somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যুদ্ধাপরাধী শনাক্ত করার সহজ উপায়........: শফিক রেহমান

২১ শে মে, ২০১০ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্থানঃ আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকা, শাহবাগে একটি বইয়ের দোকান।
কালঃ মে মাসের এক বিকেল বেলা।
চরিত্রঃ বই ক্রেতা, বই বিক্রেতা ও রহস্যজনক আগন্তুক।

বই ক্রেতাঃ দোকানে কোনো ভিড় নেই দেখছি। ব্যাপার কি?
বই বিক্রেতাঃ বাংলাদেশের বাঙালি বছরে মাত্র তিন সপ্তাহে বই কেনে। ফেব্রুয়ারি মাসের তিন সপ্তাহে। বছরের বাদবাকি সময়ে বই বিক্রেতাদের অবস্থা থাকে ফর্টি নাইন।
ক্রেতাঃ ফর্টি নাইন, মানে?
বিক্রেতাঃ বছরের বাহান্ন সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহ বাদ দিলে কতো থাকে? উনপঞ্চাশ। সোজা হিসাব। এই উনপঞ্চাশ সপ্তাহ জুড়ে আমাদের যে অবস্থা থাকে সেটাকে আমরা বলি ফর্টি নাইন।
ক্রেতাঃ কি অবস্থা থাকে?
বিক্রেতাঃ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানের ঝাপি খুলে বসে থাকি। কালেভদ্রে কোনো কাস্টমার আসেন। এ বই, সে বই, নেড়েচেড়ে তিনি যদি একটা বই কেনেন, তাহলে দাম দেয়ার আগে জানতে চান, ডিসকাউন্ট কতো পাবেন তিনি? বিশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দেয়া হবে বললে তিনি বলেন, বই মেলাতে তো পচিশ পার্সেন্ট পেয়েছিলাম। কেউ আরও বাড়িয়ে বলেন, বই মেলাতে ত্রিশ পার্সেন্ট, চল্লিশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট পেয়েছিলাম। এদের কি করে বোঝাবো, এখানে বছর জুড়ে একটা বইয়ের দোকান চালাতে কতো খরচ হয়। ত্রিশ-চল্লিশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দিলে আমাদের আর থাকে কি?
ক্রেতাঃ তা তো বটে। তা তো বটে।

বিক্রেতাঃ বইয়ের দোকানে কোনো লাভ হয় না। এই আজিজ সুপার মার্কেটের সূচনালগ্নে এখানে সব বইয়ের দোকান ছিল। এখন দেখুন সব জামাকাপড়ের দোকান। আপনি এখানে আই লাভ বাংলাদেশ লেখা টিশার্ট পাবেন। কিন্তু আই লাভ বুকস লেখা টিশার্ট পাবেন না। বই মেলার ওই তিন সপ্তাহে কিছু বই কিনে বাঙালি আত্মপ্রসাদে ভোগে। মনে করে তারা সংস্কৃতিমনা, রুচিসম্পন্ন, বইপড়ুয়া জাতি হয়ে গিয়েছে। এর চাইতে ভুল ধারণা আর কিছু নেই। বই লেখার সময়ে পত্রপত্রিকায় বইয়ের দু�চারটে বিজ্ঞাপন হয়তো দেখেন। কিন্তু তারপরে? বছরের বাদবাকি সময়ে কোনো বইয়ের বিজ্ঞাপন দেখেন কি? অথচ পশ্চিম বাংলা থেকে প্রকাশিত দেশ পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যায় দেখবেন কতো রকমের বইয়ের কতো রকমের বিজ্ঞাপন। বছরজুড়ে এসব বিজ্ঞাপন থাকে। তার মানে ওপার বাংলায় বছরজুড়েই বইয়ের ব্যবসা চলে। এপার বাংলার মতো বইয়ের ব্যবসা শুধু বই মেলা কেন্দ্রিক নয়। তো, বলেন স্যার আপনি কোন বই চান?

ক্রেতাঃ হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র। আমি পনের খন্ডে প্রকাশিত ওই বইটির পুরো সেটটা চাই।
বিক্রেতা (্লানমুখে)ঃ আজ সারা দিন একটা কাস্টমারও আসেনি। আপনাকে দোকানে ঢুকতে দেখে ভেবেছিলাম, আজ অন্তত একটি বই বিক্রি করতে পারবো। কিন্তু, ব্যাড লাক।
ক্রেতাঃ তার মানে?
বিক্রেতাঃ ওই বইটি নেই।
ক্রেতাঃ কেন? বইটি কি আউট অফ প্রিন্ট?
বিক্রেতাঃ না। বইটি খুব বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। আর তাছাড়া, পুরো সেটের দাম পনের হাজার টাকা। তাই বইটির ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। তবে বইটি পাবেন প্রকাশক হাক্কানী পাবলিশার্সের দোকানে।
ক্রেতাঃ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল কেন?
বিক্রেতাঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর মধ্য রাতের পর পাকিস্তানি আর্মির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার জন্য একটি বার্তা দিয়েছিলেন কি না সেটা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনে করে বঙ্গবন্ধু সেই রকম একটি বার্তা দিয়েছিলেন এবং তার পরেই মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। আর বিএনপি মনে করে ২৭ মার্চ ১৯৭১-এ জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তারপরেই শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ।

ক্রেতাঃ মুক্তিযুদ্ধ চলার সময়ে আমরা কেউ শুনিনি ওই রকম কোনো বার্তা বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন। আমরা অবশ্য জিয়াউর রহমানের ঘোষণাটি শুনেছিলাম। আমরা সেই সময়ে মনে করেছিলাম বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণটিই স্বাধীনতার ঘোষণা এবং এ ভাষণটি শুনেই জিয়াউর রহমানসহ আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।
বিক্রেতাঃ এই বিতর্কের শেষ হবে না স্যার। যে যার দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিখবে। কিন্তু আমি কি প্রশ্ন করতে পারি, কেন আপনি বইটি খুজছেন?

বইয়ের দোকানে জনৈক আগন্তুকের প্রবেশ। তিনি দোকানের শেলফে রাখা বইগুলো নাড়াচাড়া শুরু করলেন এবং শুনতে থাকলেন ক্রেতা-বিক্রেতার চলমান সংলাপ। ক্রেতা ও বিক্রেতা তার পশ্চাদ্দেশ দেখছিলেন।

ক্রেতাঃ কারণ আমি ভাবছিলাম ওই বইটি পড়লে জানা যাবে সজীব ওয়াজেদ জয় যুদ্ধাপরাধী ছিলেন কি না।
বিক্রেতা (বিস্ফারিত চোখে)ঃ কি বলছেন আপনি স্যার? বঙ্গবন্ধুর নাতি যুদ্ধাপরাধী? সেটা কি করে সম্ভব?
ক্রেতাঃ বঙ্গবন্ধুর আত্মীয়-স্বজন হলেই যে রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী হবেন না এমন কথা বিশ্বাস করি কিভাবে? এই দেখুন, ২২ এপ্রিল ২০১০-এর একটি দৈনিকে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর সংবাদ। আমি আপনাকে পড়ে শোনাচ্ছি।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কড়া ভাষায় বলেছেন, দেশে রাজাকার বলে কোনো শব্দ নেই। দেশে কোনো রাজাকার নেই। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দাদাশ্বশুর ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত খন্দকার নূরুল হোসেন নূরু মিয়া ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকার ১৪ নম্বর রাজাকার হলেও তিনি যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না বলে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ফরিদপুরের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেছেন, তার ভাই শেখ সেলিম ফরিদপুরের রাজাকার মুসা বিন শমসের ওরফে নূইলা মুসার সঙ্গে ছেলে বিয়ে দিয়ে আত্মীয়তা করেছেন� এটা কেন তারা কখনও বলেন না; অথচ শেখ হাসিনার মেয়ের দাদাশ্বশুর নূরু মিয়ার নামে সবাই অভিযোগ করেন যে, তিনি রাজাকার ছিলেন। নূরু মিয়া পিস কমিটির সদস্য থাকলেও যুদ্ধের সময় তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজকর্ম করেননি বলে শেখ হাসিনা গর্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে করিয়ে দেন। গত নির্বাচনে শেখ হাসিনার বেয়াই ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ফরিদপুর সদর আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর মন্ত্রিত্ব পান। এই শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট ভাই খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবরের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ জানানোর জন্য সোমবার রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নির্যাতিত নেতাদের যে বৈঠকের আয়োজন করা হয়, সেখানে আওয়ামী লীগ প্রধান এসব কথা বলেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে। সন্ধ্যা সোয়া ৭টা থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতাদের ওই বৈঠক রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত চলে। তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার বেয়াই মোশাররফ হোসেন ও বেয়াইর ছোট ভাই বাবরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে জেলা নেতাদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জায়নুল আবেদিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সদস্য বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও ফরিদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামছুল হক ভোলা মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি ও যুদ্ধকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার সাব-সেক্টর কমান্ডার নূর মোঃ বাবুল, ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ বোস, মাহবুবুর রহমান খান, মনিরুল হাসান মিঠু, আবদুর রহমান প্রমুখ। উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল হক ভোলা মাস্টার প্রধানমন্ত্রীকে শ্রমমন্ত্রী ও তার ভাই বাবরের বিরুদ্ধে নির্যাতনের কাহিনী এবং তাদের বিভিন্ন অপকর্মের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, শ্রমমন্ত্রীর বাবা নূরু মিয়া একজন রাজাকার ছিলেন। ফরিদপুরের রাজাকারদের তালিকায় তার অবস্থান ১৪ নম্বরে। ছেলে মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে রাজাকার বাবা নূরু মিয়ার নামে ফরিদপুরের বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। রাজাকারের নামকরণ করা রাস্তা ভেঙে ফেলার জন্য ভোলা মাস্টার দাবি জানান। বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতা নূর মোঃ বাবুল বলেন, আমি আপনার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হয়েছি। সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। অথচ আজ ৭৭ বছর বয়সে আমাকে কুপিয়ে আহত করা হলো। আমার শরীর থেকে রক্ত ঝরানো হলো। এই সন্ত্রাসী হামলার জন্য তিনি শ্রমমন্ত্রী ও তার ভাই বাবরকে দায়ী করেন। শ্রমমন্ত্রীর গ্রুপের সন্ত্রাসীদের হাতে আহত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহবায়ক শওকত আলী জাহিদের ভাই আবদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য তাদের পরিবার সারা জীবন যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার প্রতিদান হিসেবে আজ তার ভাইকে একটি পা হারাতে হলো।
খবরটি আপনাকে পড়ে শোনালাম। এটা পড়ার পরে আমি নিশ্চিত হতে চেয়েছি যে, বঙ্গবন্ধুর পরিবারের আর কেউ যুদ্ধাপরাধী ছিলেন কি না। আমি ভেবেছিলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র� এ বইটিতে এই তথ্য পাওয়া যাবে।

বিক্রেতাঃ সজীব ওয়াজেদ জয় যুদ্ধাপরাধী ছিলেন কি না সেটা জানার জন্য ওই বই পড়ার দরকার হবে না। কারণ জয়ের জন্ম হয়েছিল ২৭ জুলাই ১৯৭১-এ। তাই তার নাম জয় রাখা হয়েছিল। একজন দুধের শিশু নিশ্চয়ই রাজাকার হতে পারে না।
ক্রেতাঃ তাহলে কি জয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?
বিক্রেতাঃ না। তিনি মুক্তিযোদ্ধা হবেন কি করে? একজন দুধের শিশু একটা বন্দুক তুলবে কি করে?
ক্রেতাঃ আপনার যুক্তি আমি মেনে নিলাম। ধরলাম ১৯৭১-এ এক বছরের কোনো শিশুর পক্ষে যুদ্ধাপরাধী হওয়া সম্ভব ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা হওয়াও সম্ভব ছিল না।
বিক্রেতা (আত্মপ্রসাদের হাসি মুখে)ঃ রাইট স্যার।
ক্রেতাঃ তাহলে আমার প্রশ্ন কতো বছর বয়সের একটি লোকের পক্ষে তখন যুদ্ধাপরাধী হওয়া সম্ভব ছিল? এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ,...
বিক্রেতা (বিব্রত মুখে)ঃ এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া মুশকিল। এ প্রশ্ন আসছে কেন স্যার?
ক্রেতাঃ এ বছর ২৮ মার্চ একটি দৈনিকে প্রকাশিত �যুদ্ধাপরাধী তালিকায় মৃত ও ওই সময়ের শিশুরা� শীর্ষক রিপোর্ট থেকে একটি অংশ পড়ে শোনাচ্ছিঃ জামায়াতের ঢাকা মহানগর আমির মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান ১৯৬৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার নওকইর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর দিন এই যুদ্ধাপরাধীর বয়স ছিল ৪ বছর ৬ মাস।
বিক্রেতাঃ বিস্ময়কর।
ক্রেতাঃ তাই আপনার উত্তরটা দেয়া মুশকিল। খুবই মুশকিল। তাহলে সেক্ষেত্রে আমরা আইনত গ্রাহ্য একটা উত্তরে আসতে পারি। আমরা বলতে পারি ১৯৭১-এ যুদ্ধাপরাধীদের বয়স ন্যূনপক্ষে আঠারো ছিল। অর্থাৎ, যুদ্ধাপরাধীরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।
বিক্রেতাঃ হ্যা, স্যার। এটা বলা যেতে পারে।
ক্রেতাঃ তাহলে সেই বিবেচনায় আমরা অবশ্যই বলতে পারি জয় তখন যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না। ঠিক একইভাবে আমরা বলতে পারি ওই সময়ে পাচ-ছয় বছরের বালক যারা ছিল তাদের এখন যে যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে সেটা হাস্যকর।
বিক্রেতাঃ ঠিক স্যার। ঠিক।
ক্রেতাঃ একাত্তরে কারা যুদ্ধাপরাধী ছিল সেটা শনাক্তকরণের একটা মানদন্ড তাহলে পাওয়া গেল। যারা তখন আঠারো অনূর্ধ্ব তাদের আমরা বাদ দেব। আর যারা তখন আঠারো ঊর্ধ্ব তাদের মধ্যে ছিলেন যুদ্ধাপরাধীরা। কিন্তু এবার প্রশ্ন হচ্ছে তারা কারা ছিলেন? কিভাবে প্রায় চল্লিশ বছর পরে তাদের এখন শনাক্ত করা সম্ভব হবে? একাত্তরে তাদের মিনিমাম বয়স যদি আঠারো হয়ে থাকে তাহলে এখন তাদের মিনিমাম বয়স আটান্ন! তাদের চেহারা, চালচলন, অবস্থান সবই হয়তো বদলে গিয়েছে।
বিক্রেতা (চিন্তিত মুখে)ঃ এই শনাক্তকরণটি খুবই সমস্যাপূর্ণ হতে পারে। কে বলতে পারবে কোন সুরত নিয়ে ব্যাটারা কোথায় ঘাপটি মেরে আছে?
ক্রেতাঃ অন্ততপক্ষে দুজন শনাক্ত করতে পারবেন। প্রথম জন শেখ হাসিনা, যেমনটি তিনি দক্ষভাবে করেছেন পুতুলের দাদাশ্বশুরের বেলায়।
বিক্রেতাঃ আরেকজন?
ক্রেতাঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বিক্রেতা (হকচকিত মুখে)ঃ সে কি? বঙ্গবন্ধু তো প্রয়াত। তাছাড়া একাত্তরে গোটা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দী। তিনি জানবেন কি করে এসব?

ক্রেতাঃ এই দেখুন আরেকটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত লন্ডন প্রবাসী লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর একটি লেখা, যার টাইটেল রহস্যোপন্যাস, না সত্য প্রকাশে ইতিহাসের আত্মকথন? এখানে লেখক আগাচৌ জানিয়েছেন, ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধু প্রয়াত হবার পরে তার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রুহুল কুদ্দুস উত্তর লন্ডনে স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন। রুহুল কুদ্দুস মাঝে মাঝে প্লানচেটে বসতেন। নিজের ছেলেকে তিনি মিডিয়াম করতেন। এই মিডিয়ামের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিদের আত্মা ডেকে এনে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন। আগাচৌ লিখেছেন, তিনি প্লানচেটে বিশ্বাস করতেন না এবং এখনো করেন না। তবে নিজের কৌতূহল মেটাতে রুহুল কুদ্দুসের বাসায় এই প্লানচেটের সন্ধ্যায় যেতেন। একদিন রুহুল কুদ্দুস তার ছেলেকে মিডিয়াম করে বঙ্গবন্ধুর আত্মার সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং সেদিন আগাচৌ উপস্থিত ছিলেন। এই সন্ধ্যার প্লানচেটে বঙ্গবন্ধুর আত্মা এসেছিলেন এবং রুহুল কুদ্দুসের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, তার হত্যা চক্রান্তের আসল নায়ক ভুট্টো, মোশতাক ও জিয়াউর রহমান। রুহুল কুদ্দুস-বঙ্গবন্ধুর আত্মার আরও কিছু সংলাপ উদ্ধৃত করেছেন আগাচৌ। আমার মনে হয় রুহুল কুদ্দুসের সেই ছেলেকে খুজে পাওয়া সম্ভব হবে এবং তাকে মিডিয়াম করে বঙ্গবন্ধুর সর্বজ্ঞানী আত্মাকে যদি আনা সম্ভব হয় তাহলে যুদ্ধাপরাধী কারা ছিল সেটা সহজেই জানা যাবে। এতসব তদন্ত কমিটি-ফমিটি করার কোনো দরকারই হবে না।

রহস্যময় আগন্তুক (জলদগম্ভীর স্বরে, যিনি এতক্ষণ পিছন ফিরে দাড়িয়ে শেলফের বইগুলো নাড়াচাড়া করছিলেন, তিনি ঘুরে দাড়িয়ে)ঃ আমাকে নিয়ে তোদের এত বিতর্কের কোনো শেষ হবে না? মুক্তিযুদ্ধের পর প্রায় চল্লিশ বছর হতে চললো। এখন তোরা সামনের কথা বল। পেছনের কথা এত বলছিস কেন? দেশটাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হয়েছে। তোরা সেই দিকে কাজ কর। পানি, বিদু�ত, গ্যাস সাপ্লাই সমৃদ্ধ এবং বেকারমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে পারাই হবে যুদ্ধাপরাধীদের প্রকৃত শাস্তি।
ক্রেতা ও বিক্রেতা (বিস্ময়াভিভূত এবং সমস্বরে)ঃ বঙ্গবন্ধু!

তারা উভয়েই এগিয়ে গিয়ে আগন্তুককে সালাম করতে উদ্যত হলেন।
নিমেষের মধ্যেই আগন্তুক অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই ছুটে দোকানের দরজার বাইরে তাকালেন।
কিন্তু কোথাও সেই আগন্তুককে দেখা গেল না।
(সুত্র, নয়া দিগন্ত)।
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×