ছেলেটাকে বেশ কিছুক্ষন ধরেই খেয়াল করছিলাম।বই কাঁধে নিয়ে এ দোকান থেকে ঐ দোকানে সবার কাছে কি জানি চেয়ে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ দু-বছর পর দেশে ফিরলাম। ইতিমধ্যে বাবা-মা বেশ খানিকটা বুড়িয়ে গেছে। ঋতু বড় হতে হতে আমার কাঁধ পার হয়ে কান ছুঁই ছুঁই করছে, লম্বা লম্বা চুল, চোখে চশমা। পাড়ার ছেলেপুলেরা একে একে শহর ছাড়া। জুনিয়র ছেলেগুলো পাড়ার ক্রিকেট ম্যাচ দেখার দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে, ইঙ্গিতে অল্প বিস্তর চাঁদার আবদার। বেশ একটা বড় হয়ে, বড় হয়ে গেছি ভাব।
ঋতু'কে নিয়ে চশমার দোকানে বসেছিলাম। সকালে চশমার ফ্রেমখানা ভেঙে বসে আছে, নতুন একটা চাই। সেখানেই ছেলেটাকে দেখলাম। পরনে আধ ময়লা স্কুল ড্রেস, কাঁধে ক্লাসের বই এক হাতে ধরা। আশপাশের দোকানে তাড়া খেয়ে চশমার দোকানটার সামনে দাঁড়াল। দোকানি দাঁত মুখ খিঁচিয়ে একটা গালি দিয়ে বলল, "তোকে না গত সপ্তাহেই দশ টাকা দিলাম?"
ছেলেটা নির্বিকার। দীর্ঘদিন ধরে গালিগালাজ খেয়ে অভ্যস্ত অথবা নিজের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন। বলল, "খাতা শেষ হইয়া গেছে?"
- খাতা শেষ তো বাপকে কিনে দিতে বল। আমার এইখানে প্রত্যেক দিন কি?
ছেলেটা নিশ্চুপ।
আমি ডাক দিয়ে নাম জিজ্ঞেস করলাম।
- কিছু একটা বলল। এদের নাম আবার আমার মনে থাকে না।
- তোমার খাতার দাম কত?
- দশ টাকা।
- এই নাও দশ টাকা। যাও খাতা কিনে নাও। খবরদার সিগারেট কিনবে না।
ছেলেটা কিছু না বলেই টাকাটা নিয়ে চলে গেল যেন এটা তার প্রাপ্য।
আমি দোকানদার'কে চশমার ফ্রেম দেখাতে বললাম।
- স্যার দেশি দেখাব না ইমপোর্টেড?
- ভালটাই দেখান।
- দাম একটু বেশি পড়বে। তিন-চার হাজার টাকার মধ্যে।
- ঠিক আছে সমস্যা নাই। একটু তাড়াতাড়ি করেন।
আমার এখন তাড়াহুড়ো। বাড়িতে ফিরে দশ টাকা দান নিয়ে একটা ব্লগ লিখতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


