somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শফিক রেহমান সম্পর্কে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী (সংক্ষেপিত)

২৬ শে জুন, ২০১১ দুপুর ১:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বন্ধু শফিক রেহমান তো প্রথম যৌবনে বামপন্থী কোনো বুদ্ধিজীবী কিংবা সম্পাদকও ছিলেন না। ছিলেন একজন প্রোগ্রেসিভ প্লেবয়। বামপন্থার দিকে তাঁর আকর্ষণ ছিল। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের দিকেই ছিল তাঁর ঝোঁক। তাঁকে বিভ্রান্ত বা প্রলোভনের দ্বারা বশ করা এমন কিছু কঠিন কাজ হয়তো ছিল না। কিন্তু কট্টর বামপন্থী, একদা বামপন্থী কাগজের সম্পাদক রূপে পরিচিত ও বিখ্যাত হওয়ার পর যাঁরা নিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে ইরফান রাজা অথবা কথিত গোয়েন্দা সংস্থার রিক্রুটদের দলে গিয়ে ভিড়েছে, তাদের ভূমিকা আমার কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও বেদনাদায়ক ব্যাপার বলে মনে হয়েছে।

শফিক রেহমানের ঘনিষ্ঠ এবং বন্ধুস্থানীয় কারো কারো ধারণা, শফিক রেহমান যতদিন লন্ডনে একজন অখ্যাত বাঙালি প্রবাসী ছিলেন, ততদিন তাঁর দিকে ওই গোয়েন্দা সংস্থাটির নজর পড়েনি। কৈশোরে শফিক রেহমানের একমাত্র পরিচয় ছিল 'অধ্যক্ষ সাইয়েদুর রহমানের পুত্র'। বিবাহিত জীবনে তাঁর চেয়ে বিখ্যাত ছিলেন স্ত্রী তালেয়া রহমান। বিলেতের বাঙালি মহলে তাঁর পরিচয় ছিল 'তালেয়া রহমানের স্বামী'। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে পেশায় তিনি সাফল্য বা খ্যাতি কোনোটাই লাভ করেননি। ফলে সোস্যাল স্টেটাস রক্ষার জন্য দেশের 'সচিত্র সন্ধানী' নামক কাগজে লেখালেখি এবং জীবিকার জন্য বিদেশি বেতারে হাফ-চাকরির ওপর তাঁকে নির্ভর করতে হয়েছে। তা ছাড়া স্ত্রীর উচ্চ আয় এবং বাবার টাকা-পয়সা, সম্পত্তির উত্তরাধিকার তো ছিলেনই।

তেমন অর্থাভাব শফিক রেহমানের ছিল না। কিন্তু তাঁর খ্যাতিমান বন্ধুদের তুলনায় তিনি খ্যাতিহীন, এই ক্ষোভটা সম্ভবত তাঁর মনে সবসময় ছিল। ফলে বিলেতের দীর্ঘ প্রবাসজীবন সঙ্গে করে তিনি দেশে ফিরে গিয়ে তাঁর কলাম 'যায়যায়দিন' নামটি গ্রহণ করে একটি সাপ্তাহিক ভিউজ ম্যাগাজিন বের করার উদ্যোগ নেন। অত্যন্ত সাদামাটাভাবে 'যায়যায়দিন' বের হয়। রাজনৈতিক মতামতের দিক থেকে চরমভাবে এরশাদ ও তাঁর সামরিক শাসনের বিরোধী। কিন্তু তাঁর স্বনামে-বেনামে লেখা রচনাগুলো স্যাটায়ার ও পর্ণোধর্মী। অল্পদিনেই পাঠকদের মধ্যে 'যায়যায়দিন' বিরাট জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং এরশাদের সরাসরি বিরোধিতার জন্য প্রগতিশীল রাজনীতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলেও সাহসী ও জনপ্রিয় সম্পাদক হিসেবে স্বীকৃতি পান শফিক রেহমান।

অনেকেরই ধারণা, শফিক রেহমান খ্যাতির তুঙ্গে ওঠার পরই ওই গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন কর্তাব্যক্তিদের নজরে পড়েন এবং জেনারেল এরশাদ তাঁর বিরুদ্ধে দমননীতি গ্রহণ করে তাঁকে আরো পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তোলেন। কথিত গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা তাঁদের গোপন তদন্ত রিপোর্টে এই জনপ্রিয় সম্পাদকের কোনো নীতিনিষ্ঠা নেই জেনেই সম্ভবত তাঁকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। কেউ কেউ বলেন, এই থিওরি সঠিক নয়। তাঁদের মতে, জে. এরশাদের রোষানলে পড়ে 'যায়যায়দিন' যখন বন্ধ হয়ে যায় এবং শফিক রেহমান দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে লন্ডনে এসে হতাশ জীবনযাপন করছিলেন এবং স্পেকট্রাম নামে একটি বাংলা ও অন্যান্য ভাষায় রেডিও স্টেশন খুলে পার্টনারদের সঙ্গে ঝগড়ায় রেডিও থেকে বিতাড়িত হয়ে লন্ডনে একটি তন্দুরি রেস্টুরেন্ট খোলার চিন্তা-ভাবনা করছিলেন, তখন ওই গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাদের নজরে পড়েন।
এই থিওরির কোনটি সঠিক এবং কোনটি সঠিক নয়, অথবা দুটি থিওরিই শুধু গুজবভিত্তিক কি না তা আমি হলফ করে বলতে পারব না। তবে তখনকার পরিস্থিতি এবং শফিক রেহমানের হাবভাব, মতিগতি দেখে আমার মনে ধারণা জন্মেছিল, হয়তো দ্বিতীয় থিওরিটিই সত্য অথবা সত্যের কাছাকাছি।
Click This Link
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×