শিখার কারণেই আসলে আমাকে মেডিকেলে ভর্তি হতে হয়েছিল। শিখার বাবা ঘোর জামাতি আর আমিও শিবিরের উদীয়মান নেতা হবার কারণে ওদের বাসায় কিঞ্চিত যাতায়াত ছিল। শিখা সর্বদা হিজাবের অন্তরালে চলাফেরা করতো। হিজাবের আড়ালে শিখার রূপের কল্পনা করে আমি বহু বিনিদ্র রজনী কাটিয়েছি কিন্তু কোনদিন তার চাঁদ মুখ দেখার সূযোগ মেলেনি।
একদিন আমার বোজম ফ্রেন্ড শিবির সাথি বখতিয়ার খিলজি খবর দিল শিখার বাবা-মা ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন দিন দুইয়ের জন্য। পরীক্ষার কারণে শিখা বাড়িতে একলাই থাকবে। আমি যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলাম। তাৎক্ষনিক দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে নিলাম। তারপর পূর্বে লিখিত এক খানা প্রেম পত্র পকেটে ফেলে রওনা দিলাম ওদের বাড়ির উদ্দেশ্যে। উল্লেখ্য এই প্রেম পত্রের বেশ কয়েকটা কপি সাথে রাখতাম সব সময়, সময় সূযোগ মতো প্রাপকের নাম বসিয়ে দিলেই হল।
দরজায় নক করতেই শিখা নিজেই এসে দরজা খুলল। সে আজ হিজাব পরেনি। তার রুপ দেখে আমি বেহেস্তি হুরের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম, আমার যেন কি হয়ে গেল। সময় নষ্ট না করে প্রেম পত্র খানা শিখার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম,
-আজ বহুদিন যাবত তোমারে মনের কথাটা কমু ভাবতেছিলাম, তোমার আব্বার ভয়ে কইতে পারি নাই। আমি তো আই লাভ ইউ, তুমি কি কও?
কথা শেষ হবার আগেই গালের উপর কে যেন বিরাসি সিক্কার এক খানা চড় বসিয়ে দিল। অবশ্যই শিখা নয়। অবলা নারীর পক্ষে এতো ওজনের চড় মারা সম্ভব না। এই মাপের চড় শুধু মোহম্মদ আলিই মারতে পারে। চোখে মুখে আন্ধার দেখছি। সদ্য গজানো আক্কেল দাঁতটা বুঝি নড়ে গেছে।
-হারামজাদা, বাড়ির উপর আইসা আমার বইনেরে প্রেম নিবেদন করিস। তোর এত্ত সাহস! আইজ তোরে খাইছি।
হারামজাদা খিলজি এটা বলেনি যে শিখার ভাই বাড়িতে থাকবে। তাহলে কি আর এই ভুল করি!!!
তারপর আর কি, সারা শরীরে বেদনা আর একটা ভাঙা পা নিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হয়েছি।
*পোষ্টখানা ড্রাফ্টে পাইলাম। মেলা আগে লিখছিলাম। কেন লিখছিলাম মনে নাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

