আমার প্রিয় পোস্ট

``চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।' -- প্রাচীন গ্রীক কবি ইউরিপিডিস (৪৮০-৪০৬ খ্রীঃ পূঃ)

। হিজড়া, প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের এক দুর্ভাগা শিকার !

০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:১৮

শেয়ারঃ
0 17 0



স্মৃতি হাতড়ালে এখনো যে বিষয়টা অস্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে, শৈশবের অবুঝ চোখে সেইকালে বুঝে উঠতে পারতাম না, কারো বাড়িতে সন্তান জন্ম নিলে শাড়ি পরা সত্ত্বেও বিচিত্র সাজ-পোশাক নিয়ে কোত্থেকে যেসব মহিলা এসে নাচগান বা ঠাট্টা-মশকরা করে তারপর বখশিস নিয়ে খুশি হয়ে চলে যেতো, এদের আচার আচরণ ও বহিরঙ্গে দেখতে এরা এমন অদ্ভুত হতো কেন ! শৈশবের অনভিজ্ঞ চিন্তা-শৈলীতে পুরুষ ও নারীর পার্থক্যের জটিলতা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা না জন্মালেও স্বাভাবিকতার বাইরে দেখা এই অসঙ্গতিগুলো ঠিকই ধরা পড়েছে, যা প্রশ্ন হয়ে বুকের গভীরে জমে ছিলো হয়তো। পরবর্তী জীবনে তা-ই কৌতুহল হয়ে এক অজানা জগতের মর্মস্পর্শী পীড়াদায়ক বাস্তবতাকে জানতে বুঝতে আগ্রহী করে তুলেছে। আর তা এমনই এক অভিজ্ঞতা, যাকে প্রকৃতির নির্মম ঠাট্টা বা রসিকতা না বলে উপায় থাকে না !



অনিঃশেষ ট্র্যাজেডি
দেহ ও মানসগঠনে পূর্ণতা পেলে প্রাণীমাত্রেই যে মৌলিক প্রণোদনায় সাড়া দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট হয়, সেটা যৌন প্রবৃত্তি। অনুকুল পরিবেশে এই প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা যেকোন স্বাভাবিক প্রাণীর পক্ষেই অত্যন্ত সাধারণ একটা ঘটনা। মানব সমাজের প্রমিত বা ভদ্র উচ্চারণে এটাকেই প্রেম বা প্রণয়ভাব বলে আখ্যায়িত করি আমরা। পুরুষ (male) ও স্ত্রী (female), লিঙ্গভিত্তিক দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়া প্রাণীজগতে এই মৌলিক প্রণোদনার সমন্বিত সুফল ভোগ করেই বয়ে যায় প্রাণীজাত বংশধারা। অথচ প্রকৃতির কী আজব খেয়াল ! কখনো কখনো এই খেয়াল এতোটাই রূঢ় ও মর্মস্পর্শী হয়ে উঠে যে, এর কোনো সান্ত্বনা থাকে না। মানবসমাজে প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের সেরকম এক অনিঃশেষ ও দুর্ভাগা শিকারের নাম ‘হিজড়া’(hijra)। সেই আদি-প্রণোদনায় এরা তাড়িত হয় ঠিকই, কিন্তু তাদের জন্মগত লিঙ্গ-বৈকল্যধারী অক্ষম ক্লীব (neuter) বা নপুংশক দেহ যা তৃপ্ত করতে সম্পূর্ণ অনুপযোগী ! এরা ট্রান্সজেন্ডার (trans-gender), না-পুরুষ না-স্ত্রী। অর্থাৎ এমন এক লৈঙ্গিক অবস্থা যা দৈহিক বা জেনেটিক কারণে মেয়ে বা ছেলে কোন শ্রেণীতেই পড়ে না।

আমার অফিস পাড়ায় সপ্তাহের একটা নির্দিষ্ট দিনে দেখি সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ি পরিহিত তরুণীর মতো এদের কয়েকজন এসে প্রতিটা দোকান থেকে অনেকটা প্রাপ্য দাবির মতোই ঠাট্টা-মশকরা করতে করতে দু’টাকা-চার টাকা-পাঁচ টাকা করে স্বেচ্ছা-সামর্থ অনুযায়ী তোলা নিয়ে যায়। এই তোলাটুকু দিতে কোন দোকানির কোনো আপত্তিও কখনো চোখে পড়েনি। বরং সহযোগিতার মায়াবি সমর্থনই চোখে পড়েছে বেশি। পুরনো কৌতুহলে আমিও তাদের সেই রহস্যময় গোপন জগতের সুলুক-সন্ধানের চেষ্টা করি। তাদের নীল কষ্টগুলো সত্যিই নাড়া দিয়ে যায় কোন এক কষ্টনীল অনুভবে।



মুছে যায় পুরনো পরিচয়
জন্মের পর পরই যে ত্রুটি চোখে পড়ে না কারো, ধীরে ধীরে বড় হতে হতে ক্রমশই স্পষ্ট হতে থাকা সেই অভিশপ্ত ত্রুটিই একদিন জন্ম দেয় এক অনিবার্য ট্র্যাজেডির। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন পরিবার সবার চোখের সামনে মুছে যেতে থাকে একটি পরিচয়। আপনজনদের পাল্টে যাওয়া আচরণ, অবহেলা, অবজ্ঞাসহ যে নতুন পরিচয়ের দুঃসহ বোঝা এসে জুড়তে থাকে দেহে, তাতে আলগা হতে থাকে পরিচিত পুরনো বন্ধন সব, রক্তের বন্ধন মিথ্যে হতে থাকে আর ক্রমেই মরিয়া হয়ে একদিন সত্যি সত্যি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় পরিবার থেকে সে। অভিশপ্ত নিয়তি এদের ফেরার পথটাও বন্ধ করে দেয় চিরতরে। কারণ অভ্যস্ত সমাজের বাইরে তার একটাই পরিচয় হয়ে যায় তখন- হিজড়া !

কই যায় সে ? সেখানেই যায়, যেখানে তাদের নিজস্ব জগতটা নিজেদের মতো করেই চলতে থাকে, বেদনার নীল কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নীল হতে থাকে নিজেরাই। হিজড়া পল্লী। কেননা পরিবারের মধ্যে থেকে বড় হতে হতে তার যে পরিবর্তনগুলো ঘটতে থাকে, তা অন্য কারো চোখে স্পষ্ট হয়ে ওঠার আগেই ধরা পড়ে যায় ভ্রাম্যমান অন্য হিজড়াদের চোখে। তাদের দুর্ভাগ্যের আগামী সাথী হিসেবে আরেকটা দুর্ভাগা প্রাণীকে তারা ভুলে না। এরা উৎফুল্ল হয় আরেকজন সঙ্গি বাড়ছে বলে। একসময় এরাই তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় তাদের নিজেদের পল্লীতে। পল্লী মানে সেই বস্তি যেখানে সংঘবদ্ধ হয়ে গোষ্ঠীবদ্ধভাবে বাস করে হিজড়ারা। যেখানে তাদের নিজস্ব সমাজ, নিজস্ব নিয়ম, নিজস্ব শাসন পদ্ধতি, সবই ভিন্ন প্রকৃতির।



অন্য জীবন
যে সমাজ তারা ছেড়ে আসে সেই পুরনো সমাজ এদের কোন দায়-দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নয়, তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে প্রস্তুত নয় কিংবা সামাজিক স্বীকৃতি দিতে ইচ্ছুক নয় বলে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হয়ে যায় মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পেতে সাহায্য ভিক্ষা করা। এভাবে অন্যের কৃপা-নির্ভর বেঁচে থাকার এক অভিশপ্ত সংগ্রামে সামিল হয়ে পড়ে এরা। স্বাভাবিক শ্রমজীবীদের মতো উপার্জনের কাজে এদেরকে জড়িত হতে দেখা যায় না। নিজস্ব পদ্ধতিতে হাটে বাজারে তোলা উঠানোর পাশাপাশি বিনামূল্যে ভোগ্যপণ্য সংগ্রহ করেই এরা জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কৌতুককর মনোরঞ্জনকারী হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে নাচগানে অংশ নিয়ে থাকে। এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বিকৃত যৌনপেশাসহ নানান অপরাধের সাথেও জড়িয়ে পড়ে।

হিজড়াদের সমাজে প্রতিটা গোষ্ঠীতে একজন সর্দার থাকে। তারই আদেশ-নির্দেশে সেই গোষ্ঠী পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে হিজড়াদের সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ বলে জানা যায়। তবে এই ক্ষেত্রে হিজড়াদের প্রকৃত জনসংখ্যা নিয়ে কিছুটা ধুয়াশা থেকেই যায়। কারণ নিজেদেরকে আড়ালে রাখা অর্থাৎ বহিরঙ্গে অপ্রকাশিত হিজড়াদের পরিসংখ্যান এখানে থাকার সম্ভাবনা কম। বাইরে থেকে যে চেহারাটা প্রকট দেখা যায় সেই লিঙ্গে আত্মপ্রকাশ করে এই বিরূপ সমাজে অনেকেই নিজেদেরকে সযত্নে ঢেকে রাখেন বলে বাইরের মানুষ তা জানতে পারে না। যে ক্ষেত্রে এই বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট অর্থাৎ ঢেকে রাখার মতো নয় এবং বাইরে থেকে বুঝা যায়, কেবল সেক্ষেত্রেই মানুষ নিজেকে হিজড়া হিসেবে প্রকাশিত করে এবং পরিবার থেকে বের হয়ে যায়। রাজধানী ঢাকাতে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় পনের হাজার। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত হিজড়ারা পাঁচ থেকে পঞ্চাশজন হিজড়া সর্দারের নিয়ন্ত্রণে গোষ্ঠীবদ্ধ রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য। সর্দারদের নিজস্ব এলাকা ভাগ করা আছে। কেউ অন্য কারো এলাকায় যায় না বা তোলা ওঠায় না, এমনকি নাচগানও করে না। একেকজন হিজড়া সর্দারের অধীনে অন্তত অর্ধশতাধিক হিজড়া রয়েছে। হিজড়া সর্দারের অনুমতি ছাড়া সাধারণ হিজড়াদের স্বাধীনভাবে কিছু করার উপায় নেই। এমনকি সর্দারের আদেশ ছাড়া কোন দোকানে কিংবা কারো কাছে হাত পেতে টাকাও চাইতে পারে না এরা। সর্দারই ৫/৬ জনের একেকটি গ্রুপ করে টাকা তোলার এলাকা ভাগ করে দেয়। প্রত্যেক সর্দারের অধীনে এরকম ৮ থেকে ১০ টি গ্রুপ থাকে। প্রতিদিন সকালে সর্দারের সঙ্গে দেখা করে দিক নির্দেশনা শুনে প্রতিটি গ্রুপ টাকা তোলার জন্য বের হয়ে পড়ে। বিকেল পর্যন্ত যা টাকা তোলা হয়, প্রতিটি গ্রুপ সেই টাকা সর্দারের সামনে এনে রেখে দেয়। সর্দার তার ভাগ নেয়ার পর গ্রুপের সদস্যরা বাকি টাকা ভাগ করে নেয়।

প্রতি সপ্তাহে বা নির্দিষ্ট সময় পর পর হিজড়াদের সালিশী বৈঠক বসে। ১৫ থেকে ২০ সদস্যের সালিশী বৈঠকে সর্দারের নির্দেশ অমান্যকারী হিজড়াকে কঠোর শাস্তি দেয়া হয়। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় বেত দিয়ে পেটানোসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক নির্যাতন এবং কয়েক সপ্তাহের জন্য টাকা তোলার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। কখনো কখনো জরিমানাও ধার্য্য করা হয় ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত। দণ্ডিত হিজড়াকে তার নির্ধারিত এলাকা থেকে তুলে এই টাকা পরিশোধ করতে হয়। এই শাস্তি হিজড়ারা মাথা পেতে মেনে নেয় এবং কেউ এর প্রতিবাদ করে না।



হিজড়া কেন হিজড়া ?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ক্রোমোজোমের ত্রুটির কারণে জন্মগত যৌন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, যাদের জন্মপরবর্তী লিঙ্গ নির্ধারণে জটিলতা দেখা দেয়, মূলত তারাই হিজড়া। জীবনের স্বাভাবিক আনন্দ থেকে বঞ্চিত হিজড়াদের কামনা বাসনা আছে ঠিকই, ইচ্ছাপূরণের ক্ষেত্রটা নেই কেবল। এদের শারীরিক গঠন ছেলেদের মতো হলেও মন-মানসিকতায় আচার আচরণে সম্পূর্ণ নারীর মতো (she-male)। তাই তাদের সাজ-পোশাক হয়ে যায় নারীদের সালোয়ার কামিজ কিংবা শাড়ি। অনেকে গহনাও ব্যবহার করে। কৃত্রিম স্তন ও চাকচিক্যময় পোশাক ব্যবহার করতে পছন্দ করে এরা।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, হিজড়াদের নাকি বৈশিষ্ট্যগতভাবে দুইটি ধরন রয়েছে, নারী ও পুরুষ। নারী হিজড়ার মধ্যে নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য থাকলেও স্ত্রীজননাঙ্গ না থাকায় তার শারীরিক গঠন অস্বাভাবিক। পুরুষ হিজড়াদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে হিজড়ারা নারী বা পুরুষ যাই হোক, নিজেদেরকে নারী হিসেবেই এরা বিবেচনা করে থাকে। সারা বিশ্বে প্রকৃতি প্রদত্ত হিজড়াদের ধরন একইরকম। শারীরিকভাবে পুরুষ, কিন্তু মানসিকভাবে নারীস্বভাবের হিজড়াদেরকে বলা হয় ‘অকুয়া’। অন্য হিজড়াদেরকে বলা হয় ‘জেনানা’। এছাড়া সামাজিক প্রথার শিকার হয়ে আরব্য উপন্যাসের সেই রাজ-হেরেমের প্রহরী হিসেবে পুরুষত্বহীন খোজা বানানো মনুষ্যসৃষ্ট সেইসব হিজড়াদেরকে বলা হয় ‘চিন্নি’।

হিজড়া থেকে কখনো হিজড়ার জন্ম হয় না। প্রকৃতিই সে উপায় রাখে নি। কুসংস্কারবাদীদের চোখে একে সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ কিংবা পিতামাতার দোষ বা প্রকৃতির খেয়াল যাই বলা হোক না কেন, আধুনিক বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অন্যরকম। চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী মাতৃগর্ভে একটি শিশুর পূর্ণতা প্রাপ্তির ২৮০ দিনের মধ্যে দুটো ফিমেল বা স্ত্রী ক্রোমোজোম এক্স-এক্স প্যাটার্ন ডিম্বানু বর্ধিত হয়ে জন্ম হয় একটি নারী শিশুর এবং একটি ফিমেল ক্রোমোজোম এক্স ও একটি মেল বা পুরুষ ক্রোমোজোম ওয়াই মিলে এক্স-ওয়াই প্যাটার্ন জন্ম দেয় পুরুষ শিশুর। ভ্রূণের পূর্ণতা প্রাপ্তির একটি স্তরে ক্রোমোজোম প্যাটার্নের প্রভাবে পুরুষ শিশুর মধ্যে অণ্ডকোষ এবং মেয়ে শিশুর মধ্যে ডিম্বকোষ জন্ম নেয়। অণ্ডকোষ থেকে নিঃসৃত হয় পুরুষ হরমোন এন্ড্রোজেন এবং ডিম্বকোষ থেকে নিঃসৃত হয় এস্ট্রোজন। পরবর্তী স্তরগুলোতে পুরুষ শিশুর যৌনাঙ্গ এন্ড্রোজেন এবং স্ত্রী শিশুর যৌনাঙ্গ এস্ট্রোজনের প্রভাবে তৈরি হয়। ভ্রূণের বিকাশকালে এই সমতা নানাভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। প্রথমত ভ্রূণ নিষিক্তকরণ এবং বিভাজনের ফলে কিছু অস্বাভাবিক প্যাটার্নের সূচনা হতে পারে। যেমন এক্স-ওয়াই-ওয়াই অথবা এক্স-এক্স-ওয়াই। এক্স-ওয়াই-ওয়াই প্যাটার্নের শিশু দেখতে নারী-শিশুর মতো। কিন্তু একটি এক্সের অভাবে এই প্যাটার্নের স্ত্রী-শিশুর সব অঙ্গ পূর্ণতা পায় না। একে স্ত্রী-হিজড়াও বলে। আবার এক্স-এক্স-ওয়াই প্যাটার্নে যদিও শিশু দেখতে পুরুষের মতো, কিন্তু একটি বাড়তি মেয়েলি ক্রোমোজম এক্সের জন্য তার পৌরুষ প্রকাশে বিঘ্নিত হয়। একে পুরুষ হিজড়াও বলে।

প্রকৃতির খেয়ালে হোক আর অভিশাপেই হোক, এই হিজড়াত্ব ঘোচাবার উপায় এখন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নাগালে। চিকিৎসকদের মতে শিশু অবস্থায় চিকিৎসার জন্য আনা হলে অপারেশনের মাধ্যমে সে স্বাভাবিক মানুষের মতো পরিবারের মধ্যে থেকেই জীবন-যাপন করতে পারে। হয়তো সে সন্তান ধারণ করতে পারবে না, কিন্তু পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে পড়বে না হয়তো। দেখা গেছে যে অসচ্ছল নিম্নশ্রেণীর পরিবার থেকেই বাইরে বেরিয়ে যাবার প্রবণতা বেশি। তখন তাদের জীবনধারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। এরা না পারে নারী হতে, না পারে পুরুষ হতে। ফলে অন্যান্য অনেক অসঙ্গতির মতো হোমোসেক্স বা সমকামিতায় অভ্যস্ত হয়ে যায়।



হিজড়া কি মানুষ নয় ?
মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণা হলো- দাসত্ব থেকে মুক্তির অধিকার, ভোটের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, কাজের অধিকার, মানসম্মত জীবন-যাপনের অধিকার, আইনের আশ্রয় ও নির্যাতন থেকে মুক্তির অধিকার এবং বিবাহ ও পরিবার গঠনের অধিকার। এইসব অধিকার পরিপন্থি কর্মকাণ্ডকে প্রতিরোধের জন্য আরো বহু চুক্তি ও সনদও রয়েছে। কিন্তু এসব অধিকারের ছিটেফোটা প্রভাবও হিজড়াদের জীবনে কখনো পড়তে দেখা যায় না। মানবাধিকার বঞ্চিত এই হিজড়ারা তাহলে কি মানুষ নয় ?

মানুষের জন্মদোষ কখনোই নিজের হয না। আর হিজড়ারা নিজেরা বংশবৃদ্ধিও করতে পারে না। এ অপরাধ তাদের নয়। স্বাভাবিক পরিবারের মধ্যেই অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে তাদের জন্ম। তবু প্রকৃতির প্রহেলিকায় কেবল অস্বাভাবিক লিঙ্গ বৈকল্যের কারণেই একটা অভিশপ্ত জীবনের অপরাধ সম্পূর্ণ বিনাদোষে তাদের ঘাড়ে চেপে যায়। প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালে একটা মেয়ে যদি ছেলে হয়ে যায়, কিংবা একটা ছেলে ঘটনাক্রমে মেয়ে হয়ে গেলেও এরকম পরিণতি কখনোই নামে না তাদের জীবনে, যা একজন হিজড়ার জীবনে অন্যায়ভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়। খুব অমানবিকভাবে যৌনতার অধিকার, পরিবারে সম্মানের সঙ্গে বসবাসের অধিকার, চাকরির অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার, ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার ইত্যাদি মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে যায় এরা। কিন্তু এসব অধিকার রক্ষা ও বলবৎ করার দায়িত্ব ছিলো রাষ্ট্রের। কেননা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযাযী রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে- ‘সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার অর্থাৎ বেকারত্ব, ব্যাধি বা পঙ্গুত্বজনিত কিংবা বৈধব্য, মাতৃপিতৃহীনতা বা বার্ধক্যজনিত কিংবা অনুরূপ অন্যান্য পরিস্থিতিজনিত আওতাধীন কারণে অভাবগ্রস্ততার ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার’ প্রতিষ্ঠা করা। আদৌ কি কখনো হয়েছে তা ? অথচ পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হিজড়ারা প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার অভাবে পৈতৃক সম্পত্তির বা উত্তরাধিকারীর দাবি প্রতিষ্ঠা থেকেও বঞ্চিত থেকে যায়। এমন বঞ্চনার ইতিহাস আর কোন জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের হয়েছে কিনা জানা নেই।

প্রকৃতির নির্দয় রসিকতার কারণে হিজড়াদের গতানুগতিকতার বাইরে ভিন্ন পদ্ধতির অনিবার্য যৌনতাকেও ইসলাম প্রধান দেশ হিসেবে সহজে মেনে নেওয়া হয় না। এমনকি ব্রিটিশ আমলেও এদেশে হিজড়াদের বিতাড়িত করা হয়েছে বলে জানা যায়। যৌনতার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতীয় আইনে হিজড়াদের যৌনতাকে ‘সডোমি’ অর্থাৎ অস্বাভাবিক ও অনৈতিক হিসেবে চিহ্ণিত করে পেনাল কোড (১৮৬০) এর ৩৭৭ ধারায় এটাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মানবাধিকার রক্ষাকল্পে রাষ্ট্রীয় কোন উদ্যোগ কখনো হাতে নেয়া হয়েছে বলে শোনা যায় নি।

তাই বিবেকবান নাগরিক হিসেবে এ প্রশ্নটাই আজ জোরালোভাবে উঠে আসে, হিজড়ারা কি তাহলে রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিক নয় ? রাষ্ট্রের সংবিধান কি হিজড়াদের জন্য কোন অধিকারই সংরক্ষণ করে না ?

তবে খুব সম্প্রতি গত ০২ জুলাই ২০০৯ ভারতে দিল্লী হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ যুগান্তকারী এক রায়ের মাধ্যমে ‘প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে সমকামী সম্পর্ক’ ফৌজদারী অপরাধের তালিকাভুক্ত হবে না বলে ঘোষণা করেছে। ভারতের নাজ ফাউন্ডেশনের দায়ের করা এই জনস্বার্থমূলক মামলাটির রায়ে আদালত সমকামীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির অপপ্রয়োগকে মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি, গণতন্ত্রের পরিপন্থি এবং অসাংবিধানিক বলে অভিমত দিয়েছে। আদালতের মতে এই প্রয়োগ ভারতীয় সংবিধান স্বীকৃত কয়েকটি মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি, যেগুলো হলো- আইনের দৃষ্টিতে সমতা (অনুচ্ছেদ ১৪), বৈষম্যের বিরুদ্ধে সুরক্ষা (অনুচ্ছেদ ১৫), জীবনধারণ ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার (অনুচ্ছেদ ২১)। রায়টির অব্যবহিত পরেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রায়টিকে স্থগিত করার জন্য সুপ্রীম কোর্টের কাছে আবেদন করা হয় যা মঞ্জুর হয়নি (সূত্রঃ )। এই রায় ভারতের হিজড়া সম্প্রদায়ের জন্য এক বিরাট আইনি সহায়তার পাশাপাশি আমাদেরর দেশের জন্যেও একটা উল্লেখযোগ্য নমুনা হিসেবে উদাহরণ হবে। কেননা সেই ব্রিটিশ ভারতীয় এই আইনটিই আমাদের জন্যেও মৌলিক অধিকার পরিপন্থি হয়ে এখনো কার্যকর রয়েছে।



তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি নয় কেন ?
যুগ যুগ ধরে ফালতু হিসেবে অবজ্ঞা অবহেলা ঘৃণা টিটকারী টিপ্পনি খেয়েও বেঁচে থাকা ছোট্ট একটা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী এই হিজড়াদের জন্য রাষ্ট্রের কোন বাজেট বা কোন পুনর্বাসন কার্যক্রম আদৌ হাতে নেয়া হয় কিনা জানা নেই আমাদের। আমরা শুধু এটুকুই জানি, পরিবার ও সমাজের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হিজড়ারা বেঁচে থাকার তাগিদেই দলবদ্ধভাবে বসবাস করে বা করতে বাধ্য হয়। মানুষ হিসেবে তাদেরও যে অধিকার রয়েছে, তা সুপ্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে হিজড়াদের উন্নয়নে হাতে গোনা কয়েকটি সংগঠন খুব ছোট্ট পরিসরে হলেও মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। বন্ধু সোস্যাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, সুস্থ জীবন, বাঁধন হিজড়া সংঘ, লাইট হাউস, দিনের আলো ইত্যাদি সংগঠনের নাম কম-বেশি শোনা যায়। এদের কার্যক্রম ততোটা জোড়ালো না হলেও এইডস প্রতিরোধসহ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রমে এরা যুক্ত রয়েছে বলে জানা যায়। সেখানে রাষ্ট্রের কোন অনুদান নেই। তাই রাষ্ট্রের কাছে হিজড়াদের প্রধান দাবি আজ, তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি। কেননা এই লিঙ্গস্বীকৃতি না পেলে কোন মানবাধিকার অর্জনের সুযোগই তারা পাবে না বলে অনেকে মনে করেন।

তবে আশার কথা যে, এবারের ভোটার তালিকায় এই প্রথম হিজড়াদেরকে অন্তর্ভূক্ত করার প্রশংসনীয় একটা উদ্যোগ নিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ বিবেকবান মানুষের সমর্থনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থারও প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। তবু প্রায় এক লাখ হিজড়াকে এবারের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা এখনো রয়ে গেছে বলে জানা যায়। কেননা তাদেরকে তাদের নিজের পরিচয় হিজড়া হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি বা করা যায়নি। হয়েছে ছেলে বা মেয়ের লিঙ্গ পরিচয়ে, যেখানে যা সুবিধাজনক মনে হয়েছে সেভাবেই। ফলে এতেও হিজড়া হিসেবে সবকিছু থেকে বঞ্চিত এই সম্প্রদায়ের আদতে কোন স্বীকৃতিই মেলেনি। ফলে হিজড়াদের প্রাপ্য অধিকার ও মানুষ হিসেবে পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ আইনের দরকার হয়ে পড়েছে আজ, যেখানে যৌক্তিক কারণেই তাদের হোমোসেক্স বা সমকামিতার অধিকার প্রতিষ্ঠাও জরুরি বৈ কি। আর এজন্যেই আজ অনিবার্য হয়ে উঠেছে হিজড়াদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার মানবিক দাবিটাও।

প্রিয় পাঠক, আপনার স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততার ফাঁকে হঠাৎ করেই কোন হিজড়ার সাথে দেখা হয়ে গেলে হয়তোবা স্বতঃকৌতুহলি হয়ে ওঠবেন আপনি। এই কৌতুহলের মধ্যে অজান্তেও কোন কৌতুক মেশাবার আগেই একটিবার অন্তত ভেবে দেখবেন কি, এই না-পুরুষ না-স্ত্রী সত্তাটি আপনার আমার মতোই সবক’টি নির্দোষ দৈহিক উপাদান নিয়েই কোন না কোন পারিবারিক আবহে জন্মেছিলো একদিন। মানবিক বোধেও কোন কমতি ছিলো না। কিন্তু প্রকৃতি তাকে দিয়েছে ভয়াবহ বঞ্চনা, যা আপনার আমার যে কারো ক্ষেত্রেই হতে পারতো ! অসহায় পরিবার ত্যাগ করেছে তাকে, অবিবেচক সমাজ করেছে প্রতারণা। নিয়তি করেছে অভিশপ্ত, আর রাষ্ট্র তাকে দেয়নি কোন সম্মান পাবার অধিকার। কোন অপরাধ না করেও ভাগ্য-বিড়ম্বিত সে কি আপনার আমার একটু সহানুভূতি থেকেও বঞ্চিত হবে ?

| তথ্য-কৃতজ্ঞতা : হিজড়া সম্প্রদায় তৃতীয় লিঙ্গ নয় কেন/ঝর্ণা রায়/সাপ্তাহিক ২০০০,বর্ষ১১ সংখ্যা২৭, ১৪ নভেম্বর ২০০৮|

[Image: from internet except the top.]

 

লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): হিজরাট্র্যান্স-জেন্ডারক্লীবনা-পুরুষ না-স্ত্রী ;
প্রকাশ করা হয়েছে: মুক্তগদ্য  বিভাগে । বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:২৪
মনির হাসান বলেছেন: অসাধারণ একটি পোস্ট ... রণদীপম দা ...



পোস্ট'টা স্টিকি হোক ...
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:২৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মনির ভাই।

২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩১
বিবর্তনবাদী বলেছেন: অসাধারণ একটি পোস্ট ... রণদীপম দা ...
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩১
নতুন বলেছেন: এরা আমাদের মতন মানুষ....

বিভিন্ন দেশে দেখেছি এরা সাধারন মানুষের মতন চলাফেরা..জীবন যাপন করে....

আমি অনেক ৫তারা হোটেল... সরকারী/বেসরকারী সেবা প্রদান খাতে এদের কাজ করতে দেখেছি....

আমাদেরও উচিত এদেরকে সমাজে সাভাবিক ভাবে গ্রহন করা ...

ধন্যবাদ রণদীপম দা ...
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে তাদেরকে কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য। কিন্তু আমরা তাদেরকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছি কই !

৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৩
মনির হাসান বলেছেন: তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি দেয়া হোক ... বাংলাদেশ সরকার ... তথা নির্বাচন কমিশন কে সাধুবাদ ... খুব ভালো হয় নারী/পুরুষ/হিজরা নির্বিশেষে যে কোন ফর্মের লিঙ্গ নির্ণয়ী ঘরটি বিলুপ্ত করা হয় । আর তা না সম্ভব হলে হিজরাদের নিজস্ব লিঙ্গ পরিচয়ের অপশন থাকলে খারাপ কি ? বায়োডাটা .. সার্টিফিকেট ... পাস্পোর্ট প্রভৃতি'তে তৃতীয় লিঙ্গের অপশন থাকা অবশ্যই উচিত ।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৯

লেখক বলেছেন: অবশ্যই আপনার সাথে সহমত পোষণ করি। এই অপশনগুলো না রাখা তো সরাসরি মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলেই মনে করি। এবং তা করছে রাষ্ট্র !

৫. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৪
চয়ন বলেছেন: পড়ে খুব ভালো লাগলো। আসলে আমরা নিজেদের নিয়ে এত ব্যস্ত যে অন্য কারো ব্যপারে চিন্তা করার সময় পাই না। হিজড়াদের অধিকার আদায়ে এগিয়ে আসতে হবে আমাদেরকে।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: প্রতিটা বিবেকবান লোকেরই এগিয়ে আসা উচিত !

৬. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৫
শয়তান বলেছেন: আগ্রহ বেশী থাকায় সচলে আগেই পড়ে ফেলেছিলাম । অসাধারণ একটি পোস্ট। বৃহন্নলাদের নিয়ে অনলাইনে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে ইনফরমেটিভ পোস্ট ।

শোকেসে রাখলাম । অনেক অনেক ধন্যবাদ দাদা ।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৪

লেখক বলেছেন: বৃহন্নলা আসলে হিজড়াদের সম্প্রদায়গত নাম নয়। মহাভারতে পাণ্ডবদের বারো বছরের অজ্ঞাতবাসকালে তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুণ এই ক্লীব বেশে আত্মগোপন করে বৃহন্নলা নাম ধারণ করেছিলেন।

তবে এখন বৃহন্নলা বললেই প্রতীকী অর্থেই এটাই মনে করি আমরা।

ধন্যবাদ আপনাকে।

৭. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৫
প্রকৃত দেশপ্রেমিক বলেছেন: পোস্ট টি স্টিকি করা হোক............
৮. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৬
শয়তান বলেছেন: মনির হাসান@ আগে তো সামাজিক স্বীকৃতি তারপন না রাস্ট্রীয় ।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৬

লেখক বলেছেন: আমি তো মনে করি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিই আগে প্রয়োজন। সাথে সাথে আমাদের সামাজিক সমর্থনটাও বাড়াতে থাকি এক্ষেত্রে।

৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৩৯
টাক্কা বলেছেন: পোস্ট টি স্টিকি করা হোক
১০. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৩
আরিফআফতাব বলেছেন: অসাধারণ একটি পোস্ট ...
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আফতাব ভাই।

১১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৪
মনির হাসান বলেছেন: শয়তান ভাই ... সমাজ যখন টিটকারী মারতেই ব্যাস্ত তখন তাদের কাছে এই দাবী নিয়ে যাওয়া'টা হাস্যকর ... রাষ্ট্র দায়িত্বশীল ( ! ) তাকে তার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়াটা আমাদের দায়িত্ব ।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৭

লেখক বলেছেন: সহমত।

১২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৬
মিশুক - ঢাকা বলেছেন: অসাধারন লেখা..............সত্যিই অসাধারন................

একটি অনন্য অসাধারন লেখা উপহার দেয়ার জন্য আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ।।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ মিশুক ভাই।

১৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫৫
শয়তান বলেছেন: সামাজিক স্বীকৃতির কথা প্রাধান্য একারনে প্রথমত হিজরে শিশু পারিবারিকভাবে পরিত্যাক্ত হয় সমাজের কারনেই । রাস্ট্রের ভুমিকা গৌন এক্ষেত্রে । কিছু কিছু ব্যাপারে রাস্ট্র চলমান সমাজের কাছে অসহায় । হিজরে ইস্যুটা এর অন্যতম ।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:০৯

লেখক বলেছেন: আসলে হিজড়াদের অধিকার বিষয়ে রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি না থাকায় এখন সমাজ যা করছে তা-ই সমাজের কাছে বৈধ কাজ মনে হচ্ছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটা থাকলে তখন সমাজের চলমান কাজটা আইনের দৃষ্টিতে অন্যায় হবে। এছাড়াও পরিবার থেকে প্রাথমিক যে বিরূপ পরিস্থিতিটা তৈরি হচ্ছে তাও অনেকটা সামাজিক বাধ্যবাধকতার মতোই মনে করা হয়। তাই রাষ্ট্রের স্বীকৃতিটা এখানে প্রথমেই জরুরি মনে হয় এজন্যেই যে তাতে নৈতিকভাবে পারিবারিক ভিত্তিটা শক্ত হবে।

মোট কথা রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এলেও সামাজিক সংস্কারটা ভাঙতে সময় লাগবে হয়তো, কিন্তু এটা না হলে সংস্কার ভাঙাটা আরো বেশি কষ্টকর হবে। তবে যে কোন বিচারে আপনার থিম অনুযায়ী সামাজিক প্রথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সন্দেহ নেই।

১৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ২:৫৯
নিশাচর বলেছেন: নিঃসন্দেহে ভাল একটি পোস্ট।

বছর খানেক আগে 'ইন্ডিয়া টিভি'তে একটি প্রতিবেদন দেখেছিলাম এই নিয়ে ।আমার স্মৃতি যদি আমার সাথে প্রতারনা না করে তাহলে যতটুকু মনে আছে তা হচ্ছে বর্তমানে ভারতে যত হিজড়া আছে তাদের অনেকেই জম্নগত ভাবে হিজড়া নয় ।নানা উপায়ে তাদের হিজড়া বানিয়ে ব্যবসা করাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।এই নিয়ে অনেকগুলো প্রতিবেদন দেখেছি ভারতের বিভিন্ন চ্যানেলে।আমাদের দেশেও এমন চক্র থাকাটা কি অসম্ভব নয়।ভারতের হিজড়াদের যাপিত জীবনের সাথে আমাদের দেশের হিজড়াদের মিল হুবহ। আমাদের ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো রাজনৈতিক নেতার স্বর্দি হলেও প্রতিবেদন করে কিন্তু হিজড়াদের নিয়ে বাস্তবধর্মী কিছু আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি।



হিজড়াদের যৌন স্বীকৃত্বীর জন্য সমকামীতা বৈধ ঘোষনা হলে এই সুযোগটার অপব্যবহারই হবে বলে আমার একান্তই ব্যাক্তিগত মতামত।ক্ষুদ্র একটি গোষ্টীর জন্য সমকামীতা বৈধ করা ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে।



০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:২৬

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে এক জায়গায় একটু দ্বিমত পোষণ করি। সেটা হচ্ছে-
আইনের একটা মানবিক দিক থাকে। তা হচ্ছে- একজন নিরপরাধীকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনে দশজন অপরাধী ছাড়া পেয়ে যেতে পারে। বাস্তবে যাই হোক, এটাই আইনের মানবিক দর্শন।
একইভাবে কোন ক্ষেত্রেই সংখ্যগুরুর ক্ষমতা দিয়ে বিনা দোষে কারো মৌলিক অধিকারও হরণ করা যায় না। অপব্যবহার হচ্ছে অপরাধ, সে জন্যে ভিন্ন প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই বলে মৌলিক অধিকার হরণ ! এটাকে কিভাবে সমর্থন করবেন ?

একটু ভাবুন তো, কোন কারণে মনে করেন সমকামীদের সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে সমকামীতাটাই বৈধ হয়ে যদি বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিটা অবৈধ ও অসামাজিক বলে গণ্য হয়, তাহলে আমাদের কেমন লাগবে ? আপনি কি আপনার মৌলিক ও ব্যক্তিগত অধিকার নির্দ্বিধায় জলাঞ্জলি দেবেন ?

১৫. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:০৪
শ্রাবনের ফুল বলেছেন: অসাধারণ একটি পোষ্ট, পোষ্ট টি স্টিকি করা হোক...
১৬. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:০৬
শ্রাবনের ফুল বলেছেন: হিজড়াদের যৌন স্বীকৃত্বীর জন্য সমকামীতা বৈধ ঘোষনা হলে এই সুযোগটার অপব্যবহারই হবে বলে আমার একান্তই ব্যাক্তিগত মতামত।ক্ষুদ্র একটি গোষ্টীর জন্য সমকামীতা বৈধ করা ব্যাপক আলোচনার দাবী রাখে।

নিশাচরের সাথে সহমত
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৩৮

লেখক বলেছেন: গোষ্ঠী যতো ক্ষুদ্রই হোক, মৌলিক অধিকার হরণ তো ভাই এক ধরনের বর্বরতা। আমাদের সংবিধানের সাথেও তো তা পরিপন্থি অবস্থায় রয়েছে। সেই ১৮৬০ সালের ব্রিটিশ ভারতীয় অবিবেচক ৩৭৭ নং দণ্ডবিধি টা গত ২ জুলাই ০৯-এ দিল্লী হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ে রদ হলেও সেই আইনটাই আমাদের দেশে বলবত রয়েছে।
ছোট্ট একটা গোষ্ঠীকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার প্রেক্ষিতে আমাদের বৃহত্তর গোষ্ঠীর মধ্যে অপব্যবহার হলে তার দায়-দায়িত্বও কি সেই ছোট গোষ্ঠীকেই নিতে হবে ? অপরাধীর অপরাধ দমনের জন্য তাহলে বাকি দণ্ডবিধিগুলো কি এতোই অকার্যকর ! আর আপনার কি ধারণা সেই অপরাধগুলো এখনো লুকিয়ে চুরিয়ে হচ্ছে না ?

অধিকার অধিকারই। তার কোন বিনিময় হয় না। হরণ তো আরো বেশি মর্মান্তিক !

১৭. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:০৬
মরি-নাই বলেছেন: আর সবার মতো কইতে হয়, 'অসাধারণ একটি পোষ্ট, পোষ্ট টি স্টিকি করা হোক'
১৮. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১১
মনির হাসান বলেছেন: নিশাচর ... বাংলাদেশের মিডিয়ায় হিজরাদের নিয়ে উল্ল্যেখ করার মত না হলেও অনেক প্রামান্য হয়েছে ।

আর সমকামীতার বৈধতা দিলে তার সুযোগ অনেকেই নিবে ... এটাই স্বাভাবিক ... অন্যায় সুযোগ নিলে তার জন্য আলাদা আইন করা হবে ...
তাই বলে কেউ অন্যায় সুযোগ নিবে এই ভয়ে হিজরা'দের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আপনি আপত্তি জানাবেন ... এটা কোন কাজের কথা না ।
১৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:২৫
সবাক বলেছেন: আলোচনা জমতেছে...


প্রিয় পোস্ট
২০. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:২৬
নিশাচর বলেছেন: মনির হাসান বলেছেন: নিশাচর ... বাংলাদেশের মিডিয়ায় হিজরাদের নিয়ে উল্ল্যেখ করার মত না হলেও অনেক প্রামান্য হয়েছে ।

মনির হাসান প্রামান্য চিত্র এলিট সমাজের ভেতরই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।হিজড়াদের বাস্তব চিত্র সাধরন মানুষের মধ্যে আনতে ইলেট্রনিক মিডিয়ার বিকল্প কখনো প্রামান্য চিত্র হতে পারেন।শুনতে হয়ত আপনার খারাপ লাগবে তবু্ও বলতে হচ্ছে আজকাল প্রামান্য চিত্র বানানোটাও একধরনের ব্যবসা হয়ে গেছে । দেশী বিদেশী চলচিত্র উৎসব ভিত্তিক নির্মিত প্রামান্য চিত্র গুলো সাধরন দর্শকদের নাগালের বাইরেই থেকে যায়।
-----------------------

আর সমকামীতার বৈধতা দিলে তার সুযোগ অনেকেই নিবে ... এটাই স্বাভাবিক ... অন্যায় সুযোগ নিলে তার জন্য আলাদা আইন করা হবে ...
তাই বলে কেউ অন্যায় সুযোগ নিবে এই ভয়ে হিজরা'দের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আপনি আপত্তি জানাবেন ... এটা কোন কাজের কথা না ।



আমি আপত্তি জানায় নি জাস্ট শংকার কথা বলেছি। কারণ,হিজড়ারা সমকামী তেমন একটা হয় না বললেই চলে।লক্ষ্য করলে দেখবেন হিজড়ারা যাদের সাথে বিছানায় যাচ্ছে তারা কিন্তু যারা হিজড়া নয় তাদের সাথে ।এখন আইন করে যদি সমকামীতা বৈধ করা হয় তাহলে তার পরিনতি কি হবে ?গে লেসবিয়ান হিজড়ারা একাকার হয়ে যাবে ।আইন যত সহজে বানিয়ে পাস করা যায় তার প্রয়োগ করা অনেক কঠিন ।



২১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৩৭
নিশাচর বলেছেন: একটু ভাবুন তো, কোন কারণে মনে করেন সমকামীদের সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে সমকামীতাটাই বৈধ হয়ে যদি বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিটা অবৈধ ও অসামাজিক বলে গণ্য হয়, তাহলে আমাদের কেমন লাগবে ? আপনি কি আপনার মৌলিক ও ব্যক্তিগত অধিকার নির্দ্বিধায় জলাঞ্জলি দেবেন ।
------------------------------

বিনয়ের সহিত বলছি আপনার এই যুক্তিটি আমার কাছে একদম বাচ্ছা সুলভ মনে হয়েছে।আমাদের মত দেশে যদি সমকামীতা বৈধ হয়ে যায় তাহলে এর আগে সমকামীহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা পেতে অন্যগ্রহের সন্ধানে যেতে হবে ।বর্তমান পদ্ধতি যদি অবৈধ হয়ে যায় তাহলে পৃথিবীর সৃস্টিশীলতার কি হবে ?নারীহীন বিশ্ব কি করে এগিয়ে যাবে ?




০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৪৭

লেখক বলেছেন: আমি কিন্তু আপনাকে মৌলিক অধিকার হারাদের অবস্থানে নিজকে স্থাপন করে জাস্ট কল্পনা করার জন্য বলেছিলাম কথাটা। যে তখন আপনার কেমন লাগবে সেটা মনে মনে অনুভব বা উপলব্ধি করার জন্য। ওই রকম হয়ে যাবে তা তো না !

সমকামিতা বৈধ করে দিলেই কি সবাই সমকামী হয়ে যাবে ? তা কখনো হবে না। কিন্তু বিনা অপরাধে যারা জন্মগতভাবে ভিন্ন হয়ে এসেছে, কিংবা জেনেটিক্যালি জন্মগত দৈহিক লিঙ্গের বাইরে ভিন্ন লিঙ্গের মানসিক স্থিতি তৈরি হলে তাদের তো ব্যক্তিগত জীবনকে আইন বা রাষ্ট্র অবহেলা করতে পারে না ! সায়েন্টিফিক্যালি সমকামিতা কিন্তু পারভার্টেড বা বিকৃতি নয়। প্রকৃতির বিচিত্র বিন্যাস !

২২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৩৯
শয়তান বলেছেন:
বুঝলাম না রাস্ট্রীয় যৌন স্বীকৃতির মানে কি কেবল যৌন অভ্যাস । নাকি শুধুই লিংগ অনুমোদন ?

আলোচনা দেখি যৌন অভ্যাসের দিকে কাঁত হচ্ছে বারবার । আমি তো বুঝি ব্যাক্তি যৌন অভ্যাস একান্তই ব্যাক্তিগত একটা ব্যাপার ।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৫০

লেখক বলেছেন: সেটাই। যৌন অভ্যাসে রাষ্ট্রের কোন হাত থাকতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তি অধিকার।

২৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৫৫
রামন বলেছেন: এদেশে জম্মগ্রহনকারী সকল হিজড়া এদেশেরই সন্তান। কাজেই কোনো অবস্হাতেই এদের আলাদা করে দেখার সুযোগ নাই। যদিও রাস্ট্র অন্য সকল নাগরিকের ন্যায় হিজড়াদের নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ করে থাকে তথাপি সামাজিক বৈষম্যের রোষানল থেকে এখনো তারা শতভাগ মুক্ত নয়।

আপনার এই লেখাটি হিজড়াদের প্রতি আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে। তাদের প্রতি বিদ্রুপ নয় কিংবা করুণা নয় একজন মানুষ হিসেবে সমমর্যদা প্রদান করতে হবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে প্রানবন্ত লেখাটির জন্য।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০৫

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যে সহমত পোষণ করি আমিও। ধন্যবাদ আপনাকে।

২৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৫৭
মনির হাসান বলেছেন: নিশাচর ... সাধারণ গ্রামগঞ্জের মানুষ'তো দুরের কথা আপনি'ই যখন জানেন'না ... তখন বুঝতে হবে আমাদের মিডিয়ার কতটা পিছিয়া ... আমি আপনাকে জাস্ট ইনফো দিয়েছিলাম, "বাংলাদেশের মিডিয়ায় হিজরাদের নিয়ে উল্ল্যেখ করার মত না হলেও অনেক প্রামান্য হয়েছে " ...
কখনই মিডিয়ার সাকসেস দাবী করিনি ।

- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -

আপনার আপত্তি নাই জেনে ভাল্লাগলেও শংকার অতিসাবধান ভুত থেকে আমি দূরে থাকি । সমকামীতা নিয়ে আমার কোন এলার্জি নেই ... এটাকে বৈধতা না দেয়ার যৌক্তিক কোন কারণ দেখি না । যে যার ইচ্ছে মত, সঙ্গি (বা যৌনসঙ্গী) নির্বাচন করবে ... দুইজনের সম্মতি থাকলে আর কারোও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই ।

আপনার/আমার ভালো লাগুক বা না লাগুক ... দবির এবং ছবির যদি স্বেচ্ছায় গে বা লেজ হিসেবে বিছায় চড়ে ... আপনি বা আমি ক্যান আইন করে তাকে তার যৌন অধিকার থেকে বঞ্চিত করবো। কোন যুক্তিতে?


[অনটপিক আলোচনার স্বার্থে বাহুল্যাংশের জবাব দিলাম না।]
২৫. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:৫৭
নিশাচর বলেছেন: কিন্তু বিনা অপরাধে যারা জন্মগতভাবে ভিন্ন হয়ে এসেছে, কিংবা জেনেটিক্যালি জন্মগত দৈহিক লিঙ্গের বাইরে ভিন্ন লিঙ্গের মানসিক স্থিতি তৈরি হলে তাদের তো ব্যক্তিগত জীবনকে আইন বা রাষ্ট্র অবহেলা করতে পারে না ! সায়েন্টিফিক্যালি সমকামিতা কিন্তু পারভার্টেড বা বিকৃতি নয়। প্রকৃতির বিচিত্র বিন্যাস

-----------------

প্রশ্ন হচ্ছে প্রকৃতির খেয়ালীপনার স্বীকার হয়ে যারা হিজড়া হচ্ছে তারা নিজেদের মধ্যে সেক্স করার ক্ষমতা কতটুকু?


মনির হাসান কে করা কমেন্টের অংশ বিশেষ '''হিজড়ারা যাদের সাথে বিছানায় যাচ্ছে তারা কিন্তু যারা হিজড়া নয় তাদের সাথে ।এখন আইন করে যদি সমকামীতা বৈধ করা হয় তাহলে তার পরিনতি কি হবে ?''' আপনার বক্তব্য জানতে চাচ্ছি ।

আরো স্পষ্ট করে বলছি শুধু হিজড়াদের জন্য যদি সমকামীতা বৈধ করা হয় তাহলে যারা গে লেসবিয়ান তাদের অধিকারের কি হবে ?
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০৩

লেখক বলেছেন: নিশাচর ভাই, আপনার প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত অব্যবহিত উপরে মনির হাসানের ২৪ নং মন্তব্যে চলে এসেছে।

২৬. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০০
মনির হাসান বলেছেন: শয়তান ভাই ... অনটপিক আলোচনা লিংগ অনুমোদন ...
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২৮. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০৭
নাজিম উদদীন বলেছেন: গুড পোস্ট, পর্যবেক্ষণে।
২৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:০৮
নিশাচর বলেছেন: মনির হাসান আমি হয়ত আমার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে আমার বক্তব্য বোঝাতে পারিনি।
আমার শংকার কারণ হচ্ছে আমি শুধু আমার সুখের জন্য পৃথিবী এমনটা ভাবিনা।প্রজন্ম হতে প্রজন্মের কথা ভেবেই আমার শংকা ।বিকৃত মানসিকতা যদি কন্টিনিউ হতে থাকে তাহলে আগামী দিনের পৃথিবীর ধারাবাহিকতা রক্ষা হবে কি করে ?
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:১৬

লেখক বলেছেন: খুব সম্ভবত আপনার এই শংকাটা অমূলক। কেননা যিনি বিসমকামী, তাঁকে জোর করে যেমন সমকামী বানাতে পারবেন না, তেমনি আইন বা স্বীকৃতি না থাকলেও যিনি সমকামী তাকে আপনি আমি থামিয়ে রাখতে পারবো না বা নরমাল যৌনাচারে আনা যাবে না।
তাই খুব শংকাহীনভাবেই জীবন জীবনের গতিতে এগিয়ে যাবে। বংশধারা রুদ্ধ হবার কোন যৌক্তিক সম্ভাবনা বা আশঙ্কা আমি দেখি না। কেবল মহান প্রকৃতি যদি নিজে থেকে হস্তক্ষেপ না করে।

৩০. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:১৫
নিশাচর বলেছেন: প্রশ্ন হচ্ছে প্রকৃতির খেয়ালীপনার স্বীকার হয়ে যারা হিজড়া হচ্ছে তারা নিজেদের মধ্যে সেক্স করার ক্ষমতা কতটুকু?


লেখক ভাই আমি আপনার কাছ থেকেই উপররে বাক্যটির উওর পেলেই সন্তুষ্ট এবং পরবর্তী কমেন্টে আমার বক্তব্য আরো ক্লিয়ার করতে পারব।
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:২৬

লেখক বলেছেন: দুজন সমকামী নারীর মধ্যে কি ভিন্ন ধারার সেক্স হতে পারে না ? পোস্টে উল্লেখ করা আছে দেখেছেন হয়তো- তাদের মধ্যে তাড়না আছে, কিন্তু তা চরিতার্থ করার ক্ষেত্র নেই।

আর আরেকটা হচ্ছে এদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের যৌনপেশায় জড়িয়ে যায়। আইন স্বীকৃতি দিলে তখন হয়তো যৌনপেশার বদলে আরেকজন পুরুষ সমকামীর সাথে বৈধ সহাবস্থান করতে পারবে।

সরি ভাই, এর চে খোলাশা করে আমি বলতে অপারগ। আপনাকে তা নিজগুণে বুঝে নিতে হবে।

৩১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:১৯
নিশাচর বলেছেন: খুব সম্ভবত আপনার এই শংকাটা অমূলক। কেননা যিনি বিসমকামী, তাঁকে জোর করে যেমন সমকামী বানাতে পারবেন না, তেমনি আইন বা স্বীকৃতি না থাকলেও যিনি সমকামী তাকে আপনি আমি থামিয়ে রাখতে পারবো না বা নরমাল যৌনাচারে আনা যাবে না।

--------------

১০০ভাগ সহমত ।তবে যাদের ফিরিয়ে আনা যাবেনা তাদের আইন করে বৈধতা দেওয়া মানে আগামী প্রজন্মকে উৎসাহি করা নয় কি ?
০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:৩৩

লেখক বলেছেন: না, উৎসাহিত করা হয় না। কারণ স্বভাব নষ্ট হয়ে কেউ সমকামী হয় না। এটা জেনেটিক ফ্যাক্টর।
আমাদের আলোচনাটা বারবার মোড় ঘুরে যাচ্ছে সম্ভবত এই ফ্যাক্টরটায় অস্পষ্টতার কারণে। স্বভাব নষ্ট হয়ে যে কেউ ধর্ষকামী হতে পারে, তা সে সমকামী বা বিসমকামী যে কেউ।

৩২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ ভোর ৪:৪৪
নিশাচর বলেছেন: দুজন সমকামী নারীর মধ্যে কি ভিন্ন ধারার সেক্স হতে পারে না ? পোস্টে উল্লেখ করা আছে দেখেছেন হয়তো- তাদের মধ্যে তাড়না আছে, কিন্তু তা চরিতার্থ করার ক্ষেত্র নেই।

আর আরেকটা হচ্ছে এদের অনেকেই বিভিন্ন ধরনের যৌনপেশায় জড়িয়ে যায়। আইন স্বীকৃতি দিলে তখন হয়তো যৌনপেশার বদলে আরেকজন পুরুষ সমকামীর সাথে বৈধ সহাবস্থান করতে পারবে।


------------------------

আইন স্বীকৃত দিলে '''হয়তো''এর পরের শব্দ গুলো পড়ে আমার আর কিছুই বলার নেই ।রাজনৈতিক নেতারা যেমন একে অন্যের মাথায় নুন রেখে বড়ই খেয়ে পার পেয়ে যেতে চাই ঠিক তেমনি করে হিজড়াদের হাইলাইট করে সমকামীতাকে বৈধ করার অপচেষ্টারই পূর্ভাবাস টের পাচ্ছি ।কেউ হয়ত বুঝে করছে কেউ হয়ত পশ্চিমা সংস্কৃতির আধুনিকতার টানে ।যান্ত্রিকতার আধুনিক জীবনে মানুষ এমনিতেই একে অপরের কাছ থেকে দুরে সরে যাচ্ছে গে লেসবিয়ানের আগামীদিনগুলোতে কি হবে জানিনা তবে ভাল কিছুর ইংগিত পাচ্ছিনা ।


যাই হউক সমকামীতা বিষয়ক অংশটুকু ছাড়া আপনার পোস্টের বাকী অংশগুলোর সাথে আমার দ্বিমত নেই।এবং এত সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।শুভ রাত্রি ।
৩৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৯:৪৩
সৌরভ১৩ বলেছেন: চমৎকার লাগল পড়তে... শোকেসে রাখলাম। ধন্যবাদ আপনাকে...
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১২
যীশূ বলেছেন: ভালো লেখা, অনেক কিছু জানলাম।
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১১

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৩৫. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:১৮
বৃত্তবন্দী বলেছেন: রনদীপম দা, খুবই ভালো লাগলো এই অবহেলিত আর আমাদের বিচিত্র কুসংস্কারে ঘোরটোপে আটকে থাকা গোষ্ঠীটাকে নিয়ে এরকম বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা দেয়ায়।

আর তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির ব্যাপারে আপনার সাথে একমত...
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ বৃত্ত ভাই।

৩৬. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৬
বিডি আইডল বলেছেন: আমি কাছ থেকে এইরকম কোন পরিবারকে দেখি নি কিন্তু জানার আগ্রহ হচ্ছে:

এদের কে কি পরিবার ত্যাগ করে? কেন? তাদের পরিবারে রেখে পড়াশোনা সহ অন্যান বিকাশে বাধা কি আমাদের অর্থনীতি না মানসিকতা?
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৩

লেখক বলেছেন: মানসিকতা !

৩৭. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:২৯
সেতূ বলেছেন:
অসাধারণ একটি পোস্ট ..
ভালো লাগল পড়তে
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সেতূ ভাই।

১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১০:৪০
ইন্ডিয়ানা জোন্স বলেছেন: চমতকার একটা লেখা... কমেন্ট গুলো পড়িনি... পরে পড়ে দেখব

থ্যংস... টিভিতে বেশ কিছুদিন আগে একটা নৎক দেখলাম ঐখানে মোশাররফ করিম হিজড়া চরিত্রে অভিনয় করেচিল... আমি আসলে বুঝতেই পারছিলাম না এই ব্যাপারটাকে কিভাবে নেব!!! একদিক থেকে বিচার করলে নাটকে হিজড়া দের চরিত্র আসছে- এইটা মানুষকে হিজড়াদের ব্যাপারে আমাদেরকে আরো বেশী তুলে ধরবে হুইচ ইন টার্ন আমদেরকে হেল্প করবে হিজড়াদের স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে...

আবার অন্যদিক থেকে দেখলে ঐ নাটকে হিজড়া চরিত্রটা আসলে হাসির/ফানের একটা উপাদান হিসেবে হাজির হয়েছিল... তার মানে কিনা হিজড়াদের ব্যাপারে আমাদের আগের মনোভাব টাকেই এই নাটক টা এনডোর্স করছে!!!

আমি আসলেই কনফিউঝট হয়ে গেছলাম!!!

আামার সাথে কাজ করত পরিচিত এক ছেলে আছে সে হিজড়া না, তবে তার অংগভংগিতে কিছুটা মেয়েলী ভাব প্রকাশ পায়... ঐটা নিয়ে তাকে অনেক প্রব্লেম ফেস করতে দেখেছি... অনেককেই দেখেছি তার সামনে এইটা নিয়ে হাসাহাসি করতে... সে না বুঝার ভান করে... খারাপ লাগে দেখতে... এই বাচ্চা ছেলেটাকে নিয়ে আমাদের কতই না হাসি-মস্করা...
১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ৩:১৮

লেখক বলেছেন: আমরা সবাই কোন না কোন বিষয় নিয়ে ফান করি হয়তো। কিন্তু ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়, ফান জিনিসটা আসলে কারো দুর্বলতাকে নিয়ে একধরনের নির্মম মজা বা উল্লাস করা।

তারপরও হয়তো আমাদেরকে বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই ফান করে যেতে হবে।

৪০. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ সকাল ১১:৫৬
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: অনেক কিছু জানতে পেলাম।
ধন্যবাদ।
৪১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৩
ফিরোজ-২ বলেছেন: অসাধারণ একটি পোস্ট
৪২. ০৩ রা আগস্ট, ২০০৯ দুপুর ২:৪৭
ব্যতিক্রমী বলেছেন: প্রকৃতি প্রদত্ত একটু অঙ্গ দিয়ে আমরা কতো কিছুই না করি। কিন্তু কখনো ভেবে দেখিনা এরকমতো আমারও হতে পারতো।:( আমিওতো এরকমভাবেই অবহেলিত হতাম। আর হিজড়েরা আমাদেরই কারো না কারো পরিবারের ভাই, বোন ছিল। তবে কেন আমরা এতো অমানবিক?

মৌচাকে ঢিল এর একটি সংখ্যায় "প্রকৃতির খামখেয়ালি" এই শিরোনামে একজন লেখকের একটি লেখা পড়ে অত্যন্ত পীড়িত হয়েছিলাম। পরে এই সংখ্যাটি বাড়িতে যাবার সময় আমার বন্ধুর জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম যাতে পড়ে তাদের কষ্ট অনুভব করতে পারে।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় "আছে ও নেই" নামক একটি কবিতায় এদের কথাই বর্ণনা করেছেন।

ভালো লাগলো; আর সেইসাথে ব্যথিত হলাম।
৪৪. ০৫ ই আগস্ট, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৬
মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান বলেছেন: অসাধারণ দক্ষতার সাথে মানবিকতা ও ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে বিষয়টি তুলে ধরলেন।

ধন্যবাদ।

সর্বক্ষেত্রে তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি চাই।
৪৫. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৭:৪৪
পেন্সিল বলেছেন: বেশ ইনফরমেটিভ পোস্ট।
৪৬. ১৪ ই আগস্ট, ২০০৯ সকাল ৮:০২
আশরাফ মাহমুদ বলেছেন: অনেক তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট। জানা হলো বেশ।
৪৭. ১৫ ই আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:২০
জনৈক আরাফাত বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ।
৪৮. ২১ শে আগস্ট, ২০০৯ রাত ১২:৩৩
রণদীপম বসু বলেছেন: ধন্যবাদ তায়েফ আহমাদ, ফিরোজ-২, ব্যতিক্রমী, রুদ্র নীল, মুহাম্মদ মোহেব্বুর রহমান, পেন্সিল, আশরাফ মাহমুদ ও জনৈক আরাফাত-কে আপনাদের উৎসাহদানকারী মন্তব্যের জন্য।
ভালো থাকবেন সবাই।
৪৯. ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫১
কুতুব্ বলেছেন: হিজরা রা সবসময় মেয়েদের মত সেজে থাকে কেনো?
৫০. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৪
মনুমনু বলেছেন: + রেটিং দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বলে যে আমি নাকি একবার রেটিং দিয়েছি। আজব।

আপনার এই পোস্ট এর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।
৫১. ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১৫
স্পর্শহীন কিছুদিন বলেছেন: অসাধারণ পোষ্ট। ধন্যবাদ।
৫২. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৫৯
রণদীপম বসু বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ কুতুব্, মনুমনু ও স্পর্শহীন কিছুদিন-কে।
৫৩. ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৮:০৬
নাজিম উদদীন বলেছেন: এরকম সুন্দর একটা পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

হিজড়াদের নিয়ে ভারতে একটা মুভি হয়েছিল, নাম জানেন কি?
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:১২

লেখক বলেছেন: না ভাই, মুভিটার নাম জানা নেই।
আপনি জানতে পারতে পারলে দয়া করে আমাকে জানালে খুশি হবো।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৫৪. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:৩৬
রথে চেপে এলাম বলেছেন: সুচিন্তিত মন্তব্য করতে পারি না। কিন্তু খুবই ভাল লেগেছে আপনার পোস্ট। এরাও তো মানুষ। খেয়াল প্রকৃতির অথচ কষ্ট পায় এই মানুষগুলো।
১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ সারথি ভাই।

৫৫. ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:১৮
জ্যাক স্প্যারো বলেছেন: যে কমেন্ট করতে চাই সব ওপরে বলে দিয়েছে.... + ও প্রিয়
১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ২:০৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ তানভির ভাই।

০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:১৬

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

৫৭. ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৮
সব যদি আজ বদলে যেত বলেছেন: ভালো পোস্ট ।
কিন্তু এরা বড় ঝামেলায় ফেলে মাঝেমাঝে।
০২ রা অক্টোবর, ২০০৯ দুপুর ২:২০

লেখক বলেছেন: আসলে সামাজিকভাবে তাদেরকে কাজ করার সুযোগ করে দিলে সম্ভবত এই ঝামেলায় ফেলে দেয়ার মতো কাজগুলো কমে আসবে। তাছাড়া ঝামেলায় ফেলে দেয়ার মতো কাজ তারা কেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে আমরাও সবাই তা করে চলছি।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৫৯. ০৭ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:১৩
কালীদাস বলেছেন: খুবই ভাল এবং একটা মানবিক পোস্ট।

মাইনাস কে/কেন দিল তা ঠিক বুঝলাম না।
০৯ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১২:০৬

লেখক বলেছেন: মত প্রকাশের অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। যে কেউ তার অধিকার প্রয়োগ করতেই পারে। সব মতে সবাই একমত হবেন এটা ভাবাও উচিৎ নয়। তাই কে/কেন মাইনাস দিল এটা নিয়ে মনঃক্ষুণ্ন হবার কিছু নেই, তাই না !

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৬০. ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৬
সত্যাশ্রয়ী বলেছেন: 50 +
......... excellent writing...........
৬২. ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:২৫
মুভি পাগল বলেছেন: অনেক ভাল লাগল। দারুণ বিশ্লেষণধর্মী লেখা।

+++++++
৬৩. ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:৫২
রণদীপম বসু বলেছেন: সত্যাশ্রয়ী, গ্রাউন্ড ফ্লোর ও মুভি পাগল, পোস্টটি পড়া ও মন্তব্যের জন্য আপনাদেরকে ধন্যবাদ।
৬৪. ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৪
চানাচুর বলেছেন: ব্লগের চমৎকার একটি পোস্টের মধ্যে এটি অন্যতম!
০৯ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:২৫

লেখক বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৬৫. ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৯
ভোরের তারা বলেছেন: অনেক তথ্যসমৃদ্ব দারুন পোষ্ট। ধন্যবাদ।
২৩ শে ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১০:০০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ ভোরের তারা।

৬৭. ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১০
সুপ্ত শিপন বলেছেন: আমার কস্ট লাগে। সত্যিই কস্ট লাগে।
৬৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:১৭
মারুফ আহমেদ বলেছেন: অনেক অনেক + + + + + + + + + +
৭০. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৫
রণদীপম বসু বলেছেন: ধৈর্য ধরে পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আজমান আন্দালিব, সুপ্ত শিপন ও মারুফ আহমেদকে।
ভালো থাকবেন সবাই।
৭১. ১১ ই এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৫
গোধুলী রঙ বলেছেন: এদের বিস্তৃতি কি শুধু দক্ষিন এশিয়া তে? Hijra লিখে সার্চ দিলে আসে Hijra (South Asia) নামের একটি আর্টিকেল।
১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ৮:৩৮

লেখক বলেছেন: গোটা পৃথিবীটাই যেহেতু প্রকৃতির অংশ, অতএব হিজড়াদের উপস্থিতি সবখানেই। কেবল দক্ষিণ এশিয়াতে হিজড়া নামটা প্রচলিত বলে সার্চ করে অন্যকোথাও পাননি। আপনি ইংরেজিতে সীমেল বা এজাতিয় কিছু লিখে সার্চ দিলে বোধয় ফল পাবেন।

মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

৭২. ২২ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮
""ফয়সল অভি "" বলেছেন: দাদা দ্রোহ এর দ্বিতীয় সংখ্যার জন্য আপনার উক্ত লেখাটি প্রকাশের অনুমতি চাইছি এবং আশা রাখি অনুমতি প্রাপ্ত হবো ।


দ্রোহ এর প্রথম সংখ্যার লিংক>>http://www.chittagongnews.org/droho/

আন্তরিক শুভ কামনা রইল ।
১৯ শে জুন, ২০১০ রাত ৮:৪১

লেখক বলেছেন: অনেক দেরিতে কমেন্টটা চোখে পড়লো। আমি অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করছি আপনাকে অনুমতি দিতে দেরি করে ফেলার জন্য।
অবশ্যই ছাপতে পারেন। এগুলা জনসচেতনতামূলক পোস্ট।

৭৩. ৩১ শে অক্টোবর, ২০১০ সকাল ১১:০৪
আম্বিয়া বলেছেন: অনেক অজানা তথ্য জানলাম এই পোষ্ট থেকে...। অসাধারণ... আসলে চলতে ফিরতে ঢাকা শহরে প্রায় দেখতাম...কিন্তু কেন জানি খুব ভয় করে এদের কাছাকাছি যেতে...।ওদের জীবনটা আসলেই প্রক্রিতির এক অভিনব খেলা...আমার মনে হয় এদেরকে সুস্থ মানুষের মত সব ধরনের সুযোগ দেয়া উচিত...
৭৪. ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:৫৮
রানা বলেছেন: দাদা.... আমি সত্যিই লজ্জিত এরকম একটি পোস্ট এতদিন পরে পড়ার জন্য। এমন একটি পোস্ট যেখানে প্লাস দিয়ে গুন বিচার হয় না।
রিকোয়েস্ট দাদা.... এই টাইপ টপিক নিয়ে আরও লিখুন.....

ভাল থাকুন.... সবসময়।
৭৫. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৫৫
মুরাদ-ইচছামানুষ বলেছেন: দাদা অসাধারন! কাল একজন বলল হুমায়ুন আহমেদ নাকী তার ফাউন্টেন পেন এ লিখেছেন মানুষের সাথে জীনের যৌন সম্পর্কের ফলে হিজরা উৎপন্ন হয়! :-/ তাই আজকে ঘুম থেকে উঠেই এই লেখাটা পড়লাম।

নিয়তি করেছে অভিশপ্ত, আর রাষ্ট্র তাকে দেয়নি কোন সম্মান পাবার অধিকার। কোন অপরাধ না করেও ভাগ্য-বিড়ম্বিত সে কি আপনার আমার একটু সহানুভূতি থেকেও বঞ্চিত হবে ?


ধন্যবাদ আপনাকে এই সুন্দর পোস্টের জন্য।।
১১ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৩:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

৭৬. ১১ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ১:৩৫
চতুরভূজ বলেছেন: কখনও কখনও মনের প্রকৃত ভাব ভাষায় টানা যায়না। অনেক কিছু ভেতরে থাকে কিন্তু প্রকাশ করা যায়না। ঠিক কিছুটা বোবাদের কষ্টের মত হয়ত। অথবা অন্যরকম, জানিনা।

এখন ঠিক ওরকম অসহায় লাগছে নিজেকে...
ভালো লিখেছেন, বেশ ভালো লিখেছেন, মষ্তিস্কের কষ্ট নামক কোনো সেল এ কথাগুলো কেমন যেন নাড়া দিয়ে উঠলো...
২০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

৭৭. ২৮ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৭:৩১
পাউডার বলেছেন:
চতুরভূজ বলেছেন: ...এখন ঠিক ওরকম অসহায় লাগছে নিজেকে...
_____________________________________________
৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ৩:১০. আহমেদ শারফুদ্দীন বলেছেন: চতুরভূজ - আপুনি কইছে কেডা ?? হে একটা হিজরা । পুরুষ হইয়া মাইয়া মাইনষের ছবি লটকাইছে.
_____________________________________________
ডাক্তার অব ছিলা কাইটা লবন লাগানো ছাইমুম বলেছেন: হিজলাকে ভালবাসলে যদি এইডস হয়
৭৮. ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:১১
জাহুমুজামা বলেছেন: দাদা
হিজড়াদের সামাজিক অধিকার ও স্বীকৃতির সাথে একমত। আমাদের উচিত তাদের স্বাভাবিকভাবে নেওয়া।
কিন্তুয় হিজড়ারাই এই পথ বন্ধ করেছে।
আমি তাদের ইজিলি নিতাম, কিন্তু এখন ভয় পাই। ওরা সাধারন মানুষের সাথে অমানবিক আচরন করে, জার কোন প্রতিকার নেই এদেশে।

আপনি একটি দিকই দেখলেন, অপর দিক দেখলেন না।

উত্তরের আশায় পর্যবেক্ষণে রাখলাম।

 

মোট সময় লেগেছে ১.০৯৪৫ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ