বিয়ে, সংশোধনের অযোগ্য যে ভুল !
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
বিয়ে করার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হাঁদারাম আমি তখনও বুঝিনি, কী ভয়ঙ্কর অপরিণামদর্শি ভুলের ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছি। চল্লিশ পেরিয়েও অকৃতদার পাড়াতো ভাই অরুনদা’র বিজ্ঞজনোচিত পরামর্শকে ‘দিল্লীকা লাড্ডু জো ভি নেহি খায়া, সো ভি পস্তায়া’ ভেবে নিজকে কী হতে যে কী ভেবে বসেছিলাম, তা আর নাই বললাম। দক্ষিণ পাড়ার দিগম্বর দাদু, যাকে দুই পয়সার পাত্তা দিতেও আজ পর্যন্ত কাউকে দেখি নি, আমাকে ভালোবাসেন বলেই হয়তো নির্বুদ্ধি ভেবে খুব করে বলে দিয়েছিলেন, দেখো হে, হটকারী একটা সিদ্ধান্তই যথেষ্ট, পুরুষ মানুষের সটান উল্লম্ব সিনা চোখের পলকেই ভূমির সমান্তরালে বেঁকে সোজা হওয়ার সমস্ত ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে। কণ্ঠে যে বাঘের হুঙ্কার গর্জে ওঠতো, ওটা আর কখনোই ভ্যাঁ ভ্যাঁ করার সীমানা ছেড়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে পারে না। অতএব এতো তড়িঘড়ি না করে বাপু মাথার বায়ু নামিয়ে ফেলো। মস্তিষ্কে বায়ু চড়ে গেলে বুদ্ধি নাকি হাঁটুতে নেমে আসে। আমার বুদ্ধিবৃত্তিও যে হঠাৎ করে হাঁটু থেকেও বিপজ্জনক নীচে নেমে গেছে, এ বিষয়ে তাঁর কোন সন্দেহ নেই। আমি আর কী বলবো ! সত্যি সত্যি আমি তখন কল্পনার চিত্রল সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি। যেদিকেই চাই, হতে যাওয়া তুমি আর তুমি শুধু।
তবু আমার ইতস্তত বিক্ষিপ্ত মতিগতি খুব একটা সুবিধের নয় আঁচ করেই হয়তো পক্ষকালের হাজতবাস অভিজ্ঞ আমাদের সবার মতি ভাই আমাকে সার্বক্ষণিক সাহস যুগিয়ে যেতে লাগলেন, আরে মিয়া পুরুষ হইছো আর মাইয়া মানুষের গন্ধ নিবা না এইটা কী করে হয় ! তুমি মিয়া ঐ শালাগো কারো কথাই শুইনো না। হেগোর মেরুদণ্ড আছে নাকি ! একে তো নাচনে বুড়ি, তার উপর ঢোলের বাড়ি। আমাকে আর পায় কে। কি জানি উদ্যমে ভাটা দিয়ে বসে, তাই লজ্জা-শরমের মাথা খেয়ে সর্বশক্তি দিয়ে তটস্ত করে তুললাম মুরুব্বিদেরকে, যারা সম্মন্ধসূত্র গড়ে দেয়ার মহান ব্রত নিয়ে চিরকালই নিজেদের বিলীন করে দিয়ে আসছেন বলে সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি। অতএব যা হবার তাই হলো। কোন এক শুভলগ্ন (?) বেছে শেষ পর্যন্ত ওয়ান ওয়ে রোডে বিয়েটা করেই ফেললাম।
আহারে ! আমার মতো কেউ কি এখন হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছেন, দুপেয়ে একটা বীর পুরুষপুঙ্গব বিয়ে নামক সংশোধনের অযোগ্য এক বালখিল্য ঘটনার শিকার হয়ে চোক্ষের সামনে কী করে ধোপী-গাধার মতো চতুষ্পদী একটা প্রাণীতে পরিণত হয়ে যায় ! প্রবল মাধ্যাকর্ষণ উপেক্ষা করা টানটান সিনা তার কীভাবে ভারবাহী চতুষ্পদী স্বভাবে নুয়ে পড়ে ভূমির সমান্তরালে ক্রমশই নিকটবর্তী হতে হতে শেষপর্যন্ত অদ্ভুত মাটি-লগ্নতায় পেয়ে বসে তাকে ! বার্ষিকীপূর্ণ হতে না হতেই ষড়পদ ধারণ করে দর্পাহত বুকটা তার মাটি ঘষটাতে শুরু করে দেয় ! আর পরাক্রমশীলতায় যিনি যতো অহঙ্কারী ছিলেন বলে শুনা যায়, তার নাকি পদের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে বাড়তে বাড়তে পদহীন কেঁচোর মতোই......শেষপর্যন্ত গড়াতে গড়াতে মাটিই পরম আশ্রয় হয়ে যায় !
আহা, তবে কি জীবনটাই মাটি ! কেউ কি জানেন, গাধারাই বিয়ে করে, না কি বিয়ে করেই গাধা হতে হয় !
(০৮/০৭/২০০৮)
[লেখাটি অন্যত্র প্রকাশিত]
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গণতন্ত্রকে কবর দেওয়া আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের প্রতি জেনজি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ

বিএনপির জন্য ভোট চাইতে গিয়ে আমার স্ত্রী তাঁর স্বজন জেনজির তোপের মুখে পড়েন। তারা ভাবছে বিএনপি তাদের অপছন্দের আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদেরকে সহায়তা করছে। এবার বয়স্করা বিএনপিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন
*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***
রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।
জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিএনপির যারা আজ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কথা ভাবছেন...

১. শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। এমনকি তাকে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও বলতেন…
২. খালেদা... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাজাকারনামা-২ (অপরাধির জন্য আমাদের,মানবতা ! বিচিত্র এই দেশের মানুষ!!)

সনজীদা খাতুন তখন ইডেন কলেজে কর্মরত ছিলেন । ইডেনের মেয়েরা 'নটীর পূজা' নামে একটা নাটক করেছিলো। সেই নাটকে একেবারে শেষের দিকে একটা গান ছিলো। তিনি ছাত্রীদের সেই গানটা শিখিয়েছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।