somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুপ্রেরণাদায়ী ঘটনা

১৬ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনুপ্রেরণাদায়ী ঘটনাঃ ‘ইস্তিতগফার’ তথা ক্ষমাপ্রার্থনা

‘ইস্তিতগফার’ তথা ক্ষমাপ্রার্থনার এই ঘটনাটি ঘটেছিল ইমাম আহমদ বিন হানবলের (রাহিমাহুল্লা) জীবনে, যিনি একজন সর্বজনবিদিত আলেম এবং ফিকহশাস্ত্রবিদ। তিনি হানবলি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও বহুল সমাদৃত, উনার সম্মানসূচক উপাধি “শায়খ-উল-ইসলাম” এবং “আহলে সুন্নাহ’র ইমাম”।

ইমাম আহমদ তখন বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন, তিনি সফরে ছিলেন। যাত্রাপথে রাত হয়ে এলে তিনি অচেনা শহরটিতে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি অচেনা শহরে একজন আগন্তুক হিসেবেই থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন,অথচ তিনি যদি নিজের পরিচয় প্রকাশ করে নিজেকে কারও কাছে পরিচিত করতেন তখন যে কেউই সর্বোচ্চ চেষ্টা করত তার আতিথেয়তা করে ধন্য হবার। এখানেও একজন মহৎ ব্যক্তিত্ত্ব হিসেবে ইমাম আহমদের পরিচয় মেলে। তিনি রাতের সালাত শেষ করে তাই সিদ্ধান্ত নিলেন মসজিদ প্রাঙ্গনেই রাতটা কাটিয়ে দিবেন।

স্বাভাবিকভাবেই মসজিদের খাদেম তাকে চিনতে পারল না এবং তিনি মসজিদে রাত্রিযাপনের অনুমতিও পেলেন না। তিনি তখন যথেষ্ট বয়স্ক একজন মানুষ, মসজিদের খাদেম তাকে এক প্রকার টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে দিল। একজন রুটি বিক্রেতা দৃশ্যটি দেখলেন। এভাবে একজন বয়স্ক মানুষকে অপমানিত হতে দেখে রুটি বিক্রেতার মনে দয়া হল। রুটি বিক্রেতা লোকটি ইমাম আহমদের মেহমানদারি করার সিদ্ধান্ত নিলেন।


ইমাম আহমদ লোকটির সাথে অবস্থানকালে একটি অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করলেন। তিনি দেখলেন ঐ রুটি বিক্রেতাটি প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে চলেছেন। ইস্তিগফার করেই যাচ্ছেন, করেই যাচ্ছেন। তিনি কৌতুহলী হয়ে রুটি বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলেন, “তোমার এই আমলের কোন বিশেষ প্রতিদান পেয়েছো কি?”। রুটি বিক্রেতা জবাব দিলেন, ” আল্লাহ আমার সকল দু’আ কবুল করেছেন, কিন্তু একটি দু’আ এখনো কবুল হয়নি।” ইমাম আহমদ আশ্চর্যান্বিত হয়ে জানতে চাইলেন যে তার কোন দু’আটি এখনো কবুল হয়নি। লোকটি উত্তর করল, “আমি বিখ্যাত আলেম ইমাম আহমদের সাক্ষাৎ লাভের দু’আ করেছি যা এখনো আল্লাহ কবুল করেননি।”

ইমাম আহমদ জবাবে বললেন , “আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমার দুআ শুনেছেন এমনকি তিনি ইমাম আহমদকে টেনে হিঁচড়ে তোমার দরজায় এনে উপস্থিত করেছেন, আমিই সেই লোক যাকে তোমরা ইমাম আহমদ নামে জান”। [সংক্ষেপিত , আল জুমুয়া ম্যাগাজিন, ভলিউম-১৯, ইস্যু-৭]

এই ঘটনাটি ইস্তেগফারের ক্ষমতা ও গুরুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিনে সত্তরবারেরও অধিক ইস্তেগফার করতেন।


তাফসীর আল কুরতুবীতে উল্লেখিত, একজন লোক আল-হাসানের নিকট খরা-অনাবৃষ্টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাকে বললেন, “আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। আরেক ব্যক্তি তার দারিদ্রের কারণে অনুযোগ করলে তিনি তাকে উপদেশ দিলেন,”আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। অন্য একজন ব্যক্তি এসে জানতে চাইলো, “আল্লাহ যেন আমাকে একটি সন্তান দানে ধন্য করেন”। তিনি তাকেও বললেন,”আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। অপর এক ব্যক্তি এসে বললো যে তার বাগানে ফসল হচ্ছে না। তিনি তাকে উপদেশ দিলেন, “আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো”। তার নিকট এর ব্যাখা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এটা আমার মনগড়া মতামত নয়, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা নূহে এরশাদ করেন, ” তোমরা তোমাদের মালিকের দুয়ারে ক্ষমা প্রার্থনা করো, নিসন্দেহে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উপর অঝোর বৃষ্টিধারা বর্ষণ করবেন, এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্ততি দিয়ে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন, তোমাদের জন্যে বাগ-বাগিচা ও উদ্যান স্থাপন করবেন, তিনি এখানে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সূরা নূহঃ১০-১২) । তাফসীর আল-কুরতুবী (১৮/৩০১-৩০২)

একজন হাদীসের বর্ণনাকারীর নিকটে জানতে চাওয়া হল, কিভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে, ইস্তেগফারের আদব কি হবে, এর উত্তরে তিনি বললেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ!’ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই, আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই)” । [সহীহ মুসলিম]
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×