somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রসিং ওভার: হলিউডে বাংলাদেশী অভিনেত্রী নূপুর

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইউরোপ বা আমেরিকা সবসময়ই আমাদের হাতছানি দেয়। উন্নত দেশ। সেখানে গেলে নিশ্চিত একটি ভবিষ্যৎ পাওয়া যাবে। অনেক অর্থ উপার্জন করা যাবে, দূর্নীতি হবে না, ছেলেমেয়েদের উন্নত শিক্ষার ব্যবস্থা হবে। সর্বোপরি সেদেশের সিটিজেনশিপ পাওয়া যাবে। মোটামোটি বড় দাগে এটিই হলো উদ্দেশ্য।

এই সব সুবিধাগুলো পেতে হলে যে কতো কঠিন বাস্তবতা পার হতে হয় তার উপরই একটি অত্যন্ত ভালো মুভি ক্রসিং ওভার। পৃথিবীর অনুন্নত দেশের নাগরিকরা অবৈধভাবে বর্ডার পার হয়ে উন্নত দেশে পাড়ি জমান। প্রায় প্রতি নিয়তই আমরা খবর পাই অবৈধভাবে বর্ডার পার হতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। বৈধ-অবৈধ, স্টুডেন্ট ভিসায় আমাদের দেশের তরুণরাও অনেক পূর্বে থেকেই উন্নত দেশে যাচ্ছেন। তাদের আশা এক সময় না এক সময় সিটিজেনশিপ পেয়ে যাবেন। কিন্তু এই জন্য বিভিন্ন ধরনের বিপদও হতে পারে। যেমন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিচ্ছেদ, ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা জেলও হতে পারে এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

মুভিটির একটি বড় দিক হলো ছোটখাটো ব্যাপার থেকে শুরু করে বর্তমানে সাড়া পৃথিবী জুড়ে যেটি সমালোচিত অর্থাৎ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের যে সন্দেহের চোখে দেখা হয় তা ও উঠে এসেছে। তবে একটি ব্যাপার এই মুভি থেকে বোঝা যায়, সেখানে গেলে গ্রীন কার্ড বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার জন্য অনেকেই অনেক ধরনের সেক্রিফাইস করেন। আর এই সেক্রিফাইসগুলো যে অনেক সময়ই মোটেই নৈতিক পর্যায়ে পড়ে না তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এমনকি যারা এই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়েন তারাও শেষ পর্যন্ত অনুশোচনায় ভোগেন। তাই যারা ইসলাম ধর্মের লোক সেখানে যান তাদের পূর্বেই ঠিক করে নেওয়া ভালো যে সেখানে তাদের চলাফেরা, কথাবার্তা, বেশবুষা বিশেষত নিজের উপস্থাপনটা কেমন হবে। এর একটি প্রধান কারন হলো ইসলাম ধর্মের লোকরা প্রতি নিয়তই বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন কেবলমাত্র মুসলমান হওয়ার জন্য।

আমাদের দেশে প্রতি নিয়তই জিরো টলারেন্স, ট্রান্সপারেন্সী, ল এন্ড অর্ডার, সেক্সোয়াল হেরাসমেন্ট নিয়ে মতামাতি হয়। তবে এই সমস্যা যে শুধু আমাদের এখানেই আছে তা ঠিকনা। গ্রীন কার্ড পাওয়ার জন্য এক অস্ট্রেলিয়ান মেয়ে পরে যান ব্ল্যাকমেইলিং এ। গ্রীন কার্ড পাওয়ার বিনিময়ে তাকে নিজের ইচ্ছার বিরুধেও ইমিগ্রান্ট কর্মকর্তার সাথে সেক্স করতে হয়। পরে অবশ্য ঐ কর্মকর্তাকে এরেস্ট করা হয়।

স্টুডেন্ট ভিসায় যারা যান তাদের বৈধভাবে কাজ করার পারমিট আছে উয়িকলি বিশ ঘন্টা। কিন্তু তারা নিজের খরচ এবং দেশে টাকা পাঠানোর জন্য লোকিয়ে কাজ করে থাকেন যেটি ইমিগ্রান্ট আইন অনুযায়ী বেআইনী। আর এই লোকদের ধরার জন্য প্রায়ই পুলিশ বিভিন্ন প্রতিষঠানে অতর্কিতে রেইড দেয়। যাদের আটক করা হয় তাদের হয়তো জেল খাটতে হয় নতুবা স্বদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ঠিক একই সমস্যায় পড়েন একটি স্পেনিশ মেয়ে। একটি ফ্যাকটরিতে কাজ করার সময় ইমিগ্রান্ট পুলিশ হানা দেয়। এবং আটক করেন মেয়েটিকে, সাথে আরো অনেক অবৈধ কর্মী। অনেক রিকুয়েস্ট সত্ত্বেও পুলিশ তাকে ছাড়েন না। শেষ পর্যন্ত মেয়েটির লাশ পাওয়া যায় বর্ডার এর কাছাকাছি। সম্ভবত পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে এই দূর্ভাগ্যের শিকার হন।

মুভিটিতে বাংলাদেশকে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের এক সময়ের অভিনেত্রী নূপুর (আইএমডিবি সাইটে নাইলা আজাদ)। বাংলাদেশি পরিবারকে পরিবার বিচ্ছেদের সম্মুখীন হতে হয়। যে মেয়ে আমেরিকাতে জন্মগ্রহন করেনি অথচ সেখানে আছেন তাকে আবার স্বদেশে ফেরত আসতে হয়। কিন্তু থেকে যায় তারই ছোট ভাই বোন। এটি আসলেই একট করুন দৃশ্য।

এমনও দেখা যায় সেখানকার উঠতি স্পয়েলড ইয়ংদের হাতে পড়ে সন্ত্রাসী কাজে জড়িয়ে পড়ার ঘঠনাও ঘটছে। তেমনি এক চাইনিজ বালক পড়ে যান হাইজ্যাককারী দলের হাতে। যদিও তিনি পরে ঘঠনাক্রমে বেচে যান। তেমনি ভাগ্যক্রমে গ্রীন কার্ড পেয়ে যান এক ইহুদি যুবক।

হেরিসন ফোর্ড অভিনিত মুভিটির ডিরেক্টর ওয়েন ক্র্যামের। ড্রামা নির্ভর এই মুভিটি আমেরিকাতে প্রথমে সিমিতভাবে রিলিজ দেওয়া হয় ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৯-এ।
৮টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×