প্রকাশ থেকে। আর বলতে পারে না যে, মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে সে শুধু কাঁদতে চায়। শুধু কাঁদতে, গুমরে গুমরে। যেখানে কোন কথা নেই, ভাষারা নীরব, স্পর্শে ঘ্রাণে আর উপলব্ধ অনুভূতির প্রগাঢ়তায় পরস্পর জারিত হয়ে চিনে নেবে একে অন্যকে। পৃথিবীর সব ভাষা নুয়ে পড়ে জানাবে তাদের অনন্ত কৃতজ্ঞতা।

না রূপা, থাক ওই যুবকের গল্প। এটা বলে যাওয়া সত্যি কঠিন। যেখানে ভাষারা নতজানু, সেখানে বুঝে নেয়া ছাড়া অন্য কোন পথ কি আর খোলা থাকে ? বলতে যাওয়া বা শুনতে চাওয়া যে তার প্রতি অবিচারই হবে, হয়তো মেয়েটির প্রতিও তাই।

আচ্ছা রূপা বলবে কি, মেয়েটির ওই কষ্টের উৎস কোথায় ? তাঁর গল্প তো তুমিই জানো। তাঁর কষ্ট কি এই যুবক ? না কি অন্য কিছু ? চেহারায় আড়ম্বরে কোনভাবেই যার কোন সমৃদ্ধি নেই, তাকে কেনই বা এই মেয়ে তাঁর নিজের কষ্ট বানাতে যাবে ? নিজের মধ্যে কোন সুন্দর কিছু আদৌ আছে কি না যুবক জানে না। জানে শুধুই এটুকুই, মেয়েটির সমস্ত সুন্দরের আলোকে সে আলোকিত। তাইতো তার চোখে সে মেয়ে কোন মেয়ে নয়, কেবলই কুয়াশা। হয়তোবা জ্বলতে থাকা এক নিঃসঙ্গ মঙ্গল-দীপ !


চলবে...


আগের পর্ব - (০১): Click This Link
পরের পর্ব - (০৩): Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০০৮ রাত ১১:৩৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×